তাদের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের নিয়ে আলোচনার মূল কারণগুলো হলো:
ভাইরাল হওয়া সাক্ষাৎকার ও ইমোশনাল রিলস
বর্তমানে তাদের ট্রেন্ডিং হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম। আসিফ শেখ বিভিন্ন সময়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে (যেমন: সিদ্ধার্থ কান্নানের সাথে বা অন্যান্য পডকাস্টে) সালমান খানের সাথে তার সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে কথা বলেছেন।
- তিনি শেয়ার করেছেন কীভাবে তার ক্যারিয়ারের খুব খারাপ সময়ে, যখন তার হাতে কাজ ছিল না, সালমান খান তাকে আর্থিকভাবে এবং মানসিকভাবে সাপোর্ট করেছেন।
- এই সাক্ষাৎকারের ইমোশনাল ছোট ছোট ক্লিপগুলো বর্তমানে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবে প্রচুর শেয়ার হচ্ছে। এই প্রজন্মের অনেকেই তাদের এই গভীর বন্ধুত্বের কথা জানতেন না, তাই এই ভিডিওগুলো ভাইরাল হচ্ছে।
পার্টি এবং গেট-টুগেদারের ছবি
সালমান খানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের যেকোনো বড় অনুষ্ঠান, যেমন—ঈদ পার্টি বা দিওয়ালি পার্টিতে আসিফ শেখ প্রায়ই আমন্ত্রিত থাকেন। যখনই এই দুই বন্ধুর বর্তমান সময়ের কোনো ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসে, ভক্তরা তাদের পুরনো ‘করণ-অর্জুন’ আমলের ছবির সাথে মিলিয়ে পোস্ট করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
একে অপরের প্রতি অটুট শ্রদ্ধা
জনসমক্ষে তারা একে অপরকে যেভাবে সম্মান করেন, তা দর্শকদের মুগ্ধ করে। আসিফ শেখ সবসময় বলেন, সালমান সুপারস্টার হলেও তার কাছে সে আগের সেই বন্ধুই আছে। এই অকৃত্রিম ভালোবাসাই মানুষকে তাদের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে বাধ্য করে।
বন্ধুত্বের শুরু: খ্যাতির আগের দিনগুলো
তাদের এই সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল ১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে, যখন তারা কেউই আজকের মতো সুপারস্টার ছিলেন না।
- একই পথের পথিক: আসিফ শেখ জানিয়েছেন, তাদের দেখা হয়েছিল যখন তারা দুজনেই বলিউডে নিজেদের জায়গা তৈরির জন্য অডিশন দিয়ে বেড়াতেন। বান্দ্রার রাস্তায় ঘোরাঘুরি, এক প্লেট খাবার ভাগ করে খাওয়া—এভাবেই তাদের বন্ধুত্বের শুরু।
- পারিবারিক বন্ধন: আসিফ শেখের সম্পর্ক শুধু সালমানের সাথে নয়, সালমানের বাবা সেলিম খান এবং পুরো পরিবারের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সালমান খানের পরিবারের সুখ-দুঃখের অনেক পুরনো সাক্ষী আসিফ।
‘করণ অর্জুন’ এবং সেই আইকনিক জুটি
পেশাগতভাবে তাদের জুটিকে দর্শক সবচেয়ে বেশি মনে রেখেছে ১৯৯৫ সালের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘করণ অর্জুন’ (Karan Arjun)-এর জন্য।
এই সিনেমায় সালমান খান ছিলেন নায়ক ‘করণ’ এবং আসিফ শেখ অভিনয় করেছিলেন খলনায়ক ‘সুরজ সিং’-এর চরিত্রে। পর্দায় তারা শত্রু হলেও, সেটের পেছনে তারা ছিলেন সবচেয়ে ভালো বন্ধু।
ফ্যাক্ট: ‘করণ অর্জুন’ সিনেমায় আসিফ শেখের বলা ডায়লগ “What a joke!” আজও মিম হিসেবে ভীষণ জনপ্রিয়।
পেশাগত জীবনের বাইরে ব্যক্তিগত বন্ধন
সময়ের সাথে সালমান খান বলিউডের অন্যতম বড় সুপারস্টার হয়ে ওঠেন এবং আসিফ শেখ টেলিভিশনের জগতে ‘ভাবিজি ঘর পার হ্যায়’ দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। কিন্তু তাদের বন্ধুত্বে কখনো ভাটা পড়েনি।
- সাপোর্ট সিস্টেম: আসিফ শেখ অকপটে স্বীকার করেন, তার ক্যারিয়ার যখন ডুবতে বসেছিল, সালমান খান তাকে নিজের প্রযোজিত সিনেমায় ছোট ছোট চরিত্রে কাজ দিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে সাহায্য করেছিলেন।
- ‘ভারত’ সিনেমায় ক্যামিও: তাদের অটুট বন্ধুত্বের প্রমাণ হিসেবে ২০১৯ সালে সালমান খানের সিনেমা ‘ভারত’ (Bharat)-এ আসিফ শেখকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যামিও চরিত্রে দেখা যায়। সালমান নিজেই চেয়েছিলেন তার পুরোনো বন্ধু এই সিনেমায় থাকুক।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”

