আজ ৩০ মে ২০২৬ — বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে তিনি নিহত হন। মুক্তিযুদ্ধের বীর সেক্টর কমান্ডার থেকে রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত — জিয়াউর রহমানের জীবন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসেরই এক জীবন্ত অধ্যায়।
Last Updated: ৩০ মে ২০২৬
জিয়াউর রহমান কে ছিলেন?
জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) বাংলাদেশের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তিনি একাধারে ছিলেন:
- মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠকারী অন্যতম সামরিক কর্মকর্তা
- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান
- বাংলাদেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি (১৯৭৮–১৯৮১)
তাঁর জন্ম বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে। বাবা মনসুর রহমান, মা জাহানারা খাতুন। শৈশব কেটেছে কলকাতায়, পরে পশ্চিম পাকিস্তানে সামরিক শিক্ষা গ্রহণ করেন।
জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে কী ভূমিকা রেখেছিলেন?
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অবদান ছিল অসামান্য। মূল ঘটনাগুলো ছিল এরকম:
২৭ মার্চ ১৯৭১ — স্বাধীনতার ঘোষণা: চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। এই ঘোষণা সারা দেশে মুক্তিকামী মানুষের মনোবল চাঙা করে তোলে।
জেড ফোর্সের অধিনায়ক: মুক্তিযুদ্ধকালীন জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দেন।
প্রথম বেসামরিক প্রশাসন: ১৯৭১ সালের ২৮ আগস্ট রৌমারীতে মুক্তাঞ্চলে বাংলাদেশের প্রথম বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।
বীর উত্তম খেতাব: মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব পুরস্কার ‘বীর উত্তম’ প্রদান করা হয়।
জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন ও রাষ্ট্রপতিত্ব
মুক্তিযুদ্ধের পরে জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীতেই থাকেন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ধীরে ধীরে ক্ষমতার কেন্দ্রে আসেন।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ: ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
নির্বাচনী বৈধতা: ১৯৭৮ সালের ৩ জুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেন এবং নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
বিএনপি প্রতিষ্ঠা: ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। দলটি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত।
বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা: তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশে বহুদলীয় রাজনীতি পুনরায় চালু হয়। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আংশিকভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
উন্নয়নমূলক কার্যক্রম: গ্রামীণ উন্নয়ন, খাল খনন কর্মসূচি এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে তাঁর সরকারের বিশেষ মনোযোগ ছিল।
জিয়াউর রহমান কীভাবে মারা যান?
৩০ মে ১৯৮১ — সেই রাতের ঘটনা
জিয়াউর রহমানের মৃত্যু বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। ঘটনাটি ছিল এরকম:
চট্টগ্রামে সরকারি সফর: ১৯৮১ সালের ২৯ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে একটি সরকারি সফরে যান।
সার্কিট হাউসে অবস্থান: রাতে তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান করছিলেন।
ভোররাতে হামলা: ৩০ মে ভোররাতে সেনাবাহিনীর একদল বিপথগামী কর্মকর্তা সার্কিট হাউসে হামলা চালায়। এই হামলায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন।
মূল হোতা: হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় চট্টগ্রাম সেনানিবাসের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল মঞ্জুর আহমেদের নাম প্রাথমিকভাবে উঠে আসে। পরে সামরিক বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা মঞ্জুরকে ধরে হত্যা করে।
পরের দিনের পরিস্থিতি: হত্যার পরদিন থেকে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে থাকে। তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদসহ সামরিক ও নৌ-বিমান বাহিনীর প্রধানরা বঙ্গভবনে গিয়ে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন।
জিয়াউর রহমানের কবর কোথায়?
জিয়াউর রহমানকে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে সমাহিত করা হয়। তাঁর মাজার বর্তমানে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত। প্রতি বছর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী ও জন্মবার্ষিকীতে হাজার হাজার মানুষ এখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী ২০২৬ — বিএনপির কর্মসূচি
আজ ৩০ মে ২০২৬, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। এ উপলক্ষে বিএনপি ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত ৮ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে।
৩০ মে (মূল দিন) — কর্মসূচি:
- ভোর ৬টায় সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন
- নেতাকর্মীদের কালো ব্যাজ ধারণ
- শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও কবর জিয়ারত
- দুঃস্থ ও অসহায় মানুষদের মধ্যে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ
৩১ মে — মূল আলোচনা সভা:
ঢাকার রমনায় কেন্দ্রীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি:
- সারা দেশে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ
- জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ
- জেলা ও মহানগর পর্যায়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও চিত্র প্রদর্শনী
জিয়াউর রহমানের উল্লেখযোগ্য অবদান — এক নজরে
| ক্ষেত্র | অবদান |
|---|---|
| মুক্তিযুদ্ধ | সেক্টর কমান্ডার, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, বীর উত্তম খেতাব |
| রাজনীতি | বিএনপি প্রতিষ্ঠা, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা |
| অর্থনীতি | গ্রামীণ উন্নয়ন, খাল খনন কর্মসূচি, কৃষি উন্নয়ন |
| পররাষ্ট্র | সার্ক গঠনের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা |
| শাসন | নিরাপত্তা বাহিনী পুনর্গঠন, জনপ্রশাসন সংস্কার |
জিয়াউর রহমানের জীবনকাল — গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
| সাল | ঘটনা |
|---|---|
| ১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ | বগুড়ার বাগবাড়িতে জন্ম |
| ২৭ মার্চ ১৯৭১ | কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ |
| ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ | বাংলাদেশের বিজয় — মুক্তিযুদ্ধে জয় |
| ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ | রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ |
| ১৯৭৮ | বিএনপি প্রতিষ্ঠা; রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয় |
| ৩০ মে ১৯৮১ | চট্টগ্রামে হত্যাকাণ্ড — শাহাদাত বরণ |
মানুষ যা জানতে চায়
প্রশ্ন: জিয়াউর রহমান কত তারিখে মারা যান?
উত্তর: জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে নিহত হন।
প্রশ্ন: জিয়াউর রহমান কোথায় নিহত হন?
উত্তর: চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে তিনি নিহত হন।
প্রশ্ন: জিয়াউর রহমানের কবর কোথায়?
উত্তর: ঢাকার শেরেবাংলা নগরে তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে।
প্রশ্ন: জিয়াউর রহমান বিএনপি কবে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন: জিয়াউর রহমান কি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ। তিনি মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন এবং বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব পান।
প্রশ্ন: ২০২৬ সালে জিয়াউর রহমানের কততম মৃত্যুবার্ষিকী?
উত্তর: ২০২৬ সালে তাঁর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে।
জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিপথগামী সেনা সদস্যদের হামলায় তিনি নিহত হন। ঢাকার শেরেবাংলা নগরে তাঁকে সমাহিত করা হয়। ২০২৬ সালে তাঁর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে।
বিশ্বাসযোগ্য সূত্র ও তথ্যসূত্র
- বাংলা উইকিপিডিয়া — জিয়াউর রহমান: https://bn.wikipedia.org/wiki/জিয়াউর_রহমান
- বাংলা উইকিপিডিয়া — জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড: https://bn.wikipedia.org/wiki/জিয়াউর_রহমান_হত্যাকাণ্ড
- বাংলা ট্রিবিউন — ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী সংক্রান্ত প্রতিবেদন (৩০ মে ২০২৬)
- বিএনপির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট: https://www.bnpbd.org
- বিএসএস নিউজ — জিয়াউর রহমান: বহুদলীয় গণতন্ত্র ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার
- দেশ রূপান্তর — জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি (মে ২০২৬)
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”
