বাংলাদেশ সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সব ধরনের সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটে তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমাতে ও রাজস্ব আয় বাড়াতে এই ঘোষণা দেন।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের দাম স্তরভেদে ২ টাকা থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে খুচরা বাজারে প্রতিটি সিগারেটের দাম ব্র্যান্ড অনুযায়ী ১ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। যারা নিয়মিত ধূমপান করেন বা তামাকজাত পণ্যের ব্যবসার সাথে জড়িত, তাদের জন্য এই আপডেটেড তথ্যগুলো জানা অত্যন্ত জরুরি।
প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের নতুন দামের তালিকা
খুব সহজে এবং এক নজরে সিগারেটের নতুন দাম বুঝতে নিচের টেবিলটি লক্ষ্য করুন:
| সিগারেটের স্তর | বর্তমান দাম (১০ শলাকা) | প্রস্তাবিত দাম (১০ শলাকা) | দাম বৃদ্ধির পরিমাণ |
| নিম্নস্তর | ৬০ টাকা | ৬২ টাকা | ২ টাকা |
| মধ্যম স্তর | ৮০ টাকা | ৯২ টাকা | ১২ টাকা |
| উচ্চস্তর | ১৪০ টাকা | ১৬০ টাকা | ২০ টাকা |
| অতি উচ্চস্তর | ১৮৫ টাকা | ২১০ টাকা | ২৫ টাকা |
(তথ্যসূত্র: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতা, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ)
ব্র্যান্ড অনুযায়ী বাজারে খুচরা মূল্যের প্রকৃত অবস্থা
বাজেটে প্যাকেটের দাম নির্ধারণ করা হলেও, খুচরা বাজারে পয়সার প্রচলন না থাকায় ভোক্তাদের প্রায়ই অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের খুচরা দামের চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নিম্নস্তরের ব্র্যান্ড (নেভি, রয়েল, ডার্বি)
- প্যাকেটের দাম: ১০ শলাকার দাম ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৬২ টাকা হচ্ছে।
- খুচরা দাম: প্রতি শলাকার হিসাবে দাম ৬.২০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও, বাজারে তা ৭ টাকায় বিক্রি হবে।
২. মধ্যম স্তরের ব্র্যান্ড (জন প্লেয়ার)
- প্যাকেটের দাম: ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
- খুচরা দাম: প্রতি শলাকার দাম ৯ টাকা ২০ পয়সা হওয়ার কথা, তবে বাস্তবে খুচরা বাজারে প্রতিটি সিগারেট ১০ টাকায় বিক্রি হতে পারে।
৩. উচ্চস্তরের ব্র্যান্ড (গোল্ডলিফ)
- প্যাকেটের দাম: এই স্তরের ১০ প্যাকেটের দাম ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- খুচরা দাম: হিসাব অনুযায়ী এবং বাজারে প্রতিটি সিগারেটের দাম দাঁড়াচ্ছে ১৬ টাকা।
৪. অতি উচ্চস্তরের ব্র্যান্ড (বেনসন অ্যান্ড হেজেস)
- প্যাকেটের দাম: এই স্তরে সবচেয়ে বড় লাফ দেখা গেছে। ১০ শলাকার দাম ১৮৫ টাকা থেকে একলাফে ২৫ টাকা বাড়িয়ে ২১০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
- খুচরা দাম: খুচরা বাজারে প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম বেড়ে দাঁড়াবে ২১ টাকায়।
নতুন তামাকজাত পণ্যে কর ও শুল্ক (ই-সিগারেট ও পাউচ)
জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে প্রচলিত সিগারেটের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের তামাক পণ্যের ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে:
- নিকোটিন পাউচ: প্রতি ১০ গ্রাম পাউচের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৫০০ টাকা এবং এর ওপর ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
- হিটেড টোব্যাকো: প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ২১০ টাকা নির্ধারণ করে এর ওপর ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হয়েছে।
- আমদানি শুল্ক: বিকল্প নিকোটিন পণ্যের আমদানির ওপর ৩৫০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জও রাখা হতে পারে।
কেন বাড়ানো হলো সিগারেটের দাম?
বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানোর পেছনে সরকারের প্রধান দুটি উদ্দেশ্য কাজ করছে:
- জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানো: তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে দাম বাড়ানো একটি প্রমাণিত পদ্ধতি। দাম বেশি হলে বিশেষ করে তরুণ সমাজ ধূমপানে নিরুৎসাহিত হবে।
- রাজস্ব আয় বৃদ্ধি: দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ের অন্যতম বড় উৎস হলো তামাক খাত। বিশাল বাজেটের ঘাটতি মেটাতে ও রাজস্ব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এই কর বৃদ্ধি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
- অবৈধ বাণিজ্য রোধ: তামাক পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ নিবিড়ভাবে মনিটরিং করার জন্যে নতুন ট্র্যাকিং পদ্ধতি প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা কর ফাঁকি রোধ করবে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
১. বেনসন সিগারেটের বর্তমান দাম কত (২০২৬)?
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী বেনসন অ্যান্ড হেজেস (অতি উচ্চস্তর) সিগারেটের ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ২১০ টাকা। অর্থাৎ, খুচরা বাজারে প্রতিটি বেনসন সিগারেটের দাম ২১ টাকা।
২. গোল্ডলিফ সিগারেটের দাম কি বেড়েছে?
হ্যাঁ, গোল্ডলিফ (উচ্চস্তর) সিগারেটের ১০ শলাকার দাম ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬০ টাকা করা হয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতিটি ১৬ টাকা দরে বিক্রি হবে।
৩. বাজেটে কোন স্তরের সিগারেটের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে?
সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে অতি উচ্চস্তরের (যেমন- বেনসন) সিগারেটের। এই স্তরে প্রতি ১০ শলাকায় দাম বেড়েছে ২৫ টাকা।
৪. নিকোটিন পাউচের দাম কত নির্ধারণ করা হয়েছে?
নতুন বাজেটে ১০ গ্রাম নিকোটিন পাউচের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এর ওপর ৪০% সম্পূরক শুল্ক বসানো হয়েছে।
লেখক পরিচিতি:
একজন প্রফেশনাল কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ও এসইও এক্সপার্ট, যিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য নিউজ পোর্টাল এবং গ্যাজেট আপডেট নিয়ে নিয়মিত কাজ করেন।
সর্বশেষ আপডেট: ১২ জুন, ২০২৬
তথ্যসূত্র: জাতীয় বাজেট বক্তৃতা (২০২৬-২৭), অর্থ মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
