সেজ্জিল মিসাইল (Sejjil Missile) ইরানের ডান্সিং মিসাইল

সেজ্জিল মিসাইল (Sejjil Missile) ইরানের ডান্সিং মিসাইল

সেজ্জিল মিসাইল কী? সেজ্জিল (Sejjil) হলো ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি দুই-পর্যায়ের (two-stage), সলিড-ফুয়েল চালিত মধ্যম-পাল্লার ব্যালেস্টিক মিসাইল (MRBM)। এটির পাল্লা প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত এলাকায় আঘাত হানতে সক্ষম। ফার্সি ভাষায় “সেজ্জিল” শব্দের অর্থ হলো “আগুনের পাথর” বা “গন্ধক”। এটিকে “ড্যান্সিং মিসাইল” নামেও ডাকা হয়। কারণ এটি উড়ে যাওয়ার সময় পথ পরিবর্তন করতে পারে।

সেজ্জিল মিসাইলের সম্পূর্ণ পরিচয়

সেজ্জিল মিসাইল কীভাবে কাজ করে?

সেজ্জিল মিসাইলের সবচেয়ে বিশেষ দিক হলো এর সলিড-ফুয়েল প্রযুক্তি। পুরনো তরল-জ্বালানি (liquid-fuel) মিসাইলগুলোকে উৎক্ষেপণের আগে দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানি ভরতে হয়। কিন্তু সেজ্জিল সবসময় প্রস্তুত অবস্থায় মজুদ থাকে এবং মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে নিক্ষেপ করা যায়।

মিসাইলটি দুটি পর্যায়ে কাজ করে:

  • প্রথম পর্যায়: প্রথম পর্যায়ের জ্বালানি শেষ হলে একটি ছোট বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেটি আলাদা হয়ে যায়।
  • দ্বিতীয় পর্যায়: দ্বিতীয় ইঞ্জিন চালু হয় এবং মিসাইলটি লক্ষ্যের দিকে ছুটে যায়। এই পর্যায়ে সাপের মতো আঁকাবাঁকা গতিপথ তৈরি হয়, যা রাতের আকাশে একটি জ্বলন্ত আলোর রেখা হিসেবে দেখা যায়।

এই সাপের মতো উড়ে যাওয়ার কারণেই তেহরানের মানুষ এটিকে প্রথমে ধূমকেতু ভেবে ভুল করেছিলেন।

সেজ্জিল মিসাইলের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য

বৈশিষ্ট্যবিবরণ
পূর্ণ নামSejjil / Sajjil / Ashoura
ধরনদুই-পর্যায়ের সলিড-ফুয়েল MRBM
দৈর্ঘ্যপ্রায় ১৮ মিটার
ব্যাস১.২৫ মিটার
মোট ওজন২৩,৬০০ কেজি
পাল্লাপ্রায় ২,০০০ কিমি (কিছু সূত্রে ২,০০০–২,৫০০ কিমি)
পেলোড ক্ষমতা৭০০ কেজি (২,০০০ কিমিতে) / ১,৫০০ কেজি (১,০০০ কিমিতে)
জ্বালানিসলিড প্রপেল্যান্ট (উভয় পর্যায়ে)
প্রথম পরীক্ষা১৩ নভেম্বর, ২০০৮
গাইডেন্স সিস্টেমউন্নত ইনার্শিয়াল গাইডেন্স + GPS + জেট ভেন কন্ট্রোল
উৎক্ষেপণ পদ্ধতিরোড-মোবাইল (গাড়ি থেকে নিক্ষেপযোগ্য)

সেজ্জিল মিসাইলের ইতিহাস ও উন্নয়ন

সেজ্জিল মিসাইল কখন তৈরি হয়েছিল?

সেজ্জিল মিসাইলের উন্নয়ন শুরু হয় ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে। ইরানের পূর্ববর্তী জেলজাল (Zelzal) শর্ট-রেঞ্জ ব্যালেস্টিক মিসাইল প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই মিসাইল তৈরি করা হয়।

উন্নয়নের মূল ধাপগুলো:

  • ১৯৯০-এর দশক: প্রকল্পের শুরু, সলিড-ফুয়েল প্রযুক্তির গবেষণা।
  • ১৩ নভেম্বর, ২০০৮: প্রথম সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ। মিসাইলটি প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে।
  • ২০০৯ (মে): দ্বিতীয় পরীক্ষা, উন্নত গাইডেন্স সহ পাল্লা ১,৯০০ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি। ইরান এই সংস্করণটিকে “সেজ্জিল-২” নামে পরিচয় করিয়ে দেয়।
  • ২০১২: শেষ পরীক্ষা, এরপর দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয়।
  • জানুয়ারি ২০২১: “গ্রেট প্রফেট ১৫” সামরিক মহড়ায় উন্নত সংস্করণ প্রদর্শন।
  • জুন ২০২৫: ইরান-ইসরাইল ১২-দিনের যুদ্ধে প্রথমবার বাস্তব যুদ্ধে ব্যবহার।
  • মার্চ ২০২৬: ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে দ্বিতীয়বার ব্যবহার।

সেজ্জিল মিসাইল কি ইরানের নিজস্ব আবিষ্কার?

ইসরাইলের সাবেক ব্যালেস্টিক মিসাইল ডিফেন্স অর্গানাইজেশনের পরিচালক উজি রুবিন বলেছেন, অন্যান্য ইরানি মিসাইলের মতো সেজ্জিল কোনো উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া বা চীনের মিসাইলের কপি নয়। এটি মূলত একটি অনন্য ইরানি নকশা। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন চীনের কাছ থেকে সলিড-ফুয়েল প্রযুক্তিতে সহায়তা পাওয়া হয়েছিল।

“ড্যান্সিং মিসাইল” কেন বলা হয়?

সেজ্জিল-২ মিসাইলকে “ড্যান্সিং মিসাইল” বলার কারণ হলো এর বিশেষ পাড়াবদলের ক্ষমতা (Manoeuvrability)

সাধারণ ব্যালেস্টিক মিসাইল একটি নির্দিষ্ট বাঁকানো পথে উড়ে যায়, যা শত্রুপক্ষের বিমানপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহজে অনুমান করতে পারে। কিন্তু সেজ্জিল উড়তে উড়তে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে:

  • মধ্যবর্তী পর্যায়ে (Mid-course): পথ পরিবর্তন করে।
  • টার্মিনাল পর্যায়ে (Terminal phase): লক্ষ্যের কাছে পৌঁছানোর সময় সোয়ার্ল করে এগোয়।

এই আচরণের ফলে ইসরাইলের আয়রন ডোম, প্যাট্রিয়ট এবং অ্যারো মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের পক্ষে এটি ধ্বংস করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া মিসাইলটিতে রাডার-বিরোধী আবরণ (Anti-radar coating) থাকার কথাও জানা গেছে।

সেজ্জিল মিসাইলের ভ্যারিয়েন্ট

সেজ্জিল-১

  • প্রথম সংস্করণ, ২০০৮ সালে পরীক্ষিত।
  • ৮০০ কিমি পাল্লায় পরীক্ষা সফল।

সেজ্জিল-২

  • ২০০৯ সালে উন্নত সংস্করণ প্রদর্শন।
  • দ্বিতীয় পর্যায়ে আলাদাযোগ্য ইঞ্জিন ও কন্ট্রোল ফিন যুক্ত হয়েছে।
  • এটিই একমাত্র দুই-পর্যায়ের সলিড-ফুয়েল মিসাইল যা ইরানে গণ-উৎপাদিত হচ্ছে।
  • ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বাস্তব যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে।

সেজ্জিল-৩ (অনিশ্চিত)

  • তিন-পর্যায়ের সম্ভাব্য সংস্করণ, যার পাল্লা ৪,০০০ কিমি পর্যন্ত হতে পারে।
  • উৎক্ষেপণ ওজন হবে প্রায় ৩৮,০০০ কেজি।
  • এখনো কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত পরীক্ষার প্রমাণ নেই।

সেজ্জিল মিসাইল কতটা বিপজ্জনক?

পাল্লার হিসাব

ইরানের নাতাঞ্জ (Natanz) শহর থেকে উৎক্ষেপণ করলে সেজ্জিল যে দেশগুলোতে পৌঁছাতে পারে:

  • ইসরাইল: পুরোপুরি পাল্লার মধ্যে। নাতাঞ্জ থেকে তেল আভিভে পৌঁছাতে মাত্র ৭ মিনিটেরও কম সময় লাগতে পারে বলে ইরান দাবি করেছে।
  • সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত: পাল্লার মধ্যে।
  • তুরস্ক: পাল্লার মধ্যে।
  • গ্রিস ও বুলগেরিয়া: সর্বোচ্চ পাল্লায় নাগালে আসতে পারে।

সলিড-ফুয়েলের সুবিধা কী?

সলিড-ফুয়েল মিসাইলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটিকে সবসময় “রেডি-টু-ফায়ার” অবস্থায় রাখা যায়। তরল-জ্বালানি মিসাইলে উৎক্ষেপণের আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্বালানি ভরতে হয়, যে সময় স্যাটেলাইট বা গোয়েন্দা সংস্থা তা শনাক্ত করতে পারে।

সেজ্জিল রোড-মোবাইল হওয়ায় অর্থাৎ এটি একটি বিশেষ গাড়ি থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়। তাই একে আগেভাগে ধ্বংস করাও কঠিন।

সেজ্জিল মিসাইল কখন প্রথম যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়?

জুন ২০২৫ — ইরান-ইসরাইল ১২ দিনের যুদ্ধ

২০২৫ সালের জুনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে “অপারেশন রাইজিং লায়ন” পরিচালনা করে। ইরান পাল্টা হামলায় “ট্রু প্রমিস-৩” অভিযানের ১২তম ধাপে প্রথমবারের মতো সেজ্জিল-২ মিসাইল নিক্ষেপ করে। এটিই ছিল এই মিসাইলের বাস্তব যুদ্ধে প্রথম ব্যবহার।

মার্চ ২০২৬ — চলমান সংঘাত

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে “অপারেশন এপিক ফিউরি” পরিচালনা করে এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে হত্যা করা হয়। এর জবাবে ইরান মিসাইল হামলা শুরু করে।

১৫–১৬ মার্চ, ২০২৬: ইরানের IRGC “ট্রু প্রমিস-৪” অভিযানের ৫৪তম ঢেউয়ে সেজ্জিল-২ মিসাইল দ্বিতীয়বারের মতো ব্যবহার করা হয়। এই অভিযানের সাংকেতিক নাম ছিল “ইয়া জাহরা”। ইসরাইলে ১৪১টিরও বেশি স্থানে সাইরেন বাজে।

সেজ্জিল মিসাইল থামানো কেন কঠিন?

বিমানপ্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা সেজ্জিল মিসাইলকে বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং মনে করেন কয়েকটি কারণে:

১. দ্রুত উৎক্ষেপণ: সলিড-ফুয়েলের কারণে মাত্র কয়েক মিনিটেই লঞ্চ করা যায়, শত্রুপক্ষের পূর্বসতর্কতার সুযোগ কমে যায়।

২. গতিপথ পরিবর্তন: উড়ার সময় পথ বদলানোর ক্ষমতা বিমানপ্রতিরক্ষার পূর্বাভাস নষ্ট করে।

৩. রাডার-বিরোধী আবরণ: সাধারণ রাডারে সহজে ধরা পড়ে না বলে দাবি করা হয়।

৪. মোবাইল লঞ্চার: স্থায়ী ঘাঁটি নেই, তাই আগেভাগে ধ্বংস করাও কঠিন।

৫. ভারী পেলোড: ৭০০ কেজি থেকে ১,৫০০ কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করে, যা ব্যাপক ধ্বংস ঘটাতে সক্ষম।

সেজ্জিল বনাম ইরানের অন্যান্য মিসাইল

মিসাইলজ্বালানিপাল্লাবিশেষত্ব
সেজ্জিল-২সলিড~২,০০০ কিমিদ্রুত উৎক্ষেপণ, ড্যান্সিং মুভমেন্ট
শাহাব-৩তরল~১,৩০০ কিমিপুরনো প্রযুক্তি
খোর্রামশাহরতরল~২,০০০ কিমিসবচেয়ে ভারী ওয়ারহেড
ফাত্তাহ-১সলিড~১,৪০০ কিমিহাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল
খেইবার শেকানসলিড~১,৪৫০ কিমিনতুন প্রজন্মের MRBM

সেজ্জিল-২ কে ফাত্তাহ-১ মিসাইলের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, সেজ্জিল প্রায় পাঁচ থেকে ছয় গুণ ভারী এবং পেলোড ক্ষমতায় অনেক এগিয়ে।

বাংলাদেশের জন্য এই সংঘাতের প্রভাব কী?

মধ্যপ্রাচ্যের এই সামরিক সংঘাত বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কারণে:

১. জ্বালানি তেলের দাম

ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ প্রভাবিত হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে বাংলাদেশেও জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাবে।

২. প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা

মধ্যপ্রাচ্যে — বিশেষত সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে — লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। এই দেশগুলো সেজ্জিল মিসাইলের পাল্লার মধ্যে রয়েছে।

৩. রেমিট্যান্সে প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়লে প্রবাসী কর্মীদের ফিরে আসতে হতে পারে, যা বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

৪. আমদানি খরচ বৃদ্ধি

সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হলে বাংলাদেশের আমদানি পণ্যের দাম বাড়বে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ইরানের মিসাইল কর্মসূচির প্রেক্ষাপট

ইরান-ইরাক যুদ্ধের (১৯৮০–১৯৮৮) সময় ইরান মিসাইল আক্রমণের শিকার হয়েও পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষমতা রাখত না। সেই অভিজ্ঞতা থেকে ইরান দশকের পর দশক ধরে নিজস্ব মিসাইল কর্মসূচি গড়ে তুলেছে।

CSIS-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল ইরানের কাছে ৩,০০০-এরও বেশি ব্যালেস্টিক মিসাইল রয়েছে। জুন ২০২৫-এর যুদ্ধে এবং ২০২৪ সালের দুই দফা হামলায় ইরান শত শত মিসাইল ব্যয় করেছে। তবুও ইসরাইল ধারণা করছে ইরানের হাতে এখনো প্রায় ১,৫০০টি মিসাইল রয়েছে এবং ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ইরান নতুন মিসাইল উৎপাদন শুরু করেছে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

সেজ্জিল মিসাইলকে কেন “ড্যান্সিং মিসাইল” বলা হয়?

উড়ার সময় সাপের মতো আঁকাবাঁকা গতিপথ অনুসরণ করে এবং শেষ পর্যায়ে ঘূর্ণায়মান গতিতে এগোয় বলে এটিকে “ড্যান্সিং মিসাইল” বলা হয়। এই বৈশিষ্ট্যটি বিমানপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে মোকাবিলা কঠিন করে তোলে।

সেজ্জিল মিসাইল কতটা দূরে আঘাত করতে পারে?

সেজ্জিল মিসাইলের পাল্লা প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার। এর মানে ইরান থেকে এটি ইসরাইল, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশে আঘাত হানতে সক্ষম।

সেজ্জিল মিসাইল কি পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে পারে?

বিশ্লেষকরা বলছেন, সেজ্জিলের কাঠামো পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। তবে ইরান সবসময় দাবি করে আসছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না।

সেজ্জিল-২ ও সেজ্জিল-১-এর পার্থক্য কী?

সেজ্জিল-২-তে বিচ্ছিন্নযোগ্য দ্বিতীয় পর্যায় এবং কন্ট্রোল ফিন যুক্ত হয়েছে, যা নির্ভুলতা বাড়িয়েছে। এটিতে আপগ্রেডেড ইনার্শিয়াল গাইডেন্স সিস্টেম এবং সম্ভবত GPS গাইডেন্সও রয়েছে।

সেজ্জিল মিসাইল কি ইসরাইলের আয়রন ডোম ঠেকাতে পারে?

আয়রন ডোম মূলত স্বল্প-পাল্লার রকেট ও মর্টার থেকে সুরক্ষা দেয়। সেজ্জিলের মতো মধ্যম-পাল্লার ব্যালেস্টিক মিসাইলের বিরুদ্ধে ইসরাইলের অ্যারো ও প্যাট্রিয়ট সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। তবে সেজ্জিলের গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা এই সিস্টেমগুলোর জন্যও চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

ইরানের কি সেজ্জিল-৩ মিসাইল আছে?

এখনো কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্য নেই। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তিন-পর্যায়ের সেজ্জিল-৩ উন্নয়নাধীন থাকতে পারে, যার পাল্লা ৪,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

সেজ্জিল মিসাইলের দাম কত?

মিসাইলটির উৎপাদন খরচ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে এই মাপের সলিড-ফুয়েল MRBM-এর মূল্য সাধারণত কয়েক মিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়।

সেজ্জিল মিসাইলের নামের অর্থ কী?

ফার্সি ভাষায় “সেজ্জিল” শব্দটির অর্থ হলো “আগুনের পাথর” বা “গন্ধক”। ইসলামিক ঐতিহ্যে এটি আল্লাহর শাস্তির প্রতীকরূপী পাথরের উল্লেখ রয়েছে।

শেষকথা

সেজ্জিল মিসাইল ইরানের সামরিক শক্তির একটি মূল স্তম্ভ। সলিড-ফুয়েল প্রযুক্তি, দ্রুত উৎক্ষেপণের ক্ষমতা, রোড-মোবাইল স্থাপনা এবং গতিপথ পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে এটি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং মিসাইল হুমকিগুলোর একটি। ২০২৫-২০২৬ সালের ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে এর বাস্তব ব্যবহার প্রমাণ করেছে যে এটি শুধু প্রতিরোধক নয়, এটি এখন একটি সক্রিয় যুদ্ধাস্ত্র।

বাংলাদেশের মানুষের জন্য এই সংঘাত পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সরাসরি তেলের দাম, প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহকে প্রভাবিত করে।

বিশ্বাসযোগ্য তথ্যসূত্র

  • CSIS Missile Defense Project — missilethreat.csis.org/missile/sejjil
  • Wikipedia — en.wikipedia.org/wiki/Sejjil
  • Al Jazeera — What are Iran’s weapons?
  • JINSA — Iran’s Evolving Missile and Drone Threat
  • Britannica — 2026 Iran Conflict
  • Army Recognition — Alert: Iran Claims First Use Sejjil Missile
  • Interesting Engineering — Iran fires Sejjil ballistic missile
  • PressTV — Sejjil-2 Iran two-stage solid fuel missile

Leave a Comment

Scroll to Top