হাম (Measles) একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ যা মরবিলিভাইরাস (Morbillivirus) দ্বারা হয়। এটি বায়ুবাহিত — আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ছড়ায়। লক্ষণগুলো হলো তীব্র জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, লাল চোখ এবং সারা শরীরে লাল ফুসকুড়ি। এর সবচেয়ে কার্যকর প্রতিকার হলো MR টিকা (হামের টিকা), যা বাংলাদেশে সরকারিভাবে বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
হাম কি? (What is Measles?)
হাম (ইংরেজিতে Measles বা Rubeola) একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। এটি মরবিলিভাইরাস (Morbillivirus) — যা প্যারামিক্সোভাইরাস পরিবারের অন্তর্গত — তার কারণে ঘটে। রোগটি প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করে, তবে যেকোনো বয়সের টিকাবিহীন মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারেন।
হাম এত ছোঁয়াচে যে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি টিকাবিহীন ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রামিত করতে পারেন (R₀ = ১২–১৮)। আক্রান্ত ব্যক্তি একটি ঘর ছেড়ে যাওয়ার পরেও সেই ঘরের বায়ুতে ভাইরাস দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী ৩,৯৫,৫২১টি ল্যাবরেটরি নিশ্চিত হামের কেস রিপোর্ট হয়েছে এবং প্রায় ৯৫,০০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন — যাদের বেশিরভাগই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
হাম কীভাবে ছড়ায়?
হাম ছড়ানোর প্রধান পথ হলো বায়ু। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা কথা বলার সময় বের হওয়া ক্ষুদ্র জলকণায় (Respiratory Droplets) ভাইরাস থাকে।
হাম কীভাবে ছড়ায় :
১. আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দেন
২. ভাইরাসযুক্ত ক্ষুদ্র জলকণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে
৩. কাছের সুস্থ ব্যক্তি শ্বাস নেওয়ার সময় ভাইরাস শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে
৪. ভাইরাস প্রথমে শ্বাসনালীতে, তারপর রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়ায়
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: আক্রান্ত ব্যক্তি ফুসকুড়ি বের হওয়ার ৪ দিন আগে থেকে এবং ফুসকুড়ি বের হওয়ার ৪ দিন পর পর্যন্ত রোগ ছড়াতে পারেন। অর্থাৎ, উপসর্গ বোঝার আগেই তিনি অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে দিতে পারেন।
হামের লক্ষণ কী কী?
হামের লক্ষণ সাধারণত ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ১০ থেকে ১৪ দিন পর (কখনো ৭–২৩ দিন) দেখা দেয়। রোগটি দুটি ধাপে আসে:
প্রাথমিক উপসর্গ (৪–৭ দিন)
- তীব্র জ্বর (১০৪°F বা তার বেশি হতে পারে)
- কাশি (শুকনো ও ক্রমাগত)
- নাক দিয়ে পানি পড়া (Runny Nose / Coryza)
- চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া (Conjunctivitis)
- কপলিকের দাগ (Koplik’s Spots): মুখের ভেতরে গালের ভেতরের দিকে ছোট সাদা দাগ — এটি হামের বিশেষ চিহ্ন
ফুসকুড়ি (Rash) পর্যায়
- এক্সপোজারের ৭–১৮ দিন পর, সাধারণত জ্বর শুরুর ৩–৫ দিন পর ফুসকুড়ি বের হয়
- ফুসকুড়ি মুখ ও ঘাড় থেকে শুরু হয়ে নিচের দিকে — বুক, পেট, হাত ও পায়ে ছড়িয়ে পড়ে
- ফুসকুড়ি ৫–৬ দিন স্থায়ী হয়
হামের জটিলতা কতটা মারাত্মক হতে পারে?
হামকে “সামান্য রোগ” মনে করা ভুল। সঠিক চিকিৎসা না হলে বা পুষ্টিহীন শিশুদের ক্ষেত্রে হাম ভয়াবহ জটিলতা তৈরি করতে পারে।
প্রধান জটিলতাগুলো:
- নিউমোনিয়া: হামের সবচেয়ে সাধারণ মারাত্মক জটিলতা
- মস্তিষ্কের প্রদাহ (Encephalitis): প্রতি ১,০০০ কেসে ১ জনের মধ্যে হয়; স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে
- অন্ধত্ব (Blindness): ভিটামিন A-এর অভাবে বেশি ঝুঁকি
- কানের সংক্রমণ ও বধিরতা
- ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা
- সাবঅ্যাকিউট স্ক্লেরোসিং প্যানএনসেফালাইটিস (SSPE): বিরল কিন্তু মারাত্মক মস্তিষ্ক রোগ — হামে আক্রান্ত হওয়ার বছরের পর বছর পরেও হতে পারে
- ইমিউন অ্যামনেশিয়া (Immune Amnesia): হাম শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয় এবং আগে শেখা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা “ভুলিয়ে দেয়” — যা অন্য সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়
- গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে: অকাল প্রসব ও কম ওজনের শিশু জন্মের ঝুঁকি
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ৫ বছরের কম বয়সী পুষ্টিহীন শিশুদের মধ্যে মৃত্যুহার ৫–১০% পর্যন্ত হতে পারে।
হামের চিকিৎসা কী?
হামের কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। বেশিরভাগ রোগী ২–৩ সপ্তাহের মধ্যে নিজে থেকেই সুস্থ হন। তবে চিকিৎসার লক্ষ্য হলো উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা এবং জটিলতা প্রতিরোধ করা।
হামে করণীয়:
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন
- প্রচুর পানি ও তরল খাওয়ান — ডায়রিয়া বা বমির কারণে পানিশূন্যতা ঠেকাতে
- ভিটামিন A সাপ্লিমেন্ট দিন: WHO-এর পরামর্শ অনুযায়ী সকল হামের রোগীকে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২টি ডোজ ভিটামিন A দিতে হবে — এটি মৃত্যুহার ৫০% পর্যন্ত কমাতে পারে
- জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল দেওয়া যায় (অ্যাসপিরিন শিশুদের দেবেন না)
- ব্যাকটেরিয়াজনিত জটিলতা (যেমন নিউমোনিয়া, কানের সংক্রমণ) হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক
- পুষ্টিকর খাবার চালিয়ে যান
কখন অবিলম্বে ডাক্তার দেখাবেন:
- শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া
- মাথায় ব্যথা ও খিঁচুনি
- দীর্ঘদিনের জ্বর (৩–৫ দিনের বেশি)
- চোখ থেকে পুঁজ বের হওয়া
- অজ্ঞান বা অচেতন হয়ে পড়া
হামের টিকা সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য
হামের টিকা কোনটি?
বাংলাদেশে সরকারিভাবে MR টিকা (Measles-Rubella Vaccine) দেওয়া হয়। এটি একসাথে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধ করে। প্রাইভেট হাসপাতালে MMR টিকা (Measles, Mumps, Rubella) পাওয়া যায়, যা হাম, মাম্পস ও রুবেলা তিনটিই প্রতিরোধ করে।
বাংলাদেশে হামের টিকার সময়সূচি
| ডোজ | বয়স | টিকার নাম | কোথায় পাবেন |
|---|---|---|---|
| ১ম ডোজ | ৯ মাস | MR টিকা | সরকারি EPI কেন্দ্র (বিনামূল্যে) |
| ২য় ডোজ | ১৫ মাস | MR টিকা | সরকারি EPI কেন্দ্র (বিনামূল্যে) |
দুটি ডোজ নেওয়া শিশু প্রায় ৯৭% সুরক্ষিত থাকে।
হামের টিকা কি নিরাপদ?
হ্যাঁ, MR/MMR টিকা অত্যন্ত নিরাপদ এবং কার্যকর। দশকের পর দশক ধরে বিশ্বের কোটি কোটি শিশু এই টিকা নিয়েছে।
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (হালকা ও সাময়িক):
- টিকার জায়গায় লালচে ভাব বা ব্যথা
- টিকা নেওয়ার ৫–১২ দিন পর হালকা জ্বর
- হালকা ফুসকুড়ি (কিছু শিশুর ক্ষেত্রে)
এগুলো স্বাভাবিক এবং ২–৩ দিনে নিজে থেকে ভালো হয়ে যায়।
টিকা না দিলে কী হয়?
টিকাবিহীন শিশু হামে আক্রান্ত হামের এক্সপোজারের পর প্রায় নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়।
বাংলাদেশে হামের পরিস্থিতি
বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে রুবেলা টিকা এবং ২০১৫ সালে MR টিকার ২য় ডোজ EPI কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করে। WHO ও UNICEF-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ হাম-রুবেলা নির্মূলের দিকে এগিয়ে চলেছে।
তবে হার্ড-টু-রিচ এলাকা (দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল, চরাঞ্চল, শহরের বস্তি এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প)-এ এখনও টিকা কভারেজ নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জের। এসব এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব এখনো দেখা দিতে পারে।
বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতি: ২০২৫ সালের প্রথম দুই মাসেই ১৬,১৪৭টি কেস রিপোর্ট হয়েছে। আমেরিকায় ২০২৫ সালে ১,৫০০-এরও বেশি কেস রিপোর্ট হয়েছে — যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
হাম ও রুবেলার মধ্যে পার্থক্য কী?
| বিষয় | হাম (Measles) | রুবেলা (Rubella) |
|---|---|---|
| ভাইরাস | মরবিলিভাইরাস | রুবেলা ভাইরাস |
| তীব্রতা | বেশি তীব্র | তুলনামূলক হালকা |
| ফুসকুড়ি | মুখ থেকে নিচে ছড়ায়, গাঢ় লাল | হালকা গোলাপি, দ্রুত ছড়ায় |
| গর্ভকালীন ঝুঁকি | বেশি | অত্যন্ত বেশি (শিশুর জন্মগত ত্রুটি) |
| টিকা | MR / MMR | MR / MMR |
কে বেশি ঝুঁকিতে আছেন?
- ৫ বছরের কম বয়সী শিশু, বিশেষত ১ বছরের কম বয়সী
- পুষ্টিহীন শিশু, বিশেষত ভিটামিন A-এর অভাবে আক্রান্ত
- টিকাবিহীন যেকোনো বয়সের মানুষ
- দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ব্যক্তি (HIV, ক্যান্সার থেরাপি ইত্যাদি)
- গর্ভবতী মায়েরা
- ৩০ বছরের বেশি বয়সী যারা আগে টিকা নেননি
হামের টিকা মিস হয়ে গেলে কী করবেন?
যদি আপনার সন্তানের টিকার সময়সূচি মিস হয়ে যায়, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব নিকটতম সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা EPI কেন্দ্রে যান। ক্যাচ-আপ টিকা প্রোগ্রামের আওতায় টিকা দেওয়া সম্ভব।
মনে রাখুন:
- ৬ মাস থেকে ৯ মাসের মধ্যে যদি হামের প্রাদুর্ভাব থাকে, তাহলে ৬ মাসেও সাপ্লিমেন্টাল ডোজ দেওয়া যায় (তারপরও ৯ ও ১৫ মাসের ডোজ দিতে হবে)
- প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য MMR টিকা প্রাইভেট হাসপাতালে পাওয়া যায়
হাম প্রতিরোধে কী কী করবেন?
১. সময়মতো টিকা দিন: ৯ মাসে ১ম ডোজ এবং ১৫ মাসে ২য় ডোজ MR টিকা
২. আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে যাবেন না — বিশেষত টিকাবিহীন অবস্থায়
৩. হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন নিয়মিত
৪. পুষ্টিকর খাবার খাওয়ান — ভিটামিন A-সমৃদ্ধ খাবার (গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ডিমের কুসুম, লিভার)
৫. হাম সন্দেহ হলে অবিলম্বে চিকিৎসক দেখান এবং বাড়িতে থাকুন
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
হাম রোগ কত দিন থাকে?
হামের প্রাথমিক উপসর্গ ৪–৭ দিন থাকে, তারপর ফুসকুড়ি বের হয় যা ৫–৬ দিন স্থায়ী হয়। মোটামুটি ২–৩ সপ্তাহে বেশিরভাগ রোগী সুস্থ হন। তবে দুর্বল শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা দীর্ঘ হতে পারে।
হামের টিকা কোথায় পাওয়া যায়?
বাংলাদেশে সরকারি EPI কেন্দ্র-এ MR টিকা বিনামূল্যে পাওয়া যায়। প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সিটি কর্পোরেশন ক্লিনিক ও সরকারি হাসপাতালে টিকা পাওয়া যায়। MMR টিকা বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাওয়া যায়।
হামের টিকা নেওয়ার পরেও কি হাম হতে পারে?
দুটি ডোজ নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হাম হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম (প্রায় ৩%)। যদি হয়ও, তাহলে রোগ অনেক হালকা হয়, জটিলতা ও সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কম থাকে।
হাম কি বড়দের হয়?
হ্যাঁ। যেকোনো বয়সের টিকাবিহীন মানুষ হামে আক্রান্ত হতে পারেন। বড়দের ক্ষেত্রে অনেক সময় রোগ বেশি তীব্র হয় এবং জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে।
হামের ফুসকুড়ি কেমন দেখতে?
হামের ফুসকুড়ি গাঢ় লাল বা গোলাপি রঙের ছোট ছোট দাগ, যা একসাথে মিলে বড় আকার ধারণ করে। এটি মুখ ও ঘাড় থেকে শুরু হয়ে বুক, পেট ও হাত-পায়ে ছড়ায়। ফুসকুড়ি চুলকায় না (সাধারণত) এবং ৫–৬ দিনে ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়।
হাম হলে কি শিশুকে স্কুলে পাঠানো যাবে?
না। হামের ফুসকুড়ি বের হওয়ার পর কমপক্ষে ৪–৫ দিন (বা সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত) শিশুকে বাড়িতে রাখুন এবং অন্যদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
হামে কি ভিটামিন A কেন দেওয়া হয়?
হামে আক্রান্ত হলে শরীরে ভিটামিন A-এর মাত্রা দ্রুত কমে যায়, এমনকি পুষ্টিকর শিশুর ক্ষেত্রেও। ভিটামিন A সাপ্লিমেন্ট চোখের ক্ষতি ও অন্ধত্ব প্রতিরোধ করে এবং মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। WHO সকল হামের রোগীকে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২টি ডোজ ভিটামিন A দেওয়ার সুপারিশ করে।
হার্ড ইমিউনিটি (Herd Immunity) কি হামের জন্য কাজ করে?
হ্যাঁ। হামের হার্ড ইমিউনিটি নিশ্চিত করতে একটি সমাজের ৯৩–৯৫% মানুষকে টিকাপ্রাপ্ত হতে হবে। এই হার বজায় থাকলে টিকাবিহীন ব্যক্তিরাও পরোক্ষভাবে সুরক্ষিত থাকেন। কিন্তু এই হার কমলে প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।
আমার শিশু ৯ মাসে টিকা নেয়নি। এখন কী করব?
দেরি না করে এখনই নিকটতম সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন এখনও কার্যকর।
গর্ভবতী অবস্থায় কি MR টিকা নেওয়া যাবে?
না। গর্ভাবস্থায় MR/MMR টিকা দেওয়া হয় না। তবে সন্তান জন্মের পরপরই (প্রসব-পরবর্তী) মা এই টিকা নিতে পারেন।
কোভিড-১৯ মহামারির কারণে টিকা মিস হলে কী করব?
কোভিড পরবর্তী সময়ে অনেক শিশুর নিয়মিত টিকা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এখনই নিকটতম EPI কেন্দ্রে যান এবং মিসড ডোজগুলো সম্পন্ন করুন।
টিকার পর শিশুর জ্বর হলে কী করব?
হালকা জ্বর স্বাভাবিক। প্যারাসিটামল সিরাপ দিন (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী) এবং পর্যাপ্ত পানি পান করান। জ্বর বেশি হলে চিকিৎসক দেখান।
বিশ্বাসযোগ্য সোর্স ও তথ্যসূত্র
- WHO Measles Fact Sheet, নভেম্বর ২০২৫: who.int/news-room/fact-sheets/detail/measles
- NEJM: Measles 2025 — New England Journal of Medicine (সর্বশেষ ক্লিনিকাল রিভিউ)
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বাংলাদেশ (DGHS), EPI Factsheet 2024
- WHO Bangladesh Immunization Program: who.int/bangladesh/health-topics/immunization
- WHO/UNICEF WUENIC — National Immunization Coverage Estimates, Bangladesh 2024
- CDC Traveler Health: Bangladesh, মার্চ ২০২৬
- Zero-Dose Learning Hub: Bangladesh Country Profile, GAVI
শেয়ার করুন: আপনার পরিচিত কারো শিশুর টিকা দেওয়া বাকি থাকলে এই তথ্য তাদের সাথে শেয়ার করুন।
