সিরিয়ায় ট্রাম্পের ‘অপারেশন হক আই স্ট্রাইক’

অপারেশন হক আই স্ট্রাইক (Operation Hawkeye Strike) হলো সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (ISIS) বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান। ১৫ই ডিসেম্বর ২০২৫-এর পর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে মধ্য সিরিয়ার ৭০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। সিরিয়ার নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই অভিযানে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে।

কেন এই হঠাৎ অভিযান?

সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে আইএস (ISIS) আবারো সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। গত ১৩ ডিসেম্বর পালমিরায় একটি অতর্কিত হামলায় দুই মার্কিন সৈন্য নিহত হন। এরই প্রতিক্রিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘অপারেশন হক আই স্ট্রাইক’ শুরু করার নির্দেশ দেয়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এটি কোনো দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সূচনা নয়, বরং মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার একটি “কঠোর প্রতিশোধ”।

এক নজরে অপারেশনের মূল তথ্য:

  • অভিযানের নাম: অপারেশন হক আই স্ট্রাইক।

  • হামলার স্থান: মধ্য সিরিয়ার প্রায় ৭০টি এলাকা।

  • ব্যবহৃত অস্ত্র: এফ-১৫ ও এন যুদ্ধবিমান, অ্যাপাচি হেলিকপ্টার এবং হিমারস (HIMARS) রকেট সিস্টেম।

  • মূল লক্ষ্য: আইএসের অবকাঠামো, অস্ত্রভাণ্ডার এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংস করা।

সিরিয়ার নতুন সরকারের অবস্থান ও আমেরিকার সাথে সম্পর্ক

আসাদ পরবর্তী সিরিয়ায় এখন সাবেক বিদ্রোহীদের দ্বারা গঠিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই সরকার মার্কিন অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে।

কেন সিরিয়া এই অভিযানে সমর্থন দিচ্ছে?

১. নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: নতুন সরকার চায় না সিরিয়া আবারো সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠুক। ২. কূটনৈতিক স্বীকৃতি: ওয়াশিংটনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়ার এটি একটি বড় সুযোগ। ৩. অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা: আইএসের পুনরুত্থান নতুন সরকারের জন্য একটি বড় হুমকি।

বিশেষ নোট: গত মাসে সিরিয়ার বর্তমান নেতা আহমেদ আল সারা হোয়াইট হাউস সফর করেন, যেখানে সন্ত্রাসবাদ দমনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

এই অভিযানের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ কী?

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্পষ্ট করেছেন যে, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না পর্যন্ত হুমকি নির্মূল হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার শক্ত অবস্থানের জানান দিচ্ছে। তবে সিরিয়ার নতুন প্রশাসনের ভেতর থাকা বিভিন্ন কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর সাথে আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

১. অপারেশন হক আই স্ট্রাইক কী?

এটি সিরিয়ায় আইএস-এর বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চালানো একটি প্রতিশোধমূলক বিমান ও স্থল অভিযান।

২. কেন আমেরিকা সিরিয়ায় হামলা করছে?

সিরিয়ায় দুই মার্কিন সৈন্য নিহতের প্রতিশোধ নিতে এবং আইএসের শক্ত ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করতে এই হামলা চালানো হচ্ছে।

৩. সিরিয়ার নতুন সরকার কি এই হামলা সমর্থন করে?

হ্যাঁ, সিরিয়ার বর্তমান প্রশাসন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই মার্কিন সামরিক অভিযানকে সমর্থন জানিয়েছে।

৪. এই অভিযানে কোন কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে?

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যমতে, অভিযানে অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, অ্যাপাচি হেলিকপ্টার এবং হিমারস রকেট সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র ও বিশ্বাসযোগ্যতা: এই নিবন্ধটি একাত্তর টিভির প্রতিবেদন এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সাম্প্রতিক বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

  • আপডেট তারিখ: ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫।

  • বিভাগ: আন্তর্জাতিক রাজনীতি / প্রতিরক্ষা।

লেখক পরিচিতি: এই কনটেন্টটি বাংলা কথন (Bangla Kothon) টিমের পক্ষ থেকে ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকদের তত্ত্বাবধানে তৈরি করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য পাঠকদের সঠিক এবং নিরপেক্ষ তথ্য দ্রুত পৌঁছে দেওয়া।

Leave a Comment

Scroll to Top