বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. আব্দুল কুদ্দুস মারা গেছেন

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. আব্দুল কুদ্দুস মারা গেছেন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস মারা গেছেন। শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

বাংলাদেশী রাজনীতি ও চিকিৎসা সেবায় এক শোকাবহ দিনের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা শেষে প্রখ্যাত চিকিৎসক ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। যাঁরা তাঁর শারীরিক অবস্থা ও দাফন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাচ্ছেন, তাঁদের জন্য নিচে ভেরিফাইড এবং আপডেটেড তথ্যগুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো।

ডা. আব্দুল কুদ্দুসের মৃত্যুর বিস্তারিত তথ্য

অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস বেশ কিছুদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। তাঁকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৫ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে এবং নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও রাজনৈতিক পরিচয়

ডা. আব্দুল কুদ্দুস ছিলেন একাধারে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রথিতযশা চিকিৎসক এবং দেশপ্রেমিক রাজনীতিক। তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • মুক্তিযুদ্ধে অবদান: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেন।
  • চিকিৎসা পেশা: তিনি বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের একজন স্বনামধন্য শিক্ষক ছিলেন। একইসাথে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবেও অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
  • রাজনৈতিক জীবন: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।
  • সামাজিক সম্পৃক্ততা: তিনি জিয়া পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

জানাজা ও দাফন কর্মসূচি

পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মরহুমের জানাজা এবং দাফন প্রক্রিয়া দুটি ধাপে সম্পন্ন হবে:

  1. প্রথম জানাজা (ঢাকা): শনিবার (২৫ এপ্রিল, ২০২৬) বাদ আসর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
  2. দ্বিতীয় জানাজা ও দাফন (ময়মনসিংহ): রবিবার (২৬ এপ্রিল, ২০২৬) বাদ জোহর ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে তাঁর নিজ গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পূর্ণ ধর্মীয় মর্যাদায় তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

শোকবার্তা ও সমবেদনা

প্রবীণ এই চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহল থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে:

  • বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং দেশের চিকিৎসা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর অবদানকে স্মরণীয় বলে উল্লেখ করেন।
  • অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন (বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য) এবং অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী (বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য) পৃথক শোকবার্তায় মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

সাধারণ মানুষের জিজ্ঞাসা

১. ডা. আব্দুল কুদ্দুস কে ছিলেন?

ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। তিনি বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ছিলেন।

২. বিএনপি নেতা ডা. আব্দুল কুদ্দুস কবে মারা গেছেন?

তিনি শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ৭৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

৩. ডা. আব্দুল কুদ্দুস কোথায় চিকিৎসাধীন ছিলেন?

তিনি রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

৪. মরহুমের দাফন কোথায় সম্পন্ন হবে?

রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নিজ গ্রামে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

Leave a Comment

Scroll to Top