আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে (Dhaka City Election) সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকার দুই সিটিতে (উত্তর ও দক্ষিণ) জয়ের মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দলটি ইতোমধ্যে ঢাকার ১২৯টি ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে। ঢাকা দক্ষিণে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে হাজী মোহাম্মদ এনায়েতুল্লাহর নাম বিবেচনা করা হচ্ছে, তবে উত্তরে নতুন প্রার্থী খুঁজছে দলটি। আগামী রোজার পর সিটি নির্বাচন হতে পারে এমনটি ধরে নিয়েই তারা মাঠপর্যায়ে জোর প্রচারণা চালাচ্ছে ।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সার্বিক প্রস্তুতি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে ৭৭টি আসন পাওয়ার পর, জামায়াতে ইসলামী এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা সারা বছরই নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয় বলে জানিয়েছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম।
নির্বাচনী প্রস্তুতির বর্তমান চিত্র:
- প্রার্থী চূড়ান্তকরণ: উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র এবং ইউনিয়ন পরিষদের (UP) চেয়ারম্যান পদে দলটি ইতোমধ্যেই তাদের প্রার্থী তালিকা ঠিক করে ফেলেছে।
- ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম: গত বছরের জানুয়ারি থেকে ঢাকার দুই সিটির ১২৯টি ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলরদের বাছাই প্রক্রিয়া চলছে এবং তারা মাঠপর্যায়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন: সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী কারা?
সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে রাজধানী ঢাকার দুই সিটির মেয়র পদ নিয়ে। জামায়াত সূত্র এবং দৈনিক সমকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি চিত্র পাওয়া গেছে:
১. ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (DSCC)
ঢাকা দক্ষিণে জামায়াতের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে হাজী মোহাম্মদ এনায়েতুল্লাহর নাম শক্তভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
২. ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (DNCC)
ঢাকা উত্তরের জন্য জামায়াতকে সম্পূর্ণ নতুন একজন মেয়র প্রার্থী খুঁজতে হচ্ছে, যিনি দলের এবং সাধারণ ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন।
জোটের শরিকদের সাথে আসন সমঝোতা
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলগুলোও ঢাকার মেয়র পদে ছাড় চাইছে।
- এনসিপি-এর দাবি: জোটের অন্যতম শরিক এনসিপি ঢাকায় অন্তত একটি মেয়র পদ দাবি করেছে।
- শরিকদের সম্ভাব্য প্রার্থী: ঢাকা মহানগর উত্তরে এনসিপির সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম নিজেকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, দক্ষিণে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর নাম আলোচনায় রয়েছে।
- জামায়াতের অবস্থান: জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ঢাকায় মেয়র পদে জোটের শরিকদের ছাড় দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে, কাউন্সিলর পদগুলোতে পারস্পরিক সমঝোতা হতে পারে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে জামায়াতের প্রধান শর্ত: ‘জুলাই সনদ’
নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের তাদের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন।
- রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার: স্থানীয় নির্বাচনগুলো সম্পূর্ণ অবাধ ও সুষ্ঠু করতে হলে সর্বাগ্রে ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্রকাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।
- নির্বাচনে অংশগ্রহণ: এই সংস্কারগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে জামায়াতে ইসলামী অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নেবে এবং তারা ভোটের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
People Also Ask
১. ২০২৬ সালের ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কখন অনুষ্ঠিত হতে পারে?
দলীয় সূত্র এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের পর ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২. ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে জামায়াতের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী কে?
ঢাকা দক্ষিণে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে হাজী মোহাম্মদ এনায়েতুল্লাহর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
৩. জামায়াত কি ঢাকার মেয়র পদে জোটের অন্য দলগুলোকে ছাড় দেবে?
না। জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতাদের ভাষ্যমতে, ঢাকার দুই সিটির মেয়র পদে শরিক দলগুলোকে ছাড় দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই, তবে কাউন্সিলর পদে ছাড় দেওয়া হতে পারে।
৪. ‘জুলাই সনদ’ কী এবং সিটি নির্বাচনের সাথে এর সম্পর্ক কী?
‘জুলাই সনদ’ হলো গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের একটি রূপরেখা। জামায়াতের দাবি, এই সনদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার সম্পন্ন হলেই তারা সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশ নেবে।
BDQNA Tech Team
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”
