বলিউডের ‘গ্রিক গড’খ্যাত হৃত্বিক রোশানের ফিটনেস এবং অভিনয় সারা বিশ্বকে মুগ্ধ করে। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই সুপারস্টারের ধমনীতে বইছে বাঙালির রক্ত? অনেকের কাছেই এটি অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু হৃত্বিকের পারিবারিক ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় তার শেকড় মিশে আছে বাংলার মাটিতে।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানবো কীভাবে হৃত্বিকের শরীরে বাঙালির রক্ত এলো এবং তার পরিবারের সেই অজানা ইতিহাস সম্পর্কে।
হৃত্বিক রোশান কি সত্যিই বাঙালি?
হ্যাঁ, হৃত্বিক রোশান আংশিকভাবে বাঙালি। তার ঠাকুরমা (পিতামহী) ইরা রোশান (বিবাহপূর্ব নাম: ইরা মৈত্র) ছিলেন একজন খাঁটি বাঙালি। তিনি কলকাতার মেয়ে এবং প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ও সুরকার ছিলেন। এই সূত্রে হৃত্বিক রোশান ২৫ শতাংশ বা এক-চতুর্থাংশ বাঙালি।
যেভাবে রোশান পরিবারে এলো বাঙালির রক্ত
হৃত্বিক রোশানের বংশলতিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তার রক্তের এই বাঙালি সংযোগ এসেছে তার বাবার দিক থেকে। নিচে সহজভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হলো:
১. ইরা মৈত্র: বাংলার সেই সুরকার মেয়ে
হৃত্বিকের ঠাকুরমা ইরা মৈত্র ছিলেন একজন বাঙালি সংগীতশিল্পী। ১৯৪৮ সালে তিনি প্রখ্যাত বলিউড সংগীত পরিচালক রোশন লাল নাগরাথকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তার নাম হয় ইরা রোশন। তিনি শুধু গৃহিণী ছিলেন না, বরং বলিউডের অন্যতম প্রথম নারী সংগীত পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।
২. রাকেশ রোশান ও বাঙালি সংস্কৃতি
ইরা রোশন ও রোশন লাল নাগরাথের সন্তান হলেন রাকেশ রোশান (হৃত্বিকের বাবা)। যেহেতু রাকেশ রোশানের মা একজন বাঙালি ছিলেন, তাই রাকেশ রোশান জন্মগতভাবে অর্ধেক বাঙালি। ফলে তার ছেলে হৃত্বিক রোশানের রক্তেও প্রবাহিত হচ্ছে সেই বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।
৩. হৃত্বিকের নিজের স্বীকারোক্তি
বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে হৃত্বিক রোশান নিজেই গর্বের সাথে তার বাঙালি পরিচয়ের কথা জানিয়েছেন। বিশেষ করে কলকাতায় যখন তিনি কোনো অনুষ্ঠানে যান, তখন তিনি তার ‘বাঙালি কানেকশন’ নিয়ে কথা বলতে ভুলেন না।
একনজরে হৃত্বিক রোশানের ফ্যামিলি ট্রি
| সম্পর্ক | নাম | পরিচয় |
| ঠাকুরদা | রোশন লাল নাগরাথ | বিখ্যাত সংগীত পরিচালক (পাঞ্জাবি) |
| ঠাকুরমা | ইরা রোশন (মৈত্র) | বিখ্যাত সংগীতশিল্পী (বাঙালি) |
| বাবা | রাকেশ রোশান | অভিনেতা ও পরিচালক (হাফ-বাঙালি) |
| মা | পিংকি রোশান | পরিচালক জে. ওম প্রকাশের কন্যা |
| নিজে | হৃত্বিক রোশান | সুপারস্টার (এক-চতুর্থাংশ বাঙালি) |
মানুষ আরও যা জানতে চায়
হৃত্বিক রোশানের আদি বাড়ি কোথায়?
হৃত্বিক রোশানের পৈতৃক আদি বাড়ি বর্তমান পাকিস্তানের পাঞ্জাব অঞ্চলে হলেও তার ঠাকুরমা ইরা মৈত্র ছিলেন কলকাতার মেয়ে। সেই সূত্রে তার মাতামহী বা ঠাকুরমার বংশের শেকড় পশ্চিমবঙ্গে।
হৃত্বিক রোশান কি বাংলা বলতে পারেন?
হৃত্বিক অনর্গল বাংলা বলতে না পারলেও, তিনি ছোটবেলায় তার ঠাকুরমার কাছে অনেক বাংলা শব্দ শিখেছেন। সিনেমার প্রচারণায় বা অনুষ্ঠানে তাকে প্রায়ই “আমি তোমাদের খুব ভালোবাসি” বা “কেমন আছো?”-এর মতো মিষ্টি বাংলা বলতে শোনা যায়।
হৃত্বিকের ঠাকুরমা কি কোনো সিনেমাতে গান গেয়েছেন?
হ্যাঁ, ইরা রোশন একজন সফল সংগীতশিল্পী ছিলেন। তিনি ‘আনোখা পেয়ার’ (১৯৪৮) এর মতো ছবিতে কাজ করেছেন এবং তার স্বামী রোশন লাল নাগরাথের অনেক গানে সহযোগিতা করেছেন।
কেন এই তথ্যটি আপনার জানা জরুরি?
বাঙালি হিসেবে আমাদের অনেকেরই প্রিয় অভিনেতা হৃত্বিক। তার অসাধারণ প্রতিভা এবং সৃজনশীলতার পেছনে যে বাঙালি ঘরানার সংগীত ও সংস্কৃতির প্রভাব রয়েছে, তা জানা আমাদের জন্য গর্বের। ইরা মৈত্র বা ইরা রোশানের মতো একজন বিদুষী বাঙালি নারীর অবদান আজ হৃত্বিক রোশানের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।
উপসংহার
হৃত্বিক রোশান শুধু ভারতের নয়, বিশ্ব চলচ্চিত্রের সম্পদ। তার নামের শেষে ‘রোশান’ পদবি পাঞ্জাবি আভিজাত্য প্রকাশ করলেও, তার মনের গভীরে এবং ধমনীতে বাংলার সুর ও সংস্কৃতি মিশে আছে। তাই পরের বার হৃত্বিকের সিনেমা দেখার সময় মনে রাখবেন, পর্দায় যে অসাধারণ অভিনয় আপনি দেখছেন, তার পেছনে বাংলার সেই ‘মৈত্র’ পরিবারের ঐতিহ্যও জড়িয়ে আছে।
আপডেট তারিখ: ৪ জানুয়ারি, ২০২৬
তথ্যসূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস এবং হৃত্বিক রোশানের ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার।
আপনি কি হৃত্বিকের এই বাঙালি সংযোগের কথা আগে জানতেন? কমেন্টে আমাদের জানান!
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”

