ইসমে আজম কিভাবে পড়তে হয়? দোয়া কবুলের সবচেয়ে শক্তিশালী আমল

ইসমে আজম কিভাবে পড়তে হয়

দোয়া কবুল হওয়া প্রতিটি মুমিনের একান্ত কামনা। রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন কিছু নামের কথা বলেছেন, যেগুলোকে ‘ইসমে আজম’ বা আল্লাহর মহিমান্বিত নাম বলা হয়। হাদিস অনুযায়ী, এই নামে ডাকলে আল্লাহ তায়ালা বান্দার দোয়া ফিরিয়ে দেন না। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না এই মহান নামগুলো পড়ার সঠিক পদ্ধতি কী। আজকের আর্টিকেলে আমরা সুন্নাহর আলোকে ইসমে আজম পড়ার সঠিক নিয়ম ও আমল সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।

ইসমে আজম কিভাবে পড়তে হয়?

ইসমে আজম পড়ার সবচেয়ে সঠিক নিয়ম হলো: প্রথমে অজু করে পবিত্র হয়ে আল্লাহর প্রশংসা (হামদ) করা, এরপর দরুদ শরিফ পাঠ করা এবং অত্যন্ত একাগ্রতার সাথে হাদিসে বর্ণিত ইসমে আজমগুলো পাঠ করে নিজের মনের আকুতি জানানো। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, “ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম” এবং “আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহু আল-আহাদুস সামাদ…” বাক্যগুলো ইসমে আজমের অন্তর্ভুক্ত। দোয়া শেষে পুনরায় দরুদ পাঠ করা এবং আমিনের মাধ্যমে শেষ করা উত্তম।

ইসমে আজম আসলে কি?

‘ইসম’ মানে নাম এবং ‘আজম’ মানে মহান বা শ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ ইসমে আজম হলো আল্লাহর এমন কিছু গুণবাচক নাম, যার উসিলায় দোয়া করলে আল্লাহ তা অবশ্যই কবুল করেন। বুখারি ও তিরমিজি শরিফসহ বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে এর গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে।

হাদিসে বর্ণিত প্রধান ৩টি ইসমে আজম

বিভিন্ন হাদিসে ইসমে আজমের শব্দগুলো ভিন্ন ভিন্ন ভাবে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী তিনটি বর্ণনা হলো:

  1. প্রথমটি: “আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা বিআন্নী আশহাদু আন্নাকা আনতাল্লা-হু লা ইলাহা ইল্লা আনতাল আহাদুস সামাদুল্লাযী লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।”
  2. দ্বিতীয়টি: “ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম।” (হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী)।
  3. তৃতীয়টি: “ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরম।” (হে মহিমাময় ও দয়াময়)।

ইসমে আজম কিভাবে পড়তে হবে?

আপনি যদি চান আপনার দোয়া বিফলে না যাক, তবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে আমলটি করুন:

১. পবিত্রতা ও সঠিক সময় নির্বাচন

দোয়া করার আগে অজু করে নেওয়া সুন্নত। যদিও সব সময় দোয়া করা যায়, তবে শেষ রাত, জুমার দিন আসরের পর বা আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে আমলটি করলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়।

২. আল্লাহর প্রশংসা ও হামদ

সরাসরি দোয়া শুরু না করে প্রথমে আল্লাহর বড়ত্ব প্রকাশ করুন। যেমন: ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বা আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো পড়ুন।

৩. দরুদ শরিফ পাঠ

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে দোয়া দরুদ ছাড়া করা হয়, তা আসমানের মাঝে ঝুলে থাকে।” তাই শুরুতে অন্তত একবার দরুদ ইব্রাহিম বা ছোট কোনো দরুদ পড়ুন।

৪. পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে ইসমে আজম পড়া

এখন ওপরের বর্ণিত যেকোনো একটি ইসমে আজম অন্তত ৩, ৭ বা ১১ বার পাঠ করুন। পড়ার সময় মনে এই বিশ্বাস রাখুন যে, আল্লাহ অবশ্যই আপনার কথা শুনছেন।

৫. বিনয়ের সাথে নিজের অভাব জানানো

ইসমে আজম পড়ার পর আপনার যা প্রয়োজন (গুনাহ মাফ, রিজিক বা বিপদ মুক্তি) তা আল্লাহর কাছে আকুলভাবে চান। কান্নাকাটি করা দোয়ার প্রাণ।

দোয়া কবুলের কিছু গোপন শর্ত

অনেকে বলেন, “আমি ইসমে আজম পড়েছি কিন্তু দোয়া কবুল হয়নি।” এক্ষেত্রে অভিজ্ঞ আলেমরা তিনটি বিষয়ের দিকে নজর দিতে বলেন:

  • হালাল উপার্জন: হারাম খাবার পেটে থাকলে কোনো দোয়াই কবুল হয় না।
  • তাড়াহুড়ো না করা: আল্লাহ দেবেন—এই বিশ্বাস নিয়ে অপেক্ষা করা।
  • আত্মীয়তার বন্ধন ঠিক রাখা: মানুষের সাথে সুসম্পর্ক রাখা দোয়া কবুলের অন্যতম পূর্বশর্ত।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: আমি কি শুধু ‘ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম’ পড়লে হবে?

উত্তর: হ্যাঁ, অনেক মুহাদ্দিসের মতে এটি অন্যতম প্রধান ইসমে আজম। এটি নিয়মিত পাঠ করলে অন্তরের অস্থিরতা দূর হয় এবং দোয়া কবুল হয়।

প্রশ্ন: ইসমে আজম পড়ার কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা আছে কি?

উত্তর: হাদিসে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যার কথা উল্লেখ নেই। তবে বিজোড় সংখ্যায় (১, ৩, ৭ বার) পড়া সুন্নতের কাছাকাছি।

প্রশ্ন: মহিলারা কি পিরিয়ড চলাকালীন ইসমে আজম পড়তে পারবেন?

উত্তর: হ্যাঁ, অপবিত্র অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত নিষেধ হলেও জিকির এবং দোয়া করা জায়েজ। তাই ইসমে আজম পাঠে কোনো বাধা নেই।

সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আমল

  • দোয়া ইউনুস: “লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যলিমিন”—বিপদ মুক্তির জন্য এটিও ইসমে আজম সমতুল্য।
  • আল্লাহর ৯৯ নাম: আসমাউল হুসনা বা আল্লাহর ৯৯টি নাম দিয়ে ডাকলে আল্লাহ খুশি হন।

শেষকথা:

ইসমে আজম কোনো জাদুর শব্দ নয়, বরং এটি আল্লাহর প্রতি পরম আত্মসমর্পণের একটি মাধ্যম। আপনি যদি সঠিক নিয়মে, হালাল রিজিক নিশ্চিত করে এবং পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে ইসমে আজম পাঠ করেন, তবে ইনশাআল্লাহ আপনার অসম্ভব কাজও সম্ভব হবে।

সোর্স: তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ।

Leave a Comment

Scroll to Top