সিভি লেখার নিয়ম কী?
একটি আদর্শ সিভিতে থাকে ব্যক্তিগত তথ্য, ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মঅভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও রেফারেন্স। সাধারণত ১–২ পৃষ্ঠার মধ্যে রাখতে হয়, A4 সাইজে লিখতে হয়, Arial বা Calibri ফন্টে ১১–১২ পয়েন্ট সাইজ ব্যবহার করতে হয় এবং PDF ফরম্যাটে পাঠাতে হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে বড় কোম্পানিগুলোতে ATS (Applicant Tracking System) সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়, তাই সিভি ATS-ফ্রেন্ডলি হওয়া এখন জরুরি।
📋 বিষয়সূচি
- সিভি কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- সিভি ও রেজুমের পার্থক্য
- সিভিতে কী কী থাকে? (সম্পূর্ণ কাঠামো)
- ধাপে ধাপে সিভি লেখার নিয়ম
- সিভির ফরম্যাট ও ডিজাইন নিয়ম
- ATS-ফ্রেন্ডলি সিভি কীভাবে বানাবেন?
- সাধারণ ভুল যেগুলো এড়াতে হবে
- সিভি PDF করার নিয়ম
- ফ্রেশারদের জন্য বিশেষ পরামর্শ
- সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
সিভি কী এবং কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?
CV বা Curriculum Vitae ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ “জীবনের পথ”। এটি একটি আনুষ্ঠানিক ডকুমেন্ট যেখানে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মঅভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও ব্যক্তিগত তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে।
সহজভাবে বললে সিভি হলো আপনার প্রথম পরিচয়। চাকরিদাতা আপনাকে ডাকবেন কিনা, সেটা অনেকটাই নির্ভর করে আপনার সিভির উপর। বাংলাদেশের চাকরির বাজারে একটি পদের জন্য শত শত আবেদন পড়ে, আর নিয়োগকর্তারা প্রতিটি সিভিতে মাত্র ৬ থেকে ১০ সেকেন্ড সময় দেন।
তাই আপনার সিভি যদি পরিষ্কার, সুসংগঠিত এবং প্রাসঙ্গিক না হয়, তাহলে সেরা যোগ্যতা থাকলেও সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে।
সিভি ও রেজুমের পার্থক্য কোনটি কখন দেবেন?
অনেকে সিভি ও রেজুমেকে একই মনে করেন, কিন্তু এদের মধ্যে পার্থক্য আছে।
| বিষয় | সিভি (CV) | রেজুমে (Resume) |
|---|---|---|
| দৈর্ঘ্য | ২–৩ পৃষ্ঠা (বা বেশি) | ১ পৃষ্ঠা |
| বিষয়বস্তু | সম্পূর্ণ ক্যারিয়ার ইতিহাস | নির্দিষ্ট পদের জন্য কাস্টমাইজড |
| ব্যবহার | সরকারি, শিক্ষা, গবেষণা | কর্পোরেট ও MNC পদে |
| ছবি | সাধারণত থাকে | বাংলাদেশে অঞ্চলভেদে থাকে/না থাকে |
| আপডেট | কদাচিৎ | প্রতিটি আবেদনে নতুন করে |
💡 বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট: স্থানীয় ও সরকারি চাকরিতে সাধারণত “সিভি” বা “জীবনবৃত্তান্ত” চাওয়া হয়। Grameenphone, bKash, Unilever Bangladesh-এর মতো MNC-তে “রেজুমে” বেশি প্রযোজ্য।
একটি সম্পূর্ণ সিভিতে কী কী থাকে?
বাংলাদেশের চাকরির বাজার অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ সিভির কাঠামো হওয়া উচিত নিচের মতো:
১. ব্যক্তিগত তথ্য (Personal Information)নাম | পেশাদার ইমেইল | মোবাইল নম্বর | লিংকডইন প্রোফাইল (যদি থাকে) | ঠিকানা২. ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ / প্রফেশনাল সারসংক্ষেপ২–৪ লাইনে আপনার লক্ষ্য ও শক্তি সংক্ষেপে উল্লেখ করুন৩. শিক্ষাগত যোগ্যতা (Education)সর্বশেষ ডিগ্রি → পুরনো ডিগ্রি | প্রতিষ্ঠান | পাসের বছর | ফলাফল/CGPA৪. কর্মঅভিজ্ঞতা (Work Experience)পদবি | কোম্পানি | সময়কাল | মূল দায়িত্ব ও অর্জন (বুলেট পয়েন্টে)৫. দক্ষতা (Skills)প্রযুক্তিগত দক্ষতা | সফটওয়্যার | ভাষা | সফট স্কিল৬. সার্টিফিকেট ও প্রশিক্ষণ (Certifications)কোর্সের নাম | প্রতিষ্ঠান | সাল৭. রেফারেন্স (References)নাম | পদবি | প্রতিষ্ঠান | যোগাযোগ অথবা “Available upon request”
ধাপে ধাপে সিভি লেখার নিয়ম
নিচে সম্পূর্ণ ধাপগুলো বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো। প্রতিটি ধাপ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
- ধাপ ১: ব্যক্তিগত তথ্য সংযোজন করুনসিভির একদম উপরে আপনার পুরো নাম, পেশাদার ইমেইল ঠিকানা (যেমন: yourname@gmail.com), সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং বর্তমান ঠিকানা লিখুন। ছবি দিতে চাইলে পাসপোর্ট সাইজের আনুষ্ঠানিক ছবি ব্যবহার করুন। ব্যক্তিগত তথ্যে বয়স, ধর্ম বা জাতীয়তা দেওয়া এখন অনেক নিয়োগদাতারই প্রয়োজন নেই।
- ধাপ ২: ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ লিখুন (সর্বোচ্চ ৩ লাইন)এটি হলো আপনার প্রথম বার্তা নিয়োগদাতার কাছে। স্পষ্টভাবে লিখুন আপনি কোন ধরনের ভূমিকায় কাজ করতে আগ্রহী এবং আপনি কীভাবে প্রতিষ্ঠানে মূল্য যোগ করতে পারবেন। কপি করা বা জেনেরিক অবজেক্টিভ এড়িয়ে চলুন।
- ধাপ ৩: শিক্ষাগত যোগ্যতা সর্বশেষ থেকে শুরু করুনসবচেয়ে সাম্প্রতিক ডিগ্রি (যেমন: BSc, Masters) উপরে রাখুন, তারপর SSC-HSC নিচে। প্রতিটির পাশে প্রতিষ্ঠানের নাম, পাসের বছর ও ফলাফল অবশ্যই লিখুন। CGPA যদি ভালো না হয়, শুধু পাসিং মার্ক লেখাও গ্রহণযোগ্য।
- ধাপ ৪: কর্মঅভিজ্ঞতা সংযুক্ত করুন (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ)প্রতিটি চাকরির জন্য পদবি, কোম্পানির নাম, কর্মকাল এবং মূল দায়িত্বগুলো বুলেট পয়েন্টে উল্লেখ করুন। শুধু কাজ নয়, অর্জনও লিখুন — যেমন “বিক্রয় ২০% বৃদ্ধি করেছি” বা “টিমের ৫ জনকে নেতৃত্ব দিয়েছি”। সংখ্যা ও প্রমাণ ব্যবহার করলে সিভি আরও শক্তিশালী হয়।
- ধাপ ৫: দক্ষতা (Skills) সেকশন সাজানদুটো ভাগে লিখুন — প্রযুক্তিগত দক্ষতা (Technical Skills) যেমন: MS Office, Python, Adobe Photoshop; এবং সফট স্কিল যেমন: টিমওয়ার্ক, নেতৃত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা। ভাষাদক্ষতাও (বাংলা, ইংরেজি) উল্লেখ করুন।
- ধাপ ৬: রেফারেন্স যোগ করুনদুইজন রেফারেন্স দেওয়া আদর্শ — একজন শিক্ষক/অধ্যাপক এবং একজন আগের কর্মক্ষেত্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তাদের পুরো নাম, পদবি, প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল/ইমেইল দিন। আগে থেকে তাদের অনুমতি নিয়ে নিন।
- ধাপ ৭: পড়ুন, সংশোধন করুন, তারপর PDF করুনসিভি শেষ হলে অন্তত দুইবার পড়ুন। বানান ভুল, তথ্যের সামঞ্জস্য ও ফরম্যাটিং চেক করুন। তারপর PDF ফরম্যাটে সেভ করুন এবং ফাইলের নাম রাখুন — “YourName_CV_2026.pdf”।
সিভির ফরম্যাট ও ডিজাইন নিয়ম
✅ করণীয়
- A4 সাইজের পেজ ব্যবহার
- Arial, Calibri বা Times New Roman ফন্ট
- ১১–১২ পয়েন্ট ফন্ট সাইজ
- সাবহেডিংয়ে ১৪–১৬ পয়েন্ট
- ১–১.৫ ইঞ্চি মার্জিন রাখুন
- সাদা বা হালকা ব্যাকগ্রাউন্ড
- বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার
- ১–২ পৃষ্ঠার মধ্যে রাখুন
❌ করবেন না
- অতিরিক্ত রঙ ও ডিজাইন
- খুব ছোট বা বড় ফন্ট
- টেবিল ভেতরে টেবিল (ATS সমস্যা)
- ছবি বা গ্রাফিক্স অতিরিক্ত ব্যবহার
- ৩ বা তার বেশি ফন্ট স্টাইল
- Justified text (পড়তে কঠিন)
- মিথ্যা তথ্য বা অতিরঞ্জিত দাবি
- সকল আবেদনে একই সিভি
বাংলাদেশে কোন ফরম্যাট সবচেয়ে ভালো কাজ করে?
বাংলাদেশের চাকরির বাজারে তিন ধরনের সিভি ফরম্যাট প্রচলিত:
- Chronological (কালানুক্রমিক): সর্বশেষ অভিজ্ঞতা আগে লেখা হয়। অভিজ্ঞদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর এবং ATS-বান্ধব। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য।
- Functional (দক্ষতাভিত্তিক): দক্ষতা ও অর্জন আগে তুলে ধরা হয়, অভিজ্ঞতা পরে। ক্যারিয়ার পরিবর্তন করতে চাইলে উপযুক্ত।
- Combination (মিশ্র): দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা উভয়ই সমানভাবে উপস্থাপন করা হয়। মিড-লেভেল প্রফেশনালদের জন্য কার্যকর।
💡 বিশেষজ্ঞ পরামর্শ: বাংলাদেশের ৭৫% বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান এখন ATS ব্যবহার করে। তাই Chronological ফরম্যাটই সেরা কারণ এটি ATS সফটওয়্যার সবচেয়ে ভালোভাবে পড়তে পারে।
ATS-ফ্রেন্ডলি সিভি কীভাবে বানাবেন?
ATS (Applicant Tracking System) হলো এমন সফটওয়্যার যা নিয়োগকর্তারা শত শত সিভির মধ্য থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করতে ব্যবহার করেন। বাংলাদেশে Grameenphone, bKash, Unilever, BRAC-এর মতো প্রতিষ্ঠানে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ATS পার করতে যা যা করতে হবে:
- জব ডেসক্রিপশনের কীওয়ার্ড ব্যবহার করুন: নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যে দক্ষতা ও যোগ্যতার কথা বলা হয়েছে, সেগুলো আপনার সিভিতে স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করুন।
- সহজ ফন্ট ও স্ট্যান্ডার্ড হেডিং ব্যবহার করুন: “Work Experience”, “Education”, “Skills” — এই মানসম্মত হেডিং ব্যবহার করুন। ATS এগুলো সহজে চিনতে পারে।
- টেবিলের ভেতরে টেক্সট রাখবেন না: অনেক ATS টেবিলের ভেতরের তথ্য পড়তে পারে না।
- ফাইল ফরম্যাট: সাধারণত DOCX ফরম্যাট ATS-এ সবচেয়ে ভালো কাজ করে। তবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে PDF চাইলে PDF পাঠান।
- হেডার ও ফুটারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রাখবেন না: অনেক ATS হেডার/ফুটার পড়তে পারে না।
সাধারণ ভুল যেগুলো এড়াতে হবে
এই ভুলগুলো বেশিরভাগ চাকরিপ্রার্থী করে থাকেন — এগুলো এড়ালেই সিভি অনেক বেশি প্রভাবশালী হবে:
- বানান ও ব্যাকরণের ভুল: সিভিতে একটি বানান ভুলই অনেক সময় অযোগ্য করে দেয়। Grammarly বা বাংলা স্পেলচেকার দিয়ে অবশ্যই চেক করুন।
- অন্যের সিভি কপি করা: নিজের অভিজ্ঞতা ও ভাষায় লেখা সিভি অনেক বেশি কার্যকর। নিয়োগকর্তারা কপি করা সিভি বুঝতে পারেন।
- মিথ্যা তথ্য দেওয়া: মিথ্যা CGPA, অভিজ্ঞতা বা সার্টিফিকেট দেওয়া মারাত্মক। এটি সহজেই ধরা পড়ে এবং স্থায়ীভাবে কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
- পুরনো তথ্য রাখা: পুরনো মোবাইল নম্বর, ঠিকানা বা ছবি দিলে নিয়োগকর্তা আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন না।
- জেনেরিক অবজেক্টিভ: “একটি ভালো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে চাই” — এ ধরনের অবজেক্টিভ নিয়োগদাতাদের কাছে কোনো আগ্রহ তৈরি করে না।
- একটি সিভি সব জায়গায়: প্রতিটি আবেদনের জন্য সিভি কাস্টমাইজ করা উচিত।
সিভি PDF করার নিয়ম ও ডাউনলোড
চাকরির আবেদনে সিভি PDF করে পাঠানো এখন সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। PDF করলে আপনার ফরম্যাট যেকোনো ডিভাইসে একই দেখায়।
Microsoft Word থেকে PDF করার নিয়ম:
- File → Save As নির্বাচন করুনMicrosoft Word খুলুন এবং উপরের File মেনুতে ক্লিক করুন, তারপর Save As বেছে নিন।
- ফরম্যাট হিসেবে PDF নির্বাচন করুন“Save as type” থেকে PDF (.pdf) নির্বাচন করুন।
- ফাইলের নাম সঠিকভাবে রাখুনফাইলের নাম রাখুন: “আপনার_নাম_CV_2026.pdf” — এটি প্রফেশনাল ইমপ্রেশন তৈরি করে।
- Save বোতামে ক্লিক করুনসেভ হয়ে গেলে ফাইলটি একবার খুলে দেখুন সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা।
বিনামূল্যে সিভি তৈরির টুল (বাংলাদেশে জনপ্রিয়): Canva, Novoresume, CV Hunt (cvhunt.co — বাংলাদেশ-স্পেসিফিক), Resume.io এবং Google Docs-এর CV Templates ব্যবহার করতে পারেন। এগুলোতে রেডিমেড ফরম্যাট পাওয়া যায় যা PDF ডাউনলোড করা যায়।
ফ্রেশারদের জন্য সিভি লেখার বিশেষ পরামর্শ
সবে পড়াশোনা শেষ করেছেন, কাজের অভিজ্ঞতা নেই — এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। ফ্রেশারদের সিভিতে যা গুরুত্বপূর্ণ:
- শিক্ষাগত অর্জন সামনে আনুন: CGPA, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পুরস্কার, স্কলারশিপ বা বিশেষ কোর্স সামনে রাখুন।
- ইন্টার্নশিপ ও পার্ট-টাইম কাজ উল্লেখ করুন: যেকোনো ইন্টার্নশিপ অভিজ্ঞতাই কাজের অভিজ্ঞতার বিকল্প হিসেবে ধরা হয়।
- এক্সট্রা-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি: ক্লাব, ডিবেট, স্বেচ্ছাসেবী কাজ, সাংগঠনিক দায়িত্ব — সবকিছু লিখুন।
- সার্টিফিকেট কোর্স: Coursera, edX, BASIS বা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সার্টিফিকেট কোর্স উল্লেখ করুন।
- প্রজেক্ট ও থিসিস: বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল প্রজেক্ট বা থিসিসের বিষয় ও ফলাফল সংক্ষেপে লিখুন।
- লিংকডইন প্রোফাইল যোগ করুন: একটি সম্পূর্ণ লিংকডইন প্রোফাইল ফ্রেশারদের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়।
সতর্কতা: ফ্রেশার হলেও কখনো মিথ্যা অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা লিখবেন না। নিয়োগকর্তারা ইন্টারভিউতে সহজেই যাচাই করতে পারেন। সৎ ও আত্মবিশ্বাসী সিভিই দীর্ঘমেয়াদে সেরা ফল দেয়।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
সিভি কত পৃষ্ঠার হওয়া উচিত?
বেশিরভাগ চাকরির জন্য ১–২ পৃষ্ঠার সিভি আদর্শ। ফ্রেশারদের জন্য ১ পৃষ্ঠা যথেষ্ট। ১০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা থাকলে ২–৩ পৃষ্ঠা পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য।
সিভিতে ছবি দেওয়া কি বাধ্যতামূলক?
বাংলাদেশের স্থানীয় ও সরকারি চাকরিতে সাধারণত ছবি দেওয়া হয়। তবে আন্তর্জাতিক বা MNC পদে অনেক সময় ছবি চাওয়া হয় না এবং না দিলেও চলে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকলে সেটি অনুসরণ করুন।
সিভি কি বাংলায় নাকি ইংরেজিতে লিখবো?
বেসরকারি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে ইংরেজিতে সিভি বেশি গ্রহণযোগ্য। সরকারি পদে বাংলায় জীবনবৃত্তান্ত চাইলে বাংলায় লিখুন। MNC ও বহুজাতিক কোম্পানিতে অবশ্যই ইংরেজিতে লিখুন।
রেফারেন্স কতজন দিতে হয়?
সাধারণত ২ জন রেফারেন্স দেওয়া হয়। একজন শিক্ষক বা গবেষণা সুপারভাইজার এবং একজন আগের কর্মক্ষেত্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সবচেয়ে ভালো।
সিভি ও বায়োডাটার পার্থক্য কী?
বায়োডাটা (Biodata) সাধারণত ব্যক্তিগত তথ্যকেন্দ্রিক এবং বিবাহ সংক্রান্ত ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়। সিভি পেশাদার চাকরির জন্য ব্যবহৃত হয় এবং এতে শিক্ষা ও কর্মঅভিজ্ঞতা থাকে।
সিভি পাঠানোর পর কতদিন অপেক্ষা করতে হয়?
সাধারণত ১–৩ সপ্তাহের মধ্যে সাড়া পাওয়া যায়। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাড়া না পান, ৭–১০ দিন পর একটি বিনয়ী ফলো-আপ ইমেইল পাঠানো যেতে পারে।
সিভি কোথায় পাঠাবো?
বাংলাদেশে চাকরির জন্য Bdjobs.com, LinkedIn, Chakri.com, Bikroy Jobs এবং সরাসরি কোম্পানির ওয়েবসাইটে আবেদন করতে পারেন। ইমেইলে পাঠালে সাবজেক্ট লাইনে পদবি এবং নিজের নাম স্পষ্ট লিখুন।
সিভি লেখার জন্য সবচেয়ে ভালো সফটওয়্যার কোনটি?
Microsoft Word সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এবং ATS-বান্ধব। Google Docs-ও বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়। Canva সুন্দর ডিজাইনের জন্য ভালো, তবে সব জায়গায় ATS-ফ্রেন্ডলি নয়।
সিভিতে হবি বা শখ উল্লেখ করা কি দরকার?
সাধারণত শখ উল্লেখের প্রয়োজন নেই। তবে যদি শখটি চাকরির সাথে প্রাসঙ্গিক হয় (যেমন: ব্লগিং করা আইটি পদের জন্য), তাহলে সংক্ষেপে উল্লেখ করা যায়।
কভার লেটার কি সিভির সাথে দেওয়া বাধ্যতামূলক?
বাংলাদেশে সব পদে কভার লেটার বাধ্যতামূলক নয়। তবে MNC ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কভার লেটার সহ সিভি দিলে আপনি এগিয়ে থাকবেন। কভার লেটারে নির্দিষ্ট কোম্পানির জন্য আপনার আগ্রহ ও উপযুক্ততা সংক্ষেপে তুলে ধরুন।
CGPA কম হলে কি সিভিতে লুকিয়ে রাখবো?
না। মিথ্যা তথ্য বা তথ্য লুকানো কখনো উচিত নয়। কম CGPA থাকলেও সততার সাথে উল্লেখ করুন এবং আপনার দক্ষতা, প্রজেক্ট ও অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করুন।
সিভি কত ঘন ঘন আপডেট করতে হবে?
যখনই নতুন দক্ষতা অর্জন করবেন, সার্টিফিকেট পাবেন বা নতুন পদে কাজ করবেন, সিভি আপডেট করুন। বছরে অন্তত একবার পুরো সিভি পর্যালোচনা করা ভালো অভ্যাস।
📚 তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স
- 10 Minute School Career Blog — cv-lekhar-niom (জুন ২০২৪)
- JobKhujo.com.bd — ATS-Friendly CV Writing Guide Bangladesh 2026 (জানুয়ারি ২০২৬)
- TheCVGuy.net — Best CV Format BD 2025 (আগস্ট ২০২৫)
- Resume-Example.com — Bangladesh CV Guide
- CareerKi.com — সিভি লেখার নিয়ম
সিভি লেখার নিয়ম pdf । CV লেখার নিয়ম বাংলা। জীবন বৃত্তান্ত লেখার নিয়ম। সিভি ফরম্যাট বাংলাদেশ। ফ্রেশার সিভি ATS-ফ্রেন্ডলি সিভি। সিভি বনাম রেজুমে বাংলায়। সিভি চাকরির সিভি তৈরি
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”

