২০২৬ সালের একুশে পদকের জন্য মোট ১০ জন (৯ জন ব্যক্তি ও ১টি প্রতিষ্ঠান) নির্বাচিত হয়েছেন। এই তালিকায় প্রথমবারের মতো কোনো ব্যান্ড হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ‘ওয়ারফেজ’। এছাড়া মরণোত্তর একুশে পদক পাচ্ছেন রক লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চু এবং চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই পদক প্রদান করে থাকে।
একুশে পদক প্রাপ্তদের তালিকা (২০২৬)
একুশে পদক ২৬ কতজনকে দেওয়া হয়েছে—এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, এ বছর মোট ১০টি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। নিচে একুশে পদক বিজয়ী ২০২৬ এর পূর্ণাঙ্গ তালিকা ছক আকারে দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | নাম | ক্ষেত্র | বিশেষ তথ্য |
| ১ | ফরিদা আক্তার ববিতা | চলচ্চিত্র ও অভিনয় | ‘অশনি সংকেত’ খ্যাত আন্তর্জাতিক অভিনেত্রী। |
| ২ | আইয়ুব বাচ্চু | সংগীত (মরণোত্তর) | এলআরবি ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও রক লিজেন্ড। |
| ৩ | ওয়ারফেজ (Warfaze) | ব্যান্ড সংগীত | বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো ব্যান্ড দল। |
| ৪ | শফিক রেহমান | সাংবাদিকতা | প্রবীণ সাংবাদিক ও যায়যায়দিন-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। |
| ৫ | মেরিনা তাবাসসুম | স্থাপত্য | আগা খান অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী স্থপতি। |
| ৬ | ড. মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার | চারুকলা | প্রাচ্যকলা ও নিরীক্ষাধর্মী চিত্রশিল্পী। |
| ৭ | অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার | শিক্ষা | বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সালাম অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত। |
| ৮ | ইসলাম উদ্দিন পালাকার | নাট্যকলা | গ্রামবাংলার পালাগানের প্রখ্যাত সাধক। |
| ৯ | তেজস হালদার জশ | ভাস্কর্য | আধুনিক ভাস্কর্য শিল্পী। |
| ১০ | অথৈ আহমেদ | নৃত্যকলা | সৃজনশীল নৃত্যশিল্পী। |
এবারের একুশে পদক কেন ঐতিহাসিক?
একুশে পদক ২০২৬ তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ বছর বেশ কিছু ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যা আগে কখনো দেখা যায়নি।
ব্যান্ড মিউজিকের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি
এতদিন ব্যক্তিগত পর্যায়ে সংগীত শিল্পীরা পদক পেলেও, এই প্রথম ‘ওয়ারফেজ’-এর মতো একটি দলকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হলো। এটি বাংলা ব্যান্ডের চার দশকের পথচলাকে সম্মান জানাল।
তারুণ্য ও আবেগের প্রতিফলন
রক লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চু-কে মরণোত্তর সম্মাননা জানানো এবং তরুণ স্থপতি ও শিল্পীদের তালিকায় রাখা প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র এখন তারুণ্যের পছন্দকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
একুশে পদক সম্পর্কে জানা অজানা তথ্য
পাঠকদের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে একুশে পদক কবে চালু হয় বা কারা এটি নিয়ন্ত্রণ করে। এখানে সেই তথ্যগুলো সহজ ভাষায় দেওয়া হলো:
একুশে পদক কবে চালু হয়?
ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সালে প্রথম একুশে পদক চালু করা হয়। সেই থেকে প্রতি বছর মহান ভাষা দিবসের প্রাক্কালে এই সম্মাননা ঘোষণা করা হয়।
একুশে পদক প্রদান করে কোন মন্ত্রণালয়?
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় (Ministry of Cultural Affairs) এই পদক প্রদান ও সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করে। একটি উচ্চপর্যায়ের জুরি বোর্ড ও মন্ত্রী/উপদেষ্টা পর্যায়ের অনুমোদনের মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।
একুশে পদক কোন প্রতিষ্ঠান দেয়?
এটি মূলত বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। তবে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও অনুষ্ঠান আয়োজনের মূল দায়িত্ব পালন করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
একুশে পদক বিজয়ীরা কী কী পান?
প্রত্যেক বিজয়ীকে একটি ১৮ ক্যারেট মানের ৩৫ গ্রাম ওজনের স্বর্ণপদক, একটি সম্মাননাপত্র এবং নগদ ৪ লাখ টাকা (পরিবর্তনযোগ্য) প্রদান করা হয়।
একুশে পদক প্রাপ্তদের তালিকায় কি কোনো বিদেশি থাকতে পারেন?
সাধারণত বাংলাদেশের নাগরিকদেরই এই পদক দেওয়া হয়। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ বা ভাষা আন্দোলনে বিশেষ অবদানের জন্য বিদেশিদেরও সম্মাননা দেওয়ার নজির রয়েছে (যেমন: মাদার তেরেসা)।
শেষকথা
একুশে পদক ২০২৬-এর এই তালিকাটি বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে তুলে ধরেছে। একদিকে যেমন শফিক রেহমানের মতো অভিজ্ঞ সাংবাদিক রয়েছেন, অন্যদিকে ওয়ারফেজের মতো তারুণ্যের প্রতীক ব্যান্ডও রয়েছে। এই তালিকা প্রমাণ করে যে, মেধা ও অবদানের স্বীকৃতি দিতে কোনো কার্পণ্য করা হয়নি।
দ্রষ্টব্য: এই আর্টিকেলের তথ্যসমূহ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার ভিত্তিতে সংকলিত।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”
