হ্যাঁ, Heeseung আনুষ্ঠানিকভাবে ENHYPEN ছেড়ে দিয়েছেন। ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে ENHYPEN-এর এজেন্সি BELIFT LAB আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায় যে Heeseung গ্রুপ থেকে আলাদা হয়ে একক (solo) শিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করবেন। তিনি BELIFT LAB-এর অধীনেই থাকবেন এবং সোলো অ্যালবাম তৈরিতে কাজ করছেন। এখন থেকে ENHYPEN ৬ সদস্যের গ্রুপ হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
ENHYPEN কে?
ENHYPEN (엔하이픈) একটি দক্ষিণ কোরিয়ান K-Pop বয় গ্রুপ, যা BELIFT LAB-এর অধীনে পরিচালিত হয়। BELIFT LAB হলো HYBE Corporation-এর একটি সাব-লেবেল।
২০২০ সালের সারভাইভাল শো I-LAND-এর মাধ্যমে গঠিত এই গ্রুপটি একই বছরের ৩০ নভেম্বর তাদের প্রথম মিনি অ্যালবাম BORDER: DAY ONE দিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিষেক করে। গ্রুপের নামের অর্থ হলো — যেমন একটি হাইফেন দুটি ভিন্ন শব্দকে সংযুক্ত করে নতুন অর্থ তৈরি করে, তেমনি সদস্যরাও একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়ে একটি নতুন পরিচয় তৈরি করবে।
গ্রুপের ভক্তদের আনুষ্ঠানিকভাবে ENGENE (엔진) বলা হয়, যার দুটি অর্থ রয়েছে — “engine” (ইঞ্জিন, যা গ্রুপকে এগিয়ে নিয়ে যায়) এবং “gene” (জিন, অর্থাৎ ভক্ত ও গ্রুপ একই DNA ধারণ করে)।
ENHYPEN-এর সদস্য তালিকা
Heeseung-এর প্রস্থানের পর ENHYPEN বর্তমানে ৬ সদস্যের গ্রুপ। বর্তমান সদস্যরা হলেন:
- Jungwon (정원) — লিডার (জন্ম: ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪)
- Jay — (জন্ম: ২০ এপ্রিল, ২০০২)
- Jake — (জন্ম: ১৫ নভেম্বর, ২০০২)
- Sunghoon — (জন্ম: ৮ ডিসেম্বর, ২০০২)
- Sunoo — (জন্ম: ২৪ জুন, ২০০৩)
- Ni-ki — (জন্ম: ৯ ডিসেম্বর, ২০০৫)
এর আগে Heeseung (জন্ম: ১৫ অক্টোবর, ২০০১) গ্রুপের সবচেয়ে বয়স্ক সদস্য ছিলেন। তিনি I-LAND-এ ৫ম স্থানে থেকে গ্রুপে প্রবেশ করেছিলেন।
Heeseung কি ENHYPEN ছেড়ে দিলেন?
কখন এই খবর প্রকাশিত হয়েছে?
১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে BELIFT LAB তাদের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেল ও Weverse প্ল্যাটফর্মে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রকাশ করে। এই নোটিশের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে Heeseung ENHYPEN থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন।
BELIFT LAB কী বলেছে?
এজেন্সি তাদের বিবৃতিতে জানায় যে, তারা দীর্ঘ আলোচনার পর প্রতিটি সদস্যের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও গ্রুপের দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেছেন। এই আলোচনায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে Heeseung-এর নিজস্ব একটি আলাদা সঙ্গীত দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, এবং এজেন্সি সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজেন্সি আরও জানায় যে এই সিদ্ধান্তটি ENHYPEN এবং Heeseung উভয়ের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই নেওয়া হয়েছে।
Heeseung কি সম্পূর্ণভাবে BELIFT LAB ছেড়ে দিচ্ছেন?
না। Heeseung শুধুমাত্র গ্রুপ ENHYPEN ছেড়ে যাচ্ছেন। তিনি এখনও BELIFT LAB-এর অধীনেই থাকবেন এবং একজন সোলো শিল্পী হিসেবে তার প্রথম অ্যালবাম তৈরিতে কাজ করছেন।
এটাই কি ENHYPEN-এর শেষ সাত সদস্যের অ্যালবাম?
হ্যাঁ। ২০২৬ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রকাশিত তাদের ৭ম মিনি অ্যালবাম THE SIN: VANISH হলো সাত সদস্য হিসেবে তাদের শেষ রিলিজ।
Heeseung-এর বিদায়ী চিঠি
BELIFT LAB-এর ঘোষণার পরপরই Heeseung Weverse প্ল্যাটফর্মে একটি হাতে লেখা চিঠির মাধ্যমে ENGENE-দের উদ্দেশ্যে সরাসরি কথা বলেন।
তার চিঠির মূল বক্তব্য ছিল:
- গত ৬ বছরের স্মৃতি তার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান এবং এই সময়গুলো তার জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুহূর্ত হিসেবে সবসময় মনে থাকবে।
- সদস্যদের সাথে অসংখ্য আবেগ ভাগ করে নেওয়ার কারণে এবং ENGENE-দের অকুণ্ঠ সমর্থনের কারণেই তিনি তার স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যেতে পেরেছেন।
- তিনি নিজের কাজকর্ম এজেন্সির সাথে ভাগ করে নেওয়ার পর, দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে এজেন্সির পরামর্শ মেনে একক ক্যারিয়ারে মনোযোগ দেওয়াটাই ENGENE-দের কাছে আরও ভালো রূপে উপস্থিত হওয়ার সেরা উপায়।
- তিনি আরও জানান যে তিনি দ্রুত নিজের অ্যালবাম তৈরি করে ভক্তদের সামনে আসার চেষ্টা করছেন।
- ENHYPEN-এর জন্য তিনি সবসময় এক জন একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পাশে থাকতে চান।
Heeseung এর ENHYPEN-এ অবদান
ব্যক্তিগত পরিচয়
- পুরো নাম: Lee Hee-seung (이희승)
- জন্মতারিখ: ১৫ অক্টোবর, ২০০১
- বয়স: ২৪ বছর (২০২৬)
- জাতীয়তা: দক্ষিণ কোরিয়ান
- গ্রুপে অবস্থান: সবচেয়ে বড় সদস্য (Eldest member)
ENHYPEN-এ তার যাত্রা
Heeseung I-LAND-এ অংশ নেওয়ার আগে Big Hit Music (বর্তমানে HYBE) এর একজন ট্রেইনি হিসেবে ৩ বছরেরও বেশি সময় কাজ করেছেন। I-LAND-এ তিনি ৫ম স্থানে থেকে ENHYPEN-এ নির্বাচিত হন। ২০২০ সালে গ্রুপের সাথে যাত্রা শুরুর পর থেকে গত ৬ বছরে তিনি গ্রুপের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ENHYPEN-এর ভবিষ্যৎ
না, ENHYPEN ভেঙে যায়নি। গ্রুপটি এখন ৬ সদস্য নিয়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। BELIFT LAB নিশ্চিত করেছে যে ENHYPEN তাদের আসন্ন সকল অনুষ্ঠান ও পরিকল্পনা ৬ সদস্য নিয়েই পালন করবে।
বর্তমান ৬ সদস্য — Jungwon, Jay, Jake, Sunghoon, Sunoo ও Ni-ki — গ্রুপের নতুন অধ্যায় শুরু করতে প্রস্তুত।
ভক্তদের প্রতিক্রিয়া
Heeseung-এর প্রস্থানের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সারা বিশ্বের K-Pop ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন। প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র — একদিকে ENGENE-রা যেমন শোক ও বিস্মিত ছিলেন, তেমনি অন্য ফ্যান্ডমের অনেকেও তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।
অনেক ভক্ত প্রশ্ন তুলেছেন যে Heeseung কেন TXT-এর Yeonjun-এর মতো গ্রুপে থেকেও সোলো ক্যারিয়ার করতে পারলেন না। এই প্রশ্নটি K-Pop শিল্পের একটি বড় বিষয় তুলে ধরে — গ্রুপের সাথে থেকে একক শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করা কতটা জটিল।
K-Pop-এ সদস্য প্রস্থান কতটা সাধারণ ঘটনা?
Heeseung-এর প্রস্থান K-Pop ইতিহাসে একটি নতুন ঘটনা নয়। অনেক বড় গ্রুপেও এই ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তবে ENHYPEN-এর ক্ষেত্রে এটি প্রথমবারের মতো লাইনআপ পরিবর্তন।
K-Pop শিল্পে সাধারণত তিনটি কারণে সদস্য পরিবর্তন হয়:
- ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সমস্যা — শারীরিক বা মানসিক কারণে বিরতি বা প্রস্থান
- চুক্তি নবায়ন না করা — মেয়াদ শেষে গ্রুপ ছেড়ে একক ক্যারিয়ারের দিকে যাওয়া
- ভিন্ন শিল্পী দৃষ্টিভঙ্গি — Heeseung-এর ক্ষেত্রে এটি মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে
এই ধরনের পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে K-Pop শিল্পীরাও তাদের নিজস্ব সঙ্গীতজীবনের দিকে মনোযোগ দিতে চান, যা মোটেও অস্বাভাবিক নয়।
ENHYPEN-এর উল্লেখযোগ্য ডিসকোগ্রাফি
- BORDER: DAY ONE (নভেম্বর ২০২০) — ডেবিউ মিনি অ্যালবাম, সিঙ্গেল: Given-Taken
- BORDER: CARNIVAL (এপ্রিল ২০২১)
- DIMENSION: DILEMMA (অক্টোবর ২০২১)
- MANIFESTO: DAY 1 (জুলাই ২০২২)
- DARK BLOOD (মে ২০২৩)
- ORANGE BLOOD (নভেম্বর ২০২৩)
- ROMANCE: UNTOLD (জুলাই ২০২৪)
- THE SIN: VANISH (জানুয়ারি ২০২৬) — সাত সদস্য হিসেবে শেষ রিলিজ
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর
১. Heeseung কি সত্যিই ENHYPEN ছেড়ে দিয়েছেন?
হ্যাঁ। ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে BELIFT LAB আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে Heeseung ENHYPEN ছেড়ে একক শিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করবেন।
২. Heeseung কেন ENHYPEN ছেড়ে দিলেন?
BELIFT LAB জানিয়েছে, Heeseung-এর নিজস্ব একটি আলাদা সঙ্গীত দৃষ্টিভঙ্গি (musical vision) রয়েছে এবং এজেন্সি তার সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
৩. Heeseung কি BELIFT LAB-ও ছেড়ে দিচ্ছেন?
না। Heeseung শুধু গ্রুপ ENHYPEN থেকে বের হচ্ছেন, কিন্তু BELIFT LAB-এর অধীনেই সোলো শিল্পী হিসেবে থাকবেন।
৪. এখন ENHYPEN-এ কতজন সদস্য আছেন?
Heeseung-এর প্রস্থানের পর ENHYPEN এখন ৬ সদস্যের গ্রুপ — Jungwon, Jay, Jake, Sunghoon, Sunoo এবং Ni-ki।
৫. ENHYPEN কি ভেঙে গেছে (disband)?
না। ENHYPEN ভেঙে যায়নি। গ্রুপটি ৬ সদস্য নিয়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
৬. Heeseung-এর সোলো অ্যালবাম কবে আসবে?
BELIFT LAB নিশ্চিত করেছে যে Heeseung তার সোলো অ্যালবাম তৈরিতে কাজ করছেন। তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
৭. Heeseung কতদিন ENHYPEN-এ ছিলেন?
Heeseung ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৬ বছর ENHYPEN-এর সদস্য ছিলেন।
৮. ENHYPEN-এর শেষ সাত সদস্যের অ্যালবাম কোনটি?
THE SIN: VANISH (প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬) হলো সাত সদস্য হিসেবে ENHYPEN-এর শেষ মিনি অ্যালবাম।
৯. Heeseung-এর পুরো নাম কী?
তার পুরো নাম হলো Lee Hee-seung (이희승)। তিনি ১৫ অক্টোবর ২০০১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
১০. ENHYPEN কোন এজেন্সির অধীনে?
ENHYPEN, BELIFT LAB-এর অধীনে পরিচালিত হয়, যা HYBE Corporation-এর একটি সাবলেবেল।
শেষকথা
Heeseung-এর ENHYPEN থেকে প্রস্থান K-Pop জগতে একটি বড় ঘটনা। দীর্ঘ ৬ বছরের গ্রুপ জীবনের পর, তিনি নিজের স্বতন্ত্র সঙ্গীত পরিচয় তৈরির জন্য একক পথে হাঁটছেন। এটি দুঃখজনক হলেও, এটি তার শিল্পী সত্তার বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ENHYPEN নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে — ৬ সদস্য নিয়ে গ্রুপটি এগিয়ে যাচ্ছে, এবং Heeseung একজন একক শিল্পী হিসেবে শীঘ্রই ভক্তদের সামনে আসবেন।
বাংলাদেশে K-Pop-এর যে বিশাল ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে, তাদের জন্য এই খবরটি হয়তো মন খারাপের, কিন্তু Heeseung এবং ENHYPEN — উভয়ের জন্যই এটি একটি নতুন যাত্রার শুরু।
সূত্র ও তথ্যসংযোগ:
- BELIFT LAB অফিশিয়াল বিবৃতি (Weverse, মার্চ ১০, ২০২৬)
- Soompi — ENHYPEN Announces Heeseung’s Departure (মার্চ ১০, ২০২৬)
- Billboard — ENHYPEN’s Heeseung Leaves Group to Pursue Solo Career (মার্চ ১০, ২০২৬)
- The Korea Times — Heeseung Announces Departure From ENHYPEN (মার্চ ১০, ২০২৬)
- Hollywood Reporter — Heeseung Departs ENHYPEN, Plans Solo Career (মার্চ ১০, ২০২৬)
- Wikipedia — ENHYPEN (আপডেট: মার্চ ১০, ২০২৬)
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”
