আপনি যদি দ্রুত জানতে চান রোজা রেখে চুমু করা বা দেওয়া যাবে কি না, তবে ইসলামী শরীয়তের সর্বসম্মত মাসআলা হলো:
হ্যাঁ, রোজা অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে চুমু দিতে বা চুম্বন করতে পারবেন। এতে রোজা ভাঙে না। তবে প্রধান শর্ত হলো নিজের কামভাব বা উত্তেজনার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। যদি চুম্বন করার কারণে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে বীর্যপাত হওয়ার বা সহবাসে লিপ্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে, তবে রোজা অবস্থায় এমনটি করা মাকরুহ (অপছন্দনীয়)। এছাড়া, চুমু দেওয়ার সময় যদি কোনোভাবে সঙ্গীর মুখের লালা বা থুথু গিলে ফেলেন, তবে রোজা নিশ্চিতভাবে ভেঙে যাবে।
আসসালামু আলাইকুম। রমজান মাসে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার আচরণ ও অন্তরঙ্গতা কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে আমাদের সমাজে নানা ধরনের প্রশ্ন ও দ্বিধা কাজ করে। লজ্জায় অনেকেই এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করতে চান না। বিশেষ করে তরুণ বা নবদম্পতিদের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে, রোজা রেখে চুম্বন করা যাবে কি না।
ভুল ধারণার কারণে অনেকেই মনে করেন রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে স্পর্শ করাও নিষেধ, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই আর্টিকেলে আমরা কোরআন, হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য ইসলামী ফিকহের (হানাফি মাজহাব) আলোকে রোজা অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অন্তরঙ্গতা, চুমু দেওয়া এবং এর সতর্কতাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ও খোলামেলা আলোচনা করেছি।
রোজা রেখে চুমু দেওয়া: হাদিস কী বলে?
রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে চুমু দেওয়া জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
- হাদিসের ভেরিফাইড প্রমাণ: উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নবী করিম (সা.) রোজা অবস্থায় (স্ত্রীদের) চুমু দিতেন এবং জড়িয়ে ধরতেন। তবে তোমাদের মধ্যে তিনি ছিলেন নিজের প্রবৃত্তির ওপর সবচেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণকারী।” (সহিহ বুখারি: ১৯২৭, সহিহ মুসলিম: ১১০৬)
এই হাদিস থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে চুমু দেওয়া বা জড়িয়ে ধরা সম্পূর্ণ বৈধ, যদি নিজের কামভাব বা উত্তেজনার ওপর শতভাগ নিয়ন্ত্রণ থাকে।
রোজা অবস্থায় চুম্বন কখন মাকরুহ বা নিষিদ্ধ?
যদিও চুমু দেওয়া জায়েজ, তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে এটি থেকে বিরত থাকা জরুরি। নিচে তা ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলো:
- ধাপ ১ (নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা): আপনি যদি মনে করেন চুমু দিলে আপনার উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এবং সহবাস বা বীর্যপাতের মতো ঘটনা ঘটে যেতে পারে, তবে আপনার জন্য চুমু দেওয়া মাকরুহ বা অনুচিত।
- ধাপ ২ (লালা বা থুথু গিলে ফেলা): এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সতর্কতা। রোজা অবস্থায় ঠোঁটে চুমু দিলে যদি কোনোভাবে স্বামী বা স্ত্রীর লালা একে অপরের মুখের ভেতর চলে যায় এবং তা গিলে ফেলা হয়, তবে সাথে সাথে রোজা ভেঙে যাবে এবং ওই রোজার কাজা আদায় করতে হবে।
- ধাপ ৩ (নবদম্পতিদের জন্য ফতোয়া): ইসলামী স্কলারগণ সাধারণত বয়স্কদের তুলনায় যুবকদের বা নবদম্পতিদের রোজা অবস্থায় অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা থেকে বেঁচে থাকার পরামর্শ দেন, কারণ তাদের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে রোজার মাসআলা (কী করলে রোজা ভাঙবে?)
রোজা রেখে চুমু দেওয়ার পর যদি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, তবে ইসলামী শরীয়তের বিধানগুলো জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি:
- বীর্যপাত হলে: চুমু বা জড়িয়ে ধরার কারণে যদি উত্তেজনার বশে বীর্যপাত হয়ে যায়, তবে রোজা ভেঙে যাবে। এর জন্য পরবর্তীতে একটি রোজা কাজা করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে কাফফারা (টানা ৬০টি রোজা রাখা) ওয়াজিব হবে না।
- সহবাস করলে: চুমু দেওয়া থেকে শুরু করে যদি স্বামী-স্ত্রী শারীরিক মিলনে (সহবাস) লিপ্ত হয়ে যান, তবে রোজা নিশ্চিতভাবে ভেঙে যাবে এবং এর জন্য কাজা ও কাফফারা উভয়ই (অর্থাৎ ১টি কাজা এবং টানা ৬০টি কাফফারার রোজা) আদায় করতে হবে, যা অত্যন্ত কঠিন একটি বিধান।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন ১: রোজা রেখে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরা যাবে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, নিজের কামভাবের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকলে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরা বা আলিঙ্গন করা সম্পূর্ণ জায়েজ। এতে রোজার বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয় না।
প্রশ্ন ২: রোজা রেখে ঠোঁটে চুমু দিলে কি রোজা ভেঙে যায়?
উত্তর: শুধু ঠোঁটে চুমু দিলে রোজা ভাঙে না। কিন্তু চুমু খাওয়ার সময় যদি সঙ্গীর মুখের লালা বা থুথু পেটে চলে যায় বা গিলে ফেলেন, তবে রোজা ভেঙে যাবে।
প্রশ্ন ৩: চুমু দেওয়ার পর যদি শুধু মজি (Pre-seminal fluid) বের হয়, তবে কি রোজা ভাঙবে?
উত্তর: উত্তেজনার কারণে যদি বীর্য না বেরিয়ে শুধু আঠালো তরল বা মজি (Madhi) বের হয়, তবে হানাফি মাজহাবের সর্বসম্মত ফতোয়া অনুযায়ী রোজা ভাঙবে না। তবে ওজু ভেঙে যাবে এবং ওই স্থানটি ধুয়ে পবিত্র হতে হবে।
প্রশ্ন ৪: রোজা অবস্থায় স্ত্রীর পাশে ঘুমানো যাবে কি?
উত্তর: অবশ্যই। রোজা অবস্থায় স্ত্রীর পাশে ঘুমানো, স্বাভাবিক কথাবার্তা বলা বা সময় কাটানোতে ইসলামী শরীয়তে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই।
তথ্যসূত্র (Sources – Verified):
- সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম (রোজার অধ্যায়)।
- ফতোয়ায়ে শামী, আল-হিদায়া ও বাদায়েউস সানায়ে (হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ)।
- ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত দৈনন্দিন ফতোয়া ও মাসআলা।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”

