আশুরার রোজা হলো হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখে রাখা একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ নফল রোজা, যা রাখলে বিগত এক বছরের (ছোট) গুনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদ হাদিসে এসেছে। সুন্নাহ মোতাবেক এর সাথে ৯ মহররম (তাসুয়া) বা ১১ মহররমের রোজাও রাখা উত্তম। ২০২৬ সালে আশুরা পড়তে পারে ২৫ বা ২৬ জুন—তবে আসল তারিখ নির্ভর করবে চাঁদ দেখার ওপর।
মহররম মাস প্রায় চলে এসেছে, আর এর সাথেই এসে পড়েছে বছরের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ একটি নফল রোজার সুযোগ—আশুরার রোজা।
অনেকেই জানেন না কোন তারিখে রোজা রাখতে হবে, নিয়ত কীভাবে করতে হয়, বা এই রোজার আসল ফজিলত কী। ফলে অনেকেই এই বিশাল সওয়াবের সুযোগ হাতছাড়া করে ফেলেন।
এই লেখায় আশুরার রোজার ফজিলত, ইতিহাস, নিয়ম, নিয়ত, হাদিস এবং ২০২৬ সালের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে সহজ ভাষায় সবকিছু জানানো হলো। লেখাটি পড়ে শেষ করুন এবং পরে কাজে লাগার জন্য সেভ করে রাখুন।
আশুরা কী এবং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
“আশুরা” শব্দের অর্থ “দশম”। ইসলামি পরিভাষায় মহররম মাসের ১০ তারিখকে ইয়াওমে আশুরা বা আশুরার দিন বলা হয়।
মুসা (আ.) ও ফেরাউনের ঘটনা
ইতিহাস থেকে জানা যায়, আশুরার দিনেই আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) এবং বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং সাগর পার করে দিয়েছিলেন। এই বিশেষ ঘটনার কারণে ইহুদি সম্প্রদায়ও এই দিনে রোজা রাখতো।
রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মদিনায় হিজরত করেন, তখন দেখেন ইহুদিরা এই দিনে রোজা রাখছে। তিনি জানতে পারেন এর কারণ, এবং বলেন—আমরা মুসা (আ.)-এর প্রতি তাদের চেয়েও বেশি সম্পর্ক ও সম্মান অনুভব করি। এরপর তিনি মুসলিমদেরও এই দিনে রোজা রাখার নির্দেশ দেন (সহিহ বুখারি)।
আগে ফরজ ছিল, এখন নফল
রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা মুসলিমদের জন্য ফরজ ছিল। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজা ঐচ্ছিক বা নফল হয়ে যায়—তবে এর ফজিলত আগের মতোই অটুট থাকে।
কারবালার ঘটনার সাথে পার্থক্য
ইসলামী ইতিহাসে আশুরার দিনটি আরও একটি কারণে স্মরণীয়—এই দিনেই কারবালার মাঠে নবী-দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা.) শাহাদাত বরণ করেন (৬১ হিজরি)। এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি মর্মান্তিক ও তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, আশুরার রোজার সুন্নাহ মূলত মুসা (আ.)-এর ঘটনার সাথে সম্পর্কিত এবং তা কারবালার ঘটনার আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত। দুটি বিষয়কে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
আশুরার রোজার ফজিলত ও সওয়াব (হাদিসের আলোকে)
আশুরার রোজার ফজিলত নিয়ে একাধিক হাদিস বর্ণিত আছে। নিচে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি তুলে ধরা হলো:
- এক বছরের গুনাহ মাফ: সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে আশুরার রোজার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এই রোজা বিগত এক বছরের (ছোট) গুনাহ মুছে দেওয়ার কারণ হতে পারে।
- রমজানের পরে সর্বোত্তম মাসের রোজা: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রমজানের পরে আল্লাহর মাস মহররমেই রোজা রাখা সর্বোত্তম (সহিহ মুসলিম)। অর্থাৎ পুরো মহররম মাসেই নফল রোজার বিশেষ ফজিলত রয়েছে, এবং আশুরা তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন।
- সাহাবিদের আগ্রহ: সাহাবিরা রমজানের রোজার মতো গুরুত্ব দিয়ে আশুরার রোজা পালন করতেন—এমনকি শিশুদেরও রোজা রাখাতেন এবং খেলনা দিয়ে ব্যস্ত রাখতেন যাতে তারা রোজা পূর্ণ করতে পারে।
- নফল ইবাদতের মধ্যে অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ: যেহেতু এটি একটি মুস্তাহাব (ঐচ্ছিক কিন্তু প্রিয়) আমল, তাই কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, কিন্তু সামর্থ্য থাকলে এই সওয়াব হাতছাড়া না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সংক্ষেপে: এক দিনের রোজার বিনিময়ে এক বছরের গুনাহ মাফের সুযোগ—এটাই আশুরার রোজার মূল আকর্ষণ।
আশুরার রোজা কবে রাখতে হয়? ৯-১০ নাকি ১০-১১ মহররম?
এই প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি মানুষের মনে আসে। নিচে সহজভাবে বোঝানো হলো।
তাসুয়া + আশুরা (৯ ও ১০ মহররম)
হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন জানতে পারেন ইহুদিরাও ১০ মহররমে রোজা রাখে, তখন তিনি বলেছিলেন—আগামী বছর বেঁচে থাকলে তিনি ৯ তারিখেও রোজা রাখবেন (সহিহ মুসলিম, ইবনে আব্বাস রা.)। এই কারণে ৯ মহররম (তাসুয়া) ও ১০ মহররম (আশুরা)—এই দুই দিন একসাথে রোজা রাখা সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি।
১০-১১ মহররম
কিছু আলেমের মতে, যেহেতু চাঁদ দেখা সাপেক্ষে তারিখে এক দিনের পার্থক্য হতে পারে, তাই নিশ্চিত হওয়ার জন্য ১০ ও ১১ মহররমও রোজা রাখা যেতে পারে। এতে আশুরার দিন মিস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি: তিন দিন (৯, ১০ ও ১১ মহররম)
যাদের সামর্থ্য আছে, তারা চাইলে ৯, ১০ এবং ১১ মহররম—এই তিন দিনই রোজা রাখতে পারেন। এতে তাসুয়া এবং সতর্কতামূলক অতিরিক্ত দিন—দুটোই কভার হয়ে যায়।
তুলনামূলক টেবিল
| পদ্ধতি | কোন দিনগুলো | মূল কারণ | কাদের জন্য উপযোগী |
|---|---|---|---|
| তাসুয়া + আশুরা | ৯ ও ১০ মহররম | হাদিস অনুযায়ী সরাসরি সুন্নাহ | যাদের তারিখ নিশ্চিত |
| আশুরা + অতিরিক্ত দিন | ১০ ও ১১ মহররম | তারিখ নিয়ে সংশয় থাকলে নিরাপত্তা | যাদের চাঁদ দেখা নিয়ে দ্বিমত আছে |
| সম্পূর্ণ তিন দিন | ৯, ১০ ও ১১ মহররম | দুই মতকেই একসাথে আমল করা | যাদের রোজা রাখার সামর্থ্য বেশি |
কেবল ১০ তারিখে রোজা রাখলেও সওয়াব পাওয়া যাবে—তবে সুন্নাহ মোতাবেক অতিরিক্ত একটি দিন যুক্ত করা সর্বোত্তম।
২০২৬ সালে আশুরার রোজা কোন তারিখে পড়বে?
জ্যোতির্বিদ্যা হিসাব অনুযায়ী, ১৪৪৮ হিজরি সনের মহররম মাস শুরু হতে পারে জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে, এবং সেই হিসাবে ১০ মহররম বা আশুরা পড়তে পারে জুনের শেষ সপ্তাহে (আনুমানিক ২৫ বা ২৬ জুন, ২০২৬)।
মনে রাখা জরুরি:
- হিজরি মাস শুরু হয় চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে, তাই দেশভেদে এক দিনের পার্থক্য হতে পারে।
- বাংলাদেশের জন্য সঠিক তারিখ জানতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর ঘোষণা অনুসরণ করুন।
- মহররম মাস শুরুর পরের দিন থেকে গণনা শুরু করে ৯, ১০ ও ১১ তারিখ চিহ্নিত করুন।
স্থানীয় মসজিদ বা মুফতির সাথে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি।
আশুরার রোজার নিয়ত
নফল রোজার জন্য মুখে নিয়ত উচ্চারণ করা জরুরি নয়—মনে মনে সংকল্প করাই যথেষ্ট। তবে অনেকে স্বস্তির জন্য মুখে বলতে চান।
বাংলায় নিয়ত: “আমি আগামীকাল আশুরার (বা তাসুয়ার) নফল রোজা রাখার নিয়ত করছি, একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।”
আরবি নিয়ত (সাধারণ রোজার নিয়ত): نَوَيْتُ صَوْمَ غَدٍ مِنْ شَهْرِ مُحَرَّمٍ سُنَّةً لِلَّهِ تَعَالَى
মূল কথা হলো—অন্তরের সংকল্পই যথেষ্ট। নির্দিষ্ট কোনো শব্দ মুখে বলা বাধ্যতামূলক নয়।
আশুরার রোজা রাখার নিয়ম (ধাপে ধাপে)
- আগের রাতে বা ফজরের আগে নিয়ত করুন। নফল রোজার জন্য রাতেই নিয়ত করা সবচেয়ে নিরাপদ, কারণ ফজরের আগে পানাহার বন্ধ করতে হয়।
- সেহরি খাওয়া উত্তম, কিন্তু আবশ্যক নয়। চাইলে সেহরি ছাড়াও নফল রোজা রাখা যায়, তবে সেহরিতে বরকত রয়েছে।
- ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত পানাহার ও স্বাভাবিক রোজা ভঙ্গকারী কাজ থেকে বিরত থাকুন।
- ইফতারের সময় দোয়া পড়ে রোজা ভাঙুন, যেমনটা প্রতিদিনের রোজায় করা হয়।
- নিয়মিত নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে দিনটি অর্থবহ করুন।
দুই দিন (তাসুয়া ও আশুরা বা আশুরা ও পরের দিন) রোজা রাখতে চাইলে প্রতিটি দিনের জন্য আলাদাভাবে নিয়ত করতে হবে।
আশুরার দিনের অন্যান্য আমল
রোজা ছাড়াও আশুরার দিনে কিছু আমল করা যেতে পারে:
- নফল নামাজ ও ইস্তেগফার—আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
- সদকা ও দান-খয়রাত—সামর্থ্য অনুযায়ী গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করা।
- পরিবারের জন্য সময় দেওয়া—কিছু বর্ণনায় এই দিনে পরিবারের জন্য খরচ বৃদ্ধি করার উৎসাহ পাওয়া যায়, যদিও এই ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে, তাই বাড়াবাড়ি না করাই উত্তম।
- কুরআন তেলাওয়াত ও জিকির—দিনটিকে ইবাদতে কাটানো।
- আত্মসমালোচনা ও তাওবা—মুসা (আ.)-এর মুক্তির ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের জীবনেও পরিবর্তনের সংকল্প করা।
আশুরার রোজা নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা
- “আশুরার রোজা ফরজ”—এটি ভুল। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজা নফল বা মুস্তাহাব, ফরজ নয়।
- “শুধু ১০ তারিখেই রোজা রাখতে হবে”—সুন্নাহ মোতাবেক ৯ বা ১১ তারিখও সাথে রাখা উত্তম, কেবল ১০ তারিখ রাখলে রোজা হবে, কিন্তু পূর্ণ সুন্নাহ আদায় হবে না।
- আশুরাকে বিশেষ “শোক দিবস” বা কুসংস্কারমূলক রীতি-অনুষ্ঠানের সাথে মিশিয়ে ফেলা—যেমন কোনো নির্দিষ্ট খাবার রান্না বা অনুষ্ঠান না করলে অমঙ্গল হবে—এ ধরনের ধারণা ইসলামি শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
- তারিখ নিয়ে দ্বিধায় রোজাই না রাখা—তারিখ নিয়ে সংশয় থাকলে একাধিক দিন রোজা রেখে নিরাপদ থাকা ভালো, রোজা পুরোপুরি বাদ দেওয়া উচিত নয়।
- নিয়ত নিয়ে অতিরিক্ত জটিলতা—অন্তরের সংকল্পই যথেষ্ট, এটিকে কঠিন বা ভীতিকর মনে করার কারণ নেই।
সচারচর জিজ্ঞাসা
আশুরার রোজা কয়টি রাখতে হয়? সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী দুটি রোজা—৯ ও ১০ মহররম (তাসুয়া ও আশুরা)। চাইলে ১১ মহররমও যুক্ত করে তিনটি রোজা রাখা যায়।
আশুরার রোজা না রাখলে কি গুনাহ হবে? না, এটি নফল রোজা। না রাখলে গুনাহ হবে না, তবে এই বিশাল সওয়াবের সুযোগ মিস হয়ে যাবে।
আশুরার রোজা রাখলে কী সওয়াব পাওয়া যায়? হাদিস অনুযায়ী, এই রোজা বিগত এক বছরের ছোট গুনাহ মাফ হওয়ার কারণ হতে পারে।
তাসুয়ার রোজা কী? মহররমের ৯ তারিখের রোজাকে তাসুয়ার রোজা বলা হয়, যা আশুরার রোজার সাথে যুক্ত করে রাখা সুন্নাহ।
আশুরার রোজা কি একা রাখা যায়, নাকি অন্য কোনো রোজার সাথে যুক্ত করতে হয়? শুধু ১০ তারিখে একদিনই রোজা রাখলেও তা শুদ্ধ হবে এবং সওয়াব পাওয়া যাবে, তবে সুন্নাহ হলো এর সাথে আরও একটি দিন যুক্ত করা।
আশুরা ও কারবালার ঘটনা কি একই বিষয়? দিনটি একই (১০ মহররম), কিন্তু রোজার সুন্নাহ ও কারবালার ঐতিহাসিক ঘটনা—দুটি ভিন্ন বিষয়, যা একসাথে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
নারীরা কি আশুরার রোজা রাখতে পারবেন? হ্যাঁ, সাধারণ নফল রোজার নিয়মেই নারীরাও এই রোজা রাখতে পারেন, তবে মাসিক বা অন্য কোনো শারীরিক কারণে রোজা রাখা সম্ভব না হলে তা মাফ।
প্রশ্নঃ আশুরার রোজা কখন রাখতে হয়? উত্তরঃ হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ৯ ও ১০ তারিখে (তাসুয়া ও আশুরা), অথবা চাইলে ১০ ও ১১ তারিখে রাখা হয়।
প্রশ্নঃ আশুরার রোজার নিয়ত কীভাবে করতে হয়? উত্তরঃ মনে মনে সংকল্প করাই যথেষ্ট—”আগামীকাল আশুরার নফল রোজা রাখছি, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য”—এভাবে নিয়ত করা যায়।
প্রশ্নঃ আশুরার রোজা রাখলে কী লাভ হয়? উত্তরঃ হাদিস অনুযায়ী, এই রোজা বিগত এক বছরের ছোট গুনাহ মাফ হওয়ার আশা দেয়, এবং এটি রমজানের পরে সর্বোত্তম নফল রোজার একটি।
প্রশ্নঃ ২০২৬ সালে আশুরা কত তারিখে পড়বে? উত্তরঃ আনুমানিক হিসাবে ২৫ বা ২৬ জুন, ২০২৬—তবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এটি এক দিন আগে-পিছে হতে পারে। সঠিক তারিখ জানতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ঘোষণা দেখুন।
প্রশ্নঃ তাসুয়ার রোজা না রাখলে কি আশুরার রোজার সওয়াব কমে যাবে? উত্তরঃ না, শুধু আশুরার রোজা রাখলেও সওয়াব পাওয়া যাবে। তাসুয়া যুক্ত করা সুন্নাহ অনুযায়ী অতিরিক্ত উত্তম একটি আমল।
প্রশ্নঃ আশুরার রোজা কি ফরজ? উত্তরঃ না, এটি নফল বা মুস্তাহাব রোজা। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে এটি ফরজ ছিল।
প্রশ্নঃ অসুস্থ বা সফরে থাকলে আশুরার রোজা না রাখলে সমস্যা হবে? উত্তরঃ না। নফল রোজা যেকোনো বৈধ কারণে বাদ দেওয়া যায়, এতে কোনো গুনাহ হয় না।
প্রশ্নঃ আশুরার দিনে রোজা ছাড়া আর কী আমল করা যায়? উত্তরঃ নফল নামাজ, ইস্তেগফার, দান-সদকা, কুরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে দিনটি কাটানো যায়।
শেষ কথা
আশুরার রোজা এমন একটি সুযোগ, যা সারা বছরে খুব কম আসে। মাত্র এক বা দুই দিনের রোজার বিনিময়ে এত বড় সওয়াবের প্রতিশ্রুতি অন্য কোথাও খুব কম পাওয়া যায়।
মহররম মাস শুরু হওয়ার সাথে সাথে নিজের ও পরিবারের জন্য রোজার পরিকল্পনা করে রাখুন। এই তথ্যটি পরে দরকার হলে সেভ করে রাখুন, এবং পরিবার বা বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে তাদেরও জানার সুযোগ দিন। মহররম মাসের অন্য আমল ও ফজিলত সম্পর্কিত গাইডও পড়ে নিতে পারেন।
Reference / Source List
- সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম হাদিস সংকলন (আশুরা ও মহররম সম্পর্কিত হাদিসসমূহ)
- ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (হিজরি ক্যালেন্ডার ও চাঁদ দেখা সংক্রান্ত সরকারি ঘোষণা)
- প্রসিদ্ধ ফিকহি গ্রন্থাবলি ও ফতোয়া সংকলন (নফল রোজার বিধান সংক্রান্ত)
নোট: ২০২৬ সালের নির্দিষ্ট তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় প্রকাশের আগে হালনাগাদ তথ্যের জন্য স্থানীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার সাথে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”


