আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট । সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (EC) ভোটের দিন এবং তার আগে-পরে বিভিন্ন ধরণের যানবাহনের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
আপনি কি জানেন ভোটের দিন আপনার ব্যক্তিগত গাড়ি বা মোটরসাইকেল বের করা যাবে কিনা? বা জরুরি প্রয়োজনে কীভাবে যাতায়াত করবেন? এই আর্টিকেলে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী যানচলাচল নিষেধাজ্ঞার সব খুঁটিনাটি সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।
একনজরে: যানচলাচল নিষেধাজ্ঞার সময়সূচি
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী যানচলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিম্নরূপ:
- সাধারণ যানবাহন (ট্যাক্সি, পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক): ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মধ্যরাত ১২:০০ টা হতে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মধ্যরাত ১২:০০ টা পর্যন্ত চলাচল নিষিদ্ধ ।
- মোটরসাইকেল: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মধ্যরাত ১২:০০ টা হতে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মধ্যরাত ১২:০০ টা পর্যন্ত (মোট ৭২ ঘণ্টা) চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ।
- ভোটগ্রহণের তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।
কোন কোন যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকছে?
নির্বাচন কমিশন ভোটের পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখতে নির্দিষ্ট কিছু যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী যে যানবাহনগুলো ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত চলতে পারবে না:
- ট্যাক্সি ক্যাব
- পিক আপ
- মাইক্রোবাস
- ট্রাক
এছাড়া মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা একটু বেশি সময় ধরে বলবৎ থাকবে। ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে ।
জরুরি প্রয়োজনে যারা আওতামুক্ত থাকবেন
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। নিচের শর্তসাপেক্ষে যানবাহন চলাচল করতে পারবে:
- জরুরি সেবা: অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ও টেলিযোগাযোগ কাজে ব্যবহৃত যানবাহন নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে ।
- বিদেশগামী যাত্রী: আপনি বা আপনার স্বজন যদি বিদেশগামী হন, তবে বিমানের টিকেট বা উপযুক্ত প্রমাণ দেখিয়ে বিমানবন্দরে যাতায়াত করতে পারবেন। এমনকি দূরপাল্লার যাত্রীরাও স্থানীয় যাতায়াতের জন্য যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন ।
- গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষক: সাংবাদিক, গণমাধ্যম কর্মী এবং অনুমোদিত নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের গাড়ি (নির্বাচন কমিশনের স্টিকারসহ) চলাচল করতে পারবে ।
- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী: পুলিশ, বিজিবি, র্যাবসহ সকল সশস্ত বাহিনী এবং প্রশাসনের অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকদের গাড়ি চলাচল করতে পারবে ।
- নির্বাচনী এজেন্ট: প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য ১টি এবং নির্বাচনী এজেন্টের জন্য ১টি গাড়ি (রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন ও স্টিকার সাপেক্ষে) চলাচলের অনুমতি পাবে ।
জাতীয় মহাসড়ক ও আন্তঃজেলা যাতায়াত
অনেকেই প্রশ্ন করেন, ভোটের দিন হাইওয়েতে গাড়ি চলবে কিনা। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী:
- জাতীয় মহাসড়ক (Highways), বন্দর এবং আন্তঃজেলা বা মহানগর থেকে বের হওয়ার বা প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল রাখার বিষয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কমিশনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন ।
অর্থাৎ, আপনি যদি এক জেলা থেকে অন্য জেলায় জাতীয় মহাসড়ক ব্যবহার করে যাতায়াত করেন, তবে সাধারণত বাধার সম্মুখীন হওয়ার কথা নয়, তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলাই শ্রেয়।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: নির্বাচনের দিন কি উবার বা পাঠাও চলবে?
উত্তর: না। ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাব ও মাইক্রোবাস নিষিদ্ধ থাকায় উবার বা রেন্ট-এ-কার সার্ভিস বন্ধ থাকার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া ১০ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ থাকায় রাইড শেয়ারিং বাইকও চলবে না ।
প্রশ্ন: আমি কি আমার ব্যক্তিগত প্রাইভেট কার নিয়ে বের হতে পারবো?
উত্তর: প্রজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট করে ‘প্রাইভেট কার’ নিষিদ্ধের তালিকায় উল্লেখ না থাকলেও, সাধারণত নির্বাচনের দিন ব্যক্তিগত যান চলাচল সীমিত করা হয়। তবে জরুরি প্রয়োজন (যেমন হাসপাতাল বা বিমানবন্দর) হলে উপযুক্ত প্রমাণ দেখিয়ে যাতায়াত করা যাবে ।
প্রশ্ন: নির্বাচনের দিন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হলে কী হবে?
উত্তর: ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। উপযুক্ত পাস বা সাংবাদিক/নির্বাচনী ডিউটি ছাড়া বাইক বের করলে ট্রাফিক আইন অনুযায়ী জরিমানা বা বাইক ডাম্পিং করা হতে পারে ।
প্রশ্ন: বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য কী নিয়ম?
উত্তর: বিমানবন্দর থেকে আসা যাত্রী বা তাদের স্বজনরা পাসপোর্ট, টিকেট বা অনুরূপ প্রমাণ প্রদর্শন করে নিজস্ব বা ভাড়াকৃত যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন ।
শেষ কথা ও পরামর্শ
আপনার যদি ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে জরুরি কোনো কাজ না থাকে, তবে বাসা থেকে বের না হওয়াই ভালো। আর যদি বের হতেই হয়, তবে অবশ্যই সাথে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং প্রয়োজনের সপক্ষে প্রমাণপত্র (যেমন ডাক্তার দেখানোর কাগজ বা বিমানের টিকেট) সাথে রাখবেন।
সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন করতে আমাদের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আইন মেনে চলুন, নিরাপদে থাকুন।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।
