কিভাবে পেওনিয়ার (Payoneer) একাউন্ট খুলতে হয়?

কিভাবে পেওনিয়ার (Payoneer) একাউন্ট খুলতে হয়

পেওনিয়ার (Payoneoneer) একাউন্ট খুলতে, আপনাকে যা করতে হবে: Payoneer.com-এ যান এবং “Sign Up” বাটনে ক্লিক করুন → আপনার ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন → আপনার ব্যাংক একাউন্ট যোগ করুন → ভেরিফিকেশনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) আপলোড করুন → অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করুন। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি বিনামূল্যে এবং সাধারণত কয়েক মিনিট থেকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে একাউন্ট অনুমোদন হয়ে যায়।

পেওনিয়ার কী এবং এটি বাংলাদেশিদের জন্য কেন জরুরি?

পেওনিয়ার (Payoneer) একটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, যার সদর দপ্তর নিউ ইয়র্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি বর্তমানে ২০০টিরও বেশি দেশে তাদের পরিষেবা দিয়ে আসছে এবং ফ্রিল্যান্সার ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার জন্য অন্যতম জনপ্রিয় পেমেন্ট সিস্টেম হিসেবে পরিচিত।

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার, ই-কমার্স বিক্রেতা এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জন্য পেওনিয়ার একটি অপরিহার্য সেবা। এর মাধ্যমে Upwork, Fiverr, Freelancer.com, Amazon, eBay-এর মতো শত শত আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস থেকে খুব সহজে ও নিরাপদে পেমেন্ট গ্রহণ করা যায়

পেওনিয়ারের প্রধান সুবিধাগুলো:

  • বিশ্বের বিভিন্ন মুদ্রায়, যেমন— USD, EUR, GBP, CAD ইত্যাদিতে পেমেন্ট গ্রহণ করা যায়।
  • উপার্জিত অর্থ সরাসরি নিজের বাংলাদেশি ব্যাংক একাউন্টে তোলা যায়।
  • bKash-এর সাথে পার্টনারশিপ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে টাকা bKash একাউন্টে আনা সম্ভব।
  • Payoneer Mastercard ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো দেশের Mastercard সাপোর্টেড ATM থেকে নগদ টাকা তোলা যায়।
  • একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
  • একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ লেনদেন করলে বার্ষিক ফি মওকুফ থাকে, অন্যথায় নিষ্ক্রিয় একাউন্টের জন্য $২৯.৯৫ চার্জ প্রযোজ্য হয়।

পেওনিয়ার একাউন্ট খুলতে কী কী প্রয়োজন?

একাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া শুরু করার আগে নিচের জিনিসগুলো প্রস্তুত রাখুন:

ব্যক্তিগত তথ্য:

  • পূর্ণ নাম: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্ট অনুযায়ী নামের বানান হুবহু হতে হবে।
  • জন্মতারিখ: NID বা পাসপোর্ট অনুযায়ী নির্ভুলভাবে দিতে হবে।
  • সম্পূর্ণ ঠিকানা: আপনার বর্তমান ঠিকানা (জেলা ও পোস্টকোড সহ) উল্লেখ করতে হবে।
  • মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল: একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং ই-মেইল ঠিকানা প্রয়োজন হবে, যা ভেরিফিকেশনের জন্য ব্যবহৃত হবে।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): NID কার্ডের সামনের এবং পেছনের অংশের রঙিন ও স্পষ্ট ছবি। বিকল্প হিসেবে পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সও ব্যবহার করা যাবে।
  • ব্যাংক একাউন্ট: বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত যেকোনো ব্যাংকের একটি একাউন্ট। এক্ষেত্রে, ব্যাংক একাউন্টের নামটি অবশ্যই আপনার NID এবং Payoneer একাউন্টের নামের সাথে মিলতে হবে।
  • ঠিকানা যাচাইকরণ (প্রয়োজনে): কিছু ক্ষেত্রে, ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য সাম্প্রতিক কোনো ইউটিলিটি বিলের কপি বা ব্যাংক স্টেটমেন্টের প্রয়োজন হতে পারে।

বিজনেস একাউন্টের জন্য অতিরিক্ত:

  • ট্রেড লাইসেন্স বা কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট।
  • ব্যবসার ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (TIN)।

পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম

ধাপ ১: পেওনিয়ার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন

আপনার ব্রাউজার থেকে payoneer.com ওয়েবসাইটে যান এবং “Get Started” বা “Sign Up” বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ২: একাউন্টের ধরন নির্বাচন করুন

আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক অপশনটি বেছে নিন। সাধারণত ফ্রিল্যান্সার বা ছোট ব্যবসার জন্য “Freelancer / SMB” অপশনটি নির্বাচন করতে হয়। এরপর “Get paid by international clients or marketplaces” অপশনটি সিলেক্ট করুন এবং আপনার মাসিক আয়ের একটি আনুমানিক পরিমাণ বেছে নিন। সবশেষে “Register” বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৩: ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন

এখানে “Individual” (ব্যক্তিগত) অপশনটি সিলেক্ট করুন এবং আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অনুযায়ী সঠিক নাম, ই-মেইল ও জন্মতারিখ দিন। কোনো ভুল তথ্য দিলে পরবর্তীতে একাউন্ট ভেরিফিকেশনে সমস্যা হতে পারে।

ধাপ ৪: ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য দিন

আপনার দেশ হিসেবে “Bangladesh” নির্বাচন করুন এবং বর্তমান ঠিকানা, শহর ও পোস্টকোড লিখুন। এরপর আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন, কারণ ভেরিফিকেশনের জন্য একটি OTP (One-Time Password) পাঠানো হবে। এই ঠিকানাতেই আপনার Payoneer Mastercard (যদি আবেদন করেন) পাঠানো হবে, তাই ঠিকানাটি নির্ভুল হওয়া জরুরি।

ধাপ ৫: নিরাপত্তা তথ্য সেটআপ করুন

আপনার একাউন্টের সুরক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করুন (বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা ও চিহ্ন ব্যবহার করে)। এরপর একটি নিরাপত্তা প্রশ্ন ও উত্তর সেট করুন, যা ভবিষ্যতে একাউন্ট রিকভারির জন্য প্রয়োজন হতে পারে।

ধাপ ৬: ব্যাংক একাউন্ট যুক্ত করুন

এই ধাপে আপনার বাংলাদেশি ব্যাংক একাউন্টের তথ্য, যেমন— ব্যাংকের নাম, শাখার নাম এবং একাউন্ট নম্বর যোগ করুন। অবশ্যই মনে রাখবেন, ব্যাংক একাউন্টের মালিকের নাম এবং Payoneer একাউন্টের নাম একই হতে হবে।

ধাপ ৭: আবেদন জমা দিন

পেওনিয়ারের শর্তাবলী (Terms & Conditions), প্রাইভেসি পলিসি (Privacy Policy) এবং ফি (Pricing & Fees) সম্পর্কিত তথ্যগুলো ভালোভাবে পড়ে নিন। এরপর সম্মতিসূচক বক্সগুলোতে টিক দিয়ে আপনার আবেদনটি সাবমিট করুন।

ধাপ ৮: পরিচয় যাচাইকরণ (KYC)

আবেদন জমা দেওয়ার পর আপনার একাউন্টে লগইন করে Settings → Verification Center-এ যান। এখানে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য আপনার NID কার্ডের রঙিন ও স্পষ্ট ছবি (সামনের ও পেছনের অংশ) আপলোড করতে হবে। ছবিটি অবশ্যই JPG, PNG বা PDF ফরম্যাটে হতে হবে এবং কোনো অংশ কাটা থাকা যাবে না।

ধাপ ৯: অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা

আপনার দেওয়া সব তথ্য ও ডকুমেন্টস সঠিক থাকলে, পেওনিয়ার সাধারণত কয়েক মিনিট থেকে শুরু করে ৩-৫ কার্যদিবসের মধ্যে আপনার একাউন্ট অনুমোদন করে দেবে। কিছু ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, সঠিক ডকুমেন্টস দিলে ৩০ মিনিটেরও কম সময়ে একাউন্ট ভেরিফাই হয়ে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে বেশি সময় লাগতে পারে। একাউন্ট অনুমোদন হয়ে গেলে আপনি ই-মেইলের মাধ্যমে কনফার্মেশন পাবেন।

bKash অ্যাপ দিয়ে পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার পদ্ধতি

বাংলাদেশে পেওনিয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো bKash-এর সাথে এর সরাসরি পার্টনারশিপ। আপনি এখন ব্যাংক একাউন্ট ছাড়াই bKash অ্যাপের মাধ্যমে পেওনিয়ার একাউন্ট খুলতে পারবেন।

ধাপগুলো:
১. আপনার bKash অ্যাপে লগইন করে “More” বা “আরও” অপশন থেকে “Remittance” আইকনে ট্যাপ করুন।
২. “Payoneer” অপশনটি বেছে নিন।
৩. আপনার যদি পেওনিয়ার একাউন্ট না থাকে, তবে “Create a new Payoneer account” অপশনে ট্যাপ করুন।
৪. আপনাকে পেওনিয়ারের রেজিস্ট্রেশন পেজে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে একাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
৫. সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে আপনি একটি কনফার্মেশন ই-মেইল পাবেন।

সুবিধা: bKash-এর মাধ্যমে একাউন্ট খোলার পর আপনি যেকোনো সময় আপনার ব্যাংক একাউন্ট যোগ করতে পারবেন।

পেওনিয়ার থেকে টাকা তোলার পদ্ধতি

বাংলাদেশে পেওনিয়ার থেকে টাকা তোলার তিনটি জনপ্রিয় উপায় রয়েছে:

১. বাংলাদেশি ব্যাংক একাউন্টে

  • আপনার Payoneer ড্যাশবোর্ডে লগইন করে “Withdraw & Transfer” থেকে “Withdraw to Bank” অপশনটি সিলেক্ট করুন।
  • টাকার পরিমাণ এবং কোন কারেন্সি থেকে উইথড্র করতে চান তা উল্লেখ করে কনফার্ম করুন।
  • সময়: সাধারণত ১-৩ কার্যদিবসের মধ্যে টাকা আপনার ব্যাংক একাউন্টে জমা হয়ে যায়।
  • ফি: এক্ষেত্রে পেওনিয়ার প্রায় ২% পর্যন্ত ফি এবং কারেন্সি কনভার্সন চার্জ কেটে নেয়।[2]

২. bKash-এ সরাসরি

  • bKash অ্যাপের “Remittance” সেকশন থেকে “Payoneer” নির্বাচন করুন।
  • আপনার Payoneer একাউন্টটি bKash-এর সাথে লিঙ্ক করুন (এটি শুধু প্রথমবার করতে হবে)।
  • এরপর টাকার পরিমাণ উল্লেখ করলে বর্তমান এক্সচেঞ্জ রেট এবং ফি দেখতে পাবেন।
  • কনফার্ম করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই টাকা আপনার bKash একাউন্টে চলে আসবে।
  • ফি: পেওনিয়ার প্রতি লেনদেনে ৩% কনভার্সন ফি এবং অতিরিক্ত $1 চার্জ করে।
  • ক্যাশ আউট চার্জ: BRAC Bank, City Bank এবং Q-Cash সাপোর্টেড ATM থেকে হাজারে মাত্র ৭ টাকায় ক্যাশ আউট করা যায়।
  • গুরুত্বপূর্ণ: এই পদ্ধতিতে টাকা আনলে সরকার প্রদত্ত ২.৫% রেমিট্যান্স প্রণোদনা প্রযোজ্য নয়।

৩. Payoneer Mastercard দিয়ে ATM থেকে

  • যদি আপনার Payoneer Mastercard থাকে, তবে আপনি যেকোনো Mastercard সাপোর্টেড ATM বুথ থেকে সরাসরি টাকা তুলতে পারবেন।
  • ফি: প্রতিবার টাকা তোলার জন্য পেওনিয়ার $৩.১৫ চার্জ করে। এর সাথে স্থানীয় ব্যাংকের ATM চার্জ এবং কারেন্সি কনভার্সন ফি যুক্ত হতে পারে।

পেওনিয়ার একাউন্টের ফি ও চার্জ

সেবাচার্জ
রেজিস্ট্রেশনসম্পূর্ণ বিনামূল্যে
বার্ষিক একাউন্ট ফি$২৯.৯৫ (শুধুমাত্র যদি একাউন্ট একটানা ১২ মাস নিষ্ক্রিয় থাকে)
Payoneer থেকে Payoneer-এ পেমেন্টবিনামূল্যে
ব্যাংকে টাকা উত্তোলন (স্থানীয় মুদ্রা)প্রায় ২% (মিড-মার্কেট এক্সচেঞ্জ রেটের উপরে)
bKash-এ টাকা উত্তোলন৩% কনভার্সন ফি + $১ প্রতি লেনদেনে
ATM থেকে টাকা উত্তোলন (Mastercard)$৩.১৫ + স্থানীয় ব্যাংক চার্জ
ক্লায়েন্টের ক্রেডিট কার্ড থেকে পেমেন্ট রিকোয়েস্ট৩%
মুদ্রা পরিবর্তন (Currency Conversion)০.৫% থেকে ৩.৫% পর্যন্ত

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ফি এবং চার্জসমূহ পেওনিয়ার কর্তৃক পরিবর্তিত হতে পারে। সর্বশেষ তথ্যের জন্য আপনার পেওনিয়ার একাউন্টের “Fees” সেকশনটি দেখুন।

পেওনিয়ার বনাম অন্যান্য পেমেন্ট সিস্টেম (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে)

বৈশিষ্ট্যPayoneerPayPalWise
বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ সেবা✅ হ্যাঁ❌ সীমিত (শুধু Xoom)⚠️ শুধু টাকা গ্রহণ করা যায়
bKash-এ উত্তোলন✅ হ্যাঁ❌ না❌ না
ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম ইন্টিগ্রেশন✅ প্রায় সব বড় প্ল্যাটফর্মে✅ কিছু প্ল্যাটফর্মে❌ সীমিত
ATM কার্ড✅ হ্যাঁ❌ না❌ না
রেজিস্ট্রেশন ফিবিনামূল্যেবিনামূল্যেবিনামূল্যে

সাধারণ সমস্যা ও সমাধান

  • সমস্যা ১: একাউন্ট ভেরিফাই হতে দেরি হচ্ছে।
    সমাধান: আপনার NID কার্ডের ছবিটি পরিষ্কার, রঙিন এবং সম্পূর্ণ অংশ দেখা যাচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করুন। সকল তথ্য যেন NID-এর সাথে হুবহু মিলে। ৫ কার্যদিবসের বেশি সময় লাগলে Payoneer সাপোর্টে যোগাযোগ করুন।
  • সমস্যা ২: ব্যাংক একাউন্ট লিঙ্ক হচ্ছে না।
    সমাধান: নিশ্চিত করুন যে আপনার Payoneer একাউন্টের নাম এবং ব্যাংক একাউন্টের নাম সম্পূর্ণ এক। কোনো ধরনের পার্থক্য থাকলে ব্যাংক লিঙ্ক হবে না।
  • সমস্যা ৩: bKash-এ টাকা আসছে না।
    সমাধান: আপনার Payoneer এবং bKash উভয় একাউন্ট একই NID দিয়ে খোলা হয়েছে কি না এবং নাম এক আছে কি না তা যাচাই করুন।
  • সমস্যা ৪: একাউন্ট সাসপেন্ড বা লক হয়ে গেছে।
    সমাধান: কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ বা ভুল তথ্যের কারণে এমন হতে পারে। দ্রুত support@payoneer.com-এ ই-মেইল করুন অথবা ওয়েবসাইটের লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে সাপোর্টে যোগাযোগ করুন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

পেওনিয়ার একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগে?
পেওনিয়ার একাউন্ট খোলা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে, যদি আপনার একাউন্টে টানা ১২ মাস কোনো লেনদেন না হয়, তাহলে $২৯.৯৫ নিষ্ক্রিয়তা ফি (inactivity fee) কাটা হতে পারে।[15][16]

পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার জন্য সর্বনিম্ন বয়স কত?
পেওনিয়ার একাউন্ট খুলতে আপনার বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।

বাংলাদেশে কি পেওনিয়ার কার্ড পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, বাংলাদেশে Payoneer Mastercard পাওয়া যায়। একাউন্ট ভেরিফিকেশন এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার পর কার্ডের জন্য আবেদন করা যায়, যা সাধারণত ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যে আপনার ঠিকানায় পৌঁছে যায়।

পেওনিয়ার থেকে বাংলাদেশে টাকা আসতে কত সময় লাগে?
ব্যাংক একাউন্টে টাকা আসতে ১-৩ কার্যদিবস সময় লাগে। অন্যদিকে, bKash-এ টাকা তাৎক্ষণিকভাবে (কয়েক মিনিটের মধ্যে) চলে আসে।

পেওনিয়ার কি বাংলাদেশে বৈধ?
হ্যাঁ, পেওনিয়ার বাংলাদেশে সম্পূর্ণ বৈধ এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্য অর্থ গ্রহণের একটি জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।

মোবাইল দিয়ে কি পেওনিয়ার একাউন্ট খোলা যায়?
হ্যাঁ, আপনি Payoneer-এর অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপ অথবা bKash অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে একাউন্ট খুলতে পারবেন।

শেষকথা

সঠিক তথ্য ও ডকুমেন্টস থাকলে বাংলাদেশে পেওনিয়ার একাউন্ট খোলা এখন অত্যন্ত সহজ ও দ্রুত একটি প্রক্রিয়া। বিশেষ করে bKash-এর সাথে সরাসরি লেনদেনের সুবিধা এটিকে ফ্রিল্যান্সার এবং অনলাইন উদ্যোক্তাদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। আপনি যদি আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করে থাকেন বা বিদেশি ক্লায়েন্টদের থেকে পেমেন্ট গ্রহণ করতে চান, তাহলে পেওনিয়ার আপনার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য সমাধান হতে পারে।

Leave a Comment

Scroll to Top