শবে বরাতের নামাজ কিভাবে পড়তে হয়

শবে বরাতের নামাজ কিভাবে পড়তে হয়

শবে বরাতের নামাজ মূলত অন্য যেকোনো নফল নামাজের মতোই দুই রাকাত করে আদায় করতে হয়। বিশেষ কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই তবে মনস্থির করে (নিয়ত) সুরা ফাতিহার সাথে অন্য যেকোনো সুরা মিলিয়ে এই নামাজ পড়া যায়। শবে বরাতের রাতে আপনি যত খুশি নফল নামাজ আদায় করতে পারেন।

শবে বরাত বা লাইলাতুল বারাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত। বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশে এই রাতে ইবাদত-বন্দেগির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা সহজভাবে জানাবো শবে বরাতের নামাজের সঠিক নিয়ম, নিয়ত এবং ২০২৬ সালের সঠিক তারিখ।

শবে বরাতের নামাজের নিয়ত

অনেকে মনে করেন আরবিতে বড় নিয়ত না করলে নামাজ হয় না, এটি ভুল ধারণা। নিয়ত মানেই হলো মনের ইচ্ছা। আপনি যে নামাজের জন্য দাঁড়িয়েছেন, সেটি মনে মনে স্থির করাই হলো নিয়ত।

১. শবে বরাতের নামাজের সাধারণ নিয়ত

“আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শবে বরাতের ২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করছি—আল্লাহু আকবার।”

২. আরবিতে নিয়ত (যদি কেউ পড়তে চান)

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالَى رَكْعَتَىْ صَلٰوةِ النَّفْلِ، مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ، اَللّٰهُ اَكْبَرُ

উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকাআতাই সালাতিন নাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি, আল্লাহু আকবার।

৩. মহিলাদের জন্য শবে বরাতের নামাজের নিয়ত

নারীদের জন্য নিয়তে বাড়তি কিছু বলার প্রয়োজন নেই। পুরুষদের মতোই একইভাবে নিয়ত করবেন। মনে মনে আল্লাহর ইবাদতের সংকল্প করাই যথেষ্ট।

শবে বরাতের নামাজ কত রাকাত?

শবে বরাতের নামাজের নির্দিষ্ট কোনো রাকাত সংখ্যা নেই। যেহেতু এটি নফল ইবাদত, তাই আপনি আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী ২ রাকাত করে করে ৪, ৮, ১২ বা আরও বেশি আদায় করতে পারেন। নফল নামাজ সাধারণত ২ রাকাত করে আদায় করা সবচেয়ে উত্তম।

শবে বরাতের নামাজের নিয়ম

শবে বরাতের নামাজের বিশেষ কোনো আলাদা পদ্ধতি নেই। এটি অন্য সব নফল নামাজের মতোই। নিচে সাধারণ নিয়মটি তুলে ধরা হলো:

  1. দাঁড়ানো ও নিয়ত: জায়নামাজে দাঁড়িয়ে কিবলামুখী হয়ে মনে মনে নিয়ত করুন।
  2. তাকবিরে তাহরিমা: ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বাঁধুন।
  3. সানা পাঠ: এরপর “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা…” (পুরো সানা) পড়ুন।
  4. সুরা ফাতিহা ও কিরাত: সুরা ফাতিহা পড়ে এর সাথে পবিত্র কোরআনের যেকোনো একটি সুরা মিলিয়ে নিন।
  5. রুকু ও সেজদা: সাধারণ নামাজের মতোই রুকু এবং দুই সেজদা সম্পন্ন করে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ান।
  6. দ্বিতীয় রাকাত: একইভাবে সুরা ফাতিহা ও অন্য একটি সুরা মিলিয়ে রুকু-সেজদা শেষ করে ‘আত্তাহিয়াতু’, ‘দুরুদ শরিফ’ ও ‘দোয়া মাসুরা’ পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করুন।

কোন সুরা দিয়ে শবে বরাতের নামাজ পড়তে হয়?

অনেকে মনে করেন শবে বরাতের নামাজে নির্দিষ্ট সুরা (যেমন: সুরা ইখলাস ১০ বার) পড়তে হয়। এটি ইসলামি শরিয়তে বাধ্যতামূলক নয়। আপনার মুখস্থ থাকা যেকোনো সুরা দিয়েই আপনি এই নামাজ পড়তে পারেন। তবে দীর্ঘ কেরাতে নামাজ পড়া এবং রুকু-সেজদায় বেশি সময় কাটানো উত্তম।

শবে বরাতের নামাজের দোয়া ও জিকির

সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করার পর আপনি মহান আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মোনাজাত করতে পারেন। এছাড়া এই রাতে নিচের জিকিরগুলো বেশি বেশি করা যেতে পারে:

  • তওবা ও ইস্তিগফার: “আসতাগফিরুল্লাহ…” (বেশি বেশি ক্ষমা চাওয়া)।
  • দুরুদ শরিফ: প্রিয় নবী (সা.)-এর প্রতি দুরুদ পাঠ করা।
  • সুরা ইখলাস ও তাসবিহ: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার পাঠ করা।

শেষকথা

শবে বরাত মূলত ক্ষমা চাওয়ার রাত। তাই নামাজের রাকাত সংখ্যা বা কঠিন নিয়মের পেছনে না ছুটে মন দিয়ে আল্লাহর কাছে নিজের গোনাহের জন্য ক্ষমা চান। মনে রাখবেন, নফল ইবাদতের মূল লক্ষ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।

বিঃদ্রঃ: এই আর্টিকেলে দেওয়া তারিখগুলো বর্তমান জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ক্যালেন্ডার অনুযায়ী হিসাব করা। ধর্মীয় যেকোনো বিষয়ে সঠিক তথ্য পেতে আপনার স্থানীয় মসজিদের ইমামের পরামর্শ নিন।

সোর্স: আল-কোরআন, বুখারি ও মুসলিম শরিফের নির্ভরযোগ্য হাদিস এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

Leave a Comment

Scroll to Top