এলপিজি (LPG) গ্যাসের দাম নিয়ে চিন্তিত? ভোক্তাদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সরকার। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার এলপিজি গ্যাস তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে বড় ধরণের কর ছাড় দিয়েছে।
এই আর্টিকেলে আমরা জানব সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত কী, কারা এই সুবিধা পাবে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য গ্যাসের দাম কমবে কি না।
নতুন প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপ
বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি প্রজ্ঞাপন (এস.আর.ও. নং ৫২-আইন/২০২৬/মূসক) জারি করেছে । এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এলপি গ্যাস (প্রোপেন ও বিউটেন) আমদানির ওপর আরোপনীয় ৭.৫% অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন কর (VAT) এবং প্রযোজ্য আগাম কর (Advance Tax) সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে । এই সুবিধা ৩০ জুন, ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে । এর মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ে এলপিজি গ্যাসের উৎপাদন খরচ কমানো।
এলপিজি কর অব্যাহতি ২০২৬
সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানির বাজার স্থিতিশীল রাখতে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং মূল্য সংযোজন কর আইন, ২০১২-এর আওতায় এই বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছে । নিচে এই সিদ্ধান্তের খুঁটিনাটি তুলে ধরা হলো:
১. কোন কোন পণ্যে এই ছাড় মিলবে?
মূলত এলপিজি গ্যাস তৈরির মূল উপাদান বা কাঁচামাল আমদানিতে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। গেজেট অনুযায়ী নিচের এইচ.এস. কোড (H.S. Code) ভুক্ত পণ্যগুলো এই সুবিধার আওতায় পড়বে:
| শিরনামা (Heading) | এইচ.এস. কোড (H.S. Code) | পণ্যের বিবরণ | সুবিধা |
| ২৭.১১ | ২৭১১.১২.০০ | এলপি গ্যাস (প্রোপেন ও বিউটেন) | ৭.৫% ভ্যাট ও আগাম কর (AT) মুক্ত |
| ২৭১১.১৩.০০ |
২. কারা এই সুবিধা পাবে? (শর্তাবলি)
সবাই চাইলেই এই শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে গ্যাস আমদানি করতে পারবে না। সরকার এর জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে যাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরাই এর সুফল পান:
- স্থানীয় উৎপাদনকারী: এই অব্যাহতি সুবিধা শুধুমাত্র স্থানীয় উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে । অর্থাৎ, যারা গ্যাস এনে দেশে বোতলজাত বা প্রসেস করে, তারাই এটি পাবে।
- ** ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইআরসি (Industrial IRC):** আমদানিকারককে অবশ্যই “Industrial IRC holder” হতে হবে। এর অর্থ হলো, প্রতিষ্ঠানটির কাছে আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে ইস্যু করা হালনাগাদ শিল্প আইআরসি থাকতে হবে ।
- ভ্যাট কমপ্লায়েন্ট (VAT Compliant): প্রতিষ্ঠানটিকে অবশ্যই ভ্যাট আইনের আওতায় নিবন্ধিত হতে হবে এবং নিয়মিত দাখিলপত্র (Return) জমা দিতে হবে ।
৩. এই সুবিধা কতদিন থাকবে?
এই প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে এবং এটি ৩০ জুন, ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত চালু থাকবে । অর্থাৎ, আগামী কয়েক মাস গ্যাস উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো কম খরচে কাঁচামাল আমদানি করতে পারবে।
সাধারণ মানুষের লাভ কী? গ্যাসের দাম কি কমবে?
এটিই বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— “গ্যাসের দাম কি কমবে?”
সহজ উত্তর হলো— কমার সম্ভাবনা প্রবল।
যেহেতু আমদানিকারকদের ৭.৫% ভ্যাট এবং আগাম কর দিতে হচ্ছে না, তাই তাদের “ল্যান্ডিং কস্ট” বা পণ্য আমদানির মোট খরচ কমে যাবে। নিয়ম অনুযায়ী, উৎপাদন খরচ কমলে খুচরা পর্যায়েও এর প্রভাব পড়ার কথা। তবে এটি নির্ভর করবে কোম্পানিগুলো এবং বিইআরসি (BERC)-এর সমন্বয়ের ওপর।
বিশ্লেষণ:
- উৎপাদন খরচ কমলে সিলিন্ডার প্রতি দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।
- সামনে রমজান বা উৎসবের সময় থাকলে এই সিদ্ধান্ত বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন: এলপিজি গ্যাসের ভ্যাট কত শতাংশ কমানো হয়েছে?
উত্তর: সরকার এলপিজি আমদানির ওপর আরোপনীয় ৭.৫% অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন কর এবং পুরো আগাম কর (Advance Tax) অব্যাহতি দিয়েছে ।
প্রশ্ন: এই সুবিধা কি সব ব্যবসায়ী পাবে?
উত্তর: না, শুধুমাত্র যাদের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা আছে (Industrial IRC holder) এবং যারা নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন জমা দেয়, কেবল সেই শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোই এই সুবিধা পাবে ।
প্রশ্ন: এই কর অব্যাহতি কতদিন বহাল থাকবে?
উত্তর: এই সুবিধা ৩০ জুন, ২০২৬ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে ।
প্রশ্ন: এই প্রজ্ঞাপনটি কবে জারি করা হয়েছে?
উত্তর: প্রজ্ঞাপনটি ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে জারি করা হয় এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় ।
শেষকথা
সরকারের এই সিদ্ধান্ত জ্বালানি খাতের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। আশা করা যায়, কোম্পানিগুলো এই শুল্কছাড়ের সুবিধা সাধারণ ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেবে এবং বাজারে এলপিজি গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।
সূত্র: বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। এস. আর. ও. নং ৫২-আইন/২০২৬/মূসক।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”
