আপনি কি চেক লেনদেন করেন? কিংবা চেক ডিজঅনার (Check Dishonour) মামলার ঝামেলায় পড়েছেন? তবে আপনার জন্য জরুরি খবর। সরকার চেক ডিজঅনার মামলার বিচার দ্রুত ও সহজ করার লক্ষ্যে “Negotiable Instruments (Amendment) Ordinance, 2026” জারি করেছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এখন থেকে চেকের টাকার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে মামলার বিচার ভিন্ন ভিন্ন আদালতে হবে।
নতুন আইনে চেক ডিজঅনার মামলার বিচারে কী পরিবর্তন এসেছে, কোন আদালতে মামলা লড়তে হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য এর প্রভাব কী।
চেক ডিজঅনার মামলার নতুন বিধান
| চেকের টাকার পরিমাণ (Face Value) | বিচারের আদালত |
| ৫ লাখ টাকার বেশি | মেট্রোপলিটন যুগ্ম দায়রা জজ আদালত অথবা যুগ্ম দায়রা জজ আদালত। |
| ৫ লাখ টাকা বা তার কম | মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অথবা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। |
| কার্যকর হওয়ার তারিখ | ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (অবিলম্বে কার্যকর) |
কেন এই আইন সংশোধন করা হলো?
এতদিন চেক ডিজঅনার মামলার বিচারের ক্ষেত্রে টাকার কোনো নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া ছিল না। ফলে ছোট-বড় সব মামলার চাপ একই ধরণের আদালতের ওপর পড়ত। এতে মামলার জট তৈরি হতো এবং বিচার পেতে দেরি হতো। নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে টাকার অঙ্কের ভিত্তিতে মামলার এখতিয়ার ভাগ করে দেওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে ।
৫ লাখ টাকার বেশি হলে বিচার কোথায়?
নতুন আইনের ধারা ২ অনুযায়ী, যদি কোনো চেকের ফেস ভ্যালু (Face Value) বা টাকার অঙ্ক ৫ লাখ টাকার বেশি হয়, তবে সেই মামলার বিচার নিচের আদালতগুলো ছাড়া অন্য কোনো নিম্ন আদালতে করা যাবে না:
- মেট্রোপলিটন এলাকা: মেট্রোপলিটন যুগ্ম দায়রা জজ আদালত (Metropolitan Joint Sessions Judge)।
- অন্যান্য এলাকা: যুগ্ম দায়রা জজ আদালত (Joint Sessions Judge) ।
অর্থাৎ, ৫ লাখ টাকার ওপরের চেকের মামলার জন্য এখন সরাসরি যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে যেতে হবে।
৫ লাখ টাকা বা তার কম হলে বিচার কোথায়?
চেকের টাকার অঙ্ক যদি ৫ লাখ টাকা বা তার কম হয়, তবে সেই মামলার বিচার আগের মতোই ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হবে:
- মেট্রোপলিটন এলাকা: মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (Metropolitan Magistrate)।
- অন্যান্য এলাকা: প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (Magistrate of the first class) ।
এর ফলে ছোট অঙ্কের চেকের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
সাধারণ মানুষের জন্য প্রভাব
এই নতুন নিয়মের ফলে সাধারণ মানুষের বেশ কিছু সুবিধা হবে:
- দ্রুত বিচার: মামলার চাপ ভাগ হয়ে যাওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত হবে।
- স্পষ্ট ধারণা: এখন আর বিভ্রান্তি থাকবে না যে কোন আদালতে মামলা করতে হবে। টাকার অঙ্ক দেখেই আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
- মামলা জট হ্রাস: ছোট ও বড় মামলা আলাদা আদালতে যাওয়ায় আদালতের ওপর চাপ কমবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন: আমার চেকের মামলা আগেই চলছে, এখন কী হবে?
উত্তর: সাধারণত নতুন আইন বা অধ্যাদেশ জারির পর থেকে দায়ের হওয়া মামলার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হয়। তবে চলমান মামলার ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনার জন্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া ভালো।
প্রশ্ন: চেক ডিজঅনার হলে কত দিনের মধ্যে মামলা করতে হয়?
উত্তর: চেক ডিজঅনার হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে লিগ্যাল নোটিশ পাঠাতে হয় এবং নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিন পর যদি টাকা না দেয়, তবে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে মামলা করতে হয়।
প্রশ্ন: এই অধ্যাদেশটি কি সারা দেশে প্রযোজ্য?
উত্তর: হ্যাঁ, এই অধ্যাদেশটি সমগ্র বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে ।
শেষকথা
চেক লেনদেনের ক্ষেত্রে এখন থেকে টাকার অঙ্কের বিষয়ে আরও সতর্ক হোন। যদি আপনি কাউকে ৫ লাখ টাকার বেশি পরিমাণের চেক দেন বা নেন, তবে মনে রাখবেন এর আইনি এখতিয়ার এখন ভিন্ন। আইনি জটিলতা এড়াতে চেক ডিজঅনার হওয়ার সাথে সাথেই একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন এবং সঠিক আদালতে মামলা দায়ের করুন।
*তথ্যসূত্র: Negotiable Instruments (Amendment) Ordinance, 2026; বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । *
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”
