একাদশী ব্রত তালিকা ২০২৬ | সম্পূর্ণ তারিখ, পারণ সময় ও পালনের নিয়ম

একাদশী ব্রত তালিকা ২০২৬

২০২৬ সালে একাদশী ব্রত কবে কবে?

২০২৬ সালে মোট ২৪টি একাদশী পালিত হবে — প্রতি মাসে শুক্লপক্ষে একটি ও কৃষ্ণপক্ষে একটি। প্রথম একাদশী হলো ষটতিলা একাদশী, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ (বুধবার)। এই আর্টিকেলে সারা বছরের সম্পূর্ণ তালিকা, পারণ সময়, পালনের নিয়ম ও খাদ্যবিধি বিস্তারিতভাবে দেওয়া হয়েছে।

একাদশী হিন্দু সনাতন ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র ব্রতগুলোর মধ্যে একটি। বাংলাদেশের লাখো সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রতি মাসে এই ব্রত পালন করেন। কিন্তু সঠিক তারিখ, পারণ সময় এবং পালনের নিয়ম না জানলে ব্রত পালন সম্পূর্ণ হয় না। তাই এই আর্টিকেলে ২০২৬ সালের সম্পূর্ণ একাদশী ব্রত তালিকা, তারিখ ও বিস্তারিত তথ্য একসাথে দেওয়া হয়েছে।

একাদশী কী এবং কেন পালন করা হয়?

একাদশী মানে চন্দ্র মাসের এগারোতম তিথি। প্রতি মাসে দুইবার একাদশী আসে — একবার শুক্লপক্ষে (চাঁদ বাড়ার সময়) এবং একবার কৃষ্ণপক্ষে (চাঁদ কমার সময়)। এই দিন ভগবান বিষ্ণুর উপাসনায় উপবাস পালন করা হয়।

📜 পৌরাণিক পটভূমি

পদ্মপুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, একাদশী দেবী স্বয়ং শ্রীহরির অংশ থেকে উৎপন্ন। একাদশীর দিন সমস্ত পাপ অন্ন ও পঞ্চ রবিশস্যের মধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করে — তাই এদিন শস্যজাতীয় খাবার বর্জন করা হয়। মহর্ষি ব্যাসদেব জৈমিনি ঋষিকে এই ব্রতের মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করেছিলেন।

একাদশী ব্রত পালনের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক উন্নতি, মানসিক শান্তি ও পাপমোচন ঘটে বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। পাশাপাশি নিয়মিত উপবাসের শারীরিক উপকারিতাও বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত — হজমশক্তি উন্নত হয় এবং শরীরের টক্সিন দূর হয়।

একাদশী ব্রত তালিকা ২০২৬ — সম্পূর্ণ তারিখসূচি

নিচের তালিকাটি নবযুগ পঞ্জিকা (স্মার্ত/গোস্বামী/নিম্বার্ক মত) ও bpswamibangla.com (ইসকন মত) অনুসারে বাংলাদেশের সময়ে প্রস্তুত করা হয়েছে।

একাদশীর নামইংরেজি তারিখবাংলা তারিখবারপক্ষপারণ সময় (স্মার্ত/গোস্বামী)
ষটতিলা একাদশী১৪ জানুয়ারি ২০২৬৩০ পৌষ ১৪৩২বুধবারকৃষ্ণপক্ষপরদিন সূর্যোদয় থেকে ১০:২৯ পূর্বাহ্নের মধ্যে
ভৈমী / জয়া একাদশী২৯ জানুয়ারি ২০২৬১৫ মাঘ ১৪৩২বৃহস্পতিবারশুক্লপক্ষপরদিন সূর্যোদয় থেকে ১০:১২ পূর্বাহ্নের মধ্যে
বিজয়া একাদশী১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬৩০ মাঘ ১৪৩২শুক্রবারকৃষ্ণপক্ষপরদিন সূর্যোদয় থেকে ১০:২৯ পূর্বাহ্নের মধ্যে
আমলকী একাদশী২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬১৪ ফাল্গুন ১৪৩২শুক্রবারশুক্লপক্ষপরদিন সূর্যোদয় থেকে ১০:২৫ পূর্বাহ্নের মধ্যে
পাপমোচনী একাদশী১৫ মার্চ ২০২৬১ চৈত্র ১৪৩২রবিবারকৃষ্ণপক্ষপরদিন সূর্যোদয় থেকে ৮:২৯ পূর্বাহ্নের মধ্যে
কামদা একাদশী২৯ মার্চ ২০২৬১৫ চৈত্র ১৪৩২রবিবারশুক্লপক্ষপরদিন সূর্যোদয় থেকে ৮:০৮ পূর্বাহ্নের মধ্যে
বরূথিনী একাদশী১৩ এপ্রিল ২০২৬৩০ চৈত্র ১৪৩২সোমবারকৃষ্ণপক্ষপরদিন সূর্যোদয় থেকে ৯:৫৭ পূর্বাহ্নের মধ্যে
মোহিনী একাদশী২৭ এপ্রিল ২০২৬১৪ বৈশাখ ১৪৩৩সোমবারশুক্লপক্ষপরদিন পঞ্জিকা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে
অপরা একাদশীমে ২০২৬ (তারিখ পঞ্জিকাসাপেক্ষ)জ্যৈষ্ঠ মাসকৃষ্ণপক্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী নির্ধারিত
নির্জলা একাদশীজুন ২০২৬ (শুক্লপক্ষ)জ্যৈষ্ঠ মাসশুক্লপক্ষসবচেয়ে কঠিন ও পুণ্যময় একাদশী
যোগিনী একাদশীজুন ২০২৬ (কৃষ্ণপক্ষ)আষাঢ় মাসকৃষ্ণপক্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী নির্ধারিত
দেবশয়নী / হরিশয়নী একাদশীজুলাই ২০২৬ (শুক্লপক্ষ)আষাঢ় মাসশুক্লপক্ষচাতুর্মাস শুরু হয় এই দিন থেকে
কামিকা একাদশীজুলাই ২০২৬ (কৃষ্ণপক্ষ)শ্রাবণ মাসকৃষ্ণপক্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী নির্ধারিত
পুত্রদা একাদশীআগস্ট ২০২৬ (শুক্লপক্ষ)শ্রাবণ মাসশুক্লপক্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী নির্ধারিত
অজা একাদশীআগস্ট ২০২৬ (কৃষ্ণপক্ষ)ভাদ্র মাসকৃষ্ণপক্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী নির্ধারিত
পার্শ্ব পরিবর্তনী একাদশীসেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্লপক্ষ)ভাদ্র মাসশুক্লপক্ষবিষ্ণুর পার্শ্ব পরিবর্তনের বিশেষ তিথি
ইন্দিরা একাদশীসেপ্টেম্বর ২০২৬ (কৃষ্ণপক্ষ)আশ্বিন মাসকৃষ্ণপক্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী নির্ধারিত
পাশাঙ্কুশা একাদশীঅক্টোবর ২০২৬ (শুক্লপক্ষ)আশ্বিন মাসশুক্লপক্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী নির্ধারিত
রমা একাদশীঅক্টোবর ২০২৬ (কৃষ্ণপক্ষ)কার্তিক মাসকৃষ্ণপক্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী নির্ধারিত
প্রবোধিনী / উত্থান একাদশীনভেম্বর ২০২৬ (শুক্লপক্ষ)কার্তিক মাসশুক্লপক্ষচাতুর্মাস শেষ হয়, বিষ্ণু নিদ্রা থেকে জাগেন
উৎপত্তি একাদশীনভেম্বর ২০২৬ (কৃষ্ণপক্ষ)অগ্রহায়ণ মাসকৃষ্ণপক্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী নির্ধারিত
মোক্ষদা একাদশীডিসেম্বর ২০২৬ (শুক্লপক্ষ)অগ্রহায়ণ মাসশুক্লপক্ষগীতা জয়ন্তীর সাথে মিলে থাকে
সফলা একাদশীডিসেম্বর ২০২৬ (কৃষ্ণপক্ষ)পৌষ মাসকৃষ্ণপক্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী নির্ধারিত
পৌষ পুত্রদা একাদশীডিসেম্বর ২০২৬ (শুক্লপক্ষ)পৌষ মাসশুক্লপক্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী নির্ধারিত

📌 গুরুত্বপূর্ণ নোট: মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সঠিক তারিখ ও পারণ সময় জানতে অবশ্যই স্থানীয় পঞ্জিকা, নবযুগ পঞ্জিকা অথবা ekadashibarta.com এবং bpswamibangla.com-এ প্রতিটি একাদশীর আগে দেখুন। বাংলাদেশ ও ভারতের সময়ের পার্থক্য থাকায় পারণের সময় ভিন্ন হতে পারে।

২০২৬ সালের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ একাদশী

🔥 নির্জলা একাদশী (জ্যৈষ্ঠ মাস, শুক্লপক্ষ)

এটি বছরের সবচেয়ে কঠিন ও পুণ্যময় একাদশী। “নির্জলা” মানে জলহীন — এই দিন ভক্তরা সম্পূর্ণভাবে আহার ও জল পরিত্যাগ করে উপবাস করেন। হিন্দু ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী, এই একটি একাদশী বিধিসম্মতভাবে পালন করলে সারা বছরের সমস্ত একাদশীর সমান ফল পাওয়া যায়।

🙏 দেবশয়নী (হরিশয়নী) একাদশী (আষাঢ়, শুক্লপক্ষ)

এই দিন থেকে ভগবান বিষ্ণু চার মাসের জন্য যোগনিদ্রায় যান — এটিই চাতুর্মাস বা চতুর্মাসীর শুরু। এই সময়ে বিবাহ ও শুভ অনুষ্ঠান সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়।

🌙 প্রবোধিনী / উত্থান একাদশী (কার্তিক, শুক্লপক্ষ)

এই দিন বিষ্ণু নিদ্রা থেকে জাগেন এবং চাতুর্মাস শেষ হয়। তুলসী বিবাহও সাধারণত এই একাদশী থেকে শুরু হয়।

📖 মোক্ষদা একাদশী ও গীতা জয়ন্তী (অগ্রহায়ণ, শুক্লপক্ষ)

মোক্ষদা একাদশীর দিনেই শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা প্রথম উপদিষ্ট হয়েছিল বলে বিশ্বাস। এই কারণে এটি গীতা জয়ন্তী হিসেবেও পালিত হয়।

একাদশী ব্রত পালনের সঠিক নিয়ম — ধাপে ধাপে

দশমীর দিন (একাদশীর আগের দিন)

  1. সূর্যাস্তের আগে মাত্র একবার নিরামিষ খাবার খান। রাত ১২টার আগেই আহার সম্পন্ন করুন।
  2. মাংস, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন এবং তামসিক খাবার সম্পূর্ণ বর্জন করুন।
  3. ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করুন যাতে মুখে কোনো খাদ্যকণা না থাকে।

একাদশীর দিন

  1. ভোরবেলা সূর্যোদয়ের আগে উঠুন এবং স্নান করুন। সাবান বা বডি ওয়াশ ব্যবহার না করাই উত্তম।
  2. ঠাকুরঘরে গিয়ে ভগবান বিষ্ণু বা কৃষ্ণের আরতি করুন এবং একাদশী সংকল্প মন্ত্র পাঠ করুন।
  3. সারাদিন পঞ্চরবিশস্য (চাল, গম, যব, ডাল, সরিষা) এবং এগুলো থেকে তৈরি সব খাবার বর্জন করুন।
  4. হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করুন, ভাগবত বা গীতা পাঠ করুন এবং সৎচিন্তায় দিন কাটান।
  5. রাতে জাগরণ করা অত্যন্ত পুণ্যকর — কীর্তন বা ধর্মগ্রন্থ পাঠে রাত কাটান।

দ্বাদশীতে পারণ (ব্রত ভঙ্গ)

  1. পারণ অর্থ হলো একাদশীর উপবাস শেষ করে খাবার গ্রহণ করা। এটি দ্বাদশী তিথিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করতে হয়।
  2. পারণের আগে পারণ মন্ত্র পাঠ করুন এবং ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানান।
  3. পারণের সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেই একাদশী পালন অসম্পূর্ণ বলে বিবেচিত হয় — তাই সময়মতো পারণ করা অত্যন্ত জরুরি।

⚠️ পারণের সময় মিস করবেন না!

প্রতিটি একাদশীর পারণের সময় আলাদা। উপরের তালিকায় দেওয়া সময়ের মধ্যে পারণ করুন। বাংলাদেশে স্থানীয় সূর্যোদয়ের সময় অনুযায়ী এই সময় নির্ধারিত হয়।

একাদশী ব্রতের খাদ্য তালিকা (কী খাবেন, কী খাবেন না)

✅ যা খাওয়া যাবে

  • সব ধরনের তাজা ফল
  • দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য (দই, ঘি, পনির)
  • মিষ্টি আলু, কচু ও আলু
  • শসা, গাজর, লাউ জাতীয় সবজি
  • বাদাম ও শুকনো ফল
  • সিন্ধব লবণ (rock salt)
  • তুলসী-জল বা লেবু-সরবত
  • সাগু দানা (sabudana)

❌ যা খাওয়া যাবে না

  • চাল ও চালের তৈরি সব খাবার
  • গম, আটা, ময়দা ও রুটি
  • যব, ডাল (সব ধরনের)
  • সরিষা বা সরিষার তেল
  • মাংস, মাছ ও ডিম
  • পেঁয়াজ, রসুন ও মশলা
  • নেশাজাতীয় দ্রব্য
  • বেগুন (কিছু মতে)

যারা সম্পূর্ণ উপবাস রাখতে পারবেন না — যেমন গর্ভবতী নারী, অসুস্থ ব্যক্তি বা বয়স্করা — তারা ফল ও দুধ খেয়ে ব্রত পালন করতে পারেন। শাস্ত্রে এই ছাড়ের বিধান আছে।

একাদশী ব্রতের ধরন — কোনটি আপনার জন্য?

চার ধরনের একাদশী উপবাস

  • 🌊 নির্জলা উপবাস — সম্পূর্ণ জলহীন উপবাস। সবচেয়ে কঠিন ও সর্বোচ্চ পুণ্যদায়ক।
  • 💧 জলাহার — শুধুমাত্র জল পান করে ব্রত পালন।
  • 🍎 ফলাহার — শুধু ফল ও দুধ খেয়ে ব্রত পালন। অধিকাংশ ভক্ত এই পদ্ধতি অনুসরণ করেন।
  • 🌙 নক্তভোজী — সূর্যাস্তের ঠিক আগে মাত্র একবার আহার করে ব্রত পালন।

স্মার্ত মত ও ইসকন মতে পার্থক্য কী?

বাংলাদেশে দুটি প্রধান মতে একাদশী পালন করা হয়। অনেক সময় দুটি মতে একাদশীর তারিখ ও পারণ সময়ে সামান্য পার্থক্য দেখা যায়।

সংক্ষিপ্ত পার্থক্য

স্মার্ত/গোস্বামী/নিম্বার্ক মত: নবযুগ পঞ্জিকা অনুসারে। পারণের সময় সাধারণত সূর্যোদয় থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।

ইসকন মত: bpswamibangla.com অনুসারে। পারণের শুরুর সময় নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় (যেমন: সকাল ৬:৪২ থেকে ১০:১৯-এর মধ্যে)।

আপনি যে সম্প্রদায় বা পরম্পরা অনুসরণ করেন, সেই মতে একাদশী পালন করুন।

একাদশী ব্রত পালনের উপকারিতা

একাদশী ব্রতের উপকারিতা শুধু আধ্যাত্মিক নয়, শারীরিক ও মানসিকভাবেও উল্লেখযোগ্য।

🌟 আধ্যাত্মিক উপকারিতা

ভগবান বিষ্ণুর কৃপা লাভ, পাপমোচন, মোক্ষপ্রাপ্তির পথ উন্মুক্ত হওয়া এবং আধ্যাত্মিক চেতনার বিকাশ।

🧠 মানসিক ও শারীরিক উপকারিতা

নিয়মিত উপবাসে মানসিক শান্তি বাড়ে, একাগ্রতা উন্নত হয় এবং ভক্তিতে গভীরতা আসে। শরীরের দৃষ্টিকোণ থেকে উপবাস হজমতন্ত্রকে বিশ্রাম দেয়, শরীরের টক্সিন দূর করে এবং বিপাক প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল রাখে — চিকিৎসাবিজ্ঞানে যাকে “অটোফাজি” বলা হয়।

সাধারণ জিজ্ঞাসা ও উত্তর

❓ ২০২৬ সালে প্রথম একাদশী কোনটি এবং কবে?

২০২৬ সালের প্রথম একাদশী হলো ষটতিলা একাদশী, যা পালিত হবে ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ (বুধবার), বাংলা ৩০ পৌষ ১৪৩২। এটি কৃষ্ণপক্ষের একাদশী। পারণের সময় পরদিন সূর্যোদয় থেকে সকাল ১০:২৯-এর মধ্যে।

❓ একাদশীর দিন কি চাল খাওয়া যাবে?

না। একাদশীর দিন চাল এবং চালজাত কোনো খাবার খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শাস্ত্রমতে, এই দিন সমস্ত পাপ অন্ন ও পঞ্চরবিশস্যে (চাল, গম, যব, ডাল, সরিষা) আশ্রয় নেয়। তাই এই পাঁচটি শস্য ও এগুলো থেকে তৈরি সব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

❓ ইসকন মতে ও স্মার্ত মতে একাদশীর পার্থক্য কী?

মূল তফাৎ হলো পারণের সময় নির্ধারণে। ইসকন মতে পারণের শুরু ও শেষ সময় সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয় (যেমন: সকাল ৬:৩৯ থেকে ১০:২১-এর মধ্যে)। স্মার্ত/গোস্বামী মতে সাধারণত সূর্যোদয় থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পারণ করতে বলা হয়। কখনো কখনো দুই মতে তারিখেও এক দিনের পার্থক্য হতে পারে।

❓ একাদশী ব্রত পালনে কি সাবান দিয়ে গোসল করা যাবে?

শাস্ত্রানুযায়ী একাদশীর দিন স্নান করার সময় সাবান বা বডি ওয়াশ ব্যবহার না করাই উত্তম। সাদা মাটি বা শুধু পানি দিয়ে স্নান করা অধিক পবিত্র বলে বিবেচিত হয়।

❓ অসুস্থ বা গর্ভবতী নারী কি একাদশী পালন করতে পারবেন?

হ্যাঁ, তবে কঠোর উপবাস না করে ফলাহার বা ক্ষীরভোজীর মাধ্যমে পালন করতে পারেন। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, যারা সম্পূর্ণ উপবাসে অসমর্থ তারা শুধু একাদশীর মাহাত্ম্য পাঠ বা শ্রবণ করলেও পুণ্য লাভ করেন। স্বাস্থ্যের প্রতি মনোযোগ দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

❓ পারণের সময় পেরিয়ে গেলে কী করব?

পারণের নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলে সেই একাদশীর উপবাস শাস্ত্রমতে অসম্পূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। তাই প্রতিটি একাদশীর আগে পঞ্জিকা দেখে পারণের সময় নোট করে রাখুন এবং সেই সময়ের মধ্যেই ব্রত ভঙ্গ করুন।

❓ একাদশীর দিন চা বা কফি খাওয়া যাবে কি?

অধিকাংশ ধর্মীয় মতে একাদশীর দিন চা ও কফি এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ চায়ে থাকা ক্যাফেইন মনকে অস্থির করে এবং ভক্তিমূলক চিন্তায় বাধা দেয়। এর পরিবর্তে তুলসী-জল বা লেবু-সরবত পান করা যেতে পারে।

❓ নির্জলা একাদশী কবে ২০২৬ সালে?

নির্জলা একাদশী জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষে পালিত হয়, যা ইংরেজি জুন মাসে পড়ে। ২০২৬ সালের সঠিক তারিখ জানতে ekadashibarta.com বা নবযুগ পঞ্জিকা দেখুন। এটি বছরের সবচেয়ে কঠিন ও পুণ্যময় একাদশী।

একাদশী ব্রত পালনে বাস্তব টিপস

  • অ্যালার্ম সেট করুন: পারণের সময় মিস না করতে আগের রাতেই অ্যালার্ম দিয়ে রাখুন।
  • একাদশী ক্যালেন্ডার রাখুন: বছরের শুরুতেই সব একাদশীর তারিখ নোট করুন বা ekadashibarta.com বুকমার্ক করুন।
  • প্রস্তুতি শুরু করুন দশমীতে: হঠাৎ উপবাস কঠিন হয় — দশমীর দিন থেকেই হালকা খাওয়া শুরু করুন।
  • অনুপ্রাণিত থাকুন: একাদশীর দিন সামাজিক মাধ্যম কমিয়ে হরিনাম জপ বা ধর্মগ্রন্থ পাঠে মনোযোগ দিন।
  • পরিবারের সাথে পালন করুন: একসাথে ব্রত পালনে মনে শক্তি আসে এবং পরিবারে সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়।

🕉

সনাতন ধর্ম গবেষণা দল

এই আর্টিকেলটি হিন্দু ধর্মীয় পঞ্জিকা, বৈদিক শাস্ত্র ও বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। তথ্যসূত্র: নবযুগ পঞ্জিকা, ekadashibarta.com ও bpswamibangla.com। সর্বশেষ আপডেট: ১ মে ২০২৬।

📚 তথ্যসূত্র ও যাচাইকৃত উৎস:
১. নবযুগ পঞ্জিকা (স্মার্ত, গোস্বামী, নিম্বার্ক মতের জন্য)
২. bpswamibangla.com (ইসকন মতের জন্য)
৩. ekadashibarta.com (বাংলাদেশ সময় অনুসারে)
৪. পদ্মপুরাণ — একাদশী মাহাত্ম্য অধ্যায়
৫. স্কন্দপুরাণ — একাদশী বিধি

🕉 একাদশী ব্রত তালিকা ২০২৬ | সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য তৈরি | তথ্যসূত্র: নবযুগ পঞ্জিকা ও ইসকন বাংলাদেশ

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে | হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে

Leave a Comment

Scroll to Top