আপনি যদি অল্প কথায় রমজানে করণীয় ও বর্জনীয় কাজগুলোর একটি তালিকা খুঁজছেন, তবে নিচের পয়েন্টগুলো আপনার জন্য:
রমজানে আমাদের করণীয়:
- নিষ্ঠার সাথে সকল ফরজ রোজা আদায় করা।
- পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি তারাবিহ এবং তাহাজ্জুদ পড়া।
- প্রতিদিন নিয়ম করে কোরআন তিলাওয়াত করা ও অর্থ বোঝা।
- সামর্থ্য অনুযায়ী দান-সদকা করা এবং অন্যদের ইফতার করানো।
- বেশি বেশি দোয়া, জিকির এবং ইস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করা।
রমজানে বর্জনীয় (যা করা যাবে না):
- মিথ্যা কথা বলা, ধোঁকা দেওয়া এবং গিবত (পরনিন্দা) করা।
- ঝগড়া-বিবাদ ও রাগ বা ক্ষোভ প্রকাশ করা।
- ইফতার বা সেহরিতে অতিরিক্ত খাবার নষ্ট বা অপচয় করা।
- সোশ্যাল মিডিয়া বা বিনোদনের নামে অযথা সময় নষ্ট করা।
- হারাম বা সন্দেহযুক্ত খাবার দিয়ে ইফতার বা সেহরি করা।
আসসালামু আলাইকুম। রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস রমজান আমাদের দুয়ারে। বাংলাদেশে আমরা বেশ আনন্দ ও উদ্দীপনার সাথে এই মাসটি পালন করি। তবে অনেক সময় সঠিক জ্ঞানের অভাবে আমরা রমজানের মূল উদ্দেশ্য থেকে ছিটকে পড়ি।
রোজা মানে শুধু সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত না খেয়ে থাকা নয়, বরং এটি হলো আত্মশুদ্ধি বা নিজেকে শোধরানোর মাস। এই আর্টিকেলে আমরা কোরআন ও হাদিসের আলোকে রমজানে মুমিনের করণীয় ও বর্জনীয় দিকগুলো নিয়ে সহজ ও বিস্তারিত আলোচনা করব, যাতে আপনার রমজান মাসটি সবচেয়ে ফলপ্রসূ হয়।
রমজানে করণীয় আমল (যা বেশি বেশি করবেন)
রমজান মাসে যেকোনো নেক আমলের সওয়াব আল্লাহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেন (৭০ গুণ পর্যন্ত)। তাই নিচের আমলগুলো আপনার দৈনন্দিন রুটিনে যুক্ত করার চেষ্টা করুন:
ক. কোরআনের সাথে সময় কাটানো
রমজান হলো কোরআন নাজিলের মাস। তাই এই মাসে কোরআন তিলাওয়াত করা সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত।
- টিপস: শুধু আরবি পড়ার পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত এক পৃষ্ঠা করে কোরআনের বাংলা অর্থ ও তাফসির পড়ার চেষ্টা করুন। এতে আপনার জীবনবোধ বদলে যাবে।
খ. সময়মতো সেহরি ও ইফতার করা
- সেহরি: সেহরি খাওয়া সুন্নত। শেষ সময়ে (সুবহে সাদিকের ঠিক আগে) সেহরি খাওয়া মুস্তাহাব।
- ইফতার: সূর্যাস্তের সাথে সাথে দেরি না করে ইফতার করে নেওয়া সুন্নাত। ইফতারের আগের সময়টিতে আল্লাহ বান্দার দোয়া ফিরিয়ে দেন না, তাই এ সময় বেশি বেশি দোয়া করুন।
গ. দান-সদকা ও যাকাত আদায়
রমজানে রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও বেশি দানশীল হয়ে যেতেন। আপনার আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে যারা গরিব, তাদের খোঁজ নিন। চাইলে এই মাসেই আপনার সম্পদের হিসাব করে যাকাত আদায় করে নিতে পারেন।
রমজানে আমাদের বর্জনীয় কাজ (যা থেকে বিরত থাকবেন)
আমাদের কিছু বদভ্যাস রোজার সওয়াবকে সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিতে পারে। তাই নিচের বিষয়গুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখুন:
ক. পাপাচার ও মিথ্যাচার বর্জন
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা ও পাপাচার ছাড়তে পারল না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।” (সহিহ বুখারি)। তাই গিবত, পরনিন্দা ও মিথ্যা কথা বলা থেকে জিহ্বাকে সম্পূর্ণ সংযত রাখুন।
খ. খাবারের অপচয় রোধ
বাংলাদেশে রমজান মাসে ইফতার আয়োজনে প্রচুর খাদ্যের অপচয় হয়। আল্লাহ কোরআনে অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই বলেছেন। যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই রান্না করুন। বেঁচে যাওয়া খাবার ফ্রিজে না রেখে গরিব বা অসহায় মানুষদের দিয়ে দিন।
গ. সময় অপচয় না করা
অফিস বা কাজের ফাঁকে সময় কাটানোর জন্য অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করেন, সিনেমা বা নাটক দেখেন। এই মাসে ডিজিটাল দুনিয়া থেকে একটু দূরে থেকে সেই সময়টা জিকির বা ইসলামিক বই পড়ার কাজে লাগান।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন ১: রমজানে সবচেয়ে উত্তম আমল কী?
উত্তর: ফরজ রোজা ও নামাজ আদায় করার পর রমজানে সবচেয়ে উত্তম আমল হলো কোরআন তিলাওয়াত করা, তারাবিহ নামাজ পড়া এবং লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করা।
প্রশ্ন ২: রোজা রেখে মিথ্যা বললে বা গিবত করলে কি রোজা ভেঙে যায়?
উত্তর: মিথ্যা বলা বা গিবত করার কারণে রোজা সরাসরি ভাঙে না, তবে রোজার সওয়াব বা পবিত্রতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এটি রোজাকে প্রাণহীন করে দেয় এবং এটি একটি কবিরা গুনাহ।
প্রশ্ন ৩: রমজানে কি সারাদিন ঘুমিয়ে থাকা জায়েজ?
উত্তর: রোজা রেখে কষ্ট কমানোর জন্য সারাদিন বা অধিকাংশ সময় ঘুমিয়ে কাটানো মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। এতে রোজার মূল উদ্দেশ্য— তাকওয়া অর্জন ও শারীরিক সংযম— বাধাগ্রস্ত হয়।
প্রশ্ন ৪: কর্মব্যস্ত মানুষের জন্য রমজানে করণীয় কী?
উত্তর: যারা অফিসে বা ব্যবসায় ব্যস্ত থাকেন, তারা যাতায়াতের সময়টুকুতে জিকির করতে পারেন। এছাড়া কাজের ফাঁকে ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় করা এবং সহকর্মীদের সাথে উত্তম আচরণ করাও বড় ইবাদত।
তথ্যসূত্র (Sources – Verified):
- আল-কুরআন (সূরা বাকারাহ)।
- সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের রোজার অধ্যায়।
- ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর রমজান নির্দেশিকা।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”
