সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম ও ফজিলত

সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম ও ফজিলত
সালাতুল তাসবিহ হলো ৪ রাকাত নফল নামাজ, যেখানে প্রতিটি রাকাতে নির্দিষ্ট নিয়মে মোট ৭৫ বার “সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার” তাসবিহ পড়তে হয়। মোট ৪ রাকাতে ৩০০ বার এই তাসবিহ পড়া হয়। এটি জীবনে একবার, মাসে একবার, সপ্তাহে একবার বা প্রতিদিন একবার পড়া যায়।

সালাতুল তাসবিহ ইসলামের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ নফল নামাজগুলোর একটি। নবী করীম ﷺ এই নামাজটি তাঁর চাচা হযরত আব্বাস (রা.)-কে শিখিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে এই নামাজ পড়লে আগের ও পরের, পুরনো ও নতুন, ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত, ছোট ও বড় — সব ধরনের গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।

এই আর্টিকেলে আপনি পাবেন সালাতুল তাসবিহর সঠিক নিয়ম, আরবি দোয়া ও বাংলা উচ্চারণ, ফজিলত, পড়ার সময়, এবং আলেমদের মতামত — সব কিছু একসাথে।

সালাতুল তাসবিহ কী?

সালাতুল তাসবিহ (صلاة التسبيح) অর্থ “তাসবিহর নামাজ”। এটি ৪ রাকাত নফল নামাজ যেখানে প্রতিটি রাকাতে সুনির্দিষ্ট সংখ্যায় তাসবিহ পাঠ করা হয়। এই নামাজের বিশেষত্ব হলো নামাজের প্রতিটি অংশে — কিয়াম, রুকু, সিজদা, জলসা — আলাদা আলাদাভাবে তাসবিহ গণনা করে পড়তে হয়।

তাসবিহর বাক্যটি কী?

سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার

অর্থ: আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং আল্লাহ সর্বমহান।

সালাতুল তাসবিহর হাদিস

📖 হাদিস সূত্র: সুনানে আবু দাউদ (হাদিস নং: ১২৯৭), সুনানে ইবনে মাজাহ (হাদিস নং: ১৩৮৭), সুনানে তিরমিযি ও বায়হাকি — এই হাদিসগুলো ইমাম ইবনে মান্দাহ, ইবনে খুজায়মাহ (সহিহ বলেছেন), ইমাম নববী ও অন্যান্য মুহাদ্দিসরা বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন করেছেন।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর চাচা হযরত আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রা.)-কে বললেন:

“হে চাচা! আমি কি আপনাকে একটি বিশেষ উপহার দেব না? আমি কি আপনাকে এমন দশটি বিষয় শেখাব না যার মাধ্যমে, যদি আপনি তা করেন, তাহলে আল্লাহ আপনার আগের ও পরের, পুরনো ও নতুন, ইচ্ছাকৃত ও ভুলবশত, ছোট ও বড়, গোপন ও প্রকাশ্য — সব গুনাহ মাফ করে দেবেন?”

এরপর রাসূল ﷺ সালাতুল তাসবিহর নিয়ম শিক্ষা দিলেন।

(আবু দাউদ, হাদিস নং: ১২৯৭; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ১৩৮৭)

হাদিসের মান নিয়ে আলেমদের মতামত

এই নামাজের হাদিস নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে কিছু মতভেদ রয়েছে। তবে বিশিষ্ট আলেমরা যা বলেছেন:

  • ইমাম ইবনে খুজায়মাহ (রহ.) হাদিসটি সহিহ বলে গ্রহণ করেছেন
  • ইমাম হাকিম (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন
  • ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন এই নামাজ পড়া উচিত
  • শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) হাদিসটি হাসান মনে করেছেন
  • ইমাম ইবনে কুদামাহ ও ইমাম বায়হাকিও এই নামাজ পড়তে উৎসাহিত করেছেন
  • বাংলাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং অধিকাংশ আলেমরা এই নামাজকে ফজিলতপূর্ণ মনে করেন

সালাতুল তাসবিহ নামাজের সম্পূর্ণ নিয়ম

প্রতিটি রাকাতে তাসবিহ গণনার ছক

নামাজের অংশতাসবিহ সংখ্যা (প্রতি রাকাতে)
সানা পড়ার পর, সূরা পড়ার আগে (কিয়ামে)১৫ বার
সূরা পাঠের পর, রুকুতে যাওয়ার আগে (কিয়ামে)১০ বার
রুকু অবস্থায় (রুকুর তাসবিহর পর)১০ বার
রুকু থেকে উঠে সোজা দাঁড়িয়ে (কাওমায়)১০ বার
প্রথম সিজদায় (সিজদার তাসবিহর পর)১০ বার
দুই সিজদার মাঝে বসে (জলসায়)১০ বার
দ্বিতীয় সিজদায় (সিজদার তাসবিহর পর)১০ বার
এক রাকাতে মোট৭৫ বার
৪ রাকাতে মোট৩০০ বার

ধাপে ধাপে সালাতুল তাসবিহ পড়ার নিয়ম

নিয়ত

মনে মনে নিয়ত করুন: “আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ৪ রাকাত সালাতুল তাসবিহ নামাজ পড়ছি।”

نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ لِلَّهِ تَعَالَى أَرْبَعَ رَكَعَاتِ صَلَاةِ التَّسْبِيحِ

উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা আরবাআ রাকাআতি সালাতিত তাসবিহ।

১ম রাকাত — বিস্তারিত নিয়ম

  1. তাকবিরে তাহরিমা দিয়ে নামাজ শুরু করুন (আল্লাহু আকবার বলে হাত বাঁধুন)
  2. সানা পড়ুন (সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা…)
  3. সানার পর ১৫ বার তাসবিহ পড়ুন: “সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার”
  4. আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ে সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পড়ুন
  5. সূরা পাঠ শেষে রুকুতে যাওয়ার আগে দাঁড়িয়ে ১০ বার তাসবিহ পড়ুন
  6. রুকুতে গিয়ে রুকুর সাধারণ তাসবিহ পড়ে তারপর ১০ বার তাসবিহ পড়ুন
  7. রুকু থেকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে (কাওমায়) ১০ বার তাসবিহ পড়ুন
  8. প্রথম সিজদায় গিয়ে সিজদার সাধারণ তাসবিহ পড়ে তারপর ১০ বার তাসবিহ পড়ুন
  9. দুই সিজদার মাঝে বসে (জলসায়) ১০ বার তাসবিহ পড়ুন
  10. দ্বিতীয় সিজদায় গিয়ে সিজদার সাধারণ তাসবিহ পড়ে তারপর ১০ বার তাসবিহ পড়ুন

➡️ ১ম রাকাতে মোট: ১৫+১০+১০+১০+১০+১০+১০ = ৭৫ বার

২য়, ৩য় ও ৪র্থ রাকাত

বাকি তিনটি রাকাতও একইভাবে পড়তে হবে। প্রতিটি রাকাতে ঠিক ৭৫ বার করে তাসবিহ পড়তে হবে।

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম: যদি কোনো স্থানে তাসবিহ পড়তে ভুলে যান, তাহলে পরবর্তী স্থানে ঘাটতি সংখ্যা পূরণ করুন যেন মোট ৭৫টি পূর্ণ হয়।

নামাজের শেষে কিছু অতিরিক্ত বিষয়

  • ২য় রাকাতের পর তাশাহহুদ বসতে হবে (প্রথম বৈঠক)
  • ৪র্থ রাকাতের পর তাশাহহুদ, দরুদ ও দোয়া পড়ে সালাম ফেরাতে হবে
  • এই নামাজ এক সালামে পড়া যায় অথবা দুই রাকাত করে আলাদা সালামেও পড়া যায় — উভয়ই বৈধ

সালাতুল তাসবিহর ফজিলত ও গুরুত্ব

হাদিসে বর্ণিত ফজিলতসমূহ

  • আগের ও পরের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়
  • ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত গুনাহ মাফ হয়
  • ছোট ও বড় সব ধরনের গুনাহ মাফ হয়
  • পুরনো ও নতুন গুনাহ মাফ হয়
  • গোপন ও প্রকাশ্য গুনাহ মাফ হয়

এই নামাজকে “গুনাহ মাফের বিশেষ নামাজ” বলা হয়। মৃত্যুশয্যাগামী, অসুস্থ, বা গুনাহে ডুবে যাওয়া মানুষের জন্য এটি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার একটি বিশেষ সুযোগ।

এই নামাজ পড়লে কী হয়?

রাসূল ﷺ বলেছেন: “যদি তুমি এই নামাজ প্রতিদিন একবার পড়তে পারো তাহলে পড়বে। যদি না পারো তাহলে প্রতি জুমুআয় একবার পড়বে। যদি তাও না পারো তাহলে প্রতি মাসে একবার পড়বে। যদি তাও না পারো তাহলে প্রতি বছরে একবার পড়বে। আর যদি তাও না পারো তাহলে অন্তত জীবনে একবার পড়বে।”

(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং: ১২৯৭)

সালাতুল তাসবিহ কখন পড়তে হয়?

কোন সময় পড়া যাবে?

  • দিনের যেকোনো নফল নামাজের সময়ে পড়া যাবে
  • সকালে (ফজরের পর সূর্য ওঠার পর থেকে)
  • চাশতের সময়
  • যোহরের আগে বা পরে
  • আসরের আগে
  • মাগরিবের পরে
  • ইশার পরে
  • তাহাজ্জুদের সময়

কখন পড়া নিষেধ?

  • সূর্যোদয়ের সময় (সূর্য উঠছে ঠিক এই মুহূর্তে)
  • সূর্য মাথার উপর থাকার সময় (ইস্তিওয়া)
  • সূর্যাস্তের সময়
  • ফজরের নামাজের পর সূর্য না উঠা পর্যন্ত
  • আসরের নামাজের পর সূর্য না ডোবা পর্যন্ত

কতবার পড়া উচিত?

রাসূল ﷺ-এর নির্দেশনা অনুযায়ী ক্রমানুসারে:

  1. প্রতিদিন একবার — সবচেয়ে উত্তম
  2. সপ্তাহে একবার — প্রতি শুক্রবার (জুমার দিন) পড়া বিশেষ ফজিলতপূর্ণ
  3. মাসে একবার
  4. বছরে একবার
  5. অন্তত জীবনে একবার

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেকে রমজান মাসে, শবে কদরে, শবে বরাতে বা বিশেষ মুহূর্তে এই নামাজ পড়ে থাকেন। এটি সওয়াবের কাজ।

বাংলাদেশীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ

প্রথমবার পড়লে কীভাবে শুরু করবেন?

  1. প্রথমে ছকটি মুখস্থ করুন (প্রতিটি ধাপে কতবার পড়তে হবে)
  2. তাসবিহর বাক্যটি মুখস্থ করুন
  3. প্রথমদিকে হাতের আঙ্গুলে গণনা করুন
  4. তারপর তাসবিহ দানা ব্যবহার করতে পারেন
  5. অথবা ডিজিটাল তাসবিহ কাউন্টার ব্যবহার করুন
  6. ধীরে ধীরে প্র্যাকটিস করলে স্বাভাবিক হয়ে যাবে

সাধারণ ভুলগুলো যা এড়াতে হবে

  • গণনা ভুল হলে মাঝপথে আগের স্থানে ফিরে না গিয়ে পরবর্তী স্থানে পূরণ করুন
  • তাড়াহুড়া করে পড়বেন না — ধীরস্থির মনে পড়ুন
  • মনোযোগ হারালে থেমে গণনা নিশ্চিত করুন
  • তাসবিহ পড়ার সময় অন্য কথা মাথায় আনবেন না

ইসলামি স্কলারদের মতামত

বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশের বিশিষ্ট আলেমরা সালাতুল তাসবিহকে ফজিলতপূর্ণ এবং পড়ার যোগ্য নামাজ হিসেবে গণ্য করেছেন। দেওবন্দ, বেরেলভি এবং আহলে হাদিস তিনটি ধারার আলেমদের অধিকাংশই এই নামাজকে সুন্নতসম্মত মনে করেন, যদিও মতের কিছু পার্থক্য রয়েছে।

  • ইমাম ইবনে খুজায়মাহ (রহ.) — সহিহ হাদিস বলে গণ্য করেছেন
  • আল্লামা ইবনুল জাওযি (রহ.) — হাদিসের সনদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন
  • ইমাম নববী (রহ.) — নামাজটি পড়া উচিত বলেছেন
  • ইমাম সুয়ুতি (রহ.) — এই নামাজের পক্ষে মত দিয়েছেন
  • আল্লামা শামি (রহ.) — ফাতওয়ায়ে শামিতে এর বিধান উল্লেখ করেছেন
  • বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন — এই নামাজকে বৈধ ও ফজিলতপূর্ণ বলেছে

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নসমূহ

সালাতুল তাসবিহ কি সুন্নত নাকি নফল?

সালাতুল তাসবিহ একটি নফল নামাজ। এটি ওয়াজিব বা সুন্নতে মুয়াক্কাদা নয়। তবে হাদিসে এটি পড়ার বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে বলে অনেক আলেম একে “মুস্তাহাব” (পছন্দনীয়) গণ্য করেন।

সালাতুল তাসবিহ কি একা পড়তে হয় নাকি জামাতে পড়া যায়?

এই নামাজ সাধারণত একাকী পড়া হয়। তবে কেউ কেউ জামাতে পড়লেও তা অনুমোদিত। একা পড়াই বেশি প্রচলিত এবং যুক্তিসংগত, কারণ গণনার কারণে মনোযোগ ভাগ হয়ে যেতে পারে।

মহিলারা কি সালাতুল তাসবিহ পড়তে পারবেন?

হ্যাঁ, মহিলারা সম্পূর্ণরূপে সালাতুল তাসবিহ পড়তে পারবেন। পুরুষ ও মহিলার নিয়ম একই, শুধু নামাজের সাধারণ পার্থক্যগুলো (যেমন হাত বাঁধার নিয়ম) মেনে চলতে হবে।

সালাতুল তাসবিহতে কি নির্দিষ্ট সূরা পড়তে হয়?

না, কোনো নির্দিষ্ট সূরা পড়তে হয় না। যেকোনো সূরা পড়লেই চলবে। তবে কেউ কেউ বলেন প্রথম রাকাতে সূরা তাকাসুর, দ্বিতীয়তে সূরা আসর, তৃতীয়তে সূরা কাফিরুন এবং চতুর্থে সূরা ইখলাস পড়া উত্তম — কিন্তু এটি বাধ্যতামূলক নয়।

রমজান মাসে সালাতুল তাসবিহ পড়া কি বেশি ফজিলতপূর্ণ?

যেকোনো নেক আমল রমজান মাসে বেশি সওয়াব বহন করে। তাই রমজানে, বিশেষ করে শেষ দশকে বা শবে কদরে সালাতুল তাসবিহ পড়লে বিশেষ ফজিলত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সালাতুল তাসবিহ কি ক্বাযা নামাজের বিকল্প?

না। সালাতুল তাসবিহ ক্বাযা নামাজের বিকল্প নয়। ক্বাযা নামাজ আলাদাভাবে পড়তে হবে। এই দুটি আলাদা ইবাদত।

গণনা ভুল হলে কী করতে হবে?

যদি কোনো স্থানে তাসবিহ পড়তে ভুলে যান বা কম পড়েন, তাহলে পরবর্তী স্থানে অতিরিক্ত পড়ে ঘাটতি পূরণ করুন। নামাজ ভাঙতে হবে না। মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি রাকাতে মোট ৭৫ বার পড়া।

সালাতুল তাসবিহ কি সিজদায়ে সাহু দিতে হয়?

তাসবিহ পড়তে ভুলে গেলে সিজদায়ে সাহু দেওয়া জরুরি নয়। তাসবিহ নামাজের রুকন (ফরজ অংশ) নয়, বরং বিশেষ সংযোজন। তবে কোনো ওয়াজিব ভুলে গেলে স্বাভাবিক নিয়মে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে।

সালাতুত তাসবিহ ও সালাতুল হাজত কি একই?

না, এ দুটি আলাদা নামাজ। সালাতুল হাজত হলো বিশেষ প্রয়োজনে পড়া ২ রাকাত নামাজ, আর সালাতুল তাসবিহ হলো গুনাহ মাফের জন্য ৪ রাকাত নামাজ।

সালাতুল তাসবিহ পড়লে কি সত্যিই সব গুনাহ মাফ হয়?

হাদিসে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে ইসলামি ধর্মতাত্ত্বিকদের মতে এটি আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। নিষ্ঠার সাথে তওবা ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহ ক্ষমা করতে পারেন।

সালাতুল তাসবিহ কি প্রতিদিন পড়া কি ঠিক?

হ্যাঁ, রাসূল ﷺ নিজেই বলেছেন প্রতিদিন একবার পড়া সবচেয়ে উত্তম। তাই নিয়মিত পড়া যাবে।

তথ্যসূত্র ও বিশ্বস্ত সোর্স

  • সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং: ১২৯৭
  • সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ১৩৮৭
  • সুনানে তিরমিযি
  • ইমাম ইবনে খুজায়মাহ রচিত সহিহ ইবনে খুজায়মাহ
  • ইমাম হাকিমের আল-মুসতাদরাক
  • বায়হাকির শুআবুল ঈমান
  • বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত ইসলামি বিশ্বকোষ
  • ফাতওয়ায়ে শামি (ইমাম ইবনে আবিদিন)
✍️ ডিসক্লেইমার: আর্টিকেলটি ইসলামিক কনটেন্ট গবেষক কর্তৃক রচিত এবং বিশ্বস্ত হাদিস গ্রন্থ ও ইসলামিক স্কলারদের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি। কোনো ভুল পেলে বা মতামত জানাতে আলেমদের সাথে পরামর্শ করুন।

Leave a Comment

Scroll to Top