২২ ডিজিটের ডিজিটাল নথির নিয়ম কী? বাংলাদেশ সচিবালয় নির্দেশমালা ২০২৪ অনুযায়ী, সরকারি দাপ্তরিক কার্যাবলি সুশৃঙ্খল ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনার জন্য মোট ২২টি ডিজিটের (Digit) সমন্বয়ে গঠিত একটি অনন্য কোড বা নম্বর ব্যবহার করা হয়, যা ২২ ডিজিটের ডিজিটাল নথির নিয়ম নামে পরিচিত । এই নিয়মে মোট ৮টি কোড অংশ এবং ৮টি ফুলস্টপ (.) থাকে । নথির গোপনীয়তা রক্ষা এবং তথ্য সহজে সংরক্ষণ ও ট্র্যাক করার জন্য আধুনিক কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে এই নম্বর পদ্ধতিটি প্রবর্তন করা হয়েছে ।
আধুনিক স্মার্ট অফিস এবং পেপারলেস সিস্টেম বাস্তবায়নে সরকারের এই ডিজিটাল নথি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে । কীভাবে এই ২২টি ডিজিট কাজ করে এবং এর গঠনকাঠামো কেমন, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
২২ ডিজিটের ডিজিটাল নথির গঠন ও কোড বিশ্লেষণ
একটি ডিজিটাল নথি নম্বরকে কখনোই ২২ (বাইশ) ডিজিটের বেশি বা কম করা যাবে না । এর সুনির্দিষ্ট ৮টি অংশ নিচে ক্রমান্বয়ে দেওয়া হলো:
- ১. মন্ত্রণালয়/বিভাগ কোড (২ ডিজিট): ডিজিটাল নথি নম্বরের একেবারে প্রথম অবস্থানে দুই অঙ্কবিশিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কোড সন্নিবেশিত করা হয় ।
- ২. সংযুক্ত দপ্তর বা অধিক্ষেত্র কোড (২ ডিজিট): মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আওতাধীন সংস্থা বা দপ্তরের জন্য ০১ থেকে ৯৯ পর্যন্ত দুই ডিজিটের কোড বরাদ্দ করা হয়, যা দ্বিতীয় অবস্থানে বসে ।
- ৩. জিওগ্রাফিক (জিও) কোড (৪ ডিজিট): তৃতীয় অবস্থানে চার অঙ্কবিশিষ্ট জিও কোড বসাতে হয় । জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অফিসের অবস্থান বোঝাতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক নির্ধারিত এই কোড ব্যবহার করা হয় ।
- ৪. অধস্তন প্রতিষ্ঠান কোড (৩ ডিজিট): একই জিও কোডের আওতায় একাধিক প্রতিষ্ঠান থাকলে তাদের সহজে চিহ্নিত করার জন্য তিন অঙ্কবিশিষ্ট এই কোডটি চতুর্থ অবস্থানে ব্যবহার করা হয় ।
- ৫. শাখা কোড (৩ ডিজিট): নথি সৃষ্টিকারী দপ্তরের অভ্যন্তরীণ শাখা, অধিশাখা বা অনুবিভাগকে (যেমন- প্রশাসন, হিসাব) বোঝাতে তিন ডিজিটের শাখা কোড পঞ্চম অবস্থানে বসে ।
- ৬. বিষয়ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস কোড (২ ডিজিট): প্রতিটি সরকারি দপ্তরে কাজের ধরন ভিন্ন হয়, তাই স্ব স্ব বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে দুই অঙ্কের বিষয়ভিত্তিক কোড ষষ্ঠ অবস্থানে নির্ধারণ করা হয় ।
- ৭. নথির ক্রমিক সংখ্যা কোড (৪ ডিজিট): প্রতি বছরের শুরুতে বিষয়ভিত্তিক নথির ক্রমিক সংখ্যা ০০০১ থেকে শুরু করতে হয় এবং এটি সপ্তম অবস্থানে বসে ।
- ৮. নথি খোলার সন কোড (২ ডিজিট): অষ্টম বা সর্বশেষ অবস্থানে নথি খোলার সনের শেষ দুই ডিজিট বসাতে হয় ।
শূন্য (0) ও ফুলস্টপ (.) ব্যবহারের বিশেষ সতর্কতা
- নথি নম্বরের প্রতিটি কোডের অবস্থানকে অবশ্যই একটি ডট বা ফুলস্টপ (.) চিহ্ন দ্বারা বিভাজন করে লিখতে হবে ।
- ডিজিটাল নথি নম্বরের কোনো ঘর বা অবস্থান কোনো নির্দিষ্ট দপ্তরের জন্য প্রযোজ্য না হলে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক শূন্য (০) দিয়ে সেই ঘর পূরণ করতে হবে ।
- অর্থাৎ, কোনো অবস্থানকেই বাদ দেওয়া বা ফাঁকা রাখা যাবে না ।
- নথি খোলার সনের পর ডট দিয়ে চিঠির জারি নম্বর ব্যবহার করা হয় । তবে মনে রাখতে হবে, এই জারি নম্বরটি ডিজিটাল নথি নম্বরের মূল ২২ ডিজিটের অংশ নয় ।
ডিজিটাল নথি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা ও সুবিধা
সরকারি কার্যাবলিতে ই-নথি বা ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি করেছে।
- নির্ভুল ট্র্যাকিং: ডিজিটাল ফাইল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমের মাধ্যমে নথির গতিবিধি সহজেই নিরূপণ করা যায় ।
- স্বয়ংক্রিয় সংরক্ষণ: সিস্টেমের মাধ্যমে চিঠিপত্রের অফিস কপি মাস্টারফাইল এবং সংশ্লিষ্ট নথিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত থাকে ।
- নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা: দাপ্তরিক নথিপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুমোদিত ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক স্বাক্ষর ব্যবহার করা যায় ।
সাধারন জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: ডিজিটাল নথি নম্বর কত ডিজিটের হয়ে থাকে?
উত্তর: বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ডিজিটাল নথি নম্বর ঠিক ২২ (বাইশ) ডিজিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হয় ।
প্রশ্ন: ডিজিটাল নথি কোডে কয়টি ফুলস্টপ ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: ডিজিটাল নথি নম্বরকে ৮টি অংশে বিভাজন করার জন্য মোট ৮টি ফুলস্টপ (.) ব্যবহার করা হয় ।
প্রশ্ন: ডিজিটাল নথির ক্ষেত্রে যদি কোনো নির্দিষ্ট কোড না থাকে তখন কী করতে হবে? উত্তর: নথির নিয়মে কোনো অবস্থান বাদ দেওয়া যায় না; কোনো দপ্তরের জন্য নির্দিষ্ট কোড প্রযোজ্য না হলে, সেই স্থানটি শূন্য (0) দ্বারা পূরণ করতে হবে ।
প্রশ্ন: পুরনো বা বিনষ্টযোগ্য নথির নম্বর কি পুনরায় ব্যবহার করা যায়?
উত্তর: না, প্রতি বছরের শুরুতে নথির ক্রমিক সংখ্যা নূতনভাবে ০০০১ থেকে শুরু করতে হবে এবং পুরাতন বা বিনষ্টযোগ্য কোনো নথি নম্বর পুনরায় ব্যবহার করা যাবে না ।
সর্বশেষ আপডেট তারিখ: ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
বিশ্বাসযোগ্য সোর্স (Credible Source):
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত “সচিবালয় নির্দেশমালা ২০২৪” (ISBN: 978-984-35-6793-2) ।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”
