২০২৬ সালের আসাম বিধানসভা নির্বাচনে ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’ (Axis My India) এক্সিট পোলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) জোট ৮৮ থেকে ১০০টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট মাত্র ২৪ থেকে ৩৬টি আসনে গুটিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একক দল হিসেবে বিজেপি একাই ৭০ থেকে ৮০টি আসন পেতে পারে।
বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাজ্য হওয়ায় আসামের রাজনীতির দিকে আমাদের অনেকেরই নজর থাকে। বিশেষ করে যখন প্রশ্ন ওঠে পরিচয়, জনকল্যাণ এবং আঞ্চলিক আকাঙ্ক্ষার মতো বিষয়গুলোর, তখন এই নির্বাচন আরও বেশি গুরুত্ব বহন করে। টানা তৃতীয়বারের মতো কি বিজেপি ক্ষমতায় ফিরছে, নাকি কংগ্রেস তাদের হারানো রাজত্ব পুনরুদ্ধার করবে? চলুন, ২০২৬ সালের আসাম নির্বাচনের বিস্তারিত তথ্য এবং এক্সিট পোলের ফলাফল সহজভাবে বিশ্লেষণ করা যাক।
আসাম নির্বাচন ২০২৬-এর মূল চিত্র একনজরে
এবারের নির্বাচনে বেশ কিছু রেকর্ড এবং চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। নিচে গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানগুলো তুলে ধরা হলো:
- মোট আসন: ১২৬টি বিধানসভা কেন্দ্র।
- মোট প্রার্থী: এই আসনগুলোর বিপরীতে লড়ছেন মোট ৭২২ জন প্রার্থী।
- ভোটগ্রহণের তারিখ: নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ৯ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে।
- ঐতিহাসিক ভোটার উপস্থিতি: এবার আসামে ৮৫.৯১ শতাংশ রেকর্ড পরিমাণ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, প্রায় ৮৬.৫ শতাংশ।
- ভোট গণনা: ৪ মে সকাল ৮টা থেকে ৩৫টি জেলার ৪০টি গণনা কেন্দ্রে একযোগে ভোট গণনা শুরু হয়েছে।
ভোটের ময়দানে হেভিওয়েট প্রার্থীরা কে কোথায়?
যেকোনো নির্বাচনের মূল আকর্ষণ থাকেন এর হেভিওয়েট বা শীর্ষস্থানীয় নেতারা। আসামেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি:
- হিমন্ত বিশ্ব শর্মা: বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপির শীর্ষ নেতা তার ঐতিহ্যবাহী দুর্গ ‘জালুকবাড়ি’ থেকে লড়ছেন এবং জয়ের হ্যাটট্রিক করার আশা করছেন।
- গৌরব গগৈ: কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি এবং প্রাক্তন লোকসভা সাংসদ ‘জোরহাট’ আসন থেকে লড়ে রাজ্য রাজনীতিতে তার প্রথম নির্বাচনী অভিষেক ঘটাতে চাইছেন।
- বদরুদ্দিন আজমল: এআইইউডিএফ (AIUDF) প্রধান যিনি ২০২৪ সালে তার দীর্ঘদিনের ধুবরি লোকসভা আসনটি হারিয়েছিলেন, তিনি এবার ‘বিন্নাকান্দি’ আসন থেকে রাজ্য রাজনীতিতে ফিরছেন।
- অখিল গগৈ: রাইজোর দলের প্রধান ‘সিবসাগর’ আসনটি ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
- বিশ্বজিৎ দৈমারি: বিধানসভার স্পিকার ‘তামুলপুর’ থেকে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
সামাগুড়ি আসনে কেন সবার নজর?
আসামের নগাঁও জেলার ‘সামাগুড়ি’ আসনটি এবার একটি বড় ধরনের নির্বাচনী যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এটি ঐতিহাসিকভাবে কংগ্রেসের একটি শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত; দলটি এখানে ১০ বার বিজয়ী হয়েছে। ১৯ ৫১ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের উপনির্বাচন পর্যন্ত এই আসনে মোট ১৪ বার নির্বাচন হয়েছে।
এবার এখানে ত্রিমুখী লড়াই হচ্ছে। ময়দানে আছেন:
১. তানজিল হুসেইন (কংগ্রেস)
২. অনিল শইকিয়া (বিজেপি)
৩. আব্দুল আজিজ (এআইইউডিএফ)
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ভোট গণনা
নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সেদিকে কঠোর নজর রাখছে প্রশাসন।
- ইভিএম (EVM) এবং গণনা কেন্দ্রগুলোর পাহারায় সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সের (CAPF) ২৫টি কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে।
- স্ট্রংরুম থেকে গণনা কেন্দ্রে ইভিএম স্থানান্তরের জন্য ৮০০ জন নিরস্ত্র পুলিশ কাজ করছে।
- রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশের ৯৩টি কোম্পানি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন ১: আসাম বিধানসভা নির্বাচনে প্রধান দুটি জোট কারা?
উত্তর: মূল লড়াই হচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ (যার মধ্যে রয়েছে অগপ এবং বিপিএফ) এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে।
প্রশ্ন ২: এক্সিট পোল অনুযায়ী কোন দল এগিয়ে আছে?
উত্তর: এক্সিট পোল বা বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ৮৮-১০০ আসন পেয়ে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।
প্রশ্ন ৩: এবারের আসাম নির্বাচনে কতজন নির্দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থী লড়ছেন?
উত্তর: এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২৫৮ জন নির্দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তথ্যসূত্র: www.ndtv.com
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”
