| গাজী রাকায়েত হোসেন (জন্ম: ১৫ জুন ১৯৬৬) একজন বাংলাদেশী অভিনেতা, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক। তিনি তাঁর পরিচালিত ‘মৃত্তিকা মায়া’ (২০১৩) চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ ১৭টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করে ইতিহাস গড়েছেন। সর্বমোট তিনি ২৮টিরও বেশি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। |
গাজী রাকায়েত সম্পর্কে এক নজরে
| পুরো নাম | গাজী রাকায়েত হোসেন |
| জন্ম | ১৫ জুন ১৯৬৬ |
| জন্মস্থান | ঢাকা, বাংলাদেশ |
| পেশা | অভিনেতা, নাট্যকার, চলচ্চিত্র পরিচালক |
| শিক্ষা | সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, বুয়েট (১৯৯৩) |
| প্রথম চলচ্চিত্র (অভিনয়) | নদীর নাম মধুমতী (১৯৯৫) |
| প্রথম পরিচালনা | মৃত্তিকা মায়া (২০১৩) |
| জাতীয় পুরস্কার | ২৮টিরও বেশি (বাংলাদেশ) |
| অভিনয় স্কুল | চারুনীড়ম স্কুল অব অ্যাক্টিং (প্রতিষ্ঠাতা) |
| স্ত্রী | গাজী নায়রা শাহরিন (বিবাহ: ১৯৯৭) |
গাজী রাকায়েত কে?
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতে গাজী রাকায়েত হোসেন একটি অত্যন্ত পরিচিত ও সম্মানিত নাম। তিনি একাধারে একজন প্রতিভাবান অভিনেতা, দক্ষ নাট্যকার এবং পুরস্কারজয়ী চলচ্চিত্র পরিচালক। বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসে তিনি এমন একটি অধ্যায় রচনা করেছেন, যা দীর্ঘদিন অটুট থাকবে।
মাত্র দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনা করেই তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে রেকর্ড সংখ্যক পুরস্কার জিতেছেন। তাঁর অনুপ্রেরণামূলক জীবনকথা ও সৃষ্টিকর্ম প্রতিটি তরুণ চলচ্চিত্রকর্মীর কাছে আদর্শ হয়ে উঠেছে।
গাজী রাকায়েতের জন্ম, পরিবার ও শিক্ষাজীবন
গাজী রাকায়েত হোসেন ১৯৬৬ সালের ১৫ জুন ঢাকার গেন্ডারিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবদুল আউয়াল গাজী এবং মাতার নাম বিলকিস বেগম। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।
শিক্ষাগত যোগ্যতা:
- ১৯৮৩ সালে গেন্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি (মাধ্যমিক) পাস করেন।
- ১৯৮৫ সালে নটর ডেম কলেজ, ঢাকা থেকে উজ্জ্বল ফলাফলে এইচএসসি পাস করেন।
- ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
মজার বিষয় হলো, বুয়েটের মতো দেশের সর্বোচ্চ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক হওয়ার পরেও তিনি প্রকৌশলীর জীবন নয়, বেছে নিয়েছেন নাটক ও চলচ্চিত্রের অনিশ্চিত কিন্তু সৃষ্টিশীল জীবন।
অভিনয় জীবনের শুরু ও বিকাশ
মাত্র ১২–১৩ বছর বয়সে গাজী রাকায়েত প্রথম মঞ্চে উঠেছিলেন। গেন্ডারিয়া ফায়ার স্টেশনের কাছে পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে একটি মঞ্চনাটকে ‘বৃদ্ধের চরিত্রে’ অভিনয় করেন। পরে বুয়েটে ভর্তির পর আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘তোমরাই’ নাটক দেখে পেশাদার অভিনয়ের প্রতি মনস্থির করেন।
উল্লেখযোগ্য অভিনীত চলচ্চিত্র:
- নদীর নাম মধুমতী (১৯৯৫) — পরিচালক: তানভীর মোকাম্মেল (প্রথম চলচ্চিত্র)
- খেলাঘর (২০০৬) — পরিচালক: মোরশেদুল ইসলাম (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)
- আহা! (২০০৭) — পরিচালক: এনামুল করিম নির্ঝর
- চন্দ্রগ্রহণ (২০০৮) — পরিচালক: মুরাদ পারভেজ
- দ্য লাস্ট ঠাকুর (২০০৮) — মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক
- প্রিয়তমেষু (২০০৯) — পরিচালক: মোরশেদুল ইসলাম
- আমার বন্ধু রাশেদ (২০১১) — পরিচালক: মোরশেদুল ইসলাম (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)
- গেরিলা (২০১১) — পরিচালক: নাসির উদ্দিন ইউসুফ
- অনিল বাগচীর একদিন (২০১৫) — আইয়ুব আলী চরিত্রে (জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী অভিনয়)
- জোনাকীর আলো — এস এম সুলতানের চরিত্রে অভিনয় (পরিচালক: খালিদ মাহমুদ মিঠু)
নাটকে অভিনয়:
টেলিভিশন ও মঞ্চনাটকে গাজী রাকায়েতের অভিনয় বাংলাদেশের দর্শকদের মুগ্ধ করেছে বহুদিন ধরে। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘একজন আয়নাল লস্কর’, ‘সাকিন’, ‘চিঠি’, ‘বৃষ্টি রাতের গল্প’, ‘অনিরুদ্ধ’, এবং ‘সাম্প্রতিক একটি আত্মহত্যার কথা’।
দীর্ঘদিন তিনি ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’-এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে মঞ্চে নিয়মিত কাজ করেছেন।
পরিচালক হিসেবে গাজী রাকায়েত: রেকর্ডের মালিক
পরিচালনায় যাত্রার শুরু
চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে গাজী রাকায়েতের অভিষেক হয় ২০০৪ সালে, ‘ঘুণ’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এরপর ২০০৫ সালে নির্মাণ করেন ‘জীবনমৃত’ নামের আরেকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যা বিশেষ প্রশংসা লাভ করে।
মৃত্তিকা মায়া (২০১৩): ইতিহাসের পাতায় নাম
২০১৩ সালে নিজের রচনা ও পরিচালনায় মুক্তি পায় তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মৃত্তিকা মায়া’। এই চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে ওঠে।
| ‘মৃত্তিকা মায়া’ — বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো একটি চলচ্চিত্র একই বছরে সর্বোচ্চ ১৭টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করে। ২০১৫ সালে ঘোষিত এই পুরস্কারে ‘শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র’ ও ‘শ্রেষ্ঠ পরিচালক’ সহ একাধিক বিভাগে পুরস্কার আসে। |
এছাড়াও ২০১৪ সালে প্রদত্ত বাচসাস পুরস্কারে ‘মৃত্তিকা মায়া’ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ও শ্রেষ্ঠ পরিচালকসহ মোট সাতটি বিভাগে পুরস্কার পায়।
গোর দ্য গ্রেভ (২০২০): দ্বিতীয় পরিচালনায় আবার পুরস্কার
তাঁর দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘গোর দ্য গ্রেভ’ বাংলা ও ইংরেজি দুটি ভাষায় নির্মিত হয়। এই ছবিটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২০-এ শ্রেষ্ঠ পরিচালকসহ একাধিক বিভাগে পুরস্কার জেতে।
আসছে ‘জন্মসূত্র’
গাজী রাকায়েত বর্তমানে তাঁর তৃতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘জন্মসূত্র’ নিয়ে কাজ করছেন। তিনি নিজে জানিয়েছেন, ‘এ সিনেমাটি একটি নিরীক্ষা আমাদের জন্য ভিন্ন ভাবনা ও আঙ্গিকে নির্মাণ করছি।’ শুটিং ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
গাজী রাকায়েতের পুরস্কার ও সম্মাননা
গাজী রাকায়েত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় চলচ্চিত্র সম্মান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার একাধিকবার একাধিক বিভাগে জিতেছেন। তাঁর মোট জাতীয় পুরস্কারের সংখ্যা ২৮টিরও বেশি, যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে বিরল।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে বিজয়:
- শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র — মৃত্তিকা মায়া (২০১৩ সালের ছবি)
- শ্রেষ্ঠ পরিচালক — মৃত্তিকা মায়া (একই বছরে)
- শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার — মৃত্তিকা মায়া
- শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার — মৃত্তিকা মায়া
- শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা — মৃত্তিকা মায়া
- শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা — অনিল বাগচীর একদিন (২০১৫)
- শ্রেষ্ঠ পরিচালক — গোর দ্য গ্রেভ (২০২০)
বাচসাস পুরস্কার:
- শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র — মৃত্তিকা মায়া (২০১৪ সালে প্রদত্ত)
- শ্রেষ্ঠ পরিচালক এবং আরও ৫টি বিভাগে পুরস্কার
নাট্যকার ও নাট্যনির্দেশক হিসেবে গাজী রাকায়েত
শুধু চলচ্চিত্রেই নয়, বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের জগতেও গাজী রাকায়েত একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি বহু নাটক রচনা ও পরিচালনা করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
চারুনীড়ম স্কুল অব অ্যাক্টিং
গাজী রাকায়েত ‘চারুনীড়ম স্কুল অব অ্যাক্টিং’-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। এই প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত নাটক মঞ্চায়ন করে এবং নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি নিজে বলেন, ‘আপাতত চারুনীড়ম স্কুল অব অ্যাক্টিং-এ বাচ্চাদের পড়ানো নিয়েই দিনের বেশিরভাগ সময় যায়।’
ডিরেক্টরস গিল্ডের প্রথম সভাপতি
২০১৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম ডিরেক্টরস গিল্ড নির্বাচনে গাজী রাকায়েত সভাপতি নির্বাচিত হন। এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পরিচালকদের সংগঠনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
গাজী রাকায়েতের ব্যক্তিগত জীবন
গাজী রাকায়েত ১৯৯৫ সালে সহশিল্পী ও অভিনেত্রী আফসানা মিমিকে বিয়ে করেন। তবে ১৯৯৬ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে ১৯৯৭ সালে তিনি গাজী নায়রা শাহরিনকে বিয়ে করেন।
আধ্যাত্মিক যাত্রা: নাস্তিকতা থেকে ইসলামে প্রত্যাবর্তন
সম্প্রতি গাজী রাকায়েতের একটি নতুন পরিচয় সারা দেশে আলোচনার ঝড় তুলেছে। বুয়েটে পড়াশোনার সময় বিজ্ঞানচর্চা ও ব্যক্তিগত কিছু বেদনাদায়ক ঘটনার কারণে তিনি ধর্মবিশ্বাস থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। একসময় তিনি কোরআনের ‘ভুল’ খুঁজতে বসেছিলেন। কিন্তু অনুসন্ধান শেষে উল্টো কোরআনের বৈজ্ঞানিক সত্যতায় মুগ্ধ হয়ে তিনি ইসলামের পথে ফিরে আসেন।
২০২৬ সালে এক পডকাস্ট আলোচনায় তিনি এই আধ্যাত্মিক যাত্রার কথা নিজেই খুলে বলেছেন, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে গাজী রাকায়েতের অবদান
গাজী রাকায়েতের সবচেয়ে বড় অবদান হলো তিনি প্রমাণ করেছেন যে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়েও মানসম্পন্ন ও পুরস্কারযোগ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভব। তাঁর কাজে সবসময় মানবিক সম্পর্ক, সমাজের বাস্তবতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিফলিত হয়।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরেছেন।
- ‘মৃত্তিকা মায়া’-র মাধ্যমে বাংলাদেশে কমার্শিয়াল নয়, বরং আর্ট ফিল্মও যে সর্বোচ্চ পুরস্কার পেতে পারে — তা প্রমাণ করেছেন।
- চারুনীড়ম স্কুল অব অ্যাক্টিং-এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পী তৈরি করছেন।
- ডিরেক্টরস গিল্ডের মাধ্যমে পরিচালকদের সংগঠিত করে চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
| গাজী রাকায়েত কত সালে জন্মগ্রহণ করেন? |
| গাজী রাকায়েত হোসেন ১৯৬৬ সালের ১৫ জুন ঢাকার গেন্ডারিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবদুল আউয়াল গাজী। |
| গাজী রাকায়েত কোথায় পড়াশোনা করেছেন? |
| গাজী রাকায়েত ১৯৮৩ সালে গেন্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৮৫ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। |
| গাজী রাকায়েত কতটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন? |
| গাজী রাকায়েত এখন পর্যন্ত ২৮টিরও বেশি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। তাঁর পরিচালিত ‘মৃত্তিকা মায়া’ একা ১৭টি শাখায় জাতীয় পুরস্কার জেতে, যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ড। |
| গাজী রাকায়েতের প্রথম চলচ্চিত্র কোনটি? |
| অভিনেতা হিসেবে গাজী রাকায়েতের প্রথম চলচ্চিত্র ‘নদীর নাম মধুমতী’ (১৯৯৫), যেটি পরিচালনা করেছিলেন তানভীর মোকাম্মেল। পরিচালক হিসেবে তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মৃত্তিকা মায়া’ (২০১৩)। |
| গাজী রাকায়েতের স্ত্রীর নাম কী? |
| গাজী রাকায়েতের বর্তমান স্ত্রীর নাম গাজী নায়রা শাহরিন। তিনি তাঁকে ১৯৯৭ সালে বিয়ে করেন। এর আগে ১৯৯৫ সালে তিনি অভিনেত্রী আফসানা মিমিকে বিয়ে করেছিলেন, কিন্তু ১৯৯৬ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। |
| গাজী রাকায়েতের নতুন সিনেমা কোনটি? |
| গাজী রাকায়েত বর্তমানে ‘জন্মসূত্র’ নামের তৃতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন। তিনি জানিয়েছেন, এটি একটি ভিন্নধর্মী ও নিরীক্ষামূলক কাজ হবে। |
| গাজী রাকায়েত কেন ইসলামে ফিরে এলেন? |
| গাজী রাকায়েত একসময় নাস্তিকতার দিকে ঝুঁকেছিলেন। তিনি কোরআনের ‘ভুল’ খুঁজতে গিয়ে উল্টো কোরআনের বৈজ্ঞানিক সত্যতায় মুগ্ধ হয়ে পড়েন এবং ইসলামের পথে ফিরে আসেন। ২০২৬ সালে এক পডকাস্টে তিনি এই গল্প বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। |
| চারুনীড়ম স্কুল অব অ্যাক্টিং কী? |
| চারুনীড়ম স্কুল অব অ্যাক্টিং হলো গাজী রাকায়েত প্রতিষ্ঠিত একটি অভিনয় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। এই স্কুল থেকে নিয়মিত মঞ্চনাটক প্রযোজনা হয় এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পী গড়ে তোলার কাজ করা হয়। |
উপসংহার
গাজী রাকায়েত হোসেন শুধু একজন অভিনেতা বা পরিচালকই নন তিনি একজন পূর্ণাঙ্গ শিল্পী। বুয়েটের মেধাবী ছাত্র থেকে বাংলাদেশের সর্বকালের অন্যতম পুরস্কারজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতায় পরিণত হওয়ার এই যাত্রা সত্যিই অসাধারণ।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মানবিক সম্পর্ক এবং সমাজের সত্যিকারের চিত্র তাঁর প্রতিটি কাজে স্পষ্ট। তাঁর অভিনয় স্কুল থেকে ভবিষ্যতের শিল্পীরা যেমন তৈরি হচ্ছেন, তেমনি তাঁর নতুন ছবি ‘জন্মসূত্র’-এর দিকে তাকিয়ে আছেন বাংলাদেশের সিনেমাপ্রেমীরা।
গাজী রাকায়েতের মতো মানুষেরাই প্রমাণ করেন আন্তরিকতা, পরিশ্রম ও সৃষ্টিশীলতা দিয়ে যেকোনো শিখর ছোঁয়া সম্ভব।
তথ্যসূত্র ও বিশ্বাসযোগ্য উৎস
- উইকিপিডিয়া বাংলা — গাজী রাকায়েত (bn.wikipedia.org)
- ইংরেজি উইকিপিডিয়া — Gazi Rakayet (en.wikipedia.org)
- বাংলা মুভি ডেটাবেজ — bmdb.com.bd
- প্রথম আলো (prothomalo.com) — জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২০
- সময় নিউজ (somoynews.tv) — মার্চ ২০২৬
- দ্য ডেইলি স্টার — Gazi Rakayet Never Giving Up (২০১৩)
- চর্কি (chorki.com) — অভিনেতার প্রোফাইল
| ✍️ এই আর্টিকেলটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও বিনোদন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সম্পাদকীয় দলের দ্বারা তৈরি ও যাচাইকৃত। তথ্যগুলো উইকিপিডিয়া, জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও বিডিএমডি-র মতো নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সংকলিত। |
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”

