আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কাস্টমস হাউসের নতুন সময়সূচি ২০২৬

আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কাস্টমস হাউসের নতুন সময়সূচি ২০২৬

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৭ মার্চ ২০২৬ থেকে ২৩ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশের সকল কাস্টমস হাউস এবং স্টেশনগুলোতে সীমিত আকারে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু থাকবে। তবে, শুধুমাত্র ঈদের দিন সকল কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং সাপ্লাই চেইন নিরবচ্ছিন্ন রাখার অভিপ্রায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) এই বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) কাস্টমস নীতি বিভাগ থেকে ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে ব্যবসায়ীদের জন্য এই স্বস্তিদায়ক খবরটি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের (RMG) সংগঠন বিজিএমইএ-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চলুন এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

কেন ঈদের ছুটিতে কাস্টমস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত?

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আমদানি-রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের অবদান অনস্বীকার্য। ঈদের দীর্ঘ ছুটির কারণে বন্দরে যাতে কোনো ধরনের কনটেইনার জট বা পণ্য খালাসে বিলম্ব না হয়, সেজন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মূলত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বরাবর একটি চিঠি প্রদান করে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল উৎসবের এই সময়েও যেন বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য পৌঁছানো নিশ্চিত করা যায় এবং কাঁচামাল আমদানি বাধাগ্রস্ত না হয়।

কাস্টমস হাউস খোলা থাকার সময়সূচি ও শর্তাবলী

ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের সুবিধার্থে নিচে নির্দেশনার মূল বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:

  • কার্যক্রম শুরুর তারিখ: ১৭ মার্চ, ২০২৬ (মঙ্গলবার)
  • কার্যক্রম শেষের তারিখ: ২৩ মার্চ, ২০২৬ (সোমবার)
  • বন্ধের দিন: শুধুমাত্র পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন কাস্টমসের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
  • কাজের পরিধি: সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে কার্যক্রম ‘সীমিত আকারে’ (Limited Scale) চলমান থাকবে। অর্থাৎ, জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ছাড়করণের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল কর্মরত থাকবেন।
  • আওতাভুক্ত এলাকা: ঢাকা, চট্টগ্রাম, বেনাপোল, কমলাপুর, আইসিডি, মোংলা, পানগাঁও, ভোমরাসহ দেশের সকল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট।

এই নির্দেশনার ফলে কীভাবে লাভবান হবেন ব্যবসায়ীরা?

১. পণ্য খালাসে গতিশীলতা: বন্দরে জাহাজ আসার পর পণ্য দ্রুত খালাস করা সম্ভব হবে, ফলে ডেমারেজ বা বিলম্ব মাশুল গুনতে হবে না।

২. রপ্তানির সময়সীমা রক্ষা: তৈরি পোশাক বা পচনশীল পণ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (Lead Time) বিদেশি বায়ারদের কাছে পাঠানো যাবে।

৩. শিল্প কারখানায় কাঁচামালের যোগান: ছুটির মধ্যেও কাঁচামাল ছাড় করে কারখানায় পৌঁছানো যাবে, ফলে ঈদের পর কারখানা খুললেই উৎপাদন ব্যাহত হবে না।

সাধারণ জিজ্ঞাস্য ও উত্তর

১. ২০২৬ সালের ঈদের ছুটিতে কি বেনাপোল কাস্টমস খোলা থাকবে?

হ্যাঁ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বেনাপোলসহ দেশের সকল কাস্টমস হাউস ও স্টেশন সীমিত আকারে খোলা থাকবে (ঈদের দিন ব্যতীত)।

২. ‘সীমিত আকারে’ কাস্টমস কার্যক্রম বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

এর অর্থ হলো, নিয়মিত কর্মদিবসের মতো পুরো দমে কাজ না হলেও, জরুরি পণ্য আমদানি-রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় ডেস্কগুলো চালু থাকবে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রোস্টার বা শিফটিং ডিউটির মাধ্যমে এই সেবা প্রদান করবে।

৩. ঈদের দিন কি বন্দর থেকে কোনো পণ্য ডেলিভারি নেওয়া যাবে?

না, সরকারি প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শুধুমাত্র “ঈদের দিন ব্যতীত” অন্যান্য ছুটির দিনগুলোতে কার্যক্রম চলমান থাকবে।

৪. এই নোটিশটি কি শুধু তৈরি পোশাক খাতের জন্য প্রযোজ্য?

যদিও বিজিএমইএ-এর চিঠির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত ত্বরান্বিত হয়েছে, তবে এই সুবিধা দেশের সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সাথে জড়িত সকল ব্যবসায়ী ভোগ করতে পারবেন।

তথ্যসূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর দাপ্তরিক প্রজ্ঞাপন।

Leave a Comment

Scroll to Top