ইসহাক সরকার হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, যাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। মূলত, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন থেকে মনোনয়ন না পেয়ে ‘ফুটবল’ প্রতীকে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সম্প্রতি, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তিনি প্রায় ৩,০০০ নেতাকর্মী নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন।
ইসহাক সরকারের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত ইতিহাস
ইসহাক সরকার বাংলাদেশের রাজনীতিতে, বিশেষ করে রাজপথের আন্দোলনে একটি পরিচিত নাম। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক নিচে তুলে ধরা হলো:
- সাবেক দায়িত্ব: তিনি একসময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও পদোন্নতি পান।
- সংগ্রাম ও কারাবরণ: তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে কয়েকশত রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তিনি ৩ বছরের বেশি সময় কারাবরণ করেছেন।
- আওয়ামী লীগ শাসনামল: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি প্রশাসনের কাছে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামিদের একজন ছিলেন।
বিএনপি থেকে ইসহাক সরকারের বহিষ্কারের মূল কারণ
বিএনপির একজন ত্যাগী নেতা হওয়া সত্ত্বেও তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এর পেছনের কারণগুলো হলো:
১. মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়া: ত্রয়োদশ (১৩তম) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসহাক সরকার ঢাকা-৭ আসন থেকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি।
২. বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া: দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে তিনি স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।
৩. বহিষ্কারাদেশ: সংসদ নির্বাচনের সপ্তাহখানেক আগে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি (২০২৬) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদান ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর তিনি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (NCP) সাথে।
- যোগদানের স্থান ও সময়: শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) বিকেল ৩টায় রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে তিনি এনসিপিতে যুক্ত হন।
- সম্ভাব্য নতুন দায়িত্ব: এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে তাকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
- নেতৃত্বের ছাড়: বর্তমান আহ্বায়ক আলাউদ্দিন মোহাম্মদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাজধানীতে ইসহাক সরকারের মতো শক্তিশালী নেতার প্রয়োজন। তাই তিনি স্বেচ্ছায় নিজের পদ ছেড়ে দিচ্ছেন।
এনসিপিতে আর কারা যোগ দিলেন?
ইসহাক সরকার ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন আলোচিত ব্যক্তিত্ব এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন:
- ফেরসামিন হক ইকবাল ফ্লোরা: অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হকের নাতনি।
- মহিউদ্দিন রনি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, যিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রেলওয়ে খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এককভাবে আন্দোলন করে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন।
- নুরুজ্জামান কাফি: পরিচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
১. ইসহাক সরকার কে?
ইসহাক সরকার হলেন বাংলাদেশের একজন আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সম্প্রতি তিনি এনসিপি বা জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিয়েছেন।
২. ইসহাক সরকারকে কেন বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ঢাকা-৭ আসন থেকে ‘ফুটবল’ প্রতীকে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি তাকে বহিষ্কার করে।
৩. ইসহাক সরকার কোন দলে যোগ দিয়েছেন?
তিনি সম্প্রতি তার প্রায় ৩,০০০ অনুসারী ও নেতাকর্মী নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন।
৪. এনসিপিতে ইসহাক সরকার কী পদ পেতে যাচ্ছেন?
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তাকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়কের দায়িত্ব প্রদান করা হতে পারে।
৫. রেলওয়ে দুর্নীতি নিয়ে আন্দোলনকারী কে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন?
রেলওয়ের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলন করে আলোচনায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনিও ইসহাক সরকারের সাথে একই দিনে এনসিপিতে যোগদান করেছেন।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”
