| 📌 শবে কদর ২০২৬ তারিখ: ১৬ মার্চ, সোমবার দিবাগত রাত 📌 হিজরি তারিখ: ২৭শে রমজান ১৪৪৭ হিজরি (২৬ রমজান দিবাগত রাত) 📌 সরকারি ঘোষণা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত 📌 রমজান শুরু: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) ⚠️ দ্রষ্টব্য: প্রকৃত ফজিলত পেতে রমজানের শেষ ১০ রাত (২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ রমজান) ইবাদতে কাটান। |
প্রতি বছর রমজান মাস আসলেই বাংলাদেশের কোটি কোটি মুসলমানের মনে একটি প্রশ্ন জাগে — “শবে কদর ২০২৬ কত তারিখে?” এই রাতটি ইসলামের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ ও মহিমান্বিত রাত। এই আর্টিকেলে আপনি পাবেন সঠিক তারিখ, নামাজের নিয়ম, বিশেষ দোয়া, আমল এবং এই রাতকে কীভাবে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগাবেন তার সম্পূর্ণ গাইড।
শবে কদর ২০২৬ কত তারিখে বাংলাদেশে?
বাংলাদেশে ২০২৬ সালের পবিত্র শবে কদর বা লাইলাতুল কদর পালিত হবে ১৬ মার্চ ২০২৬, সোমবার দিবাগত রাতে। এটি ১৪৪৭ হিজরি সনের ২৭শে রমজানের রাত।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে সভার পর এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান শুরু হওয়ায় ২৭ রমজান পড়েছে ১৬ মার্চ, সোমবার।
| উপলক্ষ | তারিখ ২০২৬ | বার |
| রমজান শুরু | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | বৃহস্পতিবার |
| ২১শে রমজান (শবে কদর সম্ভাব্য) | ১০ মার্চ ২০২৬ | মঙ্গলবার দিবাগত |
| ২৩শে রমজান (শবে কদর সম্ভাব্য) | ১২ মার্চ ২০২৬ | বৃহস্পতিবার দিবাগত |
| ২৫শে রমজান (শবে কদর সম্ভাব্য) | ১৪ মার্চ ২০২৬ | শনিবার দিবাগত |
| ২৭শে রমজান — শবে কদর (সরকারি) | ১৬ মার্চ ২০২৬ ✅ | সোমবার দিবাগত |
| ২৯শে রমজান (শবে কদর সম্ভাব্য) | ১৮ মার্চ ২০২৬ | বুধবার দিবাগত |
| ঈদুল ফিতর (সম্ভাব্য) | ২০ মার্চ ২০২৬ | শুক্রবার |
* উপরের তারিখগুলো চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী শবে কদর ২০২৬ নিশ্চিত হয়েছে ১৬ মার্চ।
শবে কদর কী? লাইলাতুল কদরের অর্থ ও পরিচয়
‘শবে কদর’ দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। ‘শব’ একটি ফারসি শব্দ যার অর্থ রাত। ‘কদর’ আরবি শব্দ যার অর্থ সম্মান, মর্যাদা, ভাগ্য বা তাকদির নির্ধারণ। কোরআনের ভাষায় এই রাতের নাম ‘লাইলাতুল কদর’ — অর্থাৎ মহিমান্বিত ও সম্মানিত রজনী।
এই রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের নেতা জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে পবিত্র কোরআন শরিফ নাজিল করেছেন। সেই থেকে এই রাতটি কিয়ামত পর্যন্ত মুসলমানদের জন্য সর্বোচ্চ ইবাদতের রাত হিসেবে স্বীকৃত।
কোরআনে শবে কদরের বর্ণনা
| আল্লাহ তায়ালা সুরা আল-কদরে বলেছেন: “নিশ্চয়ই আমি এটি (কোরআন) কদরের রাতে নাজিল করেছি। আর কদরের রাত সম্পর্কে তুমি কী জানো? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সেই রাতে ফেরেশতারা ও রুহ (জিবরাইল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে প্রতিটি বিষয় নিয়ে অবতরণ করে। শান্তিই শান্তি সেই রাত ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত।” (সুরা আল-কদর: ১-৫) |
শবে কদরের ফজিলত ও গুরুত্ব
এই রাতের ফজিলত এতটাই অসাধারণ যে আল্লাহ তায়ালা এই একটি রাতকে এক হাজার মাসের চেয়ে উত্তম বলে ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ, মাত্র একটি রাতের ইবাদত প্রায় ৮৩ বছরের ইবাদতের সমতুল্য।
হাদিসে শবে কদরের ফজিলত
- রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় শবে কদরে ইবাদত করল, তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি: ২০১৪)
- এই রাতে জিবরাইল (আ.) অসংখ্য ফেরেশতা নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যত নর-নারী আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকেন, তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন। (বায়হাকী)
- এই রাতে আল্লাহ তায়ালা বান্দার ভাগ্য নির্ধারণ করেন, ক্ষমাপ্রার্থনাকারীকে ক্ষমা করেন এবং প্রয়োজনপ্রত্যাশীর প্রয়োজন পূরণ করেন।
- রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে শবে কদর সন্ধান করো।’ (সহিহ মুসলিম)
শবে কদর কোন রাতে? রমজানের শেষ দশ রাতের গুরুত্ব
ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, শবে কদর রমজানের শেষ দশ রাতের বিজোড় রাতগুলোর যেকোনো একটিতে হতে পারে। এই রাতগুলো হলো:
- ২১শে রমজান (২০ রমজান দিবাগত রাত)
- ২৩শে রমজান (২২ রমজান দিবাগত রাত)
- ২৫শে রমজান (২৪ রমজান দিবাগত রাত)
- ২৭শে রমজান (২৬ রমজান দিবাগত রাত) — সবচেয়ে প্রচলিত ও গুরুত্বপূর্ণ
- ২৯শে রমজান (২৮ রমজান দিবাগত রাত)
বাংলাদেশে প্রতিবছর ২৭শে রমজানের রাতকে (অর্থাৎ ২৬ রমজান দিবাগত রাত) সরকারিভাবে শবে কদর হিসেবে পালন করা হয়। তবে ইসলামি স্কলারদের পরামর্শ হলো, শেষ দশ রাতের সবগুলো বিজোড় রাতেই ইবাদত করুন — কারণ শুধু ২৭শে রমজানই নয়, অন্য রাতগুলোতেও শবে কদর হতে পারে।
শবে কদরের বিশেষ দোয়া (আরবি, উচ্চারণ ও অর্থসহ)
হজরত আয়েশা (রা.) একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন: ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি জানতে পারি কোন রাতটি শবে কদর, তাহলে কোন দোয়া পড়ব?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন:
| শবে কদরের সর্বোত্তম দোয়া: আরবি: اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন কারিমুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি। অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি মহানুভব ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। (তিরমিজি: ৩৫১৩, সহিহ সনদে বর্ণিত) |
এই দোয়াটি শবে কদরের রাতে বারবার পড়া উচিত। বিশেষত সিজদায় থাকা অবস্থায় এই দোয়া পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
শবে কদরের নামাজের নিয়ম ও পদ্ধতি
অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, শবে কদরের নামাজ কীভাবে পড়তে হয়? কত রাকাত? কোন সুরা পড়তে হয়? নিচে বিস্তারিত জানুন:
নামাজের মূল নিয়ম
- শবে কদরের আলাদা কোনো নির্দিষ্ট ফরজ নামাজ নেই। মূলত নফল নামাজ পড়া হয়।
- দুই রাকাত করে যতটা সম্ভব নফল নামাজ পড়ুন। যত বেশি পড়বেন, তত বেশি সওয়াব।
- নামাজে রুকু ও সিজদা দীর্ঘ করুন। সিজদায় থাকা অবস্থায় বেশি বেশি দোয়া করুন।
- প্রতিটি রাকাতে সুরা ফাতিহার পর যেকোনো সুরা পড়তে পারেন — সুরা ইখলাস, সুরা কদর, সুরা কাওসার ইত্যাদি।
- বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট সুরা পড়া বাধ্যতামূলক নয় — এটি লোকমুখে প্রচলিত হলেও কোনো সহিহ হাদিসে প্রমাণিত নয়।
নামাজের নিয়ত (বাংলায়)
| নিয়ত: আরবি: নাওয়াইতু আন উসল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকআতাই সালাতি নাফলিন, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার। বাংলায়: ‘আমি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য দুই রাকাত নফল নামাজের নিয়ত করলাম, আল্লাহু আকবার।’ * মনে মনে নিয়ত করাই যথেষ্ট। মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যক নয়। |
এশার নামাজ ও তারাবি প্রসঙ্গ
শবে কদরের রাতে বিশেষভাবে মাগরিব ও এশার নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা উচিত। তারাবি নামাজের পর রাত জেগে নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ায় মশগুল থাকুন।
শবে কদরের রাতে কী কী আমল করবেন?
শুধু নামাজ পড়াই যথেষ্ট নয় — এই রাতে বহুমুখী আমল করা উচিত। নিচে ধাপে ধাপে আমলের তালিকা দেওয়া হলো:
সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টার মধ্যে
- গোসল করুন ও পবিত্রতা অর্জন করুন — বাহ্যিক ও আত্মিক পবিত্রতা উভয়ই জরুরি।
- মাগরিব নামাজ জামাতে আদায় করুন।
- ইশার নামাজ ও তারাবি নামাজ জামাতে পড়ুন।
- ইফতার ও রাতের খাবার সেরে বিশ্রাম নিন — যাতে পরবর্তী ইবাদতে মনোযোগ দিতে পারেন।
রাত ১০টা থেকে ফজর পর্যন্ত
- দুই রাকাত করে নফল নামাজ পড়ুন — যত বেশি পারুন।
- সুরা কদর, সুরা দুখান, সুরা ইয়াসিন, সুরা আর-রহমান তিলাওয়াত করুন।
- শবে কদরের বিশেষ দোয়া (আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন…) বারবার পড়ুন।
- তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ুন — রাতের শেষ তৃতীয়াংশে।
- বেশি বেশি ইস্তিগফার ও তাওবা করুন।
- নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, আত্মীয়-স্বজনের জন্য এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করুন।
- ফজরের আজান পর্যন্ত জেগে থাকুন এবং ফজর নামাজ জামাতে আদায় করুন।
জিকির ও তাসবিহ
- সুবহানাল্লাহ — আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা
- আলহামদুলিল্লাহ — সকল প্রশংসা আল্লাহর
- আল্লাহু আকবার — আল্লাহ সর্বমহান
- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ
- আস্তাগফিরুল্লাহ — আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই
- লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
শবে কদরের রাতে কী কী করা উচিত নয়?
- অযথা আড্ডা, গল্প-গুজব বা সময় নষ্ট করা উচিত নয়।
- মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত সময় দেওয়া বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত থাকা পরিহার করুন।
- বিদআতি আমল যেমন নির্দিষ্ট সংখ্যায় নামাজ পড়া বা বিশেষ পদ্ধতিতে পড়া থেকে বিরত থাকুন।
- ঘুমিয়ে না পড়ার চেষ্টা করুন — তবে অসুস্থ বা দুর্বল হলে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।
- অন্যের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটানো বা গোলযোগ সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
শবে কদর ২০২৬ — বাংলাদেশে সরকারি ছুটি আছে কি?
হ্যাঁ। বাংলাদেশে শবে কদর উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ঘোষণা অনুযায়ী ১৬ মার্চ ২০২৬ (সোমবার) দিবাগত রাতে শবে কদর পালিত হবে এবং এই উপলক্ষে পরদিন ১৭ মার্চ ২০২৬ সরকারি ছুটি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারি ছুটির চূড়ান্ত তালিকা জানতে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: শবে কদর ২০২৬ কত তারিখে বাংলাদেশে?
| উত্তর: বাংলাদেশে শবে কদর ২০২৬ পালিত হবে ১৬ মার্চ, সোমবার দিবাগত রাতে। এটি ১৪৪৭ হিজরি সনের ২৭শে রমজানের রাত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এই তারিখ সরকারিভাবে ঘোষণা করেছে। |
প্রশ্ন ২: লাইলাতুল কদর মানে কী?
| উত্তর: ‘লাইলাতুল কদর’ একটি আরবি শব্দ। ‘লাইলাতুল’ মানে রজনী বা রাত, এবং ‘কদর’ মানে সম্মান, মর্যাদা বা ভাগ্য নির্ধারণ। অর্থাৎ লাইলাতুল কদর মানে ‘মহিমান্বিত রজনী’ বা ‘ভাগ্য নির্ধারণের রাত’। ফারসিতে এটিকে ‘শবে কদর’ বলা হয়। |
প্রশ্ন ৩: শবে কদর কি শুধু ২৭শে রমজানে?
| উত্তর: না। হাদিস অনুযায়ী শবে কদর রমজানের শেষ দশ রাতের যেকোনো বিজোড় রাতে হতে পারে — ২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯ রমজানে। তবে ২৭শে রমজান সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। তাই বাংলাদেশে সরকারিভাবে ২৭ রমজানের রাতকে শবে কদর হিসেবে পালন করা হলেও, ইসলামি স্কলারগণ শেষ দশ রাত পুরোটা ইবাদতে কাটাতে পরামর্শ দেন। |
প্রশ্ন ৪: শবে কদরের নামাজ কত রাকাত?
| উত্তর: শবে কদরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো রাকাত সংখ্যা নির্ধারিত নেই। দুই রাকাত করে যত বেশি নফল নামাজ পড়া সম্ভব পড়ুন। এশার ফরজ ও তারাবির পর তাহাজ্জুদ পর্যন্ত ইবাদতে মশগুল থাকুন। মূলত বেশি বেশি নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়াই এই রাতের মূল আমল। |
প্রশ্ন ৫: শবে কদরে কী দোয়া পড়তে হয়?
| উত্তর: শবে কদরের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ দোয়া হলো — ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন কারিমুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল মহানুভব, আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।’ (তিরমিজি: ৩৫১৩) এই দোয়া বারবার পড়া উচিত। |
প্রশ্ন ৬: শবে কদর ও শবে বরাতের পার্থক্য কী?
| উত্তর: শবে কদর হলো রমজান মাসের ২৭শে রমজানের রাত — এটি বছরের সর্বোত্তম রাত এবং এই রাতে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিল। শবে বরাত হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত — এটি ক্ষমা ও বরকতের রাত। দুটি রাতই গুরুত্বপূর্ণ, তবে শবে কদর ইসলামে সর্বোচ্চ মর্যাদার রাত। |
প্রশ্ন ৭: শবে কদরের রাতে কোরআনের কোন সুরা পড়া উত্তম?
| উত্তর: শবে কদরের রাতে বিশেষভাবে সুরা কদর, সুরা দুখান, সুরা ইয়াসিন, সুরা মুয্যাম্মিল, সুরা মুদ্দাচ্ছির এবং সুরা আর-রহমান তিলাওয়াত করা বিশেষ ফজিলতপূর্ণ বলে ইসলামি স্কলারগণ মত দিয়েছেন। |
শেষ কথা
শবে কদর হলো বছরের একটি মাত্র রাত যেই রাতে এক হাজার মাসের ইবাদতের সমতুল্য পুণ্য অর্জন করা সম্ভব। বাংলাদেশে ২০২৬ সালের এই মহিমান্বিত রাত পড়েছে ১৬ মার্চ, সোমবার দিবাগত রাতে।
তবে মনে রাখবেন শুধু একটি রাত ইবাদত করলেই হবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে রমজানের শেষ দশ রাতে পুরোপুরি ইতিকাফে মশগুল থাকতেন। তাই সম্ভব হলে রমজানের শেষ দশ রাতই ইবাদতে কাটানোর চেষ্টা করুন।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এই মহিমান্বিত রাতের ফজিলত লাভের তওফিক দিন এবং আমাদের সকল গুনাহ মাফ করুন। আমিন।
| ✅ তথ্যসূত্র: • ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ — সরকারি ঘোষণা (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ✅ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি, বাংলাদেশ ✅ পবিত্র কোরআন: সুরা আল-কদর (৯৭:১-৫) ✅ সহিহ বুখারি: হাদিস নং ২০১৪, ২০১৭ ✅সহিহ মুসলিম, তিরমিজি: ৩৫১৩, বায়হাকী 🔄 সর্বশেষ আপডেট: মার্চ ২০২৬ |
— এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ কপিরাইট মুক্ত। যেকেউ শেয়ার ও ব্যবহার করতে পারবেন —
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”
