এপস্টাইন ফাইলস (Epstein Files) হলো কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন এবং তার সহযোগী ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের মামলার সাথে সম্পর্কিত হাজার হাজার পৃষ্ঠার আইনি নথিপত্র, যা আদালতের নির্দেশে এবং “Epstein Files Transparency Act”-এর আওতায় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এটি কোনো “ক্লায়েন্ট লিস্ট” বা অপরাধীর তালিকা নয়; বরং এতে মামলার সাক্ষী, ভিক্টিম, এবং যারা এপস্টাইনের সাথে মেলামেশা বা ভ্রমণ করেছেন তাদের নাম উল্লেখ রয়েছে। সর্বশেষ ৩০ জানুয়ারি ২০২৬-এ ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ (DOJ) প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন নতুন পেজ এবং ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে, যা এই মামলার সবচেয়ে বড় তথ্যভাণ্ডার হিসেবে বিবেচিত।
এপস্টাইন ফাইলস কেন খবরের শিরোনামে?
জেফরি এপস্টাইন ছিলেন একজন আমেরিকান ধনাঢ্য ফাইন্যান্সার, যার বিরুদ্ধে নাবালিকাদের যৌন পাচারের অভিযোগ ছিল। ২০১৯ সালে কারাগারে তার মৃত্যুর পর, তার সাথে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগাযোগ নিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে আদালতের সিল করা নথিপত্রগুলো (Sealed Documents) উন্মুক্ত করা হলে, বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
এই ফাইলগুলো কেন গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রভাবশালী নাম: এতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য এবং হলিউড তারকাদের নাম উঠে এসেছে।
- স্বচ্ছতা আইন: ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাস হওয়া নতুন আইনের কারণে ৩০ জানুয়ারি ২০২৬-এ বিশাল আকারের নথি প্রকাশ করা হয়।
- গুজব বনাম সত্য: সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক ভুয়া তালিকা ছড়াচ্ছে, তাই আসল নথিতে কি আছে তা জানা জরুরি।
এপস্টাইন ফাইলে কাদের নাম রয়েছে?
পাঠকদের মনে রাখা জরুরি যে, নথিতে নাম থাকা মানেই কেউ অপরাধী নয়। অনেকের নাম কেবল সাক্ষ্যগ্রহণের সময় বা ফ্লাইট লগে থাকার কারণে উল্লেখ করা হয়েছে। নিচে আলোচিত কিছু নাম ও তাদের প্রেক্ষাপট দেওয়া হলো:
১. ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)
সদ্য প্রকাশিত নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম বহুবার উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নথিতে তাকে সরাসরি কোনো যৌন অপরাধের সাথে যুক্ত করা হয়নি। তিনি এপস্টাইনের প্লেনে চড়েছিলেন এবং অতীতে তাদের পরিচয় ছিল, যা তিনি আগেই স্বীকার করেছেন। বিচার বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ কোনো অভিযোগ এই ফাইলে নেই।
২. বিল ক্লিনটন (Bill Clinton)
সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের নামও নথিতে ব্যাপকভাবে এসেছে। তিনি এপস্টাইনের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধেও কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ এই নথিতে প্রমাণ হয়নি।
৩. প্রিন্স এন্ড্রু (Prince Andrew)
ব্রিটিশ রাজপরিবারের এই সদস্যের বিরুদ্ধে ভিক্টিম ভার্জিনিয়া জিওফ্রে সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন। আদালতের নথিতে তার নাম বারবার এসেছে এবং এটিই সম্ভবত ফাইলের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ।
৪. মাইকেল জ্যাকসন ও অন্যান্য সেলেব্রিটি
মাইকেল জ্যাকসন, ডেভিড কপারফিল্ডসহ অনেক তারকার নাম নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তারা হয়তো এপস্টাইনের বাড়িতে দাওয়াতে গিয়েছিলেন বা কোনো ইভেন্টে দেখা করেছিলেন—কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মেলেনি।
২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি রিলিজ হওয়া ফাইলে নতুন কি আছে?
২০২৫ সালের শেষে পাস হওয়া Epstein Files Transparency Act-এর সময়সীমা অনুযায়ী, ২০২৬-এর ৩০ জানুয়ারি বিচার বিভাগ (DOJ) বিশাল এক তথ্যভাণ্ডার প্রকাশ করে।
- ৩.৫ মিলিয়ন পেজ: এতে ইমেইল, ডায়েরি এবং আইনি জবানবন্দি রয়েছে।
- ভিডিও ও ছবি: প্রায় ২,০০০ ভিডিও এবং ১,৮০,০০০ ছবি রিলিজ করা হয়েছে (তবে ভিক্টিমদের সুরক্ষায় অনেক কিছু ব্লার বা রিমুভ করা হয়েছে)।
- DOJ-এর বিবৃতি: বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে যে, তদন্তে এপস্টাইনের কোনো নির্দিষ্ট “ব্ল্যাকমেইল লিস্ট” পাওয়া যায়নি, যা অনেক কনস্পিরেসি থিওরিকে ভুল প্রমাণ করে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১. এপস্টাইন লিস্টে কি কোনো “Client List” আছে?
উত্তর: না। অফিসিয়ালি কোনো “Client List” বা “Customer List” নামে ডকুমেন্ট নেই। যা পাওয়া গেছে তা হলো—ফ্লাইট লগ, ডায়েরির পাতা এবং মামলার নথিপত্র। সেখানে যাদের নাম আছে, তাদের সবাইকে “ক্লায়েন্ট” ভাবা ভুল।
২. স্টিফেন হকিং-এর নাম কি ফাইলে আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, একটি ইমেইলে স্টিফেন হকিং-এর নাম উল্লেখ ছিল। এপস্টাইন একটি ইমেইলে লিখেছিলেন যে হকিং ভার্জিন আইল্যান্ডে মাইনরদের সাথে পার্টিতে ছিলেন—এমন অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। অর্থাৎ, হকিং সেখানে কোনো অপরাধ করেছেন এমন প্রমাণ নেই।
৩. এই ফাইলগুলো কোথায় দেখা যাবে?
উত্তর: এই ফাইলগুলো এখন পাবলিক ডোমেইনে আছে। বিভিন্ন বিশ্বাসযোগ্য নিউজ আউটলেট (যেমন: CNN, BBC, Jamuna TV) এবং আইনি ওয়েবসাইটগুলোতে এর আর্কাইভ পাওয়া যায়।
৪. জেফরি এপস্টাইন কি সত্যিই আত্মহত্যা করেছিলেন?
উত্তর: সরকারি ময়নাতদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি ২০১৯ সালে জেলহাজতে আত্মহত্যা করেন। তবে ৩০ জানুয়ারি ২০২৬-এর রিলিজেও এ নিয়ে নতুন কোনো প্রমাণ মেলেনি যা এই রিপোর্টকে ভুল প্রমাণ করে।
শেষ কথা
এপস্টাইন ফাইলস কোনো গসিপ বা গুজব নয়, এটি একটি গুরুতর আইনি দলিল। ইন্টারনেটে ছড়ানো চটকদার ভিডিও বা পোস্ট বিশ্বাস না করে, মূল ধারার গণমাধ্যম এবং আদালতের তথ্যের ওপর নির্ভর করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
Disclaimer: তথ্যগুলো সম্পূর্ণ অনলাইন থেকে সংগৃহীত। এতে আমাদের কোন দায়বদ্ধতা নেই। ধন্যবাদ
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”

