পৃথিবী ধ্বংস বা কিয়ামত নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। আমরা জানি, একদিন এই মহাবিশ্বের সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন, সবকিছু ধ্বংসের পর আল্লাহ কি করবেন? তিনি কি একা থাকবেন? নাকি নতুন কোনো সৃষ্টিজীব বা মাখলুক তৈরি করবেন?
ইসলামি আকিদা ও সহীহ হাদিসের আলোকে আজকের আর্টিকেলে আমরা এই গূঢ় রহস্য উন্মোচন করব।
মহাবিশ্ব ধ্বংস ও আল্লাহর একচ্ছত্র আধিপত্য
কিয়ামতের ভয়াবহ প্রলয় যখন সংঘটিত হবে, তখন আসমান, জমিন, পাহাড়-পর্বত এবং সমস্ত জীব ধ্বংস হয়ে যাবে। পবিত্র কুরআনের সূরা আর-রহমানে আল্লাহ বলেন, “ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবই নশ্বর। একমাত্র আপনার মহিমাময় ও মহানুভব পালনকর্তার সত্তা ছাড়া।”
সবকিছু ধ্বংসের পর আল্লাহ তায়ালা সমগ্র আসমান ও জমিনকে তাঁর হাতে গুটিয়ে নেবেন। সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফের হাদিসে এসেছে, আল্লাহ পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় নেবেন এবং আসমানসমূহকে ডান হাতে গুটিয়ে বলবেন:
“আমিই রাজাধিরাজ (The King)। আজ পৃথিবীর রাজা-বাদশাহরা কোথায়? কোথায় সেই স্বৈরাচারীরা?”
সেদিন উত্তর দেওয়ার মতো কেউ থাকবে না। আল্লাহ নিজেই নিজের প্রশ্নের উত্তরে বলবেন, “আজকের রাজত্ব একমাত্র আল্লাহর, যিনি এক ও পরাক্রমশালী।”
ধ্বংসের পর কি নতুন পৃথিবী সৃষ্টি হবে?
হ্যাঁ, বর্তমান পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার পর বিচার বা হাশরের জন্য একটি ‘নতুন পৃথিবী’ সৃষ্টি করা হবে। এটি বর্তমান পৃথিবীর মতো হবে না।
-
কুরআনের দলিল: আল্লাহ সূরা ইব্রাহীমে (১৪:৪৮) বলেন, “সেদিন এই পৃথিবীকে পরিবর্তন করে অন্য পৃথিবী এবং আসমানসমূহকে পরিবর্তন করা হবে এবং মানুষ পরাক্রমশালী এক আল্লাহর সামনে হাজির হবে।”
-
জমিনের ধরন: হাদিসের ভাষ্যমতে, সেই নতুন জমিন হবে রৌপ্যের মতো সাদা ও সমতল। সেখানে কারো কোনো পাপের চিহ্ন থাকবে না এবং রক্তপাতের ইতিহাস থাকবে না।
জান্নাত ও জাহান্নাম পূর্ণ করতে কি নতুন সৃষ্টি আসবে?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, বিচার দিবসের পর জান্নাত ও জাহান্নাম কি মানুষ ও জিন দ্বারা পূর্ণ হবে, নাকি আল্লাহ নতুন কাউকে সৃষ্টি করবেন? এখানে দুটি ভিন্ন পরিস্থিতি রয়েছে:
১. জাহান্নাম পূর্ণ করার বিষয়
জাহান্নাম বার বার আল্লাহর কাছে অভিযোগ করবে যে সে পূর্ণ হয়নি, তার আরও চাই (“হাল মিন মাজিদ”)।
-
আল্লাহর ফয়সালা: আল্লাহ জাহান্নাম পূর্ণ করার জন্য নতুন কোনো সৃষ্টি তৈরি করবেন না এবং বিনা অপরাধে কাউকে শাস্তি দেবেন না।
-
সমাধান: সহীহ হাদিস অনুযায়ী, আল্লাহ তাঁর কুদরতি ‘পা’ জাহান্নামের ওপর রাখবেন (বা সংকুচিত করবেন), তখন জাহান্নাম সংকুচিত হয়ে পূর্ণ হয়ে যাবে এবং বলবে “যথেষ্ট হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে।”
২. জান্নাত পূর্ণ করতে নতুন সৃষ্টি (New Creation)
জান্নাত অনেক বিশাল হবে এবং জান্নাতিরা প্রবেশের পরেও সেখানে অনেক জায়গা ফাঁকা থেকে যাবে।
-
নবীজীর (সা.) বাণী: সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হাদিসে (হাদিস নং ২৮৪৮) এসেছে, আল্লাহ জান্নাতের ফাঁকা জায়গা পূর্ণ করার জন্য “নতুন এক সৃষ্টিজীব” (New Creation) সৃষ্টি করবেন।
-
উদ্দেশ্য: এই নতুন সৃষ্টিদের আল্লাহ কোনো পরীক্ষা বা আমল ছাড়াই শুধুমাত্র তাঁর রহমতে জান্নাতে বসবাস করতে দেবেন। এটি আল্লাহর অসীম ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. আল্লাহ কি কিয়ামতের পর আবার মানুষ সৃষ্টি করবেন? উত্তর: আল্লাহ মানুষকে পুনরায় জীবিত করবেন (Resurrection) বিচারের জন্য। তবে জান্নাতের জন্য তিনি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের সৃষ্টিও তৈরি করতে পারেন বলে হাদিসে ইঙ্গিত রয়েছে।
২. ধ্বংসের পর আল্লাহ কতদিন একা থাকবেন? উত্তর: সময়ের এই ধারণাটি আমাদের জাগতিক। আল্লাহ সময়ের ঊর্ধ্বে। তবে হাদিসে ‘৪০’ সংখ্যার উল্লেখ আছে (দিন, মাস না বছর তা নির্দিষ্ট নয়), যার পর তিনি আবার সব জীবিত করবেন।
৩. জান্নাতে কি আমরা নতুন সৃষ্টিদের দেখতে পাব? উত্তর: জান্নাতিরা সেখানে যা চাইবেন তাই পাবেন। হাদিস অনুযায়ী নতুন সৃষ্টিরা জান্নাতের ফাঁকা জায়গায় থাকবে, তাই তাদের সাথে সাক্ষাৎ হওয়াটা স্বাভাবিক।
শেষ কথা
সবকিছু ধ্বংসের পর আল্লাহ কি করবেন এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের ঈমানকে আরও মজবুত করে। এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহ শুধু ধ্বংসকারীই নন, তিনি ‘আল-খালিক’ (মহাস্রষ্টা)। জান্নাতের বিশালতা এতই বেশি যে, তা পূর্ণ করতে আল্লাহকে নতুন সৃষ্টি তৈরি করতে হবে। তাই আমাদের উচিত সেই জান্নাতের প্রত্যাশায় নিজেদের আমল ঠিক করা।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”

