শুক্রবার মেট্রোরেলের প্রথম ট্রেন উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে ছাড়ে দুপুর ৩:০০ মিনিটে এবং মতিঝিল স্টেশন থেকে দুপুর ৩:২০ মিনিটে। দিনের সর্বশেষ ট্রেন উত্তরা উত্তর থেকে ছাড়ে রাত ৯:০০ মিনিটে, আর মতিঝিল থেকে ছাড়ে রাত ৯:৪০ মিনিটে। শুক্রবার সকালে মেট্রোরেল চলে না — এই দিন শুধু বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলাচল করে। উল্লেখ্য, ৭ জুন ২০২৬ থেকে ডিএমটিসিএল মেট্রোরেলের চলাচলের সময় রাতে ২০ মিনিট বাড়ালেও, বর্ধিত ওই সময়সূচি শুধুমাত্র নিয়মিত দিনগুলোর (শনি-বৃহস্পতিবার) জন্য প্রযোজ্য, শুক্রবারের সূচি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
নিচে শুক্রবারের পুরো সময়সূচি, টিকিট কাটার নিয়ম, ভাড়ার তালিকা ও আরও দরকারি তথ্য বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো।
শুক্রবার মেট্রোরেলের সম্পূর্ণ সময়সূচি
| বিষয় | উত্তরা উত্তর স্টেশন | মতিঝিল স্টেশন |
|---|---|---|
| প্রথম ট্রেন | দুপুর ৩:০০ | দুপুর ৩:২০ |
| সর্বশেষ ট্রেন | রাত ৯:০০ | রাত ৯:৪০ |
| ট্রেনের ব্যবধান (হেডওয়ে) | ৮–১২ মিনিট পরপর | ৮–১২ মিনিট পরপর |
মনে রাখা জরুরি — উত্তরা থেকে মতিঝিল পৌঁছাতে প্রায় ৩৫-৩৮ মিনিট সময় লাগে। উত্তরা থেকে রাত ৯:০০ মিনিটের শেষ ট্রেনে উঠলে মতিঝিল পৌঁছাতে রাত ৯:৪০-এর কাছাকাছি সময় লাগবে। একইভাবে মতিঝিল থেকে রাত ৯:৪০ মিনিটের শেষ ট্রেনটি প্রতিটি স্টেশনে থেমে উত্তরা উত্তর পর্যন্ত যাবে।
শুক্রবার টিকিট কাটার নিয়ম ও সময়
শুক্রবার টিকিট বিক্রি অন্যান্য দিনের তুলনায় ভিন্ন সময়ে শুরু ও শেষ হয়:
- উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে সিঙ্গেল জার্নি টিকিট বিক্রি শুরু হয় দুপুর ২:৪৫ মিনিট থেকে।
- মতিঝিল স্টেশন থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয় দুপুর ৩:০৫ মিনিট থেকে।
- একই সময় থেকে MRT পাস/র্যাপিড পাস টপ-আপ এবং নতুন পাস সংগ্রহও করা যায়।
- শুক্রবার টিকিট কাউন্টার ও মেশিন থেকে টিকিট বিক্রি বন্ধ হয় রাত ৮:৫০ মিনিটে।
- অন্যান্য দিন দুপুর ৩টা পর্যন্ত মতিঝিল স্টেশনের প্লাটফর্ম-০১ ব্যবহৃত হলেও, শুক্রবারে ট্রেন চলাচল শুরু হয় বিকেলে। তাই শুক্রবারে মতিঝিল স্টেশন থেকে মতিঝিল থেকে উত্তরগামী সবগুলো ট্রেন প্লাটফর্ম-০২ থেকে ছাড়ে।
টিকিট কাটার লাইনে সময় বাঁচাতে চাইলে MRT পাস বা র্যাপিড পাস সঙ্গে রাখা সুবিধাজনক, কারণ পাসধারীরা সরাসরি প্রবেশ গেটে পাঞ্চ করে ঢুকতে পারেন, লাইনে দাঁড়াতে হয় না।
শুক্রবার বনাম সপ্তাহের অন্য দিনের সময়সূচি
শুক্রবার মেট্রোরেলের সময়সূচি বাকি দিনগুলোর চেয়ে আলাদা, কারণ এটি বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। তুলনাটা সহজে বোঝার জন্য নিচের টেবিলটি দেখুন:
| দিন | প্রথম ট্রেন (উত্তরা উত্তর) | সর্বশেষ ট্রেন (উত্তরা উত্তর) | প্রথম ট্রেন (মতিঝিল) | সর্বশেষ ট্রেন (মতিঝিল) |
|---|---|---|---|---|
| শনি–বৃহস্পতিবার (কর্মদিবস ও শনিবার) | সকাল ৬:৩০ | রাত ৯:৫০ | সকাল ৭:১৫ | রাত ১০:৩০ |
| শুক্রবার | দুপুর ৩:০০ | রাত ৯:০০ | দুপুর ৩:২০ | রাত ৯:৪০ |
মেট্রোরেলের ভাড়া কত (উত্তরা-মতিঝিল রুট)
মেট্রোরেলের ভাড়া মূলত প্রতি কিলোমিটার ৫ টাকা হিসেবে নির্ধারিত। সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ভাড়া, অর্থাৎ উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সম্পূর্ণ যাত্রার জন্য ১০০ টাকা দিতে হয়। শুক্রবারেও ভাড়ার এই হিসাব একই থাকে — সাপ্তাহিক ছুটির দিন বলে আলাদা কোনো ভাড়া বা ছাড় প্রযোজ্য নয়।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন পর্যন্ত উত্তরা উত্তর থেকে ভাড়ার উদাহরণ:
| উত্তরা উত্তর থেকে গন্তব্য | ভাড়া |
|---|---|
| আগারগাঁও | ৬০ টাকা |
| ফার্মগেট | ৭০ টাকা |
| বাংলাদেশ সচিবালয় | ৯০ টাকা |
| মতিঝিল | ১০০ টাকা |
এমআরটি পাস/র্যাপিড পাস বনাম সিঙ্গেল জার্নি টিকিট
শুক্রবার যেহেতু একটি নির্দিষ্ট সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সবাইকে যাতায়াত করতে হয়, তখন স্টেশনে ভিড় বেশি থাকতে পারে। এই কারণে নিয়মিত যাত্রীদের জন্য কিছু পরামর্শ:
- MRT পাস: প্রথমবার সংগ্রহ করতে মোট ৫০০ টাকা লাগে (২০০ টাকা ফেরতযোগ্য জামানত এবং ৩০০ টাকা ব্যবহারযোগ্য ব্যালেন্স)।
- র্যাপিড পাস (Rapid Pass): প্রথমবার সংগ্রহ করতে ৪০০ টাকা লাগে (২০০ টাকা জামানত এবং ২০০ টাকা ব্যবহারযোগ্য ব্যালেন্স)।
- পাসের সুবিধা: পাস ব্যবহার করলে প্রতি যাত্রায় ভাড়ার ওপর ১০% ছাড় পাওয়া যায় এবং টিকিট কাউন্টারের লাইনে দাঁড়াতে হয় না।
- একবারমাত্র ভ্রমণ করলে সিঙ্গেল জার্নি টিকিট কিনলেই চলবে, তবে স্টেশন থেকে বেরোনোর সময় কার্ডটি মেশিনে জমা দিয়ে বের হতে হয়।
মেট্রোরেলের স্টেশন তালিকা — বর্তমানে কোন কোন স্টেশন চালু
বর্তমানে উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১৬টি স্টেশন চালু রয়েছে। ক্রমানুসারে স্টেশনগুলো হলো:
১. উত্তরা উত্তর ২. উত্তরা সেন্টার ৩. উত্তরা দক্ষিণ ৪. পল্লবী ৫. মিরপুর ১১ ৬. মিরপুর ১০ ৭. কাজীপাড়া ৮. শেওড়াপাড়া ৯. আগারগাঁও ১০. বিজয় সরণি ১১. ফার্মগেট ১২. কারওয়ান বাজার ১৩. শাহবাগ ১৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৫. বাংলাদেশ সচিবালয় ১৬. মতিঝিল
কমলাপুর স্টেশন এমআরটি লাইন-৬-এর ১৭তম ও সম্প্রসারিত স্টেশন, যা মতিঝিল থেকে আরও ১.১৬ কিলোমিটার দূরে নির্মিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এই অংশের নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। ফলে শুক্রবারেও মেট্রোরেল সর্বোচ্চ মতিঝিল পর্যন্তই চলাচল করে।
শুক্রবারে মেট্রোরেলে যাত্রার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস
- শুক্রবার সকালে কোনো ট্রেন চলে না, তাই সকালের কোনো জরুরি কাজে মেট্রোরেলের ওপর নির্ভর করা যাবে না।
- বিকেল ৩টা থেকেই যাত্রী চাপ বেশি থাকে, একটু আগে স্টেশনে পৌঁছালে লাইনে কম সময় লাগবে।
- রাতে শেষ ট্রেন মিস করলে বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা আগেভাগে মাথায় রাখুন, কারণ রাত ৯:০০ মিনিটের পর উত্তরা উত্তর এবং ৯:৪০-এর পর মতিঝিল থেকে আর কোনো ট্রেন থাকে না।
- বিশেষ উপলক্ষে (যেমন: ঈদ) সময়সূচিতে সাময়িক পরিবর্তন এলে ডিএমটিসিএল আগে থেকেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, তাই যাত্রার দিন সকালে একবার অফিশিয়াল পেজ দেখে নেওয়া নিরাপদ।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
শুক্রবার মেট্রোরেল কয়টায় শুরু হয়?
শুক্রবার মেট্রোরেলের প্রথম ট্রেন উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে দুপুর ৩:০০ মিনিটে এবং মতিঝিল স্টেশন থেকে দুপুর ৩:২০ মিনিটে ছাড়ে।
শুক্রবার মেট্রোরেল কয়টা পর্যন্ত চলে?
শুক্রবার সর্বশেষ ট্রেন উত্তরা উত্তর থেকে রাত ৯:০০ মিনিটে এবং মতিঝিল থেকে রাত ৯:৪০ মিনিটে ছাড়ে।
শুক্রবার সকালে মেট্রোরেল চলে কি?
না, শুক্রবার সকালে মেট্রোরেল চলে না। এই দিন সেবা শুরু হয় দুপুর ৩টার পর থেকে।
শুক্রবার মেট্রোরেলের ভাড়া কি আলাদা?
না, শুক্রবারে আলাদা কোনো ভাড়া নেই। সর্বনিম্ন ২০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০ টাকা, যা সপ্তাহের অন্য দিনগুলোর মতোই। তবে MRT/Rapid পাস ব্যবহারকারীরা ভাড়ায় ১০% ছাড় পান।
শুক্রবার টিকিট কোথা থেকে এবং কখন থেকে কাটা যায়?
উত্তরা উত্তর স্টেশনে দুপুর ২:৪৫ মিনিট থেকে এবং মতিঝিল স্টেশনে দুপুর ৩:০৫ মিনিট থেকে স্টেশনের টিকিট ভেন্ডিং মেশিন বা কাউন্টার থেকে টিকিট কাটা যায়।
শেষকথা
শুক্রবার মেট্রোরেল চলে দুপুর ৩টা থেকে রাত ৯:৪০ পর্যন্ত। সকালে কোনো সেবা নেই, ভাড়া অন্য দিনের মতোই ২০-১০০ টাকার মধ্যে, এবং টিকিট কাটা শুরু হয় ট্রেন চলার ১৫ মিনিট আগে থেকে। যাত্রার আগে এই তথ্যগুলো মাথায় রাখলে শুক্রবারে মেট্রোরেলে চলাচল আরও সহজ ও পরিকল্পিত হবে।
তথ্যসূত্র: ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (DMTCL)-এর অফিশিয়াল সময়সূচি ও অন্যান্য জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন। যেহেতু মেট্রোরেলের সময়সূচি ও সেবা প্রায়ই পরিবর্তিত হয়, যাত্রার আগে সর্বশেষ তথ্যের জন্য DMTCL-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”
