কোরবানির ফজিলত ও গুরুত্ব কী
কোরবানি হলো ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নির্দিষ্ট পশু জবাই করার মাধ্যমে পালিত হয়। এর মূল ফজিলত হলো — কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি পাওয়া যায়, পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়, এবং কোরবানির মাধ্যমে অতীতের গুনাহ মাফ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
কোরবানি শব্দটি আরবি ‘কুরবান’ থেকে এসেছে, যার অর্থ নৈকট্য লাভ বা উৎসর্গ করা। শরিয়তের পরিভাষায়, সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নির্দিষ্ট পশু জবাই করার নামই কোরবানি
কোরবানির ইতিহাস ও পটভূমি
কোরবানির ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। ইসলামের দৃষ্টিতে এর সূচনা হয়েছিল হযরত আদম (আ.)-এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের মাধ্যমে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন:
“আপনি তাদের কাছে আদমের দুই পুত্রের ঘটনা যথাযথভাবে বর্ণনা করুন। যখন তারা উভয়ে কোরবানি পেশ করেছিল, তখন একজনের কোরবানি কবুল হলো আর অন্যজনের হলো না।”
— সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ২৭
তবে ইসলামে কোরবানির যে ধারা আমরা এখন পালন করি, তার মূল ভিত্তি হলো হযরত ইবরাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)-এর অতুলনীয় ত্যাগের ঘটনা। আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইবরাহিম (আ.) তাঁর প্রিয় পুত্রকে কোরবানি করতে উদ্যত হলে, আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়ে জান্নাত থেকে একটি পশু পাঠিয়ে দেন এবং ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে সেই পশু কোরবানি কবুল করেন। এই মহান ত্যাগের স্মরণেই প্রতি বছর মুসলিম উম্মাহ কোরবানি দিয়ে থাকে।
কোরবানির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত
- হযরত আদম (আ.) এর যুগ: সর্বপ্রথম কোরবানির সূচনা
- হযরত ইবরাহিম (আ.) এর যুগ: কোরবানির মূল রীতি প্রতিষ্ঠা
- নবী মুহাম্মদ (সা.) এর যুগ: ইসলামি শরিয়তে কোরবানি পূর্ণাঙ্গরূপ লাভ করে
- বর্তমানে: সারা বিশ্বের মুসলমানরা প্রতি বছর ঈদুল আজহায় কোরবানি পালন করেন
কোরবানির ফজিলত — কুরআন ও হাদিসের আলোকে
১. কোরবানি আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় আমল
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন:
“কোরবানির দিনে আদম সন্তানের কোনো আমলই আল্লাহ তায়ালার কাছে রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে বেশি প্রিয় নয়।”
— তিরমিজি: ১৪৯৩, ইবনে মাজাহ: ৩১২৬
এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, কোরবানির দিন সব ইবাদতের মধ্যে কোরবানিই সর্বশ্রেষ্ঠ নেক আমল।
২. পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি নেকি
হযরত জায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) বলেন, সাহাবিরা রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসুল! কোরবানির ফজিলত কী?” তিনি বললেন:
“কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি দেওয়া হবে।”
— ইবনে মাজাহ: ৩১২৭, মুসনাদে আহমাদ: ১৯৩০২
সাহাবিরা আবার বললেন, “ভেড়ার তো অসংখ্য পশম!” রাসুল (সা.) বললেন, “ভেড়ার প্রতিটি পশমের বিনিময়েও একটি করে নেকি মিলবে।” — এতেই বোঝা যায় কোরবানির সওয়াব কত বিশাল।
৩. কোরবানির রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই কবুল
রাসুল (সা.) বলেছেন:
“কোরবানির পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়। সুতরাং তোমরা আনন্দচিত্তে কোরবানি করো।”
— তিরমিজি: ১৪৯৩, ইবনে মাজাহ: ৩১২৬
৪. কিয়ামতের দিন কোরবানির পশু সাক্ষী হবে
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, কিয়ামতের দিন কোরবানির পশু তার শিং, লোম এবং খুরসহ হাজির হবে এবং কোরবানিদাতার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। এটি একটি অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক ঘটনা।
৫. গুনাহ মাফের সুযোগ
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) হযরত ফাতিমা (রা.)-কে বলেছিলেন:
“তুমি তোমার কোরবানির জন্তুর পাশে উপস্থিত থাকো। কোরবানির পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তোমার অতীতের সব গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করবেন।”
৬. কোরবানি না করা কঠোর নিষেধ
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তির সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।”
— ইবনে মাজাহ: ৩১২৩, মুসনাদে আহমাদ
কোরবানির গুরুত্ব — ইসলামের দৃষ্টিতে
কুরআনে কোরবানির নির্দেশ
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন:
“নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। অতএব, আপনি আপনার রবের সন্তুষ্টির জন্য নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন।”
— সূরা আল-কাওসার: ১-২
এছাড়াও আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
“আল্লাহর কাছে কোরবানির পশুর গোশত বা রক্ত কিছুই পৌঁছায় না, তবে তাঁর কাছে পৌঁছায় শুধু তোমাদের তাকওয়া।”
— সূরা আল-হজ: ৩৭
এই আয়াতটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোরবানির মূল উদ্দেশ্য কেবল পশু জবাই নয় — এর মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্য।
কোরবানির সামাজিক গুরুত্ব
কোরবানি শুধু ধর্মীয় ইবাদত নয়, এর সামাজিক দিকও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:
- সমতা প্রতিষ্ঠা: কোরবানির গোশত গরিব-ধনী সবার মধ্যে ভাগ করা হয়
- সামাজিক বন্ধন: প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের মধ্যে গোশত বিতরণ সম্পর্ক মজবুত করে
- অর্থনৈতিক সহায়তা: গরিব মানুষরা বছরে এই একটি সময় পুষ্টিকর খাবার পান
- ত্যাগের শিক্ষা: নিজের প্রিয় সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করার মানসিকতা তৈরি হয়
কোরবানির নিয়ম ও বিধান — বিস্তারিত
কার উপর কোরবানি ওয়াজিব?
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, যে মুসলমান নিসাব পরিমাণ সম্পদের (সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমতুল্য) মালিক এবং মুকিম (স্থায়ীভাবে বসবাসকারী), তার উপর কোরবানি ওয়াজিব।
শর্তসমূহ:
- মুসলমান হতে হবে
- বালিগ ও সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হতে হবে
- নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হবে
- মুকিম হতে হবে (মুসাফির অবস্থায় ওয়াজিব নয়)
কোরবানির সময়সীমা
কোরবানির সময় শুরু হয় জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ঈদের নামাজের পর থেকে এবং শেষ হয় ১২ তারিখ সূর্যাস্তের আগে পর্যন্ত। মোট তিন দিন কোরবানি দেওয়া যায়।
কোন পশু দিয়ে কোরবানি হয়?
একা কোরবানি করা যায় এমন পশু:
- ছাগল (কমপক্ষে ১ বছর বয়স)
- ভেড়া (কমপক্ষে ১ বছর বয়স)
- দুম্বা (কমপক্ষে ১ বছর বয়স)
ভাগে কোরবানি করা যায় এমন পশু (সর্বোচ্চ ৭ জন):
- গরু (কমপক্ষে ২ বছর বয়স)
- মহিষ (কমপক্ষে ২ বছর বয়স)
- উট (কমপক্ষে ৫ বছর বয়স)
পশু নির্বাচনে যা খেয়াল রাখবেন
কোরবানির পশু হতে হবে সুস্থ, পূর্ণবয়স্ক এবং ত্রুটিমুক্ত। যেসব পশু দিয়ে কোরবানি হয় না:
- অন্ধ বা কানা পশু
- খোঁড়া পশু (যে হাঁটতে পারে না)
- অত্যন্ত রোগা বা দুর্বল পশু
- শিং ভাঙা (মূল থেকে)
- কান বা লেজ এক তৃতীয়াংশের বেশি কাটা পশু
কোরবানির গোশত বিতরণের নিয়ম
ইসলামে কোরবানির গোশত তিন ভাগে ভাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
- এক ভাগ: নিজের পরিবারের জন্য
- এক ভাগ: আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের জন্য
- এক ভাগ: গরিব ও অসহায়দের জন্য
২০২৬ সালে কোরবানির ঈদ কবে?
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশে ঈদুল আজহা (কোরবানির ঈদ) সম্ভাব্যভাবে ২৭ বা ২৮ মে, ২০২৬ তারিখে উদযাপিত হবে (১০ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি)। তবে চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার উপর।
মনে রাখবেন: ইসলামি চান্দ্র বছর প্রতি বছর ১০-১১ দিন এগিয়ে আসে, তাই ঈদের তারিখ প্রতি বছর পরিবর্তন হয়।
কোরবানির তাৎপর্য ও শিক্ষা
ত্যাগের মহিমা
কোরবানির মূল বার্তা হলো ত্যাগ। হযরত ইবরাহিম (আ.) তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু — পুত্রকে — আল্লাহর রাহে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। আমাদের কোরবানিও সেই ত্যাগের স্মারক। শুধু পশু জবাই নয়, মনের ভেতরের লোভ, অহংকার এবং আসক্তিকেও কোরবানি করার শিক্ষা দেয় এই ইবাদত।
আনুগত্যের প্রতীক
আল্লাহ যা নির্দেশ করেন, তা সন্দেহ ছাড়াই মেনে নেওয়ার নামই হলো ইসলাম। হযরত ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.) তাই করেছিলেন। কোরবানি আমাদের মনে করিয়ে দেয় — আল্লাহর আনুগত্যই সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাওয়া উচিত।
তাকওয়া অর্জনের পথ
আল্লাহ স্পষ্ট করেছেন যে তাঁর কাছে পশুর রক্ত বা গোশত পৌঁছায় না, পৌঁছায় শুধু তাকওয়া। তাই কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়াবান মুমিন হওয়া।
কোরবানির সাথে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ আমল
কোরবানির ঈদের দিনগুলোতে কিছু বিশেষ আমল রয়েছে যা করা সুন্নত:
ঈদের দিনের আমল: ১. ফজরের নামাজের পর গোসল করা ২. সুন্দর পোশাক পরা ৩. ঈদগাহে যাওয়ার আগে কিছু না খাওয়া (কোরবানির গোশত খাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উত্তম) ৪. তাকবির পড়তে পড়তে ঈদগাহে যাওয়া ৫. ঈদের নামাজ আদায় করা ৬. কোরবানি দেওয়া ৭. আত্মীয়-প্রতিবেশীদের সাথে সাক্ষাৎ করা ও গোশত ভাগ করা
জিলহজের প্রথম দশ দিনের আমল:
- বেশি বেশি তাকবির, তাহমিদ ও তাসবিহ পড়া
- নফল রোজা রাখা (বিশেষত ৯ জিলহজ)
- কোরআন তিলাওয়াত করা
- দান-সদকা করা
কোরবানি নিয়ে সাধারণ ভুল ধারণা
ভুল ধারণা ১: “কোরবানির গোশত নিজে না খেলে বেশি সওয়াব।”
সঠিক তথ্য: কোরবানির গোশত নিজে খাওয়া জায়েজ এবং সুন্নত। এটি পরিহার করা ওয়াজিব নয়।
ভুল ধারণা ২: “কোরবানির চামড়া বিক্রি করে টাকা নিজে রাখা যাবে।”
সঠিক তথ্য: কোরবানির চামড়ার টাকা গরিব-মিসকিনদের দিতে হবে, নিজে ব্যবহার করা যাবে না।
ভুল ধারণা ৩: “ভাগে কোরবানিতে সবার নিয়ত একই হতে হবে।”
সঠিক তথ্য: প্রতিটি শরিকের নিয়ত আলাদা হতে পারে, তবে সকলের নিয্যত হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য — শুধু গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্যে শরিক হলে সে অংশীদারের কোরবানি শুদ্ধ হবে না।
ভুল ধারণা ৪: “মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি দেওয়া যায় না।”
সঠিক তথ্য: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি দেওয়া জায়েজ এবং সওয়াবের কাজ।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
কোরবানির ফজিলত অনেক। প্রধান ফজিলতগুলো হলো: কোরবানির দিন এটি আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় আমল, পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি নেকি পাওয়া যায়, রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহর কাছে কবুল হয়, গুনাহ মাফ হওয়ার সুযোগ মেলে এবং কিয়ামতের দিন পশু নেকির কারণ হবে।
যে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক এবং মুকিম (ভ্রমণে না থাকলে), তার উপর কোরবানি ওয়াজিব। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী নিসাবের পরিমাণ হলো সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমতুল্য সম্পদ।
কোরবানির গোশত তিন ভাগ করা মুস্তাহাব — এক ভাগ নিজের পরিবারের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়-প্রতিবেশীর জন্য, এবং এক ভাগ গরিব-অসহায়দের জন্য।
ছাগল ও ভেড়া কমপক্ষে ১ বছর বয়সী হতে হবে। গরু ও মহিষ কমপক্ষে ২ বছর বয়সী হতে হবে। উট কমপক্ষে ৫ বছর বয়সী হতে হবে।
২০২৬ সালে বাংলাদেশে কোরবানির ঈদ (ঈদুল আজহা) সম্ভাব্যভাবে ২৭ বা ২৮ মে তারিখে হবে। চূড়ান্ত তারিখ চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করবে এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ জাতীয়ভাবে ঘোষণা দেবে।
সামর্থ্যবান ব্যক্তি কোরবানি না করলে কোনো কাফফারা নেই, তবে হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন যে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করলে সে যেন ঈদগাহে না আসে। অর্থাৎ এটি ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়ার মতো গুনাহ।
কোরবানির চামড়া গরিব-মিসকিনদের দিতে হবে অথবা মসজিদ বা মাদ্রাসায় দেওয়া যাবে। চামড়া বিক্রি করলে সেই টাকা সদকাহ হিসেবে বিতরণ করতে হবে, নিজে ব্যবহার করা যাবে না।
গরু, মহিষ ও উটে সর্বোচ্চ ৭ জন শরিক হতে পারবেন। ছাগল, ভেড়া ও দুম্বায় ভাগে কোরবানি জায়েজ নয় — এগুলো একা একজনের পক্ষ থেকে দিতে হবে।
কোরবানির সময় “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার” বলে জবাই করতে হবে। যদি নিজে কোরবানি দেন, তাহলে বলুন: “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা হাজা মিনকা ওয়া লাকা।” অর্থ: “আল্লাহর নামে শুরু করছি, আল্লাহু আকবার। হে আল্লাহ, এটি তোমার কাছ থেকেই পেয়েছি এবং তোমার জন্যই উৎসর্গ করছি।”
কোরবানির প্রস্তুতি
ধাপ ১: আর্থিক প্রস্তুতি
কোরবানির জন্য আলাদা সঞ্চয় করুন। বাজেট নির্ধারণ করুন এবং একা বা ভাগে কোরবানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিন।
ধাপ ২: পশু নির্বাচন
সুস্থ, পূর্ণবয়স্ক এবং ত্রুটিমুক্ত পশু বেছে নিন। কোনো পশু কেনার আগে তার বয়স ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করুন।
ধাপ ৩: নিয়ত পরিষ্কার রাখুন
কোরবানির আগে মনে মনে নিয়ত করুন যে এই কোরবানি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
ধাপ ৪: জবাইয়ের ব্যবস্থা করুন
ধারালো ছুরি প্রস্তুত রাখুন। পশুকে পানি পান করান। জবাইয়ের সময় বিসমিল্লাহ পড়ুন।
ধাপ ৫: গোশত বিতরণ
গোশত ভাগ করে আত্মীয়, প্রতিবেশী ও গরিবদের কাছে পৌঁছে দিন।
বাংলাদেশে কোরবানির বর্তমান প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে প্রতি বছর ঈদুল আজহায় লক্ষাধিক পশু কোরবানি হয়। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে দেশীয় পশুপালনখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় হাট-বাজারে পশু কেনাবেচা হয়। ঢাকার গাবতলী, রাজশাহীর শাহমখদুম, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে বড় পশুর হাট বসে। অনলাইনেও এখন পশু কেনার সুযোগ রয়েছে।
শেষকথা
কোরবানি নিছক একটি আনুষ্ঠানিকতা নয় — এটি একটি গভীর আধ্যাত্মিক ও সামাজিক ইবাদত। এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করি, ত্যাগের শিক্ষা নিই এবং সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করি।
রাসুল (সা.) বলেছেন, কোরবানির দিন আল্লাহর কাছে কোরবানির চেয়ে প্রিয় কোনো আমল নেই। তাই সামর্থ্য থাকলে প্রতিটি মুসলমানের উচিত এই মহৎ ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করা এবং এর গভীর তাৎপর্য হৃদয়ে ধারণ করা।
আল্লাহ আমাদের সকলের কোরবানি কবুল করুন এবং এর মাধ্যমে আমাদের তাকওয়া বৃদ্ধি করুন। আমিন।
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স
- পবিত্র কুরআনুল কারিম (সূরা আল-কাওসার: ১-২; সূরা আল-হজ: ৩৭; সূরা আল-মায়িদাহ: ২৭)
- সহিহ তিরমিজি: হাদিস ১৪৯৩, ১৮০
- সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস ৩১২৩, ৩১২৬, ৩১২৭
- মুসনাদে আহমাদ: হাদিস ১৯৩০২
- সহিহ মুসলিম: হাদিস ২৬৩৯
- ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (islamicfoundation.gov.bd)
- বাদায়েউস সানায়ে (হানাফি ফিকহ গ্রন্থ): ৪/২০৭
এই আর্টিকেলটি সহিহ হাদিস ও নির্ভরযোগ্য ইসলামিক সূত্রের উপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। যেকোনো ব্যক্তিগত মাসআলায় স্থানীয় আলেম বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাথে পরামর্শ করুন।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”


