সরকার প্রতিটি বাজেটে শিক্ষাখাতে আরও বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। সম্প্রতি ইটিভির এক টকশোতে ববি হাজ্জাজ বললেন, শিক্ষাখাতে বাজেটের এক-তৃতীয়াংশ রাখতে চায় সরকার। বর্তমান পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আর মূল বাধাগুলোর কথা তিনি তুলে ধরেছেন।
মূল বক্তব্যসমূহ:
- বর্তমান বাজেটে শিক্ষাখাতে অনুপাত তুলনামূলক কম
- ধাপে ধাপে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা
- শিক্ষার মান বাড়ানোর সাথে সাথেই অর্থায়ন বাড়বে
- দেশের কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এর সাথে শিক্ষানীতি গভীরভাবে যুক্ত
- শিক্ষক বেতন-ভাতার নীতিমালা আসছে শিগগিরই
বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ: এখন কোথায় দাঁড়িয়ে?
বর্তমান বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ মোট বাজেটের প্রায় ১২% এর কিছু বেশি। ববি হাজ্জাজের কথায়, “গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডে জিডিপির হিসেব করলে আমরা দুই শতাংশেরও নীচে।” আন্তর্জাতিকভাবে সাধারণত বাজেটের বড় অংশ যায় শিক্ষাতে কিন্তু আমাদের এখানে এখনো সেই অবস্থান আসেনি।
এক নজরে:
| বিষয়ে | পরিমাণ (%) |
|---|---|
| বর্তমান বাজেট অংশ | ১২ |
| গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড | ~২০-৩০ |
| সরকারী লক্ষ্য | প্রায় ৩৩ (১/৩) |
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সরকার এক সাথে বিশাল বরাদ্দ বাড়ানোতে যাচ্ছে না। বরং, পরিকল্পনা হচ্ছে ধাপে ধাপে বাস্তবভিত্তিক বরাদ্দ বৃদ্ধির। কেবল বাজেট বাড়ানো নয়, বরাদ্দকৃত টাকা যেন ফলপ্রসূ কাজে লাগে সেটিকেই প্রাধান্য দেবে।
প্রথম ধাপ: ২%-এর ঘর থেকে শুরু, আস্তে আস্তে বাড়ানো (২→২.৫→৩…)
ফলাফল নির্ভর ইন্ক্রিমেন্ট: বড় প্রজেক্ট বাস্তবায়নের পরেই পরবর্তী ধাপের জন্য বরাদ্দ বাড়বে।
কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ
বর্তমানে সরকারি লক্ষ্য হলো ১৮ মাসে এক কোটি নতুন চাকরি তৈরি করা। এর সাথে শিক্ষা খাতের সরাসরি যোগসূত্র। শিক্ষার্থীদের কারিগরি দক্ষতার ঘাটতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ববি হাজ্জাজ উল্লেখ করলেন, ৭৫% শিক্ষার্থী এখনও চাকরির সক্ষমতা অর্জনে ব্যর্থ হয়।
কেন এই ফুটো?
- দক্ষ শিক্ষকের অভাব
- শিক্ষানীতির দুর্বল বাস্তবায়ন
- যথাযথ প্রযুক্তি ও ব্যাবহারিক শিক্ষার কম সুযোগ
ফলে কী হচ্ছে?
দেশীয় বিভিন্ন খাতে, বিশেষত গার্মেন্টস বা বড় ইন্ডাস্ট্রিতে, উচ্চ স্তরের ম্যানেজার ভারত, শ্রীলঙ্কা ও অন্যান্য দেশ থেকে আনতে হচ্ছে। দক্ষ দেশীয় মানবসম্পদ তৈরির জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে নতুনত্ব ও আধুনিক প্রশিক্ষণের দরকার।
শিক্ষকদের সমস্যা ও নতুন নীতিমালা
শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এ নিয়ে দীর্ঘদিন অসন্তোষ চলছিল। ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, “এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। খুব দ্রুত, ঈদের আগেই বা ঈদের পরপরই, এই নতুন নীতিমালার ঘোষণা আসবে।”
এতে শিক্ষকদের মানসিক নিরাপত্তা, কাজের প্রতি উৎসাহ, ও পেশাগত মান উন্নয়নের সুযোগ থাকবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল।
সামনের পথ
শিক্ষানীতিকে ক্রমান্বয়ে যুগোপযোগী করা আর বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো—এই দুইয়ের ভারসাম্যে দেশের উন্নতি হবে।
সরকারের লক্ষ্য:
- দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাখাতে বাজেট ৩৩% পর্যন্ত বাড়ানো
- ফলাফলের ভিত্তিতে বরাদ্দ বাড়ানো
- মানবসম্পদ বাড়াতে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও চাকরির যোগসূত্র করা
প্রথম থেকেই ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া হলো মূল কৌশল। বাজেট বাড়াতে শুধু নামমাত্র টাকা বাড়ালে হবে না, বাস্তব উন্নয়নও দেখতে হবে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান তৈরির জন্য যুগোপযোগী শিক্ষা আর দক্ষ মানবসম্পদই শেষ পর্যন্ত দেশের উন্নয়নের চাবিকাঠি।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”

