প্রদোষ ব্রত এপ্রিল ২০২৬ কবে?
এপ্রিল ২০২৬ মাসে মোট দুটি প্রদোষ ব্রত পালিত হবে:
| তারিখ | বার | প্রদোষের ধরন | পক্ষ | তিথি |
|---|---|---|---|---|
| ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | মঙ্গলবার | ভৌম প্রদোষ | কৃষ্ণপক্ষ | ত্রয়োদশী |
| ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | মঙ্গলবার | ভৌম প্রদোষ | শুক্লপক্ষ | ত্রয়োদশী |
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ নোট: প্রদোষ কাল সূর্যাস্তের উপর নির্ভর করে, তাই বাংলাদেশের (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ইত্যাদি) স্থানীয় সময় ভারতের IST থেকে সামান্য আলাদা হবে। সঠিক সময় জানতে আপনার স্থানীয় পঞ্জিকা বা DrikPanchang.com দেখুন।
প্রদোষ ব্রত কী?
প্রদোষ ব্রত হলো হিন্দু ধর্মের একটি অত্যন্ত পবিত্র উপবাস যা প্রতি মাসে দুইবার পালিত হয়। প্রতিটি হিন্দু চন্দ্র মাসের ত্রয়োদশী তিথিতে (১৩তম দিনে) — একবার শুক্লপক্ষে এবং একবার কৃষ্ণপক্ষে — এই ব্রত অনুষ্ঠিত হয়।
“প্রদোষ” শব্দের অর্থ হলো সন্ধ্যাকাল বা রাতের প্রথম প্রহর। এই সন্ধ্যাকালীন সময়টিকে প্রদোষ কাল বলা হয়, যা সূর্যাস্তের পর শুরু হয়ে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা স্থায়ী হয়।
এই ব্রতটি ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর আশীর্বাদ লাভের জন্য পালন করা হয়। স্কন্দ পুরাণ ও শিব পুরাণ অনুযায়ী, প্রদোষ কালে শিবের পূজা করলে সব পাপ মোচন হয় এবং মোক্ষ প্রাপ্তি ঘটে।
এপ্রিল ২০২৬ প্রদোষ ব্রতের বিস্তারিত তারিখ ও সময়
১ম প্রদোষ — ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ভৌম প্রদোষ)
- তারিখ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার
- পক্ষ: কৃষ্ণপক্ষ
- তিথি: বৈশাখ কৃষ্ণ ত্রয়োদশী
- প্রদোষের ধরন: ভৌম প্রদোষ (মঙ্গলবারের প্রদোষ)
- বিশেষ ফল: স্বাস্থ্য উন্নতি, রোগ থেকে মুক্তি, আর্থিক উন্নতি
বাংলাদেশে সূর্যাস্ত সাধারণত বিকাল ৬:১৫ থেকে ৬:৩০-এর মধ্যে হয়। তাই প্রদোষ কাল আনুমানিক সন্ধ্যা ৬:১৫ থেকে রাত ৮:৩০ পর্যন্ত চলবে।
২য় প্রদোষ — ২৮ এপ্রিল ২০২৬ (ভৌম প্রদোষ)
- তারিখ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার
- পক্ষ: শুক্লপক্ষ
- তিথি: বৈশাখ শুক্ল ত্রয়োদশী
- প্রদোষের ধরন: ভৌম প্রদোষ (মঙ্গলবারের প্রদোষ)
- বিশেষ ফল: শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি, মঙ্গল গ্রহের দোষ নিবারণ, সমৃদ্ধি লাভ
বাংলাদেশে এপ্রিলের শেষে সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬:৩০ থেকে ৬:৪৫-এর মধ্যে হয়। সেই অনুযায়ী প্রদোষ কাল নির্ধারণ করুন।
বিভিন্ন বারে প্রদোষের নাম ও বিশেষ ফল
প্রদোষ ব্রত সপ্তাহের যে বারে পড়ে, সেই অনুযায়ী এর আলাদা নাম ও ফল রয়েছে:
- সোম প্রদোষ (সোমবার): মনের শান্তি, ইচ্ছাপূরণ, নেতিবাচক চিন্তা দূর
- ভৌম প্রদোষ (মঙ্গলবার): রোগ নিরাময়, শারীরিক সুস্বাস্থ্য, আর্থিক সমৃদ্ধি
- বুধ প্রদোষ (বুধবার): জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি, ইচ্ছাপূরণ
- গুরু প্রদোষ (বৃহস্পতিবার): পিতৃকৃপা, আধ্যাত্মিক উন্নতি, সব বাধা দূর
- শুক্র প্রদোষ (শুক্রবার): সুখী দাম্পত্য জীবন, ভাগ্য উন্নতি, নেতিবাচক শক্তি নাশ
- শনি প্রদোষ (শনিবার): শনির কুপ্রভাব নাশ, সম্পদ লাভ, সাড়ে সাতি থেকে মুক্তি
- রবি প্রদোষ (রোববার): দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য, সামগ্রিক সমৃদ্ধি
এপ্রিল ২০২৬-এ উভয় প্রদোষই মঙ্গলবার পড়েছে, তাই এগুলো ভৌম প্রদোষ — যা বিশেষত স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্য অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয়।
প্রদোষ ব্রত পালনের নিয়ম
প্রদোষ ব্রত পালন করতে হলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
সকালের নিয়ম
১. সূর্যোদয়ের আগে উঠুন, স্নান করুন এবং পরিষ্কার কাপড় পরুন। ২. সংকল্প (মনের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা) করুন — “আমি আজ ভগবান শিবের আশীর্বাদ লাভের জন্য প্রদোষ ব্রত পালন করব।” ৩. সারাদিন উপবাস রাখুন। কেউ কঠোর নির্জলা উপবাস করেন, কেউ ফল ও দুধ খেতে পারেন।
সন্ধ্যার পূজা — প্রদোষ কালে মূল পূজা
১. সূর্যাস্তের আগে আবার স্নান করুন।
২. পূজার স্থান পরিষ্কার করুন। শিবলিঙ্গ বা শিবের ছবি স্থাপন করুন।
৩. পঞ্চামৃত অভিষেক করুন — দুধ, দই, ঘি, মধু ও চিনির মিশ্রণ দিয়ে শিবলিঙ্গ স্নান করান।
৪. বেলপাতা (বিল্ব পাতা) অর্পণ করুন — শিব পূজায় বেলপাতা অপরিহার্য।
৫. ধুতুরা ফুল, সাদা ফুল, চন্দন, ধূপ ও দীপ জ্বালান।
৬. “ওঁ নমঃ শিবায়” মন্ত্র ১০৮ বার জপ করুন।
৭. মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পাঠ করুন।
৮. শিব চালিশা বা প্রদোষ ব্রতকথা পাঠ করুন।
৯. আরতি করুন এবং প্রসাদ বিতরণ করুন।
১০. দরিদ্রদের খাবার, বস্ত্র বা অর্থ দান করুন।
পূজায় কী কী লাগবে?
- শিবলিঙ্গ বা শিবের ছবি/মূর্তি
- বেলপাতা (অবশ্যই তিনটি পাতাযুক্ত)
- দুধ, দই, ঘি, মধু, চিনি (পঞ্চামৃত)
- সাদা ফুল ও ধুতুরা ফুল
- চন্দন ও ভস্ম (বিভূতি)
- ধূপ, দীপ (ঘি বা তিলের তেল)
- ফল ও মিষ্টি প্রসাদ
প্রদোষ ব্রতে যা করবেন না
কিছু বিষয় আছে যা প্রদোষ ব্রতের দিন এড়িয়ে চলা উচিত:
- শিব পূজায় তুলসী পাতা ব্যবহার করবেন না (তুলসী শিবের কাছে নিষিদ্ধ)
- মাংস, মাছ, ডিম বা কোনো তামসিক খাবার খাবেন না
- মদ্যপান বা কোনো নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করবেন না
- মিথ্যা কথা বলবেন না, কারও সাথে ঝগড়া করবেন না
- কেতকী (কেওড়া) ফুল শিবকে অর্পণ করবেন না
- ব্রত ভঙ্গ করলে বা ভুলবশত হলে ক্ষমা চেয়ে পরের প্রদোষে আবার পালন করুন
প্রদোষ ব্রতের পৌরাণিক কাহিনী
প্রদোষ ব্রতের সাথে দুটি বিখ্যাত পৌরাণিক কাহিনী জড়িয়ে আছে।
সমুদ্র মন্থনের কাহিনী
দেব ও অসুরেরা মিলে সমুদ্র মন্থন করতে গিয়ে ভয়ংকর হলাহল বিষ উঠে আসে। এই বিষের তাপে সারা জগৎ ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়। দেবতারা ভগবান শিবের শরণ নেন। শিব প্রদোষ কালে সেই বিষ পান করে জগৎকে রক্ষা করেন। এরপর থেকেই শিব “নীলকণ্ঠ” নামে পরিচিত হন। এই ঘটনার কারণেই প্রদোষ কালকে শিব পূজার সবচেয়ে পবিত্র সময় হিসেবে গণ্য করা হয়।
দরিদ্র ব্রাহ্মণের কাহিনী (স্কন্দ পুরাণ)
স্কন্দ পুরাণে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ বিধবার কাহিনী আছে। তিনি তাঁর পুত্রকে নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে জীবনযাপন করতেন। কিন্তু প্রতি মাসে নিষ্ঠার সাথে প্রদোষ ব্রত পালন করতেন। শিবের কৃপায় তাঁর সব দুঃখ দূর হয়ে গেল, পুত্র রাজ্য লাভ করল এবং পরিবারে সুখ ও সমৃদ্ধি ফিরে এল।
২০২৬ সালের সম্পূর্ণ প্রদোষ ব্রতের তালিকা (এপ্রিল-কেন্দ্রিক)
| মাস | তারিখ | বার | প্রদোষের ধরন |
|---|---|---|---|
| মার্চ | ১৬ মার্চ ২০২৬ | সোমবার | সোম প্রদোষ |
| এপ্রিল | ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | মঙ্গলবার | ভৌম প্রদোষ |
| এপ্রিল | ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | মঙ্গলবার | ভৌম প্রদোষ |
| মে | ১৪ মে ২০২৬ | বৃহস্পতিবার | গুরু প্রদোষ |
| মে | ২৮ মে ২০২৬ | বৃহস্পতিবার | গুরু প্রদোষ |
প্রদোষ ব্রতের উপকারিতা
প্রদোষ ব্রত শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়। এই ব্রত পালনে আধ্যাত্মিক ও মানসিক উভয় দিক থেকেই উপকার পাওয়া যায়:
আধ্যাত্মিক উপকার:
- পাপ মোচন ও কর্ম পরিশুদ্ধি
- মোক্ষের পথ উন্মুক্ত হওয়া
- শিব ও পার্বতীর সরাসরি আশীর্বাদ লাভ
সাংসারিক উপকার:
- অর্থনৈতিক সমস্যা থেকে মুক্তি
- পারিবারিক শান্তি ও সুখ
- বিবাহে বাধা দূর (বিশেষত শুক্র ও সোম প্রদোষে)
- সন্তান প্রাপ্তির ইচ্ছাপূরণ (শনি প্রদোষে)
- শনির সাড়ে সাতি ও মঙ্গল দোষ নিবারণ
মানসিক উপকার:
- সন্ধ্যাকালীন উপাসনা মস্তিষ্কে প্রশান্তি আনে
- উপবাস শরীরের পাচনতন্ত্র পরিশুদ্ধ করে
- মানসিক চাপ কমে, একাগ্রতা বাড়ে
বাংলাদেশের হিন্দু ভক্তদের জন্য বিশেষ পরামর্শ
বাংলাদেশে প্রদোষ ব্রত পালনকারীদের কিছু বিশেষ বিষয় মনে রাখা দরকার:
সময় নির্ধারণ প্রসঙ্গে: বাংলাদেশ ভারতের থেকে ৩০ মিনিট এগিয়ে (BST = IST + ৩০ মিনিট)। তাই ভারতীয় পঞ্জিকার সময়ের সাথে ৩০ মিনিট যোগ করুন। তবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হলো আপনার এলাকার স্থানীয় সূর্যাস্তের সময় ধরে প্রদোষ কাল গণনা করা।
মন্দিরে যাওয়া: ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের শিব মন্দির বা আপনার কাছাকাছি যেকোনো শিব মন্দিরে গিয়ে পূজায় অংশ নিতে পারেন।
উপবাসের খাবার: বাংলাদেশে প্রদোষ ব্রতের দিন অনেকে সাবু, আলু সেদ্ধ, ফল ও দুধ খেয়ে উপবাস রাখেন। শস্যজাতীয় খাবার বর্জন করুন।
প্রদোষ কাল কী এবং কেন এই সময়টি এত পবিত্র?
প্রদোষ কাল হলো সূর্যাস্তের পর থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা চব্বিশ মিনিটের একটি সময়কাল। এই সময়টিকে বিশেষভাবে পবিত্র মনে করার পেছনে শাস্ত্রীয় কারণ হলো — শিব পুরাণ অনুযায়ী এই সময়ে ভগবান শিব নন্দির শিং-এর মাঝে নৃত্য করেন (আনন্দ তাণ্ডব) এবং সব দেব-দেবী তাঁকে ঘিরে থাকেন। সেই মুহূর্তে যে ভক্ত শিবের স্তুতি করেন, তাঁর প্রার্থনা শিব সরাসরি শুনতে পান।
এই সময়ে পূজা করলে সাধারণ সময়ের চেয়ে হাজার গুণ বেশি ফল পাওয়া যায় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।
প্রদোষ ব্রতের মন্ত্রসমূহ
মূল মন্ত্র:
ওঁ নমঃ শিবায় (Om Namah Shivaya)
এটি পঞ্চাক্ষর মন্ত্র — পাঁচটি অক্ষর পাঁচটি মহাভূত (পৃথিবী, জল, অগ্নি, বায়ু, আকাশ) প্রতিনিধিত্ব করে। ১০৮ বার জপ করুন।
মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র:
ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্ । উর্বারুকমিব বন্ধনান্মৃত্যোর্মুক্ষীয় মামৃতাৎ ॥
এই মন্ত্র দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও মৃত্যুভয় নাশের জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
প্রদোষ ব্রত এপ্রিল ২০২৬-এ কত তারিখে?
এপ্রিল ২০২৬-এ প্রদোষ ব্রত দুটি — ১৪ এপ্রিল (ভৌম প্রদোষ, কৃষ্ণপক্ষ) এবং ২৮ এপ্রিল (ভৌম প্রদোষ, শুক্লপক্ষ)। দুটিই মঙ্গলবারে পড়েছে, তাই উভয়ই ভৌম প্রদোষ।
প্রদোষ কাল কখন শুরু এবং শেষ হয়?
প্রদোষ কাল সূর্যাস্তের পর শুরু হয় এবং প্রায় ২ ঘণ্টা ২৪ মিনিট স্থায়ী হয়। বাংলাদেশে এপ্রিল মাসে সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬:১৫ থেকে ৬:৪৫-এর মধ্যে হয়। সঠিক স্থানীয় সময় জানতে DrikPanchang.com ব্যবহার করুন।
প্রদোষ ব্রতে কী খাওয়া যায়?
প্রদোষ ব্রতের দিন শস্যজাতীয় (ভাত, রুটি, ডাল) খাবার বর্জন করতে হয়। ফল, দুধ, দই, সাবু, আলু সেদ্ধ, বাদাম খেতে পারবেন। অনেকে কঠোরভাবে নির্জলা উপবাস করেন।
শনি প্রদোষ কি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ?
হ্যাঁ। শনি প্রদোষ সবচেয়ে শক্তিশালী প্রদোষ বলে গণ্য করা হয়। এই দিনে পূজা করলে শনির সাড়ে সাতি, কঙ্টক শনি ও অষ্টমশনির দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ২০২৬ সালে শনি প্রদোষ পড়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি ও ২৭ জুন।
প্রদোষ ব্রতে তুলসী দেওয়া যাবে কি?
না। শিবের পূজায় তুলসী পাতা ব্যবহার করা নিষেধ। শিবের পূজায় বেলপাতা (বিল্ব পাতা) অর্পণ করতে হয়।
প্রদোষ ব্রত কে পালন করতে পারবেন?
যেকোনো বয়সের নারী-পুরুষ এই ব্রত পালন করতে পারেন। শাস্ত্রে কোনো বয়স বা লিঙ্গভেদ নির্দিষ্ট করা নেই।
বাংলাদেশে প্রদোষ ব্রতের সময় ভারতের চেয়ে আলাদা কেন?
কারণ প্রদোষ কাল স্থানীয় সূর্যাস্তের উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের BST, ভারতের IST-এর চেয়ে ৩০ মিনিট এগিয়ে। এছাড়া বিভিন্ন শহরে ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী সূর্যাস্তের সময় সামান্য আলাদা হয়।
প্রদোষ ব্রতে কোন মন্দিরে যাওয়া উচিত?
যেকোনো শিব মন্দিরে যেতে পারেন। বাংলাদেশে ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির ও রামকৃষ্ণ মিশনের মন্দিরগুলোতে প্রদোষের দিন বিশেষ পূজার আয়োজন হয়।
যদি প্রদোষ ব্রত পালন করতে না পারি?
ব্রত ভঙ্গ হলে বা না হলে মনে দুশ্চিন্তা না করে ভগবান শিবের কাছে ক্ষমা চান। পরের প্রদোষে পুনরায় পালন করুন। শিব পুরাণ বলে, ভক্তির আন্তরিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
শেষকথা
প্রদোষ ব্রত শুধু একটি উপবাস নয় — এটি ভগবান শিবের সাথে আত্মার সংযোগের একটি পথ। প্রতি মাসে দুইবার এই সুযোগ আসে নিজের মন পরিশুদ্ধ করার, জীবনের সমস্যা থেকে মুক্তির পথ খোঁজার এবং আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জনের।
এপ্রিল ২০২৬-এ আসছে দুটি ভৌম প্রদোষ — ১৪ এপ্রিল ও ২৮ এপ্রিল। বাংলাদেশের হিন্দু ভক্তরা স্থানীয় সূর্যাস্তের সময় হিসাব করে এই পবিত্র ব্রত পালন করুন।
মনে রাখবেন: প্রদোষ কাল শুধু পূজার সময় নয়, এটি ভগবান শিব তাঁর ভক্তদের সবচেয়ে কাছে থাকার সময়। এই মুহূর্তে মনের গভীর ইচ্ছাটি নিয়ে শিবের কাছে সরলভাবে প্রার্থনা করুন।
ওঁ নমঃ শিবায়। হর হর মহাদেব।
তথ্যসূত্র ও বিশ্বাসযোগ্য সোর্স
- স্কন্দ পুরাণ (হিন্দু শাস্ত্র)
- শিব পুরাণ (হিন্দু শাস্ত্র)
- DrikPanchang.com (লোকেশন-ভিত্তিক পঞ্জিকা তথ্য)
- AstroSage.com (পঞ্জিকা ও জ্যোতিষ তথ্য)
- SmartPuja.com (প্রদোষ ব্রত ক্যালেন্ডার ২০২৬)
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”

