১৮ মার্চ ২০২৬ সরকারি ছুটি ঘোষণা

১৮ মার্চ ২০২৬ সরকারি ছুটি ঘোষণা

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১৮ মার্চ ২০২৬ (বুধবার) তারিখকে নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আসন্ন পবিত্র শবে কদর এবং ঈদুল ফিতরের পূর্ব নির্ধারিত ছুটির মাঝখানের এই দিনটিতে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। তবে বিদ্যুৎ, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল এবং ইন্টারনেটসহ সকল জরুরি পরিষেবা এই ছুটির আওতামুক্ত থাকবে।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং শবে কদরের ছুটির সাথে সমন্বয় করে সরকার একটি বিশেষ ছুটির ঘোষণা দিয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে গত ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই নির্দেশনার ফলে চাকরিজীবীদের মধ্যে ছুটির হিসাব নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, তার সুস্পষ্ট সমাধান পাওয়া গেছে।

চলুন, সহজ ভাষায় জেনে নিই এই ছুটির বিস্তারিত নিয়ম, কারা ছুটি পাবেন এবং কোন কোন প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে।

কেন ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করা হলো?

সাধারণত শবে কদর এবং ঈদুল ফিতরের ছুটির মাঝে যদি কোনো কর্মদিবস থাকে, তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তা কিছুটা অসুবিধার সৃষ্টি করে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, শবে কদর ও ঈদুল ফিতরের পূর্ব নির্ধারিত ছুটির মধ্যবর্তী দিন হওয়ায় ১৮ মার্চ ২০২৬ (বুধবার) তারিখটি নির্বাহী আদেশে ০১ (এক) দিনের সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে চাকরিজীবীরা লম্বা ও নিরবচ্ছিন্ন একটি ছুটি উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

কারা এই ছুটি পাবেন?

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নিচের প্রতিষ্ঠানগুলো ১৮ মার্চ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে:

  • সকল সরকারি অফিস
  • আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান
  • স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান
  • সাধারণ বেসরকারি অফিসসমূহ

ছুটির আওতামুক্ত থাকবে যেসব জরুরি পরিষেবা

জনদুর্ভোগ এড়াতে এবং দেশের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে সরকার বেশ কিছু জরুরি খাতকে এই ছুটির আওতার বাইরে রেখেছে। এই দিন নিচের সেবাগুলো স্বাভাবিক নিয়মে চলবে:

১. জরুরি ইউটিলিটি ও সেবা: বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস এবং অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ।

২. নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা: ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের কার্যক্রম এবং সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।

৩. যোগাযোগ ও প্রযুক্তি: টেলিফোন, ইন্টারনেট এবং ডাক সেবার সাথে জড়িত কর্মী ও যানবাহন।

৪. চিকিৎসাসেবা: সকল হাসপাতাল, ক্লিনিক, জরুরি চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক, নার্স এবং চিকিৎসাসামগ্রী বহনকারী যানবাহন।

৫. অন্যান্য জরুরি কাজ: এছাড়া জরুরি কাজের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত অন্যান্য অফিসসমূহ খোলা থাকবে।

ব্যাংক, আদালত ও কল-কারখানার ছুটির নিয়ম

অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে যে সরকারি ছুটির দিন ব্যাংক বা গার্মেন্টস খোলা থাকবে কিনা। প্রজ্ঞাপনে এই বিষয়ে আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:

  • ব্যাংক কার্যক্রম: ১৮ মার্চ ব্যাংক খোলা থাকবে নাকি বন্ধ থাকবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা প্রদান করবে বাংলাদেশ ব্যাংক
  • আদালত: দেশের সকল আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট
  • শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানা: বেসরকারি খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং কল-কারখানার ছুটির বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হবে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী। এ বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

১৮ মার্চ ২০২৬ কি সাধারণ ছুটি নাকি নির্বাহী আদেশের ছুটি?

এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত ‘নির্বাহী আদেশে’ সাধারণ ছুটি।

এই দিন কি বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে?

হ্যাঁ, প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সাধারণ বেসরকারি অফিসসমূহ বন্ধ থাকবে। তবে আপনার প্রতিষ্ঠান যদি জরুরি সেবার আওতায় পড়ে, তবে খোলা থাকতে পারে।

১৮ মার্চ কি ব্যাংক খোলা থাকবে?

ব্যাংক খোলা বা বন্ধ থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদা সার্কুলার দিয়ে এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে অবহিত করবে।

গার্মেন্টস বা শিল্প কারখানা কি ১৮ মার্চ বন্ধ থাকবে?

শিল্প কারখানা ও গার্মেন্টস সেক্টরের ছুটির বিষয়টি সরাসরি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। এ বিষয়ে শ্রম আইন অনুযায়ী আলাদা নির্দেশনা আসবে।

তথ্যসূত্র: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (www.mopa.gov.bd)

Leave a Comment

Scroll to Top