কিডনির কার্যক্ষমতা (eGFR) ১৫-এর নিচে নামলে, অর্থাৎ কিডনি ৮৫-৯০% নষ্ট হয়ে গেলে, একে কিডনি ফেইলিউরের পঞ্চম স্টেজ (Stage 5 CKD) বলা হয় এবং তখন ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। তবে বাস্তবে ডাক্তাররা শুধু একটা সংখ্যা দেখে ডায়ালাইসিস শুরু করেন না—অনেক রোগীর eGFR ৬ থেকে ১০-এর মধ্যে নামার পরও যদি কোনো লক্ষণ না থাকে, তাহলে ডায়ালাইসিস কিছুদিন পেছানো যায়। অন্যদিকে রক্তে পটাশিয়াম খুব বেড়ে গেলে, শরীরে পানি জমে শ্বাসকষ্ট হলে, বা প্রচণ্ড বমি-অজ্ঞান ভাব হলে eGFR বেশি থাকলেও জরুরি ভিত্তিতে ডায়ালাইসিস করতে হতে পারে।
এই আর্টিকেলে কিডনির পয়েন্ট মাপার পদ্ধতি, কোন পরিস্থিতিতে ডায়ালাইসিস অবশ্যই করতে হয়, কখন দেরি করা নিরাপদ, বাংলাদেশে এর খরচ কত, এবং কীভাবে কিডনি বিকল হওয়া ঠেকানো যায়—সবকিছু সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
কিডনির “পয়েন্ট” বলতে আসলে কী বোঝায়?
বাংলাদেশে মানুষ সাধারণত দুটো জিনিসকে “কিডনির পয়েন্ট” বলে থাকেন:
- সিরাম ক্রিয়েটিনিন (Serum Creatinine): রক্ত পরীক্ষায় এই সংখ্যা যত বাড়ে, কিডনির কার্যক্ষমতা তত কমে। স্বাভাবিক মাত্রা পুরুষদের জন্য প্রায় ০.৭–১.৩ mg/dL এবং নারীদের জন্য ০.৬–১.১ mg/dL।
- eGFR (estimated Glomerular Filtration Rate): এটাই আসলে কিডনির কার্যক্ষমতার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরিমাপ। বয়স, লিঙ্গ ও ক্রিয়েটিনিনের ভিত্তিতে এটি হিসাব করা হয় এবং এটিকেই ডাক্তাররা চিকিৎসার সিদ্ধান্তে বেশি গুরুত্ব দেন।
মূল কথা হলো, ক্রিয়েটিনিন একা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক না—বয়স, ওজন, পেশির পরিমাণ অনুযায়ী এর মান পরিবর্তিত হয়। তাই ডাক্তাররা eGFR-কেই মূল মানদণ্ড ধরেন।
eGFR অনুযায়ী কিডনি রোগের ৫টি স্টেজ
| স্টেজ | eGFR (mL/min/1.73m²) | অবস্থা |
|---|---|---|
| স্টেজ ১ | ৯০ বা তার বেশি | কিডনির ক্ষতি আছে কিন্তু কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক |
| স্টেজ ২ | ৬০–৮৯ | কার্যক্ষমতা সামান্য কমেছে |
| স্টেজ ৩ | ৩০–৫৯ | মাঝারি মাত্রার ক্ষতি |
| স্টেজ ৪ | ১৫–২৯ | গুরুতর ক্ষতি, ডায়ালাইসিসের প্রস্তুতি শুরুর সময় |
| স্টেজ ৫ | ১৫-এর নিচে | কিডনি ফেইলিউর, ডায়ালাইসিস বা প্রতিস্থাপন জরুরি |
কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়?
জাতীয় কিডনি ফাউন্ডেশনের (National Kidney Foundation) তথ্য অনুসারে, eGFR ১৫-এর নিচে নামলেই একজন রোগী স্টেজ ৫ CKD-তে পৌঁছান, যাকে কিডনি ফেইলিউর বলা হয়। এই পর্যায়ে কিডনি তার স্বাভাবিক কাজের ১৫ শতাংশের কম করতে পারে, এবং বেঁচে থাকার জন্য ডায়ালাইসিস বা ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন হয়।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—eGFR ১৫-এর নিচে নামার সাথে সাথেই সবাইকে ডায়ালাইসিসে বসতে হয় না। আন্তর্জাতিক কিডনি বিশেষজ্ঞ সংগঠন KDIGO-র গাইডলাইন স্পষ্ট করে বলে, কোনো একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা দেখে ডায়ালাইসিস শুরু করা ঠিক না; বরং রোগীর লক্ষণ ও জটিলতার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। বাস্তবে দেখা যায়, বেশিরভাগ রোগী eGFR ৬ থেকে ১০-এর মধ্যে নামলেই উপসর্গ অনুভব করতে শুরু করেন এবং তখনই ডায়ালাইসিস শুরু করা হয়। কিছু রোগী লক্ষণহীন থাকলে eGFR ৫ পর্যন্ত নামা পর্যন্তও অপেক্ষা করতে পারেন, কারণ তাড়াতাড়ি ডায়ালাইসিস শুরু করলে বাড়তি কোনো উপকার পাওয়া যায় না বলে গবেষণায় দেখা গেছে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে:
- eGFR ৩০-এর নিচে নামলে নেফ্রোলজিস্টের কাছে নিয়মিত ফলোআপ ও ডায়ালাইসিসের প্রস্তুতি (যেমন ফিস্টুলা তৈরি) শুরু করা উচিত।
- eGFR ১৫-এর নিচে নামলে কিডনি ফেইলিউর ধরা হয় এবং ডায়ালাইসিস বা ট্রান্সপ্লান্টের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
- eGFR ৫–১০-এর মধ্যে বা লক্ষণ দেখা দিলে সাধারণত ডায়ালাইসিস বাস্তবিকভাবে শুরু হয়।
কোন লক্ষণে বোঝা যায় ডায়ালাইসিস জরুরি প্রয়োজন?
কিডনি বিকল হলে শুধু রক্ত পরীক্ষার সংখ্যা না দেখে শরীরের লক্ষণও দেখতে হয়। নিচের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি, কারণ eGFR যত হোক না কেন, এসব ক্ষেত্রে ডায়ালাইসিস জরুরি ভিত্তিতে শুরু করতে হতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই জরুরি কারণগুলো AEIOU নামে সংক্ষেপে মনে রাখা হয়:
- Acidosis (রক্তের অতিরিক্ত অম্লতা): রক্তের pH অনেক কমে গেলে এবং ওষুধে না সারলে।
- Electrolyte imbalance (পটাশিয়াম খুব বেড়ে যাওয়া): রক্তে পটাশিয়াম বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে হৃদস্পন্দনে সমস্যা তৈরি করলে।
- Ingestion/Intoxication (বিষক্রিয়া): এমন কিছু বিষ বা ওষুধ শরীরে গেলে যা ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে বের করা সম্ভব।
- Overload (শরীরে পানি জমা): ফুসফুসে পানি জমে শ্বাসকষ্ট হলে এবং ডায়ুরেটিক ওষুধে না কমলে।
- Uremia (ইউরিয়া বিষক্রিয়া): প্রচণ্ড বমি ভাব, মাথা গুলিয়ে যাওয়া, খিঁচুনি, বা হৃদযন্ত্রের চারপাশে প্রদাহ (পেরিকার্ডাইটিস) হলে।
এর বাইরে দৈনন্দিন জীবনে যে লক্ষণগুলো কিডনি ফেইলিউরের দিকে এগোনোর সংকেত দেয়:
- প্রস্রাবের পরিমাণ অনেক কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া
- পা, হাত বা মুখ ফুলে যাওয়া
- শ্বাসকষ্ট হওয়া, বিশেষ করে শুয়ে থাকলে
- ক্রমাগত দুর্বলতা ও ক্লান্তি
- খাবারে অরুচি, বমি ভাব
- শরীরে চুলকানি
- ঘুমের সমস্যা
- মনোযোগ বা চিন্তাশক্তিতে সমস্যা
এই লক্ষণগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেই বুঝতে পারেন না, কারণ কিডনি রোগের শুরুর দিকে প্রায় কোনো লক্ষণই থাকে না।
ডায়ালাইসিস শুরুর আগে ডাক্তার কী কী বিবেচনা করেন?
শুধু একটা রিপোর্টের সংখ্যা দেখে সিদ্ধান্ত হয় না। নেফ্রোলজিস্ট সাধারণত এই বিষয়গুলো একসাথে মিলিয়ে দেখেন:
- eGFR ও ক্রিয়েটিনিনের ধারাবাহিক পরিবর্তন (একবারের রিপোর্ট নয়, কয়েক মাসের ট্রেন্ড)
- প্রস্রাবে প্রোটিনের পরিমাণ (ACR/UACR টেস্ট)
- রক্তে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, বাইকার্বোনেটের মাত্রা
- হিমোগ্লোবিনের অবস্থা (রক্তশূন্যতা আছে কিনা)
- হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের অবস্থা
- রোগীর সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতা ও বয়স
- ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো সহ-রোগ আছে কিনা
এই কারণেই দুজন রোগীর eGFR একই হলেও একজনকে ডায়ালাইসিস শুরু করতে হতে পারে, আর অন্যজন আরও কয়েক মাস ওষুধ ও খাদ্যনিয়ন্ত্রণে কাটিয়ে দিতে পারেন।
ডায়ালাইসিস কি দেরিতে শুরু করলে সমস্যা হয়?
এটা একটা সাধারণ ভুল ধারণা যে যত আগে ডায়ালাইসিস শুরু করা হবে তত ভালো। বাস্তবে গবেষণায় দেখা গেছে, উপসর্গহীন অবস্থায় তাড়াতাড়ি ডায়ালাইসিস শুরু করলে রোগীর আয়ুষ্কাল বা জীবনযাত্রার মানে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যায় না। বরং অনেক বিশেষজ্ঞ “ইনটেন্ট টু ডিফার” (intent-to-defer) পদ্ধতি অনুসরণ করেন—অর্থাৎ লক্ষণ দেখা না দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই বেশি যুক্তিযুক্ত মনে করেন। তবে এই সিদ্ধান্ত একান্তই রোগীর ব্যক্তিগত অবস্থা বিশ্লেষণ করে নেফ্রোলজিস্টকেই নিতে হয়—নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়া বা ডায়ালাইসিস এড়িয়ে চলা উচিত নয়।
ডায়ালাইসিসের ধরন: হিমোডায়ালাইসিস বনাম পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস
ডায়ালাইসিস মূলত দুই ধরনের হয়:
- হিমোডায়ালাইসিস: রক্ত শরীরের বাইরে একটি মেশিনের মাধ্যমে পরিশোধিত করে আবার শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সাধারণত সপ্তাহে ৩ দিন, প্রতিবার ৩-৪ ঘণ্টা সময় লাগে এবং হাসপাতাল বা ডায়ালাইসিস সেন্টারে গিয়ে করাতে হয়।
- পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস: পেটের ভেতরের ঝিল্লি (পেরিটোনিয়াম) ব্যবহার করে শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করা হয়। এটি রোগী নিজেই বাড়িতে করতে পারেন, তবে বাংলাদেশে এই সুবিধা এখনও সীমিত কেন্দ্রে পাওয়া যায়।
কোন পদ্ধতি উপযোগী হবে তা রোগীর জীবনযাত্রা, শারীরিক অবস্থা ও সুযোগ-সুবিধার ভিত্তিতে ডাক্তারই ঠিক করে দেন।
বাংলাদেশে ডায়ালাইসিসের খরচ কেমন?
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) তথ্য অনুসারে একজন কিডনি রোগীর মাসে ডায়ালাইসিসের জন্য গড়ে প্রায় ৪৬ হাজার ৪২৬ টাকা খরচ হয়, যা রোগীভেদে সর্বনিম্ন প্রায় ৬ হাজার ৭০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। সরকারি হাসপাতাল ও কিডনি ফাউন্ডেশনের মতো প্রতিষ্ঠানে প্রতি সেশনের খরচ তুলনামূলক কম, আর বেসরকারি হাসপাতালে (ল্যাবএইড, স্কয়ার, আনোয়ার খান মডার্ন প্রভৃতি) তা বেশ বেশি হতে পারে।
দেশে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান যাকাত ফান্ডের মাধ্যমে আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের ভর্তুকিযুক্ত মূল্যে ডায়ালাইসিসের সুযোগ দেয়। সরকারি হাসপাতালেও (যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট) ভর্তুকিযুক্ত ব্যবস্থা আছে, যদিও আসন সীমিত হওয়ায় অনেক সময় অপেক্ষার তালিকা দীর্ঘ হয়।
সাশ্রয়ী চিকিৎসার জন্য পরামর্শ:
- প্রথমেই সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউটে যোগাযোগ করুন
- কিডনি ফাউন্ডেশনের যাকাত/সহায়তা ফান্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ আছে কিনা জেনে নিন
- সরকারি স্বাস্থ্য বীমা বা সমাজসেবা অধিদপ্তরের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির খোঁজ নিন
- প্রথম দিকে ধরা পড়লে কিডনি বিকল হওয়ার গতি কমিয়ে ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন পেছানো সম্ভব, যা দীর্ঘমেয়াদে খরচ বাঁচায়
ডায়ালাইসিস ছাড়া কি কিডনি বিকল হওয়া ঠেকানো যায়?
কিডনি রোগ একবার গুরুতর পর্যায়ে চলে গেলে তা সম্পূর্ণ সারানো যায় না, কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে এর অগ্রগতি অনেকটাই ধীর করা সম্ভব। এতে ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন কয়েক বছর পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এর জন্য করণীয়:
- ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা (এই দুটিই বাংলাদেশে কিডনি বিকলের সবচেয়ে বড় কারণ)
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ (যেমন নিয়মিত NSAID) দীর্ঘদিন না খাওয়া
- লবণ ও প্রোটিন গ্রহণে নিয়ন্ত্রণ আনা, পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া
- পর্যাপ্ত পানি পান করা, তবে কিডনি রোগ ধরা পড়লে তরল গ্রহণের নির্দিষ্ট পরিমাণ ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নেওয়া
- নিয়মিত ক্রিয়েটিনিন ও eGFR পরীক্ষা করানো, বিশেষ করে পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস থাকলে
- ধূমপান বন্ধ করা
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ক্রিয়েটিনিন কত হলে ডায়ালাইসিস লাগে?
ক্রিয়েটিনিনের কোনো একক “জাদু সংখ্যা” নেই যা সরাসরি ডায়ালাইসিস নির্ধারণ করে, কারণ এটি বয়স, ওজন ও পেশির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। ডাক্তাররা মূলত eGFR এবং লক্ষণ দেখে সিদ্ধান্ত নেন। সাধারণভাবে ক্রিয়েটিনিন অনেক বেশি বেড়ে গিয়ে (প্রায়ই ৮-১০ mg/dL-এর ওপরে) eGFR ১৫-এর নিচে নামলে এবং লক্ষণ দেখা দিলে ডায়ালাইসিস বিবেচনা করা হয়।
eGFR ১৫ হলেই কি সাথে সাথে ডায়ালাইসিস শুরু করতে হবে?
না। eGFR ১৫-এর নিচে নামলে রোগীকে কিডনি ফেইলিউর (স্টেজ ৫) ধরা হয় এবং ডায়ালাইসিসের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়, কিন্তু লক্ষণহীন থাকলে অনেক ডাক্তার কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রাখেন।
ডায়ালাইসিস শুরু হলে কি সারাজীবন করতে হয়?
দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে (CKD) সাধারণত হ্যাঁ, যদি না কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়। তবে আকস্মিক কিডনি বিকলের (Acute Kidney Injury) ক্ষেত্রে কিডনি সুস্থ হয়ে গেলে ডায়ালাইসিস বন্ধ করা যায়।
ডায়ালাইসিস না করলে কী হয়?
স্টেজ ৫ কিডনি ফেইলিউরে ডায়ালাইসিস বা ট্রান্সপ্লান্ট না করলে শরীরে বর্জ্য পদার্থ ও পানি জমে জীবন-সংকটাপন্ন অবস্থা তৈরি হতে পারে। কিছু রোগী সচেতনভাবে “কনজারভেটিভ কেয়ার” (ডায়ালাইসিস ছাড়া উপসর্গ ব্যবস্থাপনা) বেছে নেন, তবে এই সিদ্ধান্ত নেফ্রোলজিস্টের সাথে আলোচনা করেই নেওয়া উচিত।
বাংলাদেশে কোথায় কম খরচে ডায়ালাইসিস করা যায়?
সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট এবং কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে এবং কিছু ক্ষেত্রে যাকাত ফান্ডের মাধ্যমে ভর্তুকিতে ডায়ালাইসিসের সুযোগ আছে।
শেষকথা
কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হবে—এই প্রশ্নের উত্তর কোনো একটি স্থির সংখ্যায় আবদ্ধ নয়। eGFR ১৫-এর নিচে নামাকে কিডনি ফেইলিউরের সীমা ধরা হলেও, আসল সিদ্ধান্ত নির্ভর করে রোগীর লক্ষণ, রক্তের জটিলতা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর। তাই রিপোর্টের সংখ্যা দেখে নিজে নিজে আতঙ্কিত বা সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিয়মিত নেফ্রোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগ ধরা পড়লে জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও সঠিক চিকিৎসায় ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন বহু বছর পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব।
এই তথ্যগুলো সাধারণ জ্ঞানের জন্য প্রদান করা হয়েছে এবং এটি কোনো চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। আপনার বা আপনার প্রিয়জনের কিডনি সমস্যা থাকলে দ্রুত একজন নেফ্রোলজিস্টের সাথে পরামর্শ করুন।
সূত্র: National Kidney Foundation, KDIGO Clinical Practice Guidelines, Kidney International, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস), কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
সর্বশেষ আপডেট: জুন, ২০২৬


