শবে মেরাজের নামাজ কোন সূরা দিয়ে পড়তে হয়

শবে মেরাজের নামাজ কোন সূরা দিয়ে পড়তে হয়

শবে মেরাজ বা লাইলাতুল মেরাজ মুসলিম উম্মাহর কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অলৌকিক ঘটনার রাত। তবে এই রাতকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে এমন কিছু আমল ও প্রথা প্রচলিত রয়েছে, যার সাথে ইসলামের মূল শিক্ষার কতটুকু সম্পর্ক আছে তা নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি দেখা যায়।

আজকে আমি কিছু বিখ্যাত ইসলামিক স্কলারদের মতে শবে মেরাজের নামাজ, রোজা এবং আমল যেসব তথ্য দিয়েছেন তা শেয়ার করছি। আপনার মনে যদি প্রশ্ন থাকে শবে মেরাজের নামাজ কোন সূরা দিয়ে পড়তে হয় বা শবে মেরাজের কোন নামাজ আছে কি না?

২৭শে রজব কি নিশ্চিতভাবে মেরাজের রাত?

বিখ্যাত ইসলামিক স্কলারদের মতে, মেরাজ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মোজেজা বা অলৌকিক ঘটনা। তবে আমাদের সমাজে যে ২৭শে রজবকে শবে মেরাজ হিসেবে পালন করা হয়, ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই তারিখটি নিয়ে যথেষ্ট মতভেদ আছে। বড় বড় মুহাদ্দিস ও ইতিহাসবিদদের মতে, মেরাজ ঠিক কোন মাসে বা কত তারিখে হয়েছে, তা অকাট্যভাবে বা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। সুতরাং তারিখটি সুনির্দিষ্ট মনে করে কেবল এই রাতেই বিশেষ উৎসব করা ঐতিহাসিক তথ্যের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

শবে মেরাজের কোন নামাজ আছে কি?

অনেকেই জানতে চান শবে মেরাজের নামাজ কি পড়তে হয় বা এই রাতে বিশেষ কোনো নামাজ আছে কি না। বিখ্যাত ইসলামিক স্কলার ব্যক্তিক্ত এই বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, শবে মেরাজ উপলক্ষে ১২ রাকাত, ২০ রাকাত বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যার নামাজের কথা যা প্রচলিত আছে, তা কোনো সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়।

বড় বড় মুহাদ্দিস ও ইতিহাসবিদদের মতে, :

“৯৯% মানুষই জানে না যে, রাসূল (সা.), সাহাবায়ে কেরাম বা তাবেয়ীদের যুগে এই রাত উপলক্ষে বিশেষ কোনো নামাজের অস্তিত্ব ছিল না।”

অনেকে প্রশ্ন করেন, শবে মেরাজের নামাজ কোন সূরা দিয়ে পড়তে হয়? যেহেতু ইসলামে শবে মেরাজ নামে বিশেষ কোনো নফল নামাজের পদ্ধতি বর্ণিত নেই তাই এটি পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূরারও প্রয়োজন নেই। সওয়াবের নিয়তে নিজে থেকে কোনো নিয়ম বানিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে নামাজ পড়া ইসলামের দৃষ্টিতে সঠিক নয়।

শবে মেরাজের নামাজ কোন সূরা দিয়ে পড়ে?

শবে মেরাজের নামাজ কোন কোন সূরা দিয়ে পড়তে হয় বা শবে মেরাজের নামাজের সূরা কোনটি। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, এই রাতের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ সূরা নির্দিষ্ট করা নেই। যদি কেউ এই রাতে নফল নামাজ পড়তে চান তবে তিনি সাধারণ নফল নামাজের মতোই যেকোনো সূরা দিয়ে তা পড়তে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে একে ‘শবে মেরাজের বিশেষ নামাজ’ মনে করা যাবে না।

শবে মেরাজের রোজা ও প্রচলিত ধারণা

২৭শে রজবের দিন রোজা রাখার ব্যাপারে সমাজে অনেক কথা প্রচলিত আছে। বিশেষ করে এই একদিন রোজা রাখলে হাজার বছরের সওয়াব পাওয়া যায় এমন বর্ণনা শোনা যায়। বড় বড় মুহাদ্দিস ও ইতিহাসবিদদের মতে, এই রোজার সওয়াব নিয়ে যেসব বর্ণনা দেওয়া হয়, সেগুলো মূলত বানোয়াট বা অত্যন্ত দুর্বল। কেউ যদি নফল হিসেবে রোজা রাখতে চায়, তবে সে আইয়ামে বিজের রোজা বা সুন্নতি দিনগুলোতে (সোমবার ও বৃহস্পতিবার) রাখতে পারে। কিন্তু কেবল মেরাজ উপলক্ষে আলাদা কোনো রোজার বিশেষ কোনো বিধান ইসলামে নেই।

মেরাজের আসল উপহার: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ

বড় বড় মুহাদ্দিস ও ইতিহাসবিদদের মতে মেরাজের সবচেয়ে বড় এবং শ্রেষ্ঠ উপহার হলো ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ’। আমরা সারা বছর নামাজ না পড়ে শুধু এই এক রাতে জাগ্রত থেকে নফল ইবাদত করি, যা মেরাজের মূল শিক্ষার বিপরীত।

“আপনি যদি মেরাজ পালন করতে চান, তবে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সাথে গুরুত্ব সহকারে পড়ুন। এটাই মেরাজের প্রকৃত শিক্ষা ও প্রাপ্তি।”

বিদআত সম্পর্কে সতর্কতা

ইবাদত হতে হবে সুন্নাহ অনুযায়ী। আমাদের সমাজে প্রচলিত অনেক প্রথা যেমন: আলোকসজ্জা, হালুয়া-রুটি বিতরণ বা বিশেষ মাহফিল করে এই রাত উদযাপন করা রাসূল (সা.) বা সাহাবীগণ থেকে প্রমাণিত নয়। বড় বড় মুহাদ্দিস ও ইতিহাসবিদরা সতর্ক করে বলেছেন যে, মনগড়া কোনো নিয়মকে ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। যেকোনো ইবাদত করার আগে তা কুরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত কি না, তা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

পরিশেষে

আশা করি আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন। শবে মেরাজের নামাজ কোন সূরা দিয়ে পড়তে হয় এই প্রশ্নের চেয়েও বড় সত্য হলো, এই রাতে বিশেষ কোনো নামাজের বাধ্যবাধকতা নেই। ইসলামের মূল শিক্ষা হলো দৈনন্দিন জীবনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত আদায় করা এবং সব ক্ষেত্রে সুন্নাহ অনুসরণ করা।

Leave a Comment

Scroll to Top