২০২৬ সালে মোট ২৪টি একাদশী ব্রত পালিত হবে — প্রতি মাসে কৃষ্ণপক্ষ ও শুক্লপক্ষে একটি করে। এই পৃষ্ঠায় জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সম্পূর্ণ একাদশী তালিকা ২০২৬, প্রতিটির সঠিক তারিখ এবং পারণ সময় একসাথে পাবেন। তথ্যগুলো নবযুগ পঞ্জিকা (স্মার্ত/গোস্বামী/নিম্বার্ক মত) এবং ইসকন সূত্র অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।
📌 এখনই বুকমার্ক করুন — এই পৃষ্ঠাটি সেভ রাখলে সারা বছর একাদশীর তারিখ মিস হবে না।
২০২৬ সালের প্রথম একাদশী ১৪ জানুয়ারি (ষটতিলা একাদশী) এবং শেষ একাদশী ২০ ডিসেম্বর (মোক্ষদা একাদশী)। প্রতিটি একাদশীর বিস্তারিত তারিখ, নাম ও পারণ সময় নিচে দেওয়া হলো।
২০২৬ সালের সম্পূর্ণ একাদশী তালিকা (মাস অনুযায়ী)
নিচের তালিকায় স্মার্ত/গোস্বামী/নিম্বার্ক মত এবং ইসকন মত — উভয়ের পারণ সময় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের সময়ের সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে, তাই ব্রত পালনের আগে স্থানীয় পঞ্জিকা একবার দেখে নেওয়া ভালো।
📅 জানুয়ারি ২০২৬
১. ষটতিলা একাদশী (কৃষ্ণপক্ষ)
- 🗓️ তারিখ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ (৩০ পৌষ ১৪৩২ বাংলা)
- 🙏 অধিষ্ঠাত্রী দেবতা: মাধব
- ⏰ পারণ (স্মার্ত/গোস্বামী/নিম্বার্ক): পরদিন সূর্যোদয় থেকে সকাল ১০:২৯-এর মধ্যে
- ⏰ পারণ (ইসকন): পরদিন সকাল ৬:৪২ থেকে ১০:১৯-এর মধ্যে
২. ভৈমী / জয়া একাদশী (শুক্লপক্ষ)
- 🗓️ তারিখ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ (১৫ মাঘ ১৪৩২ বাংলা)
- 🙏 অধিষ্ঠাত্রী দেবতা: মাধব
- ⏰ পারণ (স্মার্ত/গোস্বামী/নিম্বার্ক): পরদিন সূর্যোদয় থেকে সকাল ১০:১২-এর মধ্যে
📅 ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩. বিজয়া একাদশী (কৃষ্ণপক্ষ)
- 🗓️ তারিখ: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (৩০ মাঘ ১৪৩২ বাংলা)
- 🙏 অধিষ্ঠাত্রী দেবতা: গোবিন্দ (কৃষ্ণ)
- ⏰ পারণ (স্মার্ত/গোস্বামী/নিম্বার্ক): পরদিন সূর্যোদয় থেকে সকাল ১০:২৯-এর মধ্যে
৪. আমলকী একাদশী (শুক্লপক্ষ)
- 🗓️ তারিখ: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বাংলা)
- 🙏 অধিষ্ঠাত্রী দেবতা: গোবিন্দ (কৃষ্ণ)
- ⏰ পারণ (স্মার্ত/গোস্বামী/নিম্বার্ক): পরদিন সূর্যোদয় থেকে সকাল ১০:২৫-এর মধ্যে
📅 মার্চ ২০২৬
৫. পাপমোচনী একাদশী (কৃষ্ণপক্ষ)
- 🗓️ তারিখ: রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬ (১ চৈত্র ১৪৩২ বাংলা)
- 🙏 অধিষ্ঠাত্রী দেবতা: রাম
- ⏰ পারণ (স্মার্ত/গোস্বামী/নিম্বার্ক): পরদিন সূর্যোদয় থেকে সকাল ৮:২৯-এর মধ্যে
৬. কামদা একাদশী (শুক্লপক্ষ)
- 🗓️ তারিখ: রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ (১৫ চৈত্র ১৪৩২ বাংলা)
- 🙏 অধিষ্ঠাত্রী দেবতা: রাম
- ⏰ পারণ (স্মার্ত/গোস্বামী/নিম্বার্ক): পরদিন সূর্যোদয় থেকে সকাল ৮:০৮-এর মধ্যে
📅 এপ্রিল ২০২৬
৭. বরূথিনী একাদশী (কৃষ্ণপক্ষ)
- 🗓️ তারিখ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (৩০ চৈত্র ১৪৩২ বাংলা)
- 🙏 অধিষ্ঠাত্রী দেবতা: মধুসূদন (বিষ্ণু)
- ⏰ পারণ (স্মার্ত/গোস্বামী/নিম্বার্ক): পরদিন সূর্যোদয় থেকে সকাল ৯:৫৭-এর মধ্যে
৮. মোহিনী একাদশী (শুক্লপক্ষ)
- 🗓️ তারিখ: সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ (১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বাংলা)
- 🙏 অধিষ্ঠাত্রী দেবতা: মধুসূদন (বিষ্ণু)
- ⏰ পারণ (স্মার্ত/গোস্বামী/নিম্বার্ক): পরদিন সূর্যোদয় থেকে সকাল ৯:৫৬-এর মধ্যে
📅 মে ২০২৬
৯. অপরা একাদশী (কৃষ্ণপক্ষ)
- 🗓️ তারিখ: বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ (৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বাংলা)
- 🙏 অধিষ্ঠাত্রী দেবতা: ত্রিবিক্রম
- ⏰ পারণ (স্মার্ত/গোস্বামী/নিম্বার্ক): পরদিন সূর্যোদয় থেকে সকাল ৮:১৩-এর মধ্যে
১০. নির্জলা একাদশী (শুক্লপক্ষ)
- 🗓️ তারিখ: বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ (১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বাংলা)
- 🙏 অধিষ্ঠাত্রী দেবতা: ত্রিবিক্রম
- ✨ বিশেষ নোট: এটি বছরের সবচেয়ে কঠিন ও পুণ্যময় একাদশী। এই দিন সম্পূর্ণ জলহীন উপবাস করা হয়। শাস্ত্র মতে, এই একটি একাদশী পালনে সারা বছরের সব একাদশীর সমান ফল পাওয়া যায়।
- ⏰ পারণ সময়: স্থানীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী নিশ্চিত করুন।
📅 জুন ২০২৬
১১. যোগিনী একাদশী (কৃষ্ণপক্ষ)
- 🗓️ তারিখ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ (১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বাংলা)
- 🙏 অধিষ্ঠাত্রী দেবতা: বামন
- ⏰ পারণ (স্মার্ত/গোস্বামী/নিম্বার্ক): পরদিন সূর্যোদয় থেকে সকাল ৯:৫৪-এর মধ্যে
১২. দেবশয়নী / পদ্মা একাদশী (শুক্লপক্ষ)
- 🗓️ তারিখ: শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ (১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বাংলা)
- 🙏 অধিষ্ঠাত্রী দেবতা: বামন
- ⏰ পারণ (ইসকন): পরদিন সকাল ৫:১৩ থেকে ৯:৪৫-এর মধ্যে
🔔 গুরুত্বপূর্ণ: দেবশয়নী একাদশী থেকে দেবোত্থান একাদশী পর্যন্ত চতুর্মাস শুরু হয়। এই সময় অনেক ধর্মীয় কাজে নিষেধাজ্ঞা থাকে।
📅 জুলাই ২০২৬
১৩. কামিকা একাদশী (কৃষ্ণপক্ষ)
- 🗓️ তারিখ: শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ (২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বাংলা)
- ⏰ পারণ (ইসকন): পরদিন সকাল ৭:৩৭ থেকে ৯:৫৮-এর মধ্যে
১৪. শ্রাবণী পুত্রদা / পবিত্রা একাদশী (শুক্লপক্ষ)
- 🗓️ তারিখ: শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ (১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বাংলা)
- ⏰ পারণ: স্থানীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী নিশ্চিত করুন।
📅 আগস্ট ২০২৬
১৫. অজা / অন্নদা একাদশী (কৃষ্ণপক্ষ)
- 🗓️ তারিখ: সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬ (৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বাংলা)
- ⏰ পারণ (স্মার্ত/গোস্বামী/নিম্বার্ক): পরদিন সূর্যোদয় থেকে সকাল ৬:২২-এর মধ্যে
- ⏰ পারণ (ইসকন): পরদিন সকাল ৫:৩৭ থেকে ৬:৫২-এর মধ্যে
১৬. পদ্মিনী / পরিবর্তিনী একাদশী (শুক্লপক্ষ)
- 🗓️ তারিখ: আগস্ট ২০২৬-এর শুক্লপক্ষে (সঠিক তারিখ স্থানীয় পঞ্জিকায় দেখুন)
- ⏰ পারণ: নবযুগ পঞ্জিকা অনুযায়ী নিশ্চিত করুন।
📅 সেপ্টেম্বর–ডিসেম্বর ২০২৬
সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের একাদশী তারিখ প্রতিটি মাসে পঞ্জিকা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। নিচে সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:
| মাস | একাদশীর নাম | আনুমানিক তারিখ |
|---|---|---|
| সেপ্টেম্বর (ক্ষ) | ইন্দিরা একাদশী | সেপ্টেম্বর ৮/৯ |
| সেপ্টেম্বর (শু) | পাশাঙ্কুশা একাদশী | সেপ্টেম্বর ২২/২৩ |
| অক্টোবর (ক্ষ) | রমা একাদশী | অক্টোবর ৮/৯ |
| অক্টোবর (শু) | দেবোত্থান / প্রবোধিনী একাদশী | অক্টোবর ২৩ |
| নভেম্বর (ক্ষ) | উৎপত্তি একাদশী | নভেম্বর ৬/৭ |
| নভেম্বর (শু) | মোক্ষদা একাদশী | নভেম্বর ২১/২২ |
| ডিসেম্বর (ক্ষ) | সফলা একাদশী | ডিসেম্বর ৬/৭ |
| ডিসেম্বর (শু) | মোক্ষদা একাদশী | ২০ ডিসেম্বর ২০২৬ |
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ নোট: সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের সঠিক তারিখ ও পারণ সময় প্রতিটি একাদশীর আগে অবশ্যই নবযুগ পঞ্জিকা বা ekadashibarta.com থেকে যাচাই করে নিন। বাংলাদেশ ও ভারতের সময়ের পার্থক্য থাকায় পারণের সময় ভিন্ন হতে পারে।
একাদশী ব্রত কী এবং কেন পালন করা হয়?
একাদশী তিথির অর্থ
“একাদশী” শব্দের অর্থ হলো “এগারো”। হিন্দু চন্দ্রপঞ্জিকায় প্রতি পক্ষের (কৃষ্ণপক্ষ ও শুক্লপক্ষ) ১১তম দিনটিকেই একাদশী বলা হয়।
এই তিথিটি ভগবান বিষ্ণুর প্রতি উৎসর্গিত। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে উপবাস ও ভক্তিমূলক কাজ করলে পাপ মোচন হয় এবং আত্মিক মুক্তির পথ সুগম হয়।
একাদশী পালনে আধ্যাত্মিক ও স্বাস্থ্যগত সুবিধা
একাদশীর উপবাস শুধু আধ্যাত্মিকভাবে নয়, শারীরিকভাবেও উপকারী। প্রতি মাসে দুইবার হালকা উপবাস করলে পাচনতন্ত্র বিশ্রাম পায় এবং শরীর থেকে টক্সিন বের হওয়ার সুযোগ পায়।
বাংলাদেশের হিন্দু পরিবারগুলোতে — বিশেষত বরিশাল, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ঢাকার পুরনো পাড়াগুলোতে — একাদশী এখনো গভীর শ্রদ্ধা ও নিয়মের সাথে পালিত হয়।
একাদশী পালনের নিয়ম ও বিধি
একাদশীর দিন কী করবেন
- সূর্যোদয়ের আগে উঠে স্নান করুন এবং ভগবান বিষ্ণুর পূজা করুন।
- সারাদিন হরিনাম জপ (হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র), শ্রীমদ্ভাগবত বা গীতা পাঠ করুন।
- সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালান এবং তুলসী পূজা করুন।
- রাতে শোওয়ার আগে একাদশীর ব্রতকথা পড়ুন বা শুনুন।
একাদশীর দিন যা খাওয়া যাবে না
- সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: চাল, ডাল, গম, যব, ভুট্টা (পঞ্চরবিশস্য)
- এড়িয়ে চলুন: পেঁয়াজ, রসুন, সরিষার তেল, সয়াবিন তেল, মুড়ি, চিঁড়া
- খাওয়া যাবে: তাজা ফল, দুধ, দই, ছানা, আলু, মিষ্টি আলু, কাঁচকলা, বাদাম, সাবুদানা
- রান্নায়: সৈন্ধব লবণ ব্যবহার করুন, ঘি বা সূর্যমুখী তেল দিয়ে রান্না করুন।
পারণ (ব্রত ভাঙ্গার নিয়ম) — অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
একাদশীর পরের দিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্রত ভাঙতে হবে। এই সময়কে পারণ বলা হয়। শাস্ত্র অনুযায়ী, পারণের নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলে সেই একাদশীর ব্রতের ফল খণ্ডিত হয়।
💡 প্র্যাকটিক্যাল টিপস (অন্য কোথাও পাবেন না):
- পারণের সময় মিস না করতে আগের রাতেই মোবাইলে অ্যালার্ম সেট করুন।
- পারণ করার আগে পঞ্চরবিশস্য (ভাত বা খিচুড়ি) ভগবানকে ভোগ নিবেদন করুন, তারপর মহাপ্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করুন।
- একাদশীর দিন চা বা কফি না খেয়ে তুলসী-জল বা লেবু-সরবত পান করুন — মনও শান্ত থাকবে, ব্রতও সম্পূর্ণ থাকবে।
বাংলাদেশে একাদশী: স্মার্ত মত বনাম ইসকন মত
বাংলাদেশে মূলত দুইটি মতে একাদশী পালন করা হয়। অনেক সময় এই দুই মতের তারিখ ও পারণ সময়ে সামান্য পার্থক্য থাকে।
| বিষয় | স্মার্ত / গোস্বামী / নিম্বার্ক মত | ইসকন মত |
|---|---|---|
| পঞ্জিকার উৎস | নবযুগ পঞ্জিকা | bpswamibangla.com |
| পারণ শুরু | সূর্যোদয় থেকে | নির্দিষ্ট সময় থেকে (যেমন ৬:৩৬ থেকে) |
| পারণ শেষ | একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে | নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে |
| বিশেষত্ব | ঐতিহ্যবাহী সনাতনী রীতি | গৌড়ীয় বৈষ্ণব / শ্রীকৃষ্ণ-কেন্দ্রিক |
আপনি যে মতে একাদশী পালন করেন, সেই মতের পঞ্জিকা অনুযায়ী সময় নিশ্চিত করুন।
২০২৬ সালের বিশেষ উল্লেখযোগ্য একাদশী
নির্জলা একাদশী (মে ২০২৬)
বছরের সবচেয়ে কঠিন এবং পুণ্যময় একাদশী। এই দিন সম্পূর্ণ জলহীন উপবাস পালন করা হয়। হিন্দু ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী, এই একটি একাদশী বিধিমতে পালন করলে বছরের সব ২৪টি একাদশীর সমান ফল পাওয়া যায়।
দেবশয়নী একাদশী (জুন ২০২৬)
এই দিন থেকে ভগবান বিষ্ণু যোগনিদ্রায় যান এবং চতুর্মাস শুরু হয়। পরবর্তী চার মাস অনেক শুভকার্য (বিবাহ, গৃহারম্ভ ইত্যাদি) করা হয় না।
দেবোত্থান একাদশী (অক্টোবর ২০২৬)
চতুর্মাস শেষে ভগবান বিষ্ণু যোগনিদ্রা ভেঙে জাগ্রত হন। এই দিন থেকে আবার শুভকার্য শুরু হয়।
মোক্ষদা একাদশী (নভেম্বর/ডিসেম্বর ২০২৬)
এই একাদশীকে গীতা জয়ন্তীও বলা হয়। কথিত আছে, কুরুক্ষেত্রে এই দিনেই শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে ভগবদগীতা উপদেশ দিয়েছিলেন।
সাধারণ ভুল ও সতর্কতা
যে ভুলগুলো অনেকেই করেন
- পারণের সময় মিস করা: পারণের সময় পেরিয়ে গেলে ব্রত অসম্পূর্ণ হয়। তাই সময় আগে থেকে নোট করুন।
- দ্বাদশী তিথিতে পারণ না করা: কিছু একাদশীতে দ্বাদশী তিথি খুব দ্রুত চলে যায়, তাই পারণ সম্পূর্ণ করতে দেরি করা যাবে না।
- ভুল পঞ্জিকা অনুসরণ: বাংলাদেশ ও ভারতের সময়ের পার্থক্য থাকে। ভারতীয় পঞ্জিকা হুবহু বাংলাদেশে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য নবযুগ পঞ্জিকা অনুসরণ করুন।
⚠️ সতর্কতা: অনলাইনে অনেক অনির্ভরযোগ্য সাইট ভুল একাদশীর তারিখ প্রকাশ করে। সর্বদা নবযুগ পঞ্জিকা বা ekadashibarta.com এবং bpswamibangla.com (ইসকন)-এর মতো বিশ্বস্ত সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: ২০২৬ সালে মোট কয়টি একাদশী? উত্তর: ২০২৬ সালে মোট ২৪টি একাদশী পালিত হবে — প্রতি মাসে কৃষ্ণপক্ষ ও শুক্লপক্ষে একটি করে। (মলমাস থাকলে ২৬টি হয়, কিন্তু ২০২৬ সালে মলমাস নেই।)
প্রশ্ন ২: ২০২৬ সালের প্রথম একাদশী কবে? উত্তর: ২০২৬ সালের প্রথম একাদশী হলো ষটতিলা একাদশী — ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ (বুধবার)।
প্রশ্ন ৩: নির্জলা একাদশী ২০২৬ সালে কবে? উত্তর: নির্জলা একাদশী জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষে পালিত হয়। ২০২৬ সালে এটি মে মাসের শেষ দিকে পড়বে। সঠিক তারিখের জন্য নবযুগ পঞ্জিকা বা ekadashibarta.com দেখুন।
প্রশ্ন ৪: একাদশীর দিন কি চা-কফি খাওয়া যাবে? উত্তর: না, অধিকাংশ ধর্মীয় মতে একাদশীর দিন চা ও কফি এড়িয়ে চলা উচিত। এর পরিবর্তে তুলসী-জল বা লেবু-সরবত পান করুন।
প্রশ্ন ৫: ইসকন ও স্মার্ত মতে একাদশীর তারিখ কি এক? উত্তর: অনেক সময় একই হয়, তবে পারণের সময়ে পার্থক্য থাকে। কিছু ক্ষেত্রে তারিখেও এক দিনের পার্থক্য দেখা যায়। আপনি যে মত পালন করেন, সেই মতের পঞ্জিকা দেখুন।
প্রশ্ন ৬: একাদশীর পারণ সময় কীভাবে নির্ধারিত হয়? উত্তর: পারণ সাধারণত দ্বাদশী তিথিতে, সূর্যোদয়ের পর থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হয়। এই সময়টি প্রতিটি একাদশীতে আলাদা এবং পঞ্জিকায় উল্লেখ থাকে।
প্রশ্ন ৭: চতুর্মাস কখন শুরু হয় ২০২৬ সালে? উত্তর: দেবশয়নী একাদশী (জুন ২৬, ২০২৬) থেকে চতুর্মাস শুরু হয় এবং দেবোত্থান একাদশী (অক্টোবর ২০২৬) পর্যন্ত চলে।
প্রশ্ন ৮: একাদশীর দিন কি শুধু হিন্দুরাই উপবাস করেন? উত্তর: মূলত সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দুরাই একাদশী পালন করেন। তবে যারা ইসকনের ভক্তি আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্য ধর্মের মানুষরাও এই ব্রত পালন করেন।
প্রশ্ন: একাদশীর উপবাস কি সম্পূর্ণ না খেয়ে থাকতে হবে? উত্তর: না, নির্জলা একাদশী ছাড়া অন্য একাদশীতে ফল, দুধ, সাবুদানা ইত্যাদি খাওয়া যায়। তবে চাল, গম, ডাল, পেঁয়াজ ও রসুন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
প্রশ্ন: শিশু ও অসুস্থরা কি একাদশী পালন করতে পারবে? উত্তর: শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা হালকাভাবে একাদশী পালন করতে পারেন। তারা ফল ও দুধ খেতে পারেন। পুরোপুরি উপবাস না করলেও একাদশীর পূজা ও হরিনাম জপ করা যায়।
প্রশ্ন: একাদশীর আগের দিন রাতে কী খাওয়া উচিত? উত্তর: দশমীর রাতে চাল ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। হালকা খাবার খান যাতে পেট পরিষ্কার থাকে এবং উপবাস সহজ হয়।
প্রশ্ন: একাদশীর পারণ মন্ত্র কোনটি? উত্তর: পারণের সময় সাধারণত “ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়” বা “হরে কৃষ্ণ” মহামন্ত্র জপ করে প্রথমে তুলসী পাতা খেয়ে ব্রত ভাঙা হয়।
প্রশ্ন: একাদশী তালিকা ২০২৬ PDF কোথায় পাবো? উত্তর: ইসকন একাদশী তালিকার PDF পেতে bpswamibangla.com এবং amarmondir.nav.bd ওয়েবসাইট দেখুন। নবযুগ পঞ্জিকার তালিকার জন্য ekadashibarta.com ভিজিট করুন।
প্রশ্ন: মোবাইলে একাদশীর রিমাইন্ডার পাওয়ার উপায় কী? উত্তর: ekadashibarta.com ওয়েবসাইট বুকমার্ক করুন অথবা বাংলা পঞ্জিকা অ্যাপ (Google Play বা App Store-এ পাওয়া যায়) ইন্সটল করুন। অনেক অ্যাপেই একাদশীর নোটিফিকেশন পাওয়ার অপশন থাকে।
২০২৬ সালে মোট ২৪টি একাদশী ব্রত পালিত হবে, যা জানুয়ারি মাসের ষটতিলা একাদশী দিয়ে শুরু হয়ে ডিসেম্বরের মোক্ষদা একাদশীতে শেষ হবে। প্রতিটি একাদশী হিন্দু চন্দ্রপঞ্জিকার ১১তম তিথিতে পড়ে এবং ভগবান বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে উৎসর্গিত।
বাংলাদেশে স্মার্ত/গোস্বামী/নিম্বার্ক মত (নবযুগ পঞ্জিকা অনুসারে) এবং ইসকন মত (bpswamibangla.com অনুসারে) — এই দুটি প্রধান মতে একাদশী পালন করা হয়। উভয় মতে তারিখ প্রায় একই হলেও পারণের সময় আলাদা হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ একাদশীগুলোর মধ্যে নির্জলা একাদশী (মে), দেবশয়নী একাদশী (জুন), দেবোত্থান একাদশী (অক্টোবর) এবং মোক্ষদা একাদশী (নভেম্বর/ডিসেম্বর) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
একাদশীর দিন পঞ্চরবিশস্য (চাল, গম, ডাল, যব, ভুট্টা) এবং পেঁয়াজ-রসুন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পারণ (ব্রত ভাঙার নির্দিষ্ট সময়) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ — সময়মতো পারণ না করলে ব্রতের ফল খণ্ডিত হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।
Last Updated: ২৬ জুন, ২০২৬
Reference / Source List:
- নবযুগ পঞ্জিকা (স্মার্ত, গোস্বামী ও নিম্বার্ক মতের প্রধান পঞ্জিকা)
- ekadashibarta.com (একাদশী বার্তা — বাংলাদেশ ভিত্তিক একাদশী তথ্যসূত্র)
- bpswamibangla.com (ইসকন বাংলাদেশের অফিশিয়াল একাদশী পারণ সময়সূচী)
- amarmondir.nav.bd (আমার মন্দির — সনাতন ধর্মীয় তথ্যসূত্র)
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”
