ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ I-তে ২২ জুন ২০২৬ তারিখে ফিলাডেলফিয়ার লিঙ্কন ফিনান্সিয়াল ফিল্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ফ্রান্স ৩–০ গোলে ইরাককে পরাজিত করেছে। কিলিয়ান এমবাপে দুটি এবং উসমান দেম্বেলে একটি গোল করেন। বিরতির পর ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে ম্যাচটি প্রায় দুই ঘণ্টা স্থগিত ছিল, তবে পরে পুনরায় শুরু হয়। টানা দুই জয়ে ফ্রান্স গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউট রাউন্ডে উঠে যাওয়ার পথে বিশাল এক ধাপ পার করেছে।
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ এখন পুরোদমে চলছে। বাংলাদেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী রাত জেগে স্ক্রিনে চোখ রেখে খেলা দেখছেন। এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আলোচিত খেলোয়াড়দের একজন কিলিয়ান এমবাপে—আর তিনি গতকাল আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে বিশ্বের সেরা ফুটবলার বলা হয়।
মাঠে ছিল বৃষ্টি, বজ্রপাতের আতঙ্ক, আর হাজারো দর্শকের হৈচৈ। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজতে বাজতে সব ছাপিয়ে উঠল একটাই সংখ্যা — ফ্রান্স ৩, ইরাক ০।
ম্যাচের বিস্তারিত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| টুর্নামেন্ট | ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ |
| গ্রুপ | গ্রুপ I |
| তারিখ | ২২ জুন ২০২৬ |
| ভেন্যু | লিঙ্কন ফিনান্সিয়াল ফিল্ড, ফিলাডেলফিয়া, যুক্তরাষ্ট্র |
| চূড়ান্ত স্কোর | ফ্রান্স ৩ – ইরাক ০ |
| গোলদাতা | কিলিয়ান এমবাপে (১৫’, ৫৪’), উসমান দেম্বেলে (৬৬’) |
ম্যাচের ধাপে ধাপে বিবরণ
প্রথমার্ধ: এমবাপের প্রথম গোল
ম্যাচের ১৫তম মিনিটে ইরাকের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে এমবাপে একটি দুর্দান্ত গোল করেন, যা ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের ১৫তম বিশ্বকাপ গোল। প্রথমার্ধে ফ্রান্সের একচেটিয়া আধিপত্য থাকলেও ইরাকের রক্ষণভাগ লড়াই চালিয়ে যায় এবং স্কোরলাইন ১-০ থাকে।
আবহাওয়া বিঘ্ন: বজ্রপাতে ম্যাচ স্থগিত
বিরতির সময় ফিলাডেলফিয়ায় ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। ফিফা নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে ম্যাচটি স্থগিত করে। প্রথমে ৩০ মিনিটের কথা বলা হলেও, আবহাওয়ার অবনতির কারণে শেষ পর্যন্ত প্রায় ২ ঘণ্টা খেলা বন্ধ রাখতে হয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে খেলা চলাকালীন এমন দীর্ঘ বিরতি বিরল ঘটনা।
দ্বিতীয়ার্ধ: এমবাপের দ্বিতীয় গোল ও বিশাল জয়
খেলা পুনরায় শুরু হলে ফ্রান্স আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ৫৪ মিনিটে উসমান দেম্বেলের পাসে এমবাপে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। এরপর ৬৬ মিনিটে দেম্বেলে নিজেই একটি দর্শনীয় গোল করে দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি আদায় করেন। চূড়ান্ত স্কোর দাঁড়ায় ফ্রান্স ৩ – ইরাক ০।
এমবাপের রেকর্ড ও পরিসংখ্যান
এই ম্যাচে এমবাপে কেবল জোড়া গোলই করেননি, কিছু অবিস্মরণীয় রেকর্ডও গড়েছেন:
- ১০০তম ম্যাচ (Cap): এই ম্যাচটি ছিল ফ্রান্সের জাতীয় দলের জার্সি গায়ে এমবাপের ১০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
- ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা: প্রথম ম্যাচেই সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি অলিভিয়ের জিরুদকে (৫৭ গোল) ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। এই ম্যাচে আরও দুটি গোল করায় তাঁর আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা এখন ৬০।
- বিশ্বকাপে মোট গোল: এই জোড়া গোলের সুবাদে এমবাপের মোট বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা বেড়ে ১৬-তে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন।
ইরাকের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ
ইরাক দলটি ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলছে। নরওয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৪–১ গোলে হারের পর ফ্রান্সের বিপক্ষেও তাদের রক্ষণাত্মক কৌশল খুব একটা কাজে আসেনি। ফরাসিদের গতি এবং পাসিংয়ের সামনে তারা অনেকটাই অসহায় ছিল। টানা দুই হারে এখন গ্রুপ পর্যায় থেকে ইরাকের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় শেষ।
গ্রুপ I-এর পয়েন্ট তালিকা (২২ জুন পর্যন্ত)
| দল | ম্যাচ | জয় | ড্র | হার | গোল ব্যবধান | পয়েন্ট |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ফ্রান্স | ২ | ২ | ০ | ০ | +৫ | ৬ |
| নরওয়ে | ১ | ১ | ০ | ০ | +৩ | ৩ |
| সেনেগাল | ১ | ০ | ০ | ১ | -২ | ০ |
| ইরাক | ২ | ০ | ০ | ২ | -৬ | ০ |
(বি.দ্র.: নরওয়ে ও সেনেগালের মধ্যকার ম্যাচটি একই দিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।)
এমবাপে বনাম মেসি: বিশ্বকাপ গোলের মহারণ
এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হলো মেসি বনাম এমবাপের গোল-দৌড়।
- লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): ২২ জুন অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে মেসি বিশ্বকাপে মোট ১৮ গোলের মালিক হয়েছেন। তিনি মিরোস্লাভ ক্লোসে ও মার্তার রেকর্ড ভেঙে এখন ফুটবল বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
- কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স): এমবাপেও বসে নেই; তিনি পৌঁছে গেছেন ১৬ গোলে।
দুজনের মধ্যে ব্যবধান এখন মাত্র ২ গোলের! এই লড়াই টুর্নামেন্টকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশেষ তথ্য
বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পাশাপাশি ফ্রান্স দলেরও বিশাল ভক্তসংখ্যা রয়েছে। বিশেষ করে কিলিয়ান এমবাপের গতি আর জাদুকরী খেলা দেখতে রাত জাগতে পিছপা হচ্ছেন না দর্শকরা।
যারা ফ্রান্সের খেলা মিস করতে চান না, তাদের জন্য জানিয়ে রাখা ভালো—ফ্রান্সের পরবর্তী ম্যাচ ২৬ জুন নরওয়ের বিপক্ষে, বোস্টনে।
সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: ফ্রান্স বনাম ইরাক ম্যাচের ফলাফল কী?
ফ্রান্স ৩–০ গোলে ইরাককে হারিয়েছে। ম্যাচটি ২২ জুন ২০২৬ তারিখে ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন ২: ফ্রান্স বনাম ইরাক ম্যাচে কে গোল করেছেন?
কিলিয়ান এমবাপে দুটি (১৫’ ও ৫৪’) এবং উসমান দেম্বেলে একটি (৬৬’) গোল করেছেন।
প্রশ্ন ৩: এমবাপে কতটি বিশ্বকাপ গোল করেছেন?
ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর এমবাপের মোট বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬-তে।
প্রশ্ন ৪: ফ্রান্স বনাম ইরাক ম্যাচ কেন বাধাগ্রস্ত হয়েছিল?
ফিলাডেলফিয়ায় ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে প্রথমার্ধের পর ম্যাচটি প্রায় দুই ঘণ্টার জন্য সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল।
প্রশ্ন ৫: ইরাক কি নকআউট পর্বে যেতে পারবে?
টানা দুই ম্যাচ (নরওয়ে ও ফ্রান্সের বিপক্ষে) হারায় ইরাকের নকআউট পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শেষ।
প্রশ্ন ৬: এমবাপে ফ্রান্সের হয়ে কতগুলো গোল করেছেন?
ইরাক ম্যাচের পর ফ্রান্সের জাতীয় দলের হয়ে এমবাপের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০-এ, যা ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
প্রশ্ন ৭: বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা কে?
বর্তমানে লিওনেল মেসি ১৮ গোল নিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
প্রশ্ন: ফ্রান্স বনাম ইরাক খেলা কোথায় হয়েছে?
উত্তর: যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় অবস্থিত ফিলাডেলফিয়ার লিঙ্কন ফিনান্সিয়াল ফিল্ডে।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ফ্রান্সের পরবর্তী ম্যাচ কবে?
উত্তর: ২৬ জুন ২০২৬ তারিখে নরওয়ের বিপক্ষে।
প্রশ্ন: ফ্রান্স এই বিশ্বকাপে কয়টি ম্যাচ জিতেছে?
উত্তর: দুটি। প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩–১ গোলে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ইরাককে ৩–০ গোলে হারিয়েছে।
প্রশ্ন: এমবাপে কি তাঁর ১০০তম ম্যাচ খেলেছেন?
উত্তর: হ্যাঁ, ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল এমবাপের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১০০তম ম্যাচ (100th Cap)।
প্রশ্ন: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ কোন কোন দেশে হচ্ছে?
উত্তর: যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে এই বিশ্বকাপ আয়োজন করছে।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ I-তে ২২ জুন ২০২৬ তারিখে ফ্রান্স ৩–০ গোলে ইরাককে পরাজিত করেছে। ফিলাডেলফিয়ার লিঙ্কন ফিনান্সিয়াল ফিল্ডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপে দুটি এবং উসমান দেম্বেলে একটি গোল করেন। ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে ম্যাচটি বিরতির পর প্রায় দুই ঘণ্টা স্থগিত ছিল। এই ম্যাচে এমবাপে জাতীয় দলের হয়ে নিজের ১০০তম ম্যাচ খেলতে নেমে আন্তর্জাতিক গোলের সংখ্যা ৬০-এ উন্নীত করেন এবং ১৬টি বিশ্বকাপ গোল নিয়ে মিরোস্লাভ ক্লোসের রেকর্ডে ভাগ বসান। এই জয়ে ফ্রান্সের নকআউট পর্বে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত।
