২০২৬ সালে ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি কতদিন?
মোট ৭ দিন ১৭ মার্চ (শনিবার শবে কদর) থেকে ২৩ মার্চ (সোমবার) পর্যন্ত। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদুল ফিতর ২১ মার্চ, ২০২৬ (শনিবার) উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৫ মার্চ মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ১৮ মার্চ অতিরিক্ত ছুটি অনুমোদন করে মোট ছুটি ৭ দিনে উন্নীত করা হয়েছে।
ঈদুল ফিতর ২০২৬-এর সরকারি ছুটির সম্পূর্ণ তালিকা
নিচের ছকে ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিনগুলো একনজরে দেখুন:
| তারিখ | বার | উপলক্ষ | ছুটির ধরন |
|---|---|---|---|
| ১৭ মার্চ | মঙ্গলবার | পবিত্র শবে কদর | সাধারণ সরকারি ছুটি |
| ১৮ মার্চ | বুধবার | বিশেষ ছুটি (ঈদ-পূর্ব) | নির্বাহী আদেশে ছুটি |
| ১৯ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ঈদুল ফিতর (পূর্ববর্তী ছুটি) | নির্বাহী আদেশে ছুটি |
| ২০ মার্চ | শুক্রবার | জুমাতুল বিদা / ঈদ-পূর্ব | নির্বাহী আদেশে ছুটি |
| ২১ মার্চ ⭐ | শনিবার | পবিত্র ঈদুল ফিতর (মূল ঈদ দিবস) | সাধারণ সরকারি ছুটি (ঈদ দিবস) |
| ২২ মার্চ | রবিবার | ঈদ-পরবর্তী ছুটি | নির্বাহী আদেশে ছুটি |
| ২৩ মার্চ | সোমবার | ঈদ-পরবর্তী ছুটি | নির্বাহী আদেশে ছুটি |
চাঁদ দেখার বিষয়ে লক্ষ্য রাখুন: ঈদুল ফিতরের তারিখ সম্পূর্ণরূপে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। রমজান মাস ২৯ দিনের হলে ঈদ ২০ মার্চ, আর ৩০ দিনের হলে ঈদ ২১ মার্চ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে অনুযায়ী পরবর্তী ছুটির তারিখও পরিবর্তন হতে পারে।
কেন এবার ছুটি ৭ দিন?
মূলত সরকার আগে থেকেই ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ৫ দিনের ঈদের ছুটি নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটির পর ১৮ মার্চ (বুধবার) একটি কার্যদিবস থাকায় ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতে অসুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ৫ মার্চ, ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে ১৭ মার্চের শবে কদরের ছুটি থেকে শুরু করে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা ৭ দিনের ছুটি নিশ্চিত হয়।
বোনাস: ১২ দিনের ছুটির সুযোগ! ২৪ ও ২৫ মার্চ মাত্র ২টি ঐচ্ছিক/নৈমিত্তিক ছুটি (CL) নিলেই ২৬ মার্চ (স্বাধীনতা দিবস) এবং ২৭-২৮ মার্চ (সাপ্তাহিক ছুটি) মিলিয়ে টানা ১২ দিনের ছুটি পাওয়া সম্ভব।
ছুটির সময়রেখা
১৬ মার্চ (রবিবার)
সর্বশেষ কার্যদিবস — এদিন অফিস করেই ছুটি শুরু।
১৭ মার্চ (মঙ্গলবার)
পবিত্র শবে কদরের সাধারণ সরকারি ছুটি। ছুটি শুরু।
১৮ মার্চ (বুধবার)
নির্বাহী আদেশে ঘোষিত অতিরিক্ত বিশেষ ছুটি। ঘরে ফেরার সুবিধার জন্য সরকার নতুন করে এই দিনটি যোগ করেছে।
১৯–২০ মার্চ (বৃহস্পতিবার–শুক্রবার)
ঈদ-পূর্ববর্তী নির্বাহী আদেশে ছুটি। ২০ মার্চ জুমাতুল বিদাও পড়েছে।
২১ মার্চ (শনিবার)
পবিত্র ঈদুল ফিতর দিবস (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে)। সাধারণ সরকারি ছুটি।
২২–২৩ মার্চ (রবিবার–সোমবার)
ঈদ-পরবর্তী দুদিনের নির্বাহী আদেশে ছুটি। ছুটি শেষ।
২৪–২৫ মার্চ (মঙ্গলবার–বুধবার)
সাধারণ কর্মদিবস। (তবে CL নিলে দীর্ঘ ছুটির সুযোগ।)
২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার)
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস — সাধারণ সরকারি ছুটি।
২৭–২৮ মার্চ (শুক্রবার–শনিবার)
সাপ্তাহিক ছুটি।
কারা এই ছুটি পাবেন?
সরকারি চাকরিজীবী
সরকারি, আধা-সরকারি, সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা ৭ দিনের ছুটি পাবেন।
বেসরকারি চাকরিজীবী
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাধারণত সরকারি ছুটির অনুসরণে ছুটি প্রদান করা হয়, তবে ছুটির পরিমাণ প্রতিষ্ঠানের নীতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। বেশিরভাগ গার্মেন্টস ও শিল্প-কারখানায় শ্রম আইন অনুযায়ী ঈদের ছুটি নির্ধারিত হয়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
রমজান মাসের শুরু থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ছুটিতে রয়েছে। কলেজ বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হয়েছে এবং ২৫ মার্চ পর্যন্ত ছুটি থাকার কথা। ২৯ মার্চ থেকে কলেজ পুনরায় চালু হওয়ার সূচি রয়েছে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরকারি ছুটির দিনগুলোতে বন্ধ থাকে। ঈদের ছুটিতে ব্যাংকিং লেনদেন বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় আর্থিক কাজ আগেই সেরে রাখা উচিত।
ঈদুল আজহা ২০২৬: কবে এবং কতদিন ছুটি?
সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী ২০২৬ সালে ঈদুল আজহার (কোরবানির ঈদ) ছুটি মোট ৬ দিন নির্ধারিত রয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে সম্ভাব্য ঈদুল আজহা ২৭ বা ২৮ মে, ২০২৬ উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিস্তারিত ছুটির তারিখ চাঁদ দেখার পর চূড়ান্ত করা হবে।
ঈদুল আজহার সঠিক তারিখ ও ছুটির তালিকা চাঁদ দেখা সাপেক্ষে পরিবর্তন হতে পারে। সর্বশেষ তথ্যের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করুন।
ছুটিকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর স্মার্ট পরিকল্পনা
৭ দিনের ছুটিকে ১২ দিনে রূপান্তর করতে চাইলে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করুন:
- ২৪ ও ২৫ মার্চ CL জমা দিন — এই দুটি কার্যদিবসে নৈমিত্তিক ছুটি নিলেই ২৩ মার্চ থেকে সরাসরি ২৬ মার্চের স্বাধীনতা দিবস পর্যন্ত ছুটি একসূত্রে মিলবে।
- ভ্রমণ পরিকল্পনা আগেই করুন — ১৬ মার্চ অফিস শেষে বা ১৭ মার্চ সকালে রওনা হলে ঈদের আগে গ্রামে পৌঁছানো সহজ হবে।
- ট্রেন ও বাসের টিকিট আগাম বুক করুন — ছুটি ঘোষণার পরপরই টিকিটের চাহিদা বাড়ে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন পোর্টাল বা কাউন্টার থেকে আগেভাগে টিকিট নিশ্চিত করুন।
- ব্যাংকিং কাজ ছুটির আগেই সারুন — ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকে। বেতন তোলা, বিল পরিশোধ বা অন্যান্য আর্থিক কাজ ১৬ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন করুন।
- শপিং ও কেনাকাটার পরিকল্পনা করুন — ঈদের আগে বাজারে ভিড় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকে। ১৩-১৫ মার্চের মধ্যে মূল কেনাকাটা শেষ করলে শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।
ঈদুল ফিতর: মুসলমানদের সবচেয়ে আনন্দের উৎসব
ঈদুল ফিতর (আরবি: عيد الفطر) হলো ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে বড় দুটি উৎসবের একটি। পবিত্র রমজান মাসের একটি মাস রোজা পালনের পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিন মুসলমানরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন। বাংলাদেশে ঈদ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি পারিবারিক মিলন, সম্প্রীতি ও আনন্দের সবচেয়ে বড় আয়োজন।
- ঈদের নামাজ: ঈদের দিন সকালে সারা দেশের মসজিদ ও ঈদগাহে বিশেষ ঈদের নামাজ আদায় করা হয়।
- ফিতরা আদায়: ঈদের আগে গরিব ও দুঃস্থদের জন্য ফিতরা (সদকাতুল ফিতর) প্রদান করা ইসলামের নির্দেশ।
- পারিবারিক মিলন: শহরের মানুষ গ্রামে ফিরে পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করেন।
- সালামি ও উপহার: বড়দের সালাম করা এবং ছোটদের সালামি ও উপহার দেওয়া বাংলাদেশের ঈদের ঐতিহ্যবাহী রীতি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
২০২৬ সালে ঈদুল ফিতর কত তারিখে হবে?
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৬ সালে পবিত্র ঈদুল ফিতর ২১ মার্চ (শনিবার) উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রমজান মাস যদি ২৯ দিনের হয়, তাহলে ঈদ ২০ মার্চ হতে পারে। চাঁদ দেখার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করবে।
২০২৬ সালে ঈদের সরকারি ছুটি কতদিন?
২০২৬ সালে ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি মোট ৭ দিন। ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত। এর মধ্যে ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি, ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে নতুন যোগ করা ছুটি এবং ১৯–২৩ মার্চ ঈদের নির্ধারিত ছুটি।
ঈদুল ফিতর ২০২৬-এ ব্যাংক কতদিন বন্ধ থাকবে?
সরকারি ছুটির দিনগুলোতে (১৭–২৩ মার্চ) সকল তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে ATM ও মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) সচল থাকবে।
ঈদুল ফিতর ২০২৬-এ স্কুল কলেজ কতদিন বন্ধ?
রমজান মাসের শুরু থেকে স্কুল-কলেজ ছুটিতে রয়েছে। কলেজ বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ছুটি চলবে। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ২৯ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার কথা রয়েছে।
সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৬ কোথায় পাওয়া যাবে?
বাংলাদেশের সরকারি ছুটির অফিসিয়াল তালিকা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট (mopa.gov.bd) এবং বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নির্বাহী আদেশে বাড়তি ছুটি ঘোষণা করা হয়।
২০২৬ সালে ঈদুল আজহা কবে?
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৬ সালে ঈদুল আজহা (কোরবানির ঈদ) সম্ভাব্য ২৭ বা ২৮ মে, ২০২৬ উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি ছুটি ৬ দিন নির্ধারিত।
বেসরকারি চাকরিজীবীরা কতদিন ঈদের ছুটি পাবেন?
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটির পরিমাণ প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন। বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী সকল শ্রমিক-কর্মচারী ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ছুটি পাওয়ার অধিকারী। তবে দিনের সংখ্যা নিয়োগকর্তার নীতি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
ঈদের ছুটিতে সরকারি হাসপাতাল কি বন্ধ থাকবে?
না। সরকারি হাসপাতাল ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ঈদের ছুটিতেও সচল থাকে। তবে নিয়মিত ওপিডি সেবা সীমিত হতে পারে। জরুরি সেবার জন্য ৯৯৯ অথবা হাসপাতালের হটলাইনে যোগাযোগ করুন।
তথ্যসূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন, প্রথম আলো, বিডিনিউজ২৪, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ
