সম্প্রতি ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি ইরানিদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়, তাকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।
মূল বিষয়গুলো
- আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে।
- এই প্রণালী বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- প্রণালী বন্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব
হরমুজ প্রণালীকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথগুলোর মধ্যে একটি বলা হয়। এটি পারস্য উপসাগরে প্রবেশের একমাত্র সামুদ্রিক পথ। এর একদিকে রয়েছে ইরান এবং অন্যদিকে রয়েছে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই সরু জলপথটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের সাথে সংযুক্ত করে, যা ভারত মহাসাগরের সাথে যুক্ত।
এই প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। বিশ্বজুড়ে মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। তাই এই প্রণালীর যেকোনো ধরনের অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের পদক্ষেপ এবং তার কারণ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন নৌ কমিশনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে থাকা জাহাজগুলোকে আইআরজিসি থেকে বার্তা পাঠানো হচ্ছে। এতে বলা হচ্ছে যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।
ইরান আগে থেকেই হুমকি দিয়ে রেখেছিল যে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো হামলা হলে তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে। এবার তারা সেই হুমকি বাস্তবায়ন করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।
বিশ্ববাজারে তেলের দামের উপর প্রভাব
হরমুজ প্রণালী বন্ধের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ১ মার্চ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৭৩ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দাম ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাক্স আগেই সতর্ক করেছিল যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে, তাহলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি বড় ধাক্কা দেবে। খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের এই পদক্ষেপের ফলে পুরো বিশ্বকেই এর পরিণাম ভোগ করতে হতে পারে। এই পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”
