হনুমান জয়ন্তী ২০২৬ কবে? হনুমান জয়ন্তী ২০২৬ পালিত হবে ২ এপ্রিল ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে (চৈত্র পূর্ণিমা) এই উৎসব পালিত হয়। পূর্ণিমা তিথি ১ এপ্রিল সকাল ৭টা ৬ মিনিটে শুরু হয়ে ২ এপ্রিল সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে শেষ হবে। উদয় তিথির নিয়ম অনুযায়ী, ২ এপ্রিল সূর্যোদয়ের সময় পূর্ণিমা বিদ্যমান থাকায় এই দিনই মূল উৎসব পালিত হবে।
হনুমান জয়ন্তী ২০২৬-এর সঠিক তারিখ ও সময়সূচি
২০২৬ সালে হনুমান জয়ন্তীর তারিখ নিয়ে অনেকের মনেই বিভ্রান্তি রয়েছে — ১ এপ্রিল না ২ এপ্রিল? পণ্ডিত ও জ্যোতিষাচার্যদের মতামত এবং শাস্ত্রীয় উদয় তিথির নিয়ম অনুযায়ী, মূল উৎসবের দিন হলো ২ এপ্রিল ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)।
🕐 ২০২৬ হনুমান জয়ন্তীর সম্পূর্ণ সময়সূচি
| বিষয় | তারিখ ও সময় |
|---|---|
| উৎসবের দিন | ২ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার |
| পূর্ণিমা তিথি শুরু | ১ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৭:০৬ |
| পূর্ণিমা তিথি শেষ | ২ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৭:৪১ |
| শুভ সকালের পূজার সময় | সূর্যোদয় থেকে সকাল ৭:৪১ পর্যন্ত (২ এপ্রিল) |
| সন্ধ্যার পূজার মুহূর্ত | সন্ধ্যা ৬:৩০ – রাত ৮:০০ |
| ব্রহ্ম মুহূর্ত (সর্বোত্তম সময়) | ভোর ৪:৩৫ – ভোর ৫:২৩ |
| মাস | চৈত্র মাস (শুক্ল পক্ষ) |
সর্বোত্তম পূজার সময়: ২ এপ্রিল ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটে ব্রহ্ম মুহূর্তে উঠে স্নান করুন। সূর্যোদয়ের পর থেকে সকাল ৭টা ৪১ মিনিটের মধ্যে পূজা সম্পন্ন করুন — এই সময় পূর্ণিমা তিথি সক্রিয় থাকায় পূজার ফল সর্বাধিক পাওয়া যায়।
১ না ২ এপ্রিল কোন দিন সঠিক এবং কেন?
অনেকেই জিজ্ঞেস করেন — পূর্ণিমা তো ১ এপ্রিল থেকেই শুরু হচ্ছে, তাহলে সেদিন পালন করলে হয় না কেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে হিন্দু শাস্ত্রের “উদয় তিথি” নিয়মে।
📖 উদয় তিথির নিয়ম কী?
হিন্দু শাস্ত্রে যে তিথিতে সূর্যোদয় হয়, সেই তিথিই সেদিনের জন্য প্রযোজ্য ধরা হয়। ১ এপ্রিল সকাল ৭:০৬-এ পূর্ণিমা শুরু হয়েছে — কিন্তু সেদিনের সূর্যোদয় হয় প্রায় ৬:১২-এ। তার মানে সূর্যোদয়ের সময় পূর্ণিমা ছিল না। কিন্তু ২ এপ্রিল সূর্যোদয় হয় ৬:১১-এ এবং পূর্ণিমা চলে সকাল ৭:৪১ পর্যন্ত — অর্থাৎ সূর্যোদয়ের সময় পূর্ণিমা বিদ্যমান। তাই ২ এপ্রিল ২০২৬-ই হনুমান জয়ন্তীর সঠিক দিন।
উজ্জয়িনীর জ্যোতিষাচার্য পণ্ডিত প্রবীণ দ্বিবেদীও একই কথা নিশ্চিত করেছেন। তাঁর মতে, ২ এপ্রিল সূর্যোদয়ের সময় পূর্ণিমা তিথি থাকায় এবং সেই দিন একাধিক শুভ যোগ তৈরি হওয়ায় উৎসবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
হনুমান জয়ন্তীর ইতিহাস ও ধর্মীয় গুরুত্ব
হনুমানজির জন্মকাহিনী
পুরাণ ও রামায়ণ অনুযায়ী, হনুমানজি হলেন অঞ্জনা ও কেশরীর পুত্র এবং বায়ু দেবতার আধ্যাত্মিক সন্তান — তাই তাঁকে “পবনপুত্র” বলা হয়। তিনি ত্রেতাযুগে চৈত্র পূর্ণিমায়, মঙ্গলবার, চিত্রা নক্ষত্রে মেষ লগ্নে জন্মগ্রহণ করেন। হনুমানজি হলেন ভগবান শিবের ১১তম রুদ্র অবতার।
শিশু হনুমান সূর্যকে পাকা ফল ভেবে ধরতে আকাশে লাফ দিয়েছিলেন — এই ঘটনা তাঁর অসাধারণ শক্তির প্রথম প্রকাশ। পরে রামায়ণে তিনি শ্রীরামের প্রতি অবিচল ভক্তি, অতুলনীয় শক্তি ও নিঃস্বার্থ সেবার প্রতীক হয়ে ওঠেন।
কেন হনুমানজির পূজা করা হয়?
- ভয় ও বাধা দূর করতে হনুমানজির আশীর্বাদ কাম্য
- শারীরিক ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য তাঁর ভজনা করা হয়
- শনির দোষ ও কালসর্প দোষ থেকে মুক্তির জন্য
- নেতিবাচক শক্তি ও অমঙ্গল থেকে রক্ষার জন্য
- সাফল্য, সাহস ও সমৃদ্ধির জন্য
- সংকটমোচন হিসেবে — যেকোনো বিপদ থেকে উদ্ধারের আশায়
হনুমান জয়ন্তী পূজা পদ্ধতি
বাড়িতেই সহজে হনুমান জয়ন্তীর পূজা করা যায়। অভিজ্ঞতা বা বড় আয়োজনের দরকার নেই শুধু পরিষ্কার মন ও ভক্তি নিয়ে শুরু করুন।
পূজার আগে যা প্রস্তুত রাখবেন
✅ আবশ্যিক উপকরণ
- হনুমানজির মূর্তি বা ছবি
- লাল কাপড়
- সিঁদুর (কমলা/লাল)
- চাঁপা বা জবা ফুলের মালা
- ঘি দীপ বা প্রদীপ
- বুন্দি বা গুড়-চানা লাড্ডু
- কলা ও অন্য ফল
➕ অতিরিক্ত উপকরণ
- গঙ্গাজল বা পরিষ্কার জল
- চন্দন পেস্ট
- পঞ্চামৃত (দুধ, দই, মধু, ঘি, চিনি)
- তিলের তেল
- ধূপকাঠি ও ধূপ
- নারকেল
- রামায়ণ বা সুন্দরকাণ্ড গ্রন্থ
পূজার ধাপগুলো
- ১ ব্রহ্ম মুহূর্তে জেগে উঠুনভোর ৪:৩৫ থেকে ৫:২৩ এর মধ্যে ওঠার চেষ্টা করুন। এই সময় পরিবেশ শান্ত ও আধ্যাত্মিকভাবে শক্তিশালী।
- ২ পবিত্র স্নানস্নানের জলে কয়েক ফোঁটা গঙ্গাজল মিশিয়ে স্নান করুন। লাল বা কমলা রঙের পোশাক পরুন।
- ৩ পূজার স্থান প্রস্তুত করুনপরিষ্কার বেদিতে লাল কাপড় বিছান। হনুমানজির মূর্তি বা ছবি স্থাপন করুন। ফুল, প্রদীপ ও ধূপ সাজান।
- ৪ অভিষেকহনুমানজির মূর্তি গঙ্গাজল দিয়ে স্নান করান। এরপর পঞ্চামৃত দিয়ে স্নান করিয়ে পুনরায় জল দিয়ে পরিষ্কার করুন।
- ৫ সিঁদুর অর্পণহনুমানজির পুরো অঙ্গে সিঁদুর ও তিলের তেল লাগান। সিঁদুর তাঁর অত্যন্ত প্রিয়।
- ৬ ফুল ও প্রসাদ নিবেদনচাঁপা ফুলের মালা, জবা ফুল অর্পণ করুন। লাড্ডু, গুড়-চানা, কলা নিবেদন করুন।
- ৭ হনুমান চল্লিশা ও মন্ত্র পাঠঅন্তত ৭ বার হনুমান চল্লিশা পাঠ করুন। সুন্দরকাণ্ড পাঠ করলে বিশেষ ফল পাওয়া যায়।
- ৮ আরতি ও প্রদক্ষিণঘি-দীপ জ্বালিয়ে আরতি করুন। হনুমানজিকে তিনবার প্রদক্ষিণ করুন।
- ৯ প্রসাদ বিতরণপরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করুন। সন্ধ্যায় পুনরায় আরতি করুন।
ব্রত ও উপবাসের নিয়ম
হনুমান জয়ন্তীতে উপবাস করা অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। উপবাস শুধু পেটের বিষয় নয় — এটি শরীর ও মনকে পরিশুদ্ধ করার একটি আধ্যাত্মিক অনুশীলন।
✅ কী খেতে পারবেন
- ফল ও দুধ
- দই ও শরবত
- সাবুদানা
- আলুর তরকারি (সেঁধা নুন)
- বাদাম ও কাজু
- সিঙ্গারা আটার রুটি
❌ কী খাবেন না
- শস্য ও গমের আটা
- সাধারণ লবণ (সৈন্ধব ব্যবহার করুন)
- পেঁয়াজ ও রসুন
- মাছ-মাংস
- মদ্যপান
- তামসিক খাবার
ℹ️
ব্রত ভঙ্গ সাধারণত সন্ধ্যায় পূজার পরে বা পরদিন সূর্যোদয়ের পরে করা যায়। নির্জলা ব্রত (জল ছাড়া) পালন করা হলে বিশেষ আধ্যাত্মিক ফল পাওয়া যায় বলে মনে করা হয়।
হনুমান জয়ন্তীর মন্ত্র ও হনুমান চল্লিশা
মূল হনুমান মন্ত্র
🔱 বীজ মন্ত্র
ॐ हं हनुमते नमः
উচ্চারণ: ওঁ হং হনুমতে নমঃ
অর্থ: হে হনুমান, আমি তোমার প্রতি নমস্কার জানাই
🌿 গায়ত্রী মন্ত্র
ॐ आञ्जनेयाय विद्महे, वायुपुत्राय धीमहि,
तन्नो हनुमान् प्रचोदयात्
উচ্চারণ: ওঁ আঞ্জনেয়ায় বিদ্মহে, বায়ুপুত্রায় ধীমহি, তন্নো হনুমান্ প্রচোদয়াৎ
হনুমান চল্লিশা কখন ও কতবার পড়বেন?
- সর্বোত্তম সময়: ব্রহ্ম মুহূর্তে (ভোর ৪-৬টা) বা সূর্যোদয়ের সময়
- সন্ধ্যায়: প্রদোষ কাল (সূর্যাস্তের সময়) — এটিও অত্যন্ত শুভ
- কতবার: হনুমান জয়ন্তীতে ৭ বা ১১ বার পাঠ করুন — সর্বোচ্চ ফল পাবেন
- সুন্দরকাণ্ড পাঠ: রামায়ণের সুন্দরকাণ্ড পাঠ নেতিবাচক শক্তি দূর করে ও সমৃদ্ধি আনে
হনুমানজিকে কী নিবেদন করবেন?
🌺 হনুমানজির প্রিয় নৈবেদ্য
| নৈবেদ্য | তাৎপর্য |
|---|---|
| সিঁদুর ও তিলের তেল | হনুমানজির সবচেয়ে প্রিয়; শক্তি ও ভক্তির প্রতীক |
| বুন্দি লাড্ডু | হনুমানজির প্রিয় মিষ্টি; সমৃদ্ধির জন্য |
| গুড় ও ছোলা (ভাজা) | শক্তি ও স্বাস্থ্যের প্রতীক |
| কলা ও ফল | ভক্তি ও প্রার্থনার প্রতীক |
| চাঁপা ও গাঁদা ফুলের মালা | পবিত্রতার প্রতীক |
| নারকেল | ঐশ্বরিক আশীর্বাদের জন্য |
| পান (মিষ্টি পান) | বিশেষভাবে পছন্দ; মনোবাসনা পূরণে |
পরিধানের রং
হনুমান জয়ন্তীতে লাল ও গেরুয়া/কমলা রং পরা অত্যন্ত শুভ। এই রং শক্তি, ভক্তি ও সাহসের প্রতীক। মন্দিরগুলোও লাল কাপড় ও গাঁদা ফুল দিয়ে সাজানো হয়।
বিভিন্ন অঞ্চলে হনুমান জয়ন্তী কিভাবে পালিত হয়?
হনুমান জয়ন্তী সারা ভারতে একই দিনে পালিত হয় না — আঞ্চলিক পঞ্জিকা অনুযায়ী তারিখের পার্থক্য থাকে।
🗺️ আঞ্চলিক পার্থক্য
| অঞ্চল | পালনের সময় | বিশেষত্ব |
|---|---|---|
| উত্তর ভারত | চৈত্র পূর্ণিমা (এপ্রিল) | মন্দির পরিদর্শন, সুন্দরকাণ্ড পাঠ |
| অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা | ৪১ দিন (চৈত্র পূর্ণিমা থেকে) | দীর্ঘতম উদযাপন |
| তামিলনাড়ু ও কেরালা | মার্গশীর্ষ অমাবস্যা (ডিসে-জানু) | হনুমৎ জয়ন্তী নামে পরিচিত |
| মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটক | মার্গশীর্ষ শুক্লপক্ষ ত্রয়োদশী | বিশেষ মহাপূজা |
| পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ | চৈত্র পূর্ণিমা | মন্দিরে ভিড়, ভক্তিমূলক গান |
বাংলাদেশে হনুমান জয়ন্তী ২০২৬
বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় হনুমান জয়ন্তী অত্যন্ত ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে পালন করে। সারা দেশের বিভিন্ন মন্দিরে বিশেষ পূজা ও আরতির আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশে উৎসব পালনের রীতি
- ঢাকার মন্দিরগুলোতে ভোররাত থেকে বিশেষ পূজার আয়োজন হয়
- রামকৃষ্ণ মিশন ও বিভিন্ন সনাতন সংগঠন ভক্তিমূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করে
- হনুমান চল্লিশা, রামায়ণ পাঠ ও কীর্তনের অনুষ্ঠান হয়
- অনেক পরিবার বাড়িতেই পারিবারিক পূজার আয়োজন করে
- প্রসাদ হিসেবে লাড্ডু, গুড়-ছোলা ও ফল বিতরণ করা হয়
- দিনটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি বিশেষ ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়
বাংলাদেশে তারিখ: বাংলাদেশেও ২ এপ্রিল ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) হনুমান জয়ন্তী পালিত হবে। স্থানীয় মন্দিরের সময়সূচি জানতে নিকটস্থ হিন্দু পরিষদ বা মন্দির কমিটির সাথে যোগাযোগ করুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
হনুমান জয়ন্তী ২০২৬ কত তারিখে?
হনুমান জয়ন্তী ২০২৬ পালিত হবে ২ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। পূর্ণিমা তিথি ১ এপ্রিল সকাল ৭:০৬-এ শুরু হয়ে ২ এপ্রিল সকাল ৭:৪১-এ শেষ হবে।
হনুমান জয়ন্তী ১ এপ্রিল না ২ এপ্রিল ২০২৬?
শাস্ত্রীয় উদয় তিথির নিয়ম অনুযায়ী ২ এপ্রিল ২০২৬ সঠিক দিন। কারণ ১ এপ্রিল সূর্যোদয়ের সময় পূর্ণিমা ছিল না (পূর্ণিমা শুরু হয় ৭:০৬-এ, সূর্যোদয় ছিল ৬:১২-এ)। কিন্তু ২ এপ্রিল সূর্যোদয়ের সময় (৬:১১) পূর্ণিমা সক্রিয় ছিল।
হনুমান জয়ন্তীতে পূজার শুভ সময় কখন?
সর্বোত্তম সময় হলো সূর্যোদয় থেকে সকাল ৭:৪১ পর্যন্ত — এই সময় পূর্ণিমা তিথি সক্রিয়। ব্রহ্ম মুহূর্তে (ভোর ৪:৩৫ – ৫:২৩) উঠে পূজা শুরু করুন। সন্ধ্যায় ৬:৩০ – ৮:০০ এর মধ্যেও পূজা করা যাবে।
হনুমান জয়ন্তীতে কী কী অর্পণ করা হয়?
হনুমানজির প্রিয় নৈবেদ্য হলো সিঁদুর, তিলের তেল, বুন্দি লাড্ডু, গুড়-চানা, কলা, চাঁপা ফুলের মালা এবং নারকেল। সিঁদুর ও তেল দিয়ে অভিষেক করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
হনুমান চল্লিশা কতবার পড়লে ভালো?
হনুমান জয়ন্তীতে ৭ বার বা ১১ বার হনুমান চল্লিশা পাঠ করা অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। সর্বোত্তম সময় ব্রহ্ম মুহূর্তে বা সূর্যোদয়ের পরপরই।
হনুমান জয়ন্তীতে উপবাস রাখতে হবে কি?
উপবাস বাধ্যতামূলক নয়, তবে ঐচ্ছিক এবং অত্যন্ত শুভ। উপবাস রাখলে ফল, দুধ, সাবুদানা ও সৈন্ধব লবণ দিয়ে তৈরি সাত্বিক খাবার খাওয়া যায়। শস্য, পেঁয়াজ, রসুন ও মাংস বর্জন করতে হয়।
হনুমান জয়ন্তীতে কোন রং পরা উচিত?
লাল ও কমলা/গেরুয়া রং হনুমানজির প্রিয়। এই দিন এই রঙের পোশাক পরা আধ্যাত্মিকভাবে শুভ বলে মনে করা হয়। মন্দিরেও লাল কাপড়ে সাজসজ্জা করা হয়।
হনুমান কে? তাঁর পরিচয় কী?
হনুমান হলেন হিন্দু ধর্মের একজন মহাশক্তিধর দেবতা — বায়ুপুত্র, পবনপুত্র, অঞ্জনার পুত্র এবং ভগবান শিবের ১১তম রুদ্র অবতার। তিনি ভগবান রামের পরম ভক্ত ও সেবক। শক্তি, ভক্তি, বুদ্ধিমত্তা ও নিঃস্বার্থতার প্রতীক।
বাংলাদেশে হনুমান জয়ন্তী কবে?
বাংলাদেশেও ২ এপ্রিল ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) হনুমান জয়ন্তী পালিত হবে। বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় উত্তর ভারতের মতো চৈত্র পূর্ণিমায় এই উৎসব পালন করে।
সুন্দরকাণ্ড পাঠ কেন করা হয়?
সুন্দরকাণ্ড রামায়ণের সবচেয়ে শক্তিশালী অধ্যায়। হনুমান জয়ন্তীতে এটি পাঠ করলে নেতিবাচক শক্তি দূর হয়, সংকট থেকে মুক্তি মেলে এবং সমৃদ্ধি আসে বলে বিশ্বাস করা হয়।
📚 তথ্যসূত্র ও যাচাইকৃত উৎস
- Outlook India — Hanuman Jayanti 2026 Date, Tithi & Puja Rituals
- India TV News — Hanuman Jayanti 2026 Correct Date & Muhurat
- Experience My India — Hanuman Jayanti 2026 Tithi & Puja Timing
- Asianet News Bangla — হনুমান জয়ন্তী ২০২৬ তারিখ ও সময়
- SmartPuja.com — Hanuman Jayanti 2026 Puja Muhurat & Vidhi
- Sanatana Journey — Hanuman Janmotsav 2026 Puja Muhurat Guide
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”

