আপনি কি জানতে চান ২০২৬ সালের সূর্যগ্রহণ কবে এবং এটি বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে কিনা? ২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণটি একটি বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ (Annular Solar Eclipse), যা সংঘটিত হবে ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (মঙ্গলবার)। এটি অ্যান্টার্কটিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ থেকে দেখা যাবে। তবে, বাংলাদেশ থেকে এই সূর্যগ্রহণটি দেখা যাবে না। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩:৫৬ মিনিটে শুরু হবে, কিন্তু ভৌগোলিক কারণে এদেশ থেকে দৃশ্যমান হবে না।
সূর্যগ্রহণ ২০২৬: বিস্তারিত সময়সূচি (বাংলাদেশ সময়)
মহাকাশপ্রেমীদের জন্য ২০২৬ সালটি বেশ ঘটনাবহুল। এই বছরে মোট দুটি সূর্যগ্রহণ ঘটবে। নিচে আসন্ন ১৭ ফেব্রুয়ারির গ্রহণটির বিস্তারিত সময়সূচি দেওয়া হলো।
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ)
আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ও নাসা-র তথ্য অনুযায়ী এই গ্রহণের সময়সূচি:
- গ্রহণ শুরু: ১৭ ফেব্রুয়ারি, বিকেল ৩টা ৫৬ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড (বাংলাদেশ সময়)।
- সর্বোচ্চ গ্রহণ: সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে।
- গ্রহণ শেষ: ১৭ ফেব্রুয়ারি, রাত ৮টা ২৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড।
দ্রষ্টব্য: যেহেতু এটি অ্যান্টার্কটিকা ও দক্ষিণ গোলার্ধের আকাশে ঘটবে, তাই বাংলাদেশ থেকে এটি দেখা যাবে না। তবে অনলাইনে বিভিন্ন সায়েন্স চ্যানেলের লাইভ স্ট্রিমিং-এর মাধ্যমে এটি উপভোগ করা যাবে।
সূর্যগ্রহণ কাকে বলে? (What is a Solar Eclipse?)
সহজ ভাষায়, যখন চাঁদ পৃথিবীর এবং সূর্যের মাঝখানে চলে আসে, তখন চাঁদের ছায়া পৃথিবীর উপর পড়ে এবং সূর্যকে আংশিক বা পুরোপুরি ঢেকে দেয়। এই মহাজাগতিক ঘটনাকেই সূর্যগ্রহণ বলা হয়।
বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ কী? (Ring of Fire)
১৭ ফেব্রুয়ারির গ্রহণটি একটি ‘বলয়গ্রাস’ গ্রহণ। যখন চাঁদ পৃথিবী থেকে দূরে থাকে (Apogee অবস্থানে), তখন চাঁদকে আকারে ছোট দেখায়। ফলে এটি সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে পারে না। তখন চাঁদের চারপাশে সূর্যের আলোর একটি লাল আংটি বা রিং দেখা যায়। একেই ‘রিং অফ ফায়ার’ বা বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ বলে।
২০২৬ সালের দ্বিতীয় সূর্যগ্রহণ (আগস্ট ১২)
২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটবে বছরের মাঝামাঝি সময়ে।
- তারিখ: ১২ আগস্ট, ২০২৬ (বুধবার)।
- ধরন: পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ (Total Solar Eclipse)।
- কোথায় দেখা যাবে: আইসল্যান্ড, স্পেন, গ্রিনল্যান্ড এবং রাশিয়ার কিছু অংশ থেকে এটি পূর্ণাঙ্গরূপে দেখা যাবে। দিনের বেলাতেই নেমে আসবে রাতের আঁধার।
- বাংলাদেশ থেকে দৃশ্যমানতা: দুঃখজনকভাবে, এটিও বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না কারণ তখন বাংলাদেশে রাত থাকবে।
সূর্যগ্রহণ দেখার সতর্কতা ও নিরাপত্তা
আপনি পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, সরাসরি খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
কি করবেন:
- ISO 12312-2 মানসম্পন্ন এক্লিপস গ্লাস (Eclipse Glasses) ব্যবহার করুন।
- পিনহোল প্রজেক্টর বা সোলার ফিল্টার যুক্ত টেলিস্কোপ ব্যবহার করুন।
- অনলাইনে নাসা (NASA) বা নির্ভরযোগ্য চ্যানেলের লাইভ স্ট্রিম দেখুন।
কি করবেন না:
- সাধারণ রোদচশমা (Sunglasses) বা এক্স-রে ফিল্ম ব্যবহার করবেন না।
- মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে সরাসরি সূর্যের ছবি তোলার চেষ্টা করবেন না।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
পাঠকদের মনের সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর এখানে দেওয়া হলো, যা গুগলে প্রায়ই খোঁজা হয়:
১. পরবর্তী সূর্যগ্রহণ কবে দেখা যাবে?
২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণ ১৭ ফেব্রুয়ারি এবং দ্বিতীয়টি ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে।
২. বাংলাদেশ থেকে কি ২০২৬ সালের সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে?
না, ২০২৬ সালের দুটি সূর্যগ্রহণের কোনোটিই বাংলাদেশ থেকে সরাসরি দেখা যাবে না। প্রথমটি দক্ষিণ গোলার্ধে এবং দ্বিতীয়টি যখন হবে তখন বাংলাদেশে রাত থাকবে।
৩. গর্ভাবস্থায় সূর্যগ্রহণ কি ক্ষতিকর?
এটি একটি প্রচলিত কুসংস্কার। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সূর্যগ্রহণের সাথে গর্ভাবস্থায় বা অনাগত সন্তানের কোনো ক্ষতির সম্পর্ক নেই। তবে মানসিকভাবে সতর্ক থাকার জন্য অনেকে সাবধানে থাকেন, যা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়। চলাফেরা ও খাবারে কোনো বৈজ্ঞানিক বিধিনিষেধ নেই।
৪. ২০২৬ সালের গ্রহণ কোন দেশ থেকে দেখা যাবে?
১৭ ফেব্রুয়ারির গ্রহণটি মূলত অ্যান্টার্কটিকা, আর্জেন্টিনা, চিলি ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেখা যাবে। আর ১২ আগস্টের পূর্ণগ্রাস গ্রহণটি স্পেন, আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ড থেকে দেখা যাবে।
শেষ কথা
মহাকাশের এই রোমাঞ্চকর ঘটনাগুলো আমাদের প্রকৃতির বিশালতা মনে করিয়ে দেয়। যদিও ২০২৬ সালের সূর্যগ্রহণ বাংলাদেশ থেকে সরাসরি দেখা যাবে না, তবুও প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা ঘরে বসেই এই ‘রিং অফ ফায়ার’ উপভোগ করতে পারব।
এই আর্টিকেলটি আপনার উপকারে আসলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। মহাকাশ ও বিজ্ঞান বিষয়ক আরও আপডেটেড তথ্যের জন্য আমাদের সাথেই থাকুন।
তথ্যসূত্র (Sources):
- NASA Eclipse Web Site
- Inter Services Public Relations (ISPR) Press Release
- Time and Date – Eclipse 2026
Disclaimer: এই আর্টিকেলের সকল সময় ও তথ্য নাসা এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত ও যাচাইকৃত।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”

