মোহিনী একাদশী কী?
মোহিনী একাদশী হলো হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে পালিত একটি পবিত্র ব্রত। এই দিনে ভগবান বিষ্ণু মোহিনী অবতার ধারণ করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। ভক্তরা এই দিনে উপবাস করেন, বিষ্ণু পূজা করেন এবং পাপমুক্তি ও মোক্ষলাভের প্রার্থনা করেন।
২০২৬ সালে মোহিনী একাদশী: সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ পারণ সময়: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৫:৪৩ AM থেকে ৮:২১ AM
মোহিনী একাদশী ২০২৬ তারিখ ও শুভ সময়সূচি
মোহিনী একাদশী ব্রত পালনের জন্য সঠিক সময় জানা অত্যন্ত জরুরি। নিচে ২০২৬ সালের বিস্তারিত সময়সূচি দেওয়া হলো:
| বিষয় | তারিখ ও সময় |
|---|---|
| একাদশী তিথি শুরু | ২৬ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৬:০৬ AM |
| একাদশী তিথি শেষ | ২৭ এপ্রিল ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১৫ PM |
| ব্রত পালনের দিন | ২৭ এপ্রিল ২০২৬ (সোমবার) |
| পারণ (উপবাস ভঙ্গ) | ২৮ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৫:৪৩ থেকে ৮:২১ AM |
| দ্বাদশী তিথি শেষ | ২৮ এপ্রিল ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫১ PM |
গুরুত্বপূর্ণ টিপ: পারণ সময়ের মধ্যে উপবাস ভাঙা আবশ্যক। এই সময়ের বাইরে উপবাস ভাঙলে ব্রতের আধ্যাত্মিক ফল কমে যায় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।
মোহিনী একাদশীর পৌরাণিক কাহিনি
সমুদ্র মন্থনের কাহিনি
মোহিনী একাদশীর মূল গল্পটি সমুদ্র মন্থন-এর সঙ্গে জড়িত। দেবতা ও অসুররা মিলে ক্ষীরসাগর মন্থন করেছিলেন। সেই মন্থনে উঠে এসেছিল অমৃত — অমরত্বের পানীয়।
অমৃত নিয়ে দেবতা ও অসুরদের মধ্যে ভীষণ বিবাদ শুরু হয়। অসুররা অমৃত কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ভগবান বিষ্ণু এক অপূর্ব সুন্দরী নারীর রূপ ধারণ করেন — এই রূপেরই নাম মোহিনী।
অসুররা মোহিনীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে অমৃত বিতরণের ভার তাঁর হাতে তুলে দেয়। মোহিনী কৌশলে সমস্ত অমৃত দেবতাদের পান করিয়ে দেন। এভাবে ধর্মের রক্ষা হয় এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে ভারসাম্য ফিরে আসে।
এই ঐশ্বরিক লীলার স্মরণেই প্রতি বছর মোহিনী একাদশী পালিত হয়।
ভাস্মাসুর বধের কাহিনি
মোহিনী একাদশীর সঙ্গে আরেকটি কাহিনি জড়িত। ভাস্মাসুর নামে এক অসুর শিবের কাছ থেকে এক ভয়ঙ্কর বর পেয়েছিল — যার মাথায় হাত রাখবে সে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। এই শক্তি পেয়ে সে স্বয়ং শিবকেই আক্রমণ করতে চাইল।
বিপদে পড়া শিবকে রক্ষা করতে ভগবান বিষ্ণু আবার মোহিনী রূপ ধারণ করলেন। মোহিনীর সৌন্দর্যে বিমোহিত ভাস্মাসুর তাঁর সঙ্গে নৃত্য করতে লাগল। নৃত্যের ছলে মোহিনী তাকে নিজের মাথায় হাত রাখতে বাধ্য করলেন — আর ভাস্মাসুর নিজেই ভস্ম হয়ে গেল।
এই দুটি কাহিনিই প্রমাণ করে যে জ্ঞান, বুদ্ধি ও ঐশ্বরিক কৌশল সবসময় অন্ধকার ও অহঙ্কারকে পরাজিত করে।
রাজা ধৃষ্টবুদ্ধির মুক্তির কাহিনি
পুরাণে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাহিনি আছে। সরস্বতী নদীর তীরে ভদ্রাবতী নগরে রাজা ধৃতিমান রাজত্ব করতেন। তাঁর পঞ্চম পুত্র ধৃষ্টবুদ্ধি ছিলেন অত্যন্ত পাপী — জুয়া খেলা, মদ্যপান ও অনাচারে জীবন কাটাতেন। বাবা তাঁকে রাজ্য থেকে বহিষ্কার করেন।
সহায়হীন ধৃষ্টবুদ্ধি বনে বনে ঘুরতে লাগলেন। একদিন ঋষি কৌণ্ডিন্য-এর সঙ্গে তাঁর দেখা হলো। ঋষি তাঁকে বৈশাখ শুক্লা একাদশী অর্থাৎ মোহিনী একাদশী ব্রত পালন করতে বললেন।
ধৃষ্টবুদ্ধি পূর্ণ ভক্তিভরে ব্রত পালন করলেন। এর ফলে তাঁর সমস্ত পাপ মুছে গেল এবং বিষ্ণুর গরুড়বাহনে চড়ে তিনি বৈকুণ্ঠে গেলেন।
এই কাহিনি আমাদের শেখায় — যত বড় পাপই হোক না কেন, সত্যিকারের অনুশোচনা ও ভক্তিসহ ব্রত পালনে মুক্তি সম্ভব।
মোহিনী একাদশীর ধর্মীয় গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য
হিন্দু শাস্ত্রে মোহিনী একাদশীকে অত্যন্ত ফলদায়ক একটি ব্রত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
- পাপমুক্তি: এই ব্রত পালনে বহু জন্মের পাপ দূর হয় বলে বিশ্বাস।
- মোহমুক্তি: “মোহিনী” নামটি “মোহ”-এর সঙ্গে যুক্ত। এই ব্রত মায়া ও মোহ থেকে মুক্তি দেয়।
- মোক্ষলাভ: ভক্তরা বিশ্বাস করেন, এই একাদশী নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলে পুনর্জন্মের চক্র থেকে মুক্তি মেলে।
- পুণ্যলাভ: শাস্ত্র অনুযায়ী এই ব্রতের পুণ্য হাজার গরু দান বা তীর্থযাত্রার সমতুল্য।
- সমৃদ্ধি ও শান্তি: পারিবারিক সুখ, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও মানসিক শান্তি লাভ হয়।
বিষ্ণু পুরাণ, স্কন্দ পুরাণ ও সূর্য পুরাণে মোহিনী একাদশীর মহিমা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণ রাজা যুধিষ্ঠিরকে এবং ঋষি বশিষ্ঠ স্বয়ং শ্রীরামচন্দ্রকে এই একাদশীর মাহাত্ম্য বলেছিলেন।
মোহিনী একাদশী ব্রত পালনের সম্পূর্ণ নিয়ম
দশমীর দিন (ব্রতের আগের দিন) থেকে প্রস্তুতি
- সূর্যাস্তের আগেই সাত্ত্বিক ও হালকা খাবার একবার খেতে হবে।
- রাতে অন্নজাতীয় কোনো খাবার খাওয়া যাবে না।
- মনকে প্রশান্ত রাখতে হবে এবং যথাসম্ভব নিরামিষ থাকতে হবে।
একাদশীর দিন — ধাপে ধাপে করণীয়
ধাপ ১ — ভোরবেলা উঠুন: ব্রহ্ম মুহূর্তে (সূর্যোদয়ের আগে) ঘুম থেকে উঠুন।
ধাপ ২ — স্নান করুন: তিলের পেস্ট লাগিয়ে শরীর পরিষ্কার করুন। পরিষ্কার ও পবিত্র পোশাক পরুন।
ধাপ ৩ — সংকল্প গ্রহণ: ভগবান বিষ্ণুর সামনে মনে মনে বা উচ্চারণ করে ব্রতের সংকল্প গ্রহণ করুন।
ধাপ ৪ — পূজা করুন:
- বিষ্ণু ও লক্ষ্মীর মূর্তি বা ছবি সামনে রাখুন।
- প্রদীপ ও ধূপ জ্বালান।
- ফুল, ফল, তুলসীপাতা, চন্দন ও নৈবেদ্য নিবেদন করুন।
- তুলসী পাতা দিয়ে পূজা করা বিশেষ শুভ।
ধাপ ৫ — মন্ত্র জপ করুন:
- “ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়” — ১০৮ বার জপ করুন।
- “ওঁ বিষ্ণবে নমঃ” — সারাদিন যখন পারবেন জপ করুন।
- সম্ভব হলে বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ করুন।
ধাপ ৬ — ব্রত কথা পাঠ: মোহিনী একাদশী ব্রত কথা পড়ুন বা শুনুন।
ধাপ ৭ — রাতে জাগরণ: রাত জেগে ভজন, কীর্তন বা শাস্ত্র পাঠ করা বিশেষ পুণ্যদায়ক বলে মনে করা হয়।
পারণ (উপবাস ভঙ্গ) কীভাবে করবেন?
পারণ তারিখ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ পারণ সময়: সকাল ৫:৪৩ AM থেকে ৮:২১ AM
- প্রথমে জল পান করুন।
- এরপর ফল বা দুধ গ্রহণ করুন।
- ভারী বা তৈলাক্ত খাবার সরাসরি খাওয়া উচিত নয়।
- দ্বাদশী তিথি শেষ হওয়ার আগেই পারণ করতে হবে।
- কৃতজ্ঞ ও ধ্যানমগ্ন মনে উপবাস ভাঙুন।
মোহিনী একাদশীতে কী খাওয়া যাবে ও কী যাবে না?
✅ যা খাওয়া যাবে (ফলাহার ব্রত):
- তাজা ফল (আম, কলা, আঙুর, খেজুর)
- দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য (দই, পনির)
- বাদাম ও কিশমিশ
- সাবুদানা (ট্যাপিওকা)
- সিঙ্গাড়া আটা (জলচেস্টনাট ফ্লাওয়ার)
- সেন্ধা নুন (পাথর লবণ — সাধারণ লবণ নয়)
- নারকেল জল
❌ যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ:
- চাল, গম, ডাল ও সব ধরনের শস্য
- পেঁয়াজ ও রসুন
- মাংস, মাছ ও ডিম
- অ্যালকোহল ও মাদকদ্রব্য
- তামসিক খাবার
নির্জলা ব্রত: যাঁরা সম্পূর্ণ নির্জলা (জল ছাড়া) ব্রত রাখতে চান, তাঁরা সারাদিন শুধু ঈশ্বরের নাম জপ ও ধ্যানে কাটাবেন। স্বাস্থ্যগত কারণে এই ধরনের কঠিন ব্রতের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মোহিনী একাদশীর আধ্যাত্মিক উপকারিতা
মোহিনী একাদশী শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয় — এটি একটি আত্মশুদ্ধির প্রক্রিয়া।
এই ব্রত পালনে যে সুফল পাওয়া যায়:
- মানসিক শান্তি: উপবাস ও ধ্যান মনকে স্থির ও প্রশান্ত করে।
- কর্মক্ষয়: অতীতের নেতিবাচক কর্মের বোঝা হালকা হয়।
- মোহ থেকে মুক্তি: সাংসারিক আসক্তি ও বিভ্রম কমে।
- ইচ্ছাশক্তি বৃদ্ধি: উপবাসের অনুশীলন আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখায়।
- ঐশ্বরিক সুরক্ষা: ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় নেতিবাচক শক্তি থেকে সুরক্ষা মেলে।
- আর্থিক সমৃদ্ধি: ভক্তরা বিশ্বাস করেন, এই ব্রত পরিবারে শান্তি ও সমৃদ্ধি আনে।
- মোক্ষের পথ: জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তির পথ সুগম হয়।
মোহিনী একাদশীতে দান-পুণ্যের গুরুত্ব
এই দিনে দান করা অত্যন্ত পুণ্যদায়ক বলে বিশ্বাস করা হয়।
কী দান করবেন?
- অন্ন ও খাদ্যদ্রব্য দান
- বস্ত্র দান
- গরিব ও অসহায় মানুষকে সাহায্য
- মন্দির বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান
শাস্ত্র বলছে — এই দিনে দান করলে ব্রতের ফল বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং দাতার পরিবারে দারিদ্র্য আসে না।
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে মোহিনী একাদশী পালন
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মোহিনী একাদশী পালন করেন। বাংলা পঞ্জিকায় এটি জ্যৈষ্ঠ মাস-এ পড়ে।
বাংলাদেশে এই ব্রত পালনের সময়:
- ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট সহ সারা দেশে বিষ্ণু মন্দিরে বিশেষ পূজা ও কীর্তন অনুষ্ঠিত হয়।
- ইসকন (ISKCON) মন্দিরগুলোয় বিশেষ অনুষ্ঠান ও প্রসাদ বিতরণ হয়।
- ভক্তরা দিনভর উপবাস রেখে রাতে ভজন-কীর্তনে মগ্ন থাকেন।
স্থানীয় পারণ সময়: বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গের নির্দিষ্ট পারণ সময় স্থানীয় পঞ্জিকা অনুসারে সামান্য আলাদা হতে পারে। আপনার নিকটস্থ মন্দির বা পঞ্জিকা থেকে সঠিক সময় জেনে নিন।
মোহিনী একাদশীতে মন্ত্র ও স্তোত্র
প্রধান মন্ত্র:
“ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়” (১০৮ বার জপ করুন)
অন্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্র:
- “ওঁ বিষ্ণবে নমঃ”
- “ওঁ লক্ষ্মীপতয়ে নমঃ”
- “ওঁ কৃষ্ণায় নমঃ”
বিষ্ণু সহস্রনাম:
যদি সম্পূর্ণ বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত ১০৮টি নাম পাঠ করুন। এটি বিশেষ পুণ্যদায়ক।
বার্ষিক একাদশী তালিকায় মোহিনী একাদশীর অবস্থান
বছরে মোট ২৪টি একাদশী পালিত হয়। মোহিনী একাদশী তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এটি বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষে আসে, যা বসন্ত ঋতুর শেষ ও গ্রীষ্মের শুরুর সময়।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
❓ মোহিনী একাদশী ২০২৬ কত তারিখে?
উত্তর: ২০২৬ সালে মোহিনী একাদশী পালিত হবে সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬। এটি বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়।
❓ মোহিনী একাদশীর পারণ কখন?
উত্তর: ২০২৬ সালে পারণ (উপবাস ভঙ্গের) সময় হলো ২৮ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৫:৪৩ AM থেকে ৮:২১ AM পর্যন্ত। দ্বাদশী তিথি শেষ হওয়ার আগেই পারণ সম্পন্ন করতে হবে।
❓ মোহিনী একাদশীর ব্রতে কী খাওয়া যায়?
উত্তর: মোহিনী একাদশীতে ফল, দুধ, দই, বাদাম, সাবুদানা ও সেন্ধা নুন দিয়ে তৈরি খাবার গ্রহণ করা যায়। চাল, গম, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, মাংস ও মাছ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
❓ মোহিনী একাদশী কেন বলা হয়?
উত্তর: সমুদ্র মন্থনের সময় ভগবান বিষ্ণু মোহিনী নামক এক সুন্দরী নারীর রূপ ধারণ করে অমৃত রক্ষা করেছিলেন। সেই অবতারের নামে এই একাদশীর নাম মোহিনী একাদশী।
❓ গর্ভবতী মহিলারা কি মোহিনী একাদশী ব্রত রাখতে পারবেন?
উত্তর: গর্ভবতী মহিলারা সম্পূর্ণ উপবাস না করে ফলাহার বা হালকা ব্রত রাখতে পারেন। তবে যেকোনো কঠোর উপবাসের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
❓ মোহিনী একাদশীতে রাত জাগা কি বাধ্যতামূলক?
উত্তর: রাত জাগা (জাগরণ) বাধ্যতামূলক নয়, তবে রাতে ভজন, কীর্তন বা বিষ্ণু স্মরণ করলে ব্রতের ফল বহুগুণ বৃদ্ধি পায় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।
❓ শিশুরা কি মোহিনী একাদশী ব্রত রাখতে পারবে?
উত্তর: হ্যাঁ, শিশুরা সরলীকৃত ব্রত রাখতে পারে — ফল ও প্রার্থনার মাধ্যমে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নির্জলা উপবাস করানো উচিত নয়।
❓ মোহিনী একাদশী কি পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে?
উত্তর: হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, হ্যাঁ — মোহিনী একাদশী অতীতের বহু জন্মের পাপ দূর করে। তবে এর সঙ্গে সত্যিকারের অনুশোচনা, ভক্তি ও সৎ জীবনযাপন জরুরি।
❓ মোহিনী একাদশী ও অন্য একাদশীর মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: মোহিনী একাদশী বিশেষভাবে মোহ বা মায়া থেকে মুক্তির জন্য পালিত হয়। এটি ভগবান বিষ্ণুর মোহিনী অবতারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিষ্ণু পুরাণ ও সূর্য পুরাণে এর আলাদা মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে।
শেষকথা
মোহিনী একাদশী কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি একটি আধ্যাত্মিক পথচলার সুযোগ। এই দিনে উপবাস, পূজা, মন্ত্রজপ ও দানের মাধ্যমে মানুষ নিজের ভেতরের মোহ, রাগ ও অহঙ্কার থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করে।
২০২৬ সালে ২৭ এপ্রিল (সোমবার) মোহিনী একাদশী পালিত হবে। এই বিশেষ দিনটিকে আত্মশুদ্ধি ও ঈশ্বরের প্রতি আত্মসমর্পণের দিন হিসেবে গ্রহণ করুন।
ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় আপনার জীবন সুখময়, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ হোক।
তথ্যসূত্র ও বিশ্বাসযোগ্য উৎস
- Drik Panchang — একাদশী তিথি ও পারণ সময় (drikpanchang.com)
- ISKCON Kurukshetra — মোহিনী একাদশীর গুরুত্ব (iskconkurukshetra.org)
- Vishnu Purana (বিষ্ণু পুরাণ) — পৌরাণিক কাহিনি
- Surya Purana (সূর্য পুরাণ) — একাদশী মাহাত্ম্য
- Padma Purana (পদ্মপুরাণ) — মোহিনী একাদশী বর্ণনা
- SmartPuja.com — ২০২৬ সালের তারিখ ও সময়
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”

