Bonolota Express (বনলতা এক্সপ্রেস) Movie Review

Bonolota Express (বনলতা এক্সপ্রেস) Movie Review

বনলতা এক্সপ্রেস (Bonolota Express) হলো তানিম নূর পরিচালিত এবং প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত একটি ১০০% ফ্যামিলি ড্রামা সিনেমা। মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী এবং শরিফুল রাজ অভিনীত এই ট্রেন জার্নির গল্পটিতে দুর্দান্ত ভিএফএক্স (VFX) ও সিনেমাটোগ্রাফি থাকলেও এর প্রথমার্ধ বেশ ধীরগতির। সিনে ব্রোস রেটিং: ৩.৫/৫।

হুমায়ূন আহমেদের গল্প, তানিম নূরের মতো প্রশংসিত পরিচালক, আর মোশাররফ, চঞ্চলের মতো মেগাস্টার সব মিলিয়ে একটি সিনেমা কেমন হতে পারে?

আপনার মনেও কি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, “বনলতা এক্সপ্রেস কি সত্যিই আমার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে?” নাকি এটিও সাম্প্রতিক সময়ের অন্যান্য বাংলা সিনেমার মতোই একটি হতাশার নাম?

এই সম্পূর্ণ রিভিউটি পড়ার পর সিনেমাটি নিয়ে আপনার আর কোনো কনফিউশন থাকবে না। এখান থেকে আপনি যা যা জানতে পারবেন:

  • সিনেমার আসল স্টোরিলাইন, নির্মাণশৈলী ও মেকিংয়ের খুঁটিনাটি।
  • অভিনয়ে কে বাজিমাত করল আর কে দর্শকদের পুরোপুরি হতাশ করল।
  • পরিবার নিয়ে হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখা উচিত কি না।
  • সিনেমাটি দেখার আগে যে ভুলগুলো আপনার অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত।

বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার প্লট

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মূলত একটি জার্নি বা ভ্রমণের গল্প। একটি রাতের ট্রেন এবং সেই ট্রেনের বিভিন্ন বগির যাত্রীদের জীবনকাহিনী নিয়ে এর গল্প এগোতে থাকে।

সমাজে বিভিন্ন স্তরের মানুষ, তাদের নিজস্ব গন্তব্য এবং জীবনের নানা টানাপোড়েন—সবকিছু এক সুতোয় গাঁথা হয়েছে এখানে। ট্রেনের বগিতে অচেনা মানুষদের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্ক এবং হুট করে বদলে যাওয়া পরিস্থিতি আপনাকে গভীরভাবে ভাবাবে।

যেহেতু এটি হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে তৈরি, তাই গল্পের পরতে পরতে একটা দার্শনিক ছোঁয়া রয়েছে।

তবে, এখানে প্রচলিত কমার্শিয়াল বাংলা সিনেমার মতো কোনো নির্দিষ্ট ‘হিরো’ নেই। বরং, পুরো ট্রেন জার্নিটাই এখানে মূল চরিত্র হিসেবে কাজ করেছে। প্লট-ড্রিভেন এই স্টোরিলাইনের কারণেই সিনেমাটি অন্যান্য গতানুগতিক সিনেমা থেকে আলাদা।

অভিনয়ে কে কেমন করলেন?

বাংলা সিনেমার বর্তমান সময়ের সেরা অভিনেতাদের একটি মেলা বসেছে এই সিনেমায়। আসুন দেখে নিই স্ক্রিনে কে কেমন পারফর্ম করলেন:

  • শরিফুল রাজ ও সাবিলা নূর: এই সিনেমায় তাদের কাস্টিং ছিল একেবারে পারফেক্ট। রাজ এবং সাবিলা দুজনেই তাদের চরিত্র দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। স্ক্রিনে তাদের ক্যামিস্ট্রি এবং প্রেজেন্স ছিল চোখে পড়ার মতো।
  • মোশাররফ করিম: পুরো সিনেমার প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগে তাকে খুব একটা বড় কিছু করতে দেখা যায় না। তবে ক্লাইম্যাক্সের ঠিক আগে মোশাররফ করিম তার আসল ম্যাজিক দেখিয়েছেন। তার চোখের এক্সপ্রেশন, ফেসিয়াল রিঅ্যাকশন ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ছিল এক কথায় অসাধারণ।
  • চঞ্চল চৌধুরী: যথারীতি নিজের চরিত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাবলীল। তবে তাকে নতুন কোনো রূপে বা চমকপ্রদ কোনো অবতারে দেখা যায়নি।
  • ইন্তেখাব দিনার: সাপোর্টিং ক্যারেক্টারে তিনিও যথেষ্ট ভালো কাজ করেছেন।

সব মিলিয়ে, কাস্টিংয়ের দিক থেকে পরিচালক তানিম নূর কোনো ছাড় দেননি। প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ জায়গায় সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

বনলতা এক্সপ্রেস (Bonolota Express) এর শক্তিশালী দিকসমূহ

কেন আপনি সিনেমাটি দেখবেন? এর বেশ কিছু পজিটিভ দিক রয়েছে যা আপনাকে মুগ্ধ করতে বাধ্য।

  • ১০০% ফ্যামিলি ফ্রেন্ডলি: বর্তমান বাংলাদেশে পরিবার নিয়ে দেখার মতো পরিচ্ছন্ন সিনেমার বেশ অভাব রয়েছে। এটি এমন একটি সিনেমা যা আপনি বাবা-মা, সন্তান সবাইকে নিয়ে নির্দ্বিধায় একসাথে বসে দেখতে পারবেন।
  • দুর্দান্ত ভিএফএক্স (VFX) ও সিনেমাটোগ্রাফি: বাংলা সিনেমায় সাধারণত ভিএফএক্স নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকে। কিন্তু এই সিনেমার কালার গ্রেডিং, ভিএফএক্স এবং ফ্রেমিং ছিল আন্তর্জাতিক মানের। এর কালার গ্রেডিং ও ভিএফএক্সের কাজ ভারতে সম্পন্ন হয়েছে, যা স্ক্রিনে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
  • অসাধারণ মিউজিক: তানিম নূরের মিউজিক সেন্স সবসময়ই দারুণ। এই সিনেমাতেও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং গানগুলো গল্পের সাথে খুব সুন্দরভাবে মিশে গেছে।

যেসব জায়গায় সিনেমাটি হতাশ করেছে

সব ভালো কিছুরই কিছু খারাপ দিক থাকে। এই সিনেমাটিও এর ব্যতিক্রম নয়। চলুন জেনে নিই এর দুর্বল দিকগুলো:

প্রথমার্ধের ধীরগতি (Slow First Half):

সিনেমার ফার্স্ট হাফ বেশ স্লো এবং বোরিং। ট্রেনের পরিবেশ এবং চরিত্রগুলোর সাথে দর্শকদের কানেক্ট করতে বেশ লম্বা সময় লেগে যায়, যা অনেকের কাছে বিরক্তিকর মনে হতে পারে।

জোকস এবং হিউমার:

সিনেমার অনেক কমেডি পাঞ্চলাইন বা জোকস আজকের প্রজন্মের (Gen Z) কাছে বেশ ‘ক্রিঞ্জ’ (cringe) লাগতে পারে। ডায়লগগুলো বয়স্ক দর্শকদের ভালো লাগলেও তরুণদের কাছে ফান এলিমেন্টগুলো খুব একটা ওয়ার্ক করেনি।

ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের অভাব:

পরিচালকের আগের সিনেমা ‘উৎসব’-এ যেমন ক্যারেক্টার-ড্রিভেন গল্প ছিল, এখানে তা নেই। নির্দিষ্ট কোনো সেন্ট্রাল ক্যারেক্টার না থাকায় দর্শকদের ইমোশনাল কানেকশন তৈরি হওয়াটা একটু কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

প্রশ্ন ও উত্তর

বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার পরিচালক কে?

বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন তানিম নূর। তিনি এর আগে ‘উৎসব’ এর মতো প্রশংসিত সিনেমা নির্মাণ করে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন।

বনলতা এক্সপ্রেস কি কোনো উপন্যাসের গল্প?

হ্যাঁ, এই সিনেমাটি জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে নির্মাণ করা হয়েছে।

সিনেমায় মোশাররফ করিমের অভিনয় কেমন ছিল?

সিনেমার ফার্স্ট হাফে তাকে সাধারণ মনে হলেও, ক্লাইম্যাক্সের আগে তিনি তার অসাধারণ এক্সপ্রেশন ও অভিনয় দক্ষতা দেখিয়েছেন যা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

এই সিনেমা কি বাচ্চাদের সাথে দেখা যাবে?

অবশ্যই। এটি একটি ১০০% ফ্যামিলি ফ্রেন্ডলি সিনেমা। এতে কোনো আপত্তিকর দৃশ্য নেই, তাই নিশ্চিন্তে ফ্যামিলি ও বাচ্চাদের নিয়ে দেখতে পারেন।

What is the rating of Bonolota Express movie?

জনপ্রিয় মুভি রিভিউ চ্যানেল ‘Cine Bros’ এই সিনেমাটিকে ৫ এর মধ্যে ৩.৫ (3.5/5) রেটিং দিয়েছে।

Who did the VFX for Bonolota Express?

এই সিনেমার কালার গ্রেডিং এবং ভিএফএক্স (VFX)-এর কাজ সম্পূর্ণ ভারতে (India) করা হয়েছে। যার ফলে এর ভিজ্যুয়াল কোয়ালিটি অত্যন্ত উন্নত মানের।

Is Bonolota Express plot-driven or character-driven?

সিনেমাটি মূলত প্লট-ড্রিভেন (Plot-driven)। এখানে নির্দিষ্ট কোনো সেন্ট্রাল হিরো বা মূল চরিত্র নেই, বরং ট্রেনের পুরো জার্নি এবং বিভিন্ন যাত্রীর গল্পটাই এখানে মুখ্য।

Is there any cringe comedy in the movie?

হ্যাঁ, রিভিউয়ারদের মতে সিনেমার ফার্স্ট হাফে ব্যবহৃত কিছু হিউমার এবং জোকস বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছে কিছুটা সেকেলে বা ‘ক্রিঞ্জ’ (Cringe) লাগতে পারে।

শেষকথা

সংক্ষেপে বলতে গেলে, বনলতা এক্সপ্রেস (Bonolota Express) কোনো নিটোল কমার্শিয়াল মসলাদার ছবি নয়। এটি একটি জার্নি, একটি ইমোশন এবং জীবনের গল্প বলার একটি ভিন্নধর্মী ও সাহসী প্রয়াস।

সিনেমার প্রথমার্ধের ধীরগতি আপনাকে কিছুটা ক্লান্ত করলেও, শেষের দিকের ইমোশনাল পাঞ্চ, অভিনেতাদের সাবলীল পারফরম্যান্স এবং দুর্দান্ত ভিজ্যুয়াল আপনাকে এক অন্যরকম তৃপ্তি দেবে।

বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি এখন একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের অংশ হতে এবং ভালো কাজের প্রশংসা করতে আমাদের সবার উচিত দেশীয় সিনেমা সাপোর্ট করা।

আজই আপনার পরিবারের সবাইকে নিয়ে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেখে আসুন। আর সিনেমাটি দেখার পর আপনার অনুভূতি কেমন ছিল? মোশাররফ করিম নাকি শরিফুল রাজ—কাকে আপনার বেশি ভালো লেগেছে? নিচে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাদের সাথে আপনার মতামত শেয়ার করুন!

Leave a Comment

Scroll to Top