তারাবিহ নামাজ মূলত কত রাকাত? তারাবিহ নামাজ মূলত ২০ রাকাত। ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী, মক্কার মসজিদে হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববীতে গত ১৪০০ বছর ধরে ২০ রাকাত তারাবিহ আদায় হয়ে আসছে। তবে করোনা মহামারীর সময় একটি বিশেষ ওজরের কারণে মক্কা ও মদিনায় সাময়িকভাবে ১০ রাকাত তারাবিহ পড়ার নিয়ম চালু করা হয়েছিল। কিন্তু মহামারী শেষ হওয়ার পরও এই নিয়ম বহাল থাকায় বর্তমান প্রজন্মের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। প্রখ্যাত আলেমদের মতে, তারাবিহ ২০ রাকাত থেকে কমিয়ে ৮ বা ১০ রাকাতে নিয়ে আসা সুন্নাহ পরিপন্থী এবং এটি বেদাত।
মক্কা ও মদিনায় তারাবিহ নামাজের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৪০০ বছরের ঐতিহ্য ইসলামের প্রথম যুগ থেকে শুরু করে মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদে (মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববী) ২০ রাকাত তারাবিহ পড়ার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। দীর্ঘ ১৪০০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে এই ২০ রাকাতের নিয়মই চলে আসছিল।
করোনা মহামারী এবং ১০ রাকাত চালুর আসল কারণ কোভিড-১৯ বা করোনা মহামারীর সময় সারাবিশ্বে যখন ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছিল, তখন মসজিদে অবস্থান করার সময় কমানোর জন্য সৌদি প্রশাসন এবং হারামাইনের ইমামগণ সাময়িকভাবে ১০ রাকাত তারাবিহ পড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল, মুসল্লিরা মসজিদে ১০ রাকাত পড়ে খুব দ্রুত জামাত শেষ করবেন এবং বাকি নামাজ নিজ ঘরে গিয়ে আদায় করবেন।
কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হলো, ২০১৯ সালের সেই জরুরি অবস্থা পার হয়ে যাওয়ার পরও এখনো সেখানে ১০ রাকাত তারাবিহ পড়ানো হচ্ছে। এটি পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
তারাবিহ কি ৮ রাকাত নাকি ২০ রাকাত? বিতর্কের অবসান
অনেকেই প্রশ্ন করেন যে, তারাবিহ কি ৮ রাকাত পড়া উচিত নাকি ২০ রাকাত? মুফতী আব্দুল মালেক-এর বয়ান অনুযায়ী এর সুস্পষ্ট উত্তর হলো:
- ২০ রাকাতের পক্ষে যুক্তি: মক্কা ও মদিনার মূল ঐতিহ্য এবং সাহাবায়ে কেরামদের আমল হলো ২০ রাকাত। এটিকে কমিয়ে আনা কখনোই ইসলামের প্রাথমিক যুগের তরিকা বা পদ্ধতি ছিল না।
- ৮ রাকাতের উৎপত্তি ও বিধান: তারাবিহকে ২০ রাকাত থেকে কমিয়ে ৮ রাকাতে নিয়ে আসাকে একটি বেদাত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মূলত ভারতীয় উপমহাদেশে এবং পরবর্তীতে কিছু মসজিদে ৮ রাকাত তারাবিহ পড়ার প্রচলন শুরু হয়, যা মক্কা-মদিনার চিরায়ত ১৪০০ বছরের সুন্নতের সম্পূর্ণ খেলাফ।
বাংলাদেশিদের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা ও করণীয়
বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের জন্য এই বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ও স্টেপ-বাই-স্টেপ দিকনির্দেশনা রয়েছে:
১. সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা: ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন মনে না করে যে মক্কা-মদিনায় আগে থেকেই ১০ বা ৮ রাকাত তারাবিহ হতো, সে বিষয়ে তাদের সঠিক ইতিহাস জানানো অত্যন্ত জরুরি।
২. সৌদি দূতাবাসের প্রতি আহ্বান: বাংলাদেশের তাওহিদী জনতার পক্ষ থেকে সৌদি সরকার ও হারামাইনের ইমামদের কাছে জোরালো দাবি জানানো হচ্ছে, যেন তারা দ্রুত আগের মতো ২০ রাকাত তারাবিহ পুনরায় চালু করেন।
৩. ধীরস্থিরভাবে কুরআন তেলাওয়াত: তারাবিহ নামাজে খুব তাড়াহুড়ো করে বা দ্রুতগতিতে কুরআন তেলাওয়াত করা ঠিক নয়। এর হক আদায় করে, ধীরে ধীরে তেলাওয়াত শুনতে হবে যাতে রমজানের রহমত লাভ করা যায়।
৪. সময় অপচয় রোধ: রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত দামি। তাই মোবাইল বা অন্য কোনো মাধ্যমে চোখের ও কানের গুনাহ থেকে বিরত থেকে ইবাদতে মশগুল থাকতে হবে।
প্রশ্ন ও উত্তর
মক্কা ও মদিনায় বর্তমানে কত রাকাত তারাবিহ হয়?
উত্তর: করোনা মহামারীর পর থেকে একটি সাময়িক ওজরের কারণে বর্তমানে মক্কা ও মদিনায় মসজিদে জামাতের সাথে ১০ রাকাত তারাবিহ পড়া হয়, যদিও এর আগে ১৪০০ বছর ধরে সবসময় ২০ রাকাত পড়া হতো।
তারাবিহ ৮ রাকাত পড়ার কোনো শক্তিশালী প্রমাণ আছে কি?
উত্তর: ইসলামী স্কলারদের মতে, মক্কা ও মদিনার মূল ঐতিহ্য ১৪০০ বছর ধরে ২০ রাকাতই ছিল। উপমহাদেশে পরবর্তীতে ৮ রাকাতের প্রচলন ঘটে, যাকে অনেকেই সুন্নাহ পরিপন্থী ও বেদাত বলে মনে করেন।
রমজানে তারাবিহ নামাজের মূল ফজিলত কী?
উত্তর: রমজানের রাতে ঈমান ও সওয়াবের আশায় তারাবিহ আদায় করলে আল্লাহ তায়ালা বান্দার পেছনের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন।
শেষকথা
তারাবিহ নামাজ রমজান মাসের এক বিশেষ ইবাদত এবং দীর্ঘ সময় আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে কুরআন শোনার এক অপূর্ব সুযোগ। তাই অহেতুক বিতর্কে না জড়িয়ে, মক্কা ও মদিনার ১৪০০ বছরের ঐতিহ্য অনুযায়ী ২০ রাকাত তারাবিহ ধীরস্থিরভাবে আদায় করাই সবচেয়ে উত্তম।
তথ্যসূত্র (Source): মুফতী আব্দুল মালেক।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”
