ঈদুল আযহার দিনে রাসূলুল্লাহ (সা.) যে সুন্নত আমলগুলো পালন করতেন সেগুলো হলো: ফজরের নামাজ জামাতে পড়া, ঈদের নামাজের আগে কিছু না খাওয়া, গোসল করা, উত্তম পোশাক পরা, আতর ব্যবহার করা, পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া, উচ্চস্বরে তাকবির পড়া, ভিন্ন পথে যাওয়া-আসা করা, ঈদের নামাজ ও খুতবা শোনা, এবং নামাজের পরে কোরবানি করে তার গোশত খাওয়া।
ঈদুল আযহা কেন এত বিশেষ?
ঈদুল আযহা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুটি উৎসবের একটি। এটি আল্লাহর প্রতি হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অসীম আনুগত্য ও ত্যাগের স্মরণে পালিত হয়। বাংলাদেশে এটি “কোরবানির ঈদ” নামেও পরিচিত।
শুধু আনন্দ-উৎসবই নয়, ঈদুল আযহার দিনটিতে রয়েছে একগুচ্ছ সুন্নত আমল — যা একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের পালন করা উচিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে এই আমলগুলো যত্নসহকারে পালন করেছেন এবং সাহাবাদের শিক্ষা দিয়েছেন।
এই আর্টিকেলে আমরা ঈদুল আযহার দিনের সমস্ত সুন্নত — সকাল থেকে রাত পর্যন্ত — হাদিসের রেফারেন্সসহ বিস্তারিত আলোচনা করব।
ঈদুল আযহার দিনের সুন্নত সমূহ
১. ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা
ঈদের দিনের শুরু হয় ফজরের নামাজের মাধ্যমে। ঈদুল আযহার দিন ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।
- ফজরের নামাজে সূরা আস-সাজদাহ ও সূরা আদ-দাহর তিলাওয়াত করা সুন্নত (সহিহ মুসলিম: ৮৭৯)।
- ঈদের দিনটি আল্লাহর জিকির ও ইবাদতে শুরু করুন।
২. ঈদের আগে কিছু না খাওয়া
এটি ঈদুল আযহার একটি বিশেষ সুন্নত — যা ঈদুল ফিতর থেকে আলাদা।
হাদিস:
হযরত বুরাইদা (রা.) বর্ণনা করেন:
“নবী (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে বের হতেন না। কিন্তু ঈদুল আযহার দিন নামাজ থেকে ফেরার আগে কিছু খেতেন না।”
(সহিহ, তিরমিজি: ৫৪২, ইবনে মাজাহ: ১৭৫৬)
কারণ: ঈদুল আযহায় কোরবানির গোশত খাওয়ার মাধ্যমে দিনটি শুরু হওয়া সুন্নত।
বাংলাদেশীদের জন্য টিপ্স: ঈদুল আযহার সকালে চা বা নাশতা না খেয়ে নামাজে যান এবং ফেরার পর কোরবানির গোশত দিয়ে খাওয়া শুরু করুন।
৩. গোসল করা (ঈদের গোসল)
ঈদের নামাজের আগে গোসল করা একটি প্রমাণিত সুন্নত।
দলিল:
ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিনে ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন।
(মুয়াত্তা মালেক: ১/১৭৭, ইবনে আবি শায়বা)
- ফজরের নামাজের পর এবং ঈদের নামাজের আগে গোসল করুন।
- মাথার চুল পরিষ্কার রাখুন, নখ কাটুন।
৪. উত্তম ও পরিষ্কার পোশাক পরা
আল্লাহর সামনে সর্বোত্তম অবস্থায় হাজির হওয়া ইসলামের শিক্ষা।
হাদিস:
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন: উমর (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে একটি রেশমি পোশাক নিয়ে আসেন এবং পরামর্শ দেন যে ঈদের দিন এটি পরতে। রাসূল (সা.) বললেন, “এটি সে পরে যার (পরকালে) কোনো অংশ নেই।”
(সহিহ বুখারি: ৯৪৮)
মূল শিক্ষা:
- নতুন কাপড় থাকলে পরা ভালো, না থাকলে সবচেয়ে পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরুন।
- পোশাক অবশ্যই শালীন ও ইসলামসম্মত হতে হবে।
- পুরুষরা টুপি পরুন।
৫. আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা
ঈদের দিনে সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত।
দলিল: রাসূলুল্লাহ (সা.) জুমার দিন ও ঈদের দিনে আতর ব্যবহার করতেন।
(বায়হাকি, শুয়াবুল ইমান)
- মহিলারা বাড়ির বাইরে সুগন্ধি ব্যবহার করবেন না — এটি পৃথক মাসআলা।
- পুরুষরা আতর বা সুগন্ধি মেখে ঈদগাহে যান।
৬. তাকবির পাঠ করতে করতে ঈদগাহে যাওয়া
ঈদুল আযহার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তাকবির বলা। এটি ঈদুল আযহার রাত থেকে শুরু হয়।
কোরআনের নির্দেশ:
“যাতে তোমরা নির্ধারিত সংখ্যা পূর্ণ করতে পার এবং তোমাদেরকে যে সঠিক পথ দেখানো হয়েছে তার জন্য আল্লাহর তাকবির (মহিমা) প্রকাশ করতে পার।” (সূরা আল-বাকারা: ১৮৫)
তাকবিরে তাশরিক:
اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
কখন পড়বেন:
- ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রতি ফরজ নামাজের পর একবার।
- ঈদগাহে যাওয়ার পথেও পড়বেন।
- পুরুষরা উচ্চস্বরে, মহিলারা নিচু স্বরে পড়বেন।
৭. পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া
হাদিস:
“রাসূলুল্লাহ (সা.) পায়ে হেঁটে ঈদের নামাজে যেতেন এবং পায়ে হেঁটে ফিরে আসতেন।”
(তিরমিজি: ৫৩০, ইবনে মাজাহ: ১২৯৫)
- সম্ভব হলে পায়ে হেঁটে যাওয়া সুন্নত।
- শারীরিক অসুবিধা বা দূরত্ব থাকলে যানবাহনে যেতে পারবেন।
৮. ভিন্ন পথে যাওয়া এবং ভিন্ন পথে ফেরা
হাদিস:
“নবী (সা.) ঈদের দিন যে পথে যেতেন সে পথে ফিরতেন না — ভিন্ন পথে ফিরতেন।”
(সহিহ বুখারি: ৯৮৬)
হিকমত:
- বেশি পথে আল্লাহর জিকির হয়।
- বেশি মুসলমানের সাথে সাক্ষাৎ ও সালাম বিনিময় হয়।
- পথের মানুষেরা ঈদের আনন্দের সাক্ষী হয়।
৯. ঈদের নামাজ আদায় করা
ঈদের নামাজ ওয়াজিব (হানাফি মতে) বা সুন্নতে মুয়াক্কাদা (অন্য মতে)।
ঈদের নামাজের নিয়ম (হানাফি মাযহাব — বাংলাদেশে প্রচলিত):
রাকাত সংখ্যা: ২ রাকাত অতিরিক্ত তাকবিরসহ।
প্রথম রাকাত:
- ইমামের সাথে নিয়ত বাঁধুন।
- তাকবিরে তাহরিমা (আল্লাহু আকবার) বলুন।
- সানা পড়ুন।
- ইমামের সাথে ৩টি অতিরিক্ত তাকবির বলুন — প্রতিটির মাঝে হাত ছেড়ে দিন।
- চতুর্থ তাকবিরে হাত বেঁধে সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পড়ুন।
- স্বাভাবিক রুকু-সিজদা করুন।
দ্বিতীয় রাকাত:
- সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পড়া হবে।
- রুকুতে যাওয়ার আগে ৩টি অতিরিক্ত তাকবির বলুন — হাত ছেড়ে দিয়ে।
- চতুর্থ তাকবিরে রুকুতে যান।
- বাকি নামাজ স্বাভাবিকভাবে শেষ করুন।
নোট: মহিলাদের জন্য ঘরে ঈদের নামাজ আদায়ের বিধান নেই। তারা ঈদগাহে গেলেও জামাতে অংশ নিতে পারেন।
১০. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা
নামাজের পর ইমাম খুতবা দেবেন। এটি মনোযোগ দিয়ে শোনা সুন্নত।
- ঈদের খুতবা নামাজের পরে হয় (জুমার মতো আগে নয়)।
- খুতবা চলাকালীন কথা বলা বা উঠে চলে যাওয়া অনুচিত।
১১. ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা
হাদিস:
সাহাবায়ে কেরামরা ঈদের দিন পরস্পরকে বলতেন:
“তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম”
অর্থ: “আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের (আমল) কবুল করুন।”
(ফাতহুল বারি, ইমাম ইবনে হাজার)
- ঈদের নামাজ শেষে পরস্পর মোসাফাহা করুন।
- বাড়ি ফিরে বাবা-মা, বড়দের সালাম করুন।
১২. কোরবানি করা
ঈদুল আযহার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো কোরবানি।
আল্লাহর নির্দেশ:
“অতএব তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ো এবং কোরবানি করো।” (সূরা আল-কাউসার: ২)
কোরবানির সুন্নত নিয়মসমূহ:
- ঈদের নামাজের পর কোরবানি করতে হবে।
- নামাজের আগে কোরবানি করলে তা গ্রহণযোগ্য হয় না।
- বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে জবাই করুন।
- নিজে জবাই করতে পারলে সুন্নত।
- কিবলামুখী করে জবাই করুন।
কোরবানির গোশত ভাগের নিয়ম:
- ৩ ভাগ করুন:
- ১ ভাগ নিজের পরিবারের জন্য
- ১ ভাগ আত্মীয়-প্রতিবেশীর জন্য
- ১ ভাগ গরীব-দুস্থদের জন্য
১৩. কোরবানির গোশত দিয়ে খাওয়া শুরু করা
হাদিস:
“রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদুল আযহার দিন (নামাজ থেকে ফিরে) কোরবানির গোশত না খেয়ে থাকতেন না।”
(তিরমিজি: ৫৪২)
- ঈদুল আযহার দিন প্রথম খাবার হবে কোরবানির গোশত।
- এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বিশেষ সুন্নত।
১৪. পরিবার ও প্রতিবেশীদের সাথে সময় কাটানো
ঈদ শুধু ব্যক্তিগত আনন্দের দিন নয় — এটি সমাজবদ্ধতার উৎসব।
- গরীব ও এতিমদের ঈদের আনন্দে শামিল করুন।
- প্রতিবেশীদের গোশত পৌঁছে দিন।
- আত্মীয়দের সাথে দেখা করুন, সম্পর্ক মজবুত করুন।
ঈদুল আযহার রাতের আমল
ঈদের আগের রাত (১০ জিলহজের রাত) অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
হাদিস:
“যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার রাতে সওয়াবের আশায় জেগে থাকে (ইবাদত করে), তার অন্তর সেদিন মরবে না যেদিন সব অন্তর মরে যাবে।”
(ইবনে মাজাহ: ১৭৮২ — হাদিসটি দুর্বল, তবে আলেমরা রাতে নফল ইবাদতকে উৎসাহিত করেছেন)
ঈদের রাতে করণীয়:
- বেশি বেশি তাকবির পড়ুন।
- নফল নামাজ পড়ুন।
- কোরআন তিলাওয়াত করুন।
- পরিবারের সাথে ইসলামিক আলোচনা করুন।
ঈদুল আযহার দিনে যা করবেন না
| করবেন না | কারণ |
|---|---|
| ঈদের নামাজের আগে খাবেন না | সুন্নতের বিরোধী |
| নামাজের আগে কোরবানি করবেন না | কোরবানি গ্রহণযোগ্য হবে না |
| খুতবা চলাকালীন কথা বলবেন না | মাকরুহ |
| অপচয় করবেন না | ইসলামে অপচয় নিষিদ্ধ |
| পশু কষ্ট দিয়ে জবাই করবেন না | ইসলামে নিষিদ্ধ |
তাকবিরে তাশরিক — কখন ও কতবার পড়বেন?
শুরু: ৯ জিলহজ (আরাফার দিন) ফজরের নামাজের পর
শেষ: ১৩ জিলহজ আসরের নামাজের পর
- প্রতি ফরজ নামাজের পর একবার পড়া ওয়াজিব (হানাফি মতে পুরুষদের জন্য)।
- মহিলারাও পড়বেন, তবে নিচু স্বরে।
- মোট ২৩টি ফরজ নামাজের পর পড়া হবে।
কোরবানির পশু — ইসলামিক শর্তসমূহ
পশুর বয়সসীমা:
- উট: ৫ বছর বা তার বেশি
- গরু/মহিষ: ২ বছর বা তার বেশি
- ছাগল/ভেড়া: ১ বছর বা তার বেশি (ছয় মাসের ভেড়াও জায়েজ)
পশুর ত্রুটি যা থাকলে কোরবানি হবে না:
- এক চোখ কানা
- এক পা খোঁড়া (হাঁটতে অক্ষম)
- কানের এক তৃতীয়াংশ বা বেশি কাটা
- লেজের এক তৃতীয়াংশ বা বেশি কাটা
- অত্যন্ত দুর্বল ও হাড্ডিসার
প্রশ্নভিত্তিক উত্তর
ঈদুল আযহার দিন ফজর নামাজের পর কী পড়তে হয়?
ঈদুল আযহার দিন ৯ জিলহজ ফজর থেকে তাকবিরে তাশরিক শুরু হয়। প্রতিটি ফরজ নামাজের পর “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ” পড়তে হয়।
ঈদুল আযহার নামাজে কতটি তাকবির?
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী (বাংলাদেশে প্রচলিত):
- প্রথম রাকাতে: তাকবিরে তাহরিমার পর ৩টি অতিরিক্ত তাকবির।
- দ্বিতীয় রাকাতে: রুকুর আগে ৩টি অতিরিক্ত তাকবির।
- মোট অতিরিক্ত তাকবির: ৬টি।
ঈদুল আযহার দিন কি রোজা রাখা যাবে?
না। ঈদুল আযহার দিন (১০ জিলহজ) রোজা রাখা হারাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। (সহিহ বুখারি: ১৯৯০)
কোরবানি কি ঈদের নামাজের আগে দেওয়া যাবে?
না। ঈদের নামাজের আগে কোরবানি দেওয়া যাবে না। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি নামাজের আগে জবাই করে, সে নিজের জন্যই জবাই করে, কোরবানির জন্য নয়।” (সহিহ বুখারি: ৯৬৮)
ঈদুল আযহার রাত থেকে কি তাকবির শুরু হয়?
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী তাকবিরে তাশরিক শুরু হয় ৯ জিলহজের ফজর থেকে। তবে ঈদের রাত থেকে বেশি বেশি তাকবির পড়া মুস্তাহাব।
ঈদের দিন কোন সূরা দিয়ে নামাজ পড়া সুন্নত?
রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদের নামাজে প্রথম রাকাতে সূরা আল-আলা (সাব্বিহিস্মা) এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা আল-গাশিয়া পড়তেন। (সহিহ মুসলিম: ৮৭৮)
কোরবানির গোশত কি ফ্রিজে রাখা যাবে?
হ্যাঁ। পূর্বে তিন দিনের বেশি কোরবানির গোশত রাখা নিষেধ ছিল। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (সা.) এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। (সহিহ মুসলিম: ১৯৭৪) তাই এখন ফ্রিজে সংরক্ষণ করা সম্পূর্ণ জায়েজ।
মহিলারা কি ঈদের নামাজে যেতে পারবেন?
হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (সা.) মহিলাদেরও ঈদের নামাজে উপস্থিত হতে উৎসাহিত করেছেন। তবে তাদের উচিত পর্দাসহ যাওয়া এবং পুরুষদের থেকে আলাদা কাতারে নামাজ পড়া।
বিশেষজ্ঞ মতামত ও ইসলামিক স্কলারদের দৃষ্টিভঙ্গি
বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গাইডলাইন অনুযায়ী, ঈদুল আযহার দিনের সুন্নত আমলগুলো পালন করা প্রতিটি সক্ষম মুসলমানের কর্তব্য। কোরবানি করতে অক্ষম ব্যক্তিরাও ঈদের অন্যান্য সুন্নত পালন করবেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ প্রতি বছর ঈদুল আযহার নামাজের সময়সূচি ও কোরবানির নিয়মকানুন প্রকাশ করে থাকে।
শেষকথা
ঈদুল আযহার দিনটি শুধু আনন্দ-উৎসবের দিন নয় — এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের, ত্যাগের এবং কৃতজ্ঞতার দিন। রাসূলুল্লাহ (সা.) যে সুন্নতগুলো রেখে গেছেন, সেগুলো পালন করলে ঈদ হয়ে ওঠে সত্যিকারের পূর্ণ ও বরকতময়।
এই আমলগুলো পালন করুন, পরিবারকে শেখান এবং ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগ করে নিন।
ঈদ মুবারক! তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স
- সহিহ আল-বুখারি (ইমাম বুখারি) — হাদিস নং: ৯৪৮, ৯৬৮, ৯৮৬, ১৯৯০
- সহিহ মুসলিম (ইমাম মুসলিম) — হাদিস নং: ৮৭৮, ৮৭৯, ১৯৭৪
- সুনানুত তিরমিজি — হাদিস নং: ৫৩০, ৫৪২
- সুনানু ইবনে মাজাহ — হাদিস নং: ১২৯৫, ১৭৫৬, ১৭৮২
- মুয়াত্তা মালেক — ১/১৭৭
- ফাতহুল বারি (ইবনে হাজার আসকালানি)
- আল-ফিকহুল হানাফি (হানাফি ফিকহ গ্রন্থসমূহ)
- ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ — কোরবানি গাইডলাইন ২০২৫
এই আর্টিকেলের সমস্ত তথ্য কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে যাচাইকৃত। ইসলামিক বিধান সংক্রান্ত জটিল প্রশ্নের জন্য স্থানীয় আলেমের পরামর্শ নিন।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”


