ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর মিলনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো পজিশন বা ভঙ্গি বাধ্যতামূলক বা নির্দিষ্ট করা নেই। কুরআন (সূরা আল-বাকারা: ২২৩) অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রী তাদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধামতো যেকোনো পজিশনে শারীরিক মিলন করতে পারেন। তবে ইসলামী শরীয়তে দুটি বিষয় সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ: ১. মাসিক বা নেফাস (সন্তান প্রসবের পর) চলাকালীন সময়ে মিলন এবং ২. পায়ুপথে মিলন। এই দুটি কঠিন শর্ত মেনে যেকোনো স্বাভাবিক পজিশন ইসলামে সম্পূর্ণ বৈধ ও অনুমোদিত।
ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর অন্তরঙ্গতা: একটি পবিত্র সম্পর্ক
ইসলামে বৈবাহিক সম্পর্ককে অত্যন্ত পবিত্র এবং ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক শারীরিক ও মানসিক তৃপ্তি একটি সুস্থ পরিবারের ভিত্তি। ইসলাম বৈরাগ্যবাদ সমর্থন করে না, বরং হালাল উপায়ে নিজেদের কামনা পূরণের স্বাধীনতা দিয়েছে। তবে এই স্বাধীনতার পাশাপাশি কিছু সুস্পষ্ট সীমারেখাও নির্ধারণ করে দিয়েছে।
ইসলামে কোন কোন সেক্স পজিশন অনুমোদিত?
ইসলাম স্বামী-স্ত্রীকে তাদের শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দিয়েছে। এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার ২২৩ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন:
“তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র স্বরূপ। সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা আগমন করতে পারো…” (সূরা আল-বাকারা: ২২৩)
এই আয়াতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (শানে নুযূল) হলো, মদিনার ইহুদিদের মধ্যে একটি ভ্রান্ত ধারণা ছিল যে, পেছন দিক থেকে স্ত্রীর যৌনাঙ্গে মিলন করলে সন্তান টেরা বা অন্ধ হয়ে জন্মায়। ইসলাম এই কুসংস্কারকে বাতিল করে দেয়।
ইসলামী স্কলারদের (ইজমা ও কিয়াস) সর্বসম্মত মতামত হলো:
- স্বামী-স্ত্রী দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে, পাশ ফিরে বা পেছন দিক থেকে—যেকোনো পজিশনেই মিলন করতে পারেন।
- মূল শর্ত হলো, মিলন অবশ্যই স্ত্রীর স্বাভাবিক যৌনাঙ্গেই (Vagina) হতে হবে।
ইসলামে মিলনের ক্ষেত্রে যে দুটি বিষয় সম্পূর্ণ হারাম
যেকোনো পজিশন অনুমোদিত হলেও, দুটি বিষয়কে ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ (কবিরা গুনাহ) করা হয়েছে:
১. মাসিক (Haiz) ও নেফাস অবস্থায় মিলন
স্ত্রীর ঋতুস্রাব বা মাসিক চলাকালীন সময়ে এবং সন্তান প্রসবের পর রক্তস্রাব (নেফাস) চলাকালীন সময়ে শারীরিক মিলন সম্পূর্ণ হারাম।
- কুরআনের নির্দেশ: “তারা আপনার কাছে হায়েজ (ঋতুস্রাব) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দিন, এটা একটা কষ্টদায়ক বিষয়। কাজেই হায়েজ অবস্থায় তোমরা স্ত্রীদের থেকে দূরে থাকো…” (সূরা আল-বাকারা: ২২২)।
- বৈজ্ঞানিক কারণ: এই সময়ে মিলন করলে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সংক্রমণের (Infection) সম্ভাবনা থাকে, যা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানেও প্রমাণিত।
২. পায়ুপথে মিলন
যেকোনো অবস্থাতেই স্ত্রীর পায়ুপথে মিলন করা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম এবং জঘন্য অপরাধ।
- হাদিসের নির্দেশ: নবী কারীম (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর পায়ুপথে সঙ্গম করে, আল্লাহ তার দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না।” (তিরমিজি ও আবু দাউদ)।
ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী মিলনের আদব ও সুন্নাহ
অন্তরঙ্গ মুহূর্তকে ইবাদতে পরিণত করতে ইসলাম কিছু চমৎকার আদব শিখিয়েছে:
- ফোরপ্লে বা পূর্বরাগ: ইসলামে সরাসরি মিলনে লিপ্ত হওয়ার চেয়ে ফোরপ্লে (চুম্বন, আলিঙ্গন, রোমান্টিক কথাবার্তা) বা স্ত্রীকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। নবী (সা.) বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেন তার স্ত্রীর ওপর পশুর মতো ঝাঁপিয়ে না পড়ে।”
- মিলনের পূর্বের দোয়া পড়া: শয়তানের প্রভাব থেকে অনাগত সন্তানকে রক্ষার জন্য নবী (সা.) একটি দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন:
- উচ্চারণ: “বিসমিল্লাহি, আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়ত্বানা, ওয়া জান্নিবিশ শায়ত্বানা মা রাজাকতানা।”
- অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার নামে শুরু করছি, তুমি আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখ এবং যে সন্তান তুমি আমাদের দান করবে, তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখ।
- পর্দা বা আব্রু বজায় রাখা: স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য আবরণস্বরূপ। তারা সম্পূর্ণ নগ্ন হতে পারেন, তবে আদব হলো কোনো চাদর বা কাপড় দিয়ে নিজেদের ঢেকে রাখা।
- পরিচ্ছন্নতা (Hygiene): ইসলামে পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অঙ্গ বলা হয়েছে। মিলনের আগে ও পরে নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সুন্নাত। একবার মিলনের পর পুনরায় মিলন করতে চাইলে মাঝখানে অন্তত অজু করে নেওয়া মুস্তাহাব।
সাধারণ জিজ্ঞাসিত প্রশ্নসমূহ
ইসলামে কি ওরাল সেক্স বা মুখমেহন অনুমোদিত?
উত্তর: এই বিষয়ে সরাসরি কুরআন বা হাদিসে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে ইসলামী স্কলারদের মতে, এটি মাকরুহ (অপছন্দনীয়) এবং অনুচিত। কারণ মুখ হলো আল্লাহর জিকির এবং কুরআন তিলাওয়াতের পবিত্র স্থান। যৌনাঙ্গ থেকে নির্গত কোনো অপবিত্র তরল (মজি, বীর্য বা স্রাব) মুখে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নাপাক এবং হারাম। তাই স্বাস্থ্যগত ও ইসলামী শালীনতার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি এড়িয়ে চলাই উত্তম।
মিলনের জন্য কি রাতের কোনো নির্দিষ্ট সময় উত্তম?
উত্তর: ইসলামে মিলনের জন্য দিন বা রাতের কোনো নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা নেই। তবে তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত বা শেষ রাতের দিকে ইবাদতের সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। অনেক স্কলার শুক্রবার (জুমার দিন) মিলনের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসের আলোকে ইতিবাচক মত দিয়েছেন।
গর্ভাবস্থায় মিলনের ইসলামী বিধান কী?
উত্তর: গর্ভাবস্থায় শারীরিক মিলন ইসলামে সম্পূর্ণ বৈধ। তবে শর্ত হলো, এমন কোনো পজিশন (Sex Position) ব্যবহার করা যাবে না যা গর্ভবতী স্ত্রীর বা গর্ভের সন্তানের শারীরিক ক্ষতির কারণ হয়। এক্ষেত্রে স্ত্রীর সুবিধা ও স্বাস্থ্যগত বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
তথ্যসূত্র:
- আল-কুরআন (সূরা আল-বাকারা: ২২২-২২৩)
- সহীহ বুখারী ও মুসলিম (বিবাহ ও পবিত্রতা অধ্যায়)
- ফতোয়ায়ে শামী ও ইসলামী ফিকহ্ বিশ্বকোষ।
(বি.দ্র: এই আর্টিকেলটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ও ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তিগত জটিল স্বাস্থ্যগত সমস্যার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।)
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”
