বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রমজান মাসে সব তফসিলি ব্যাংকের লেনদেন ও অফিসের আপডেটেড সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো:
- লেনদেনের সময় (গ্রাহকদের জন্য): সকাল ৯:৩০ টা থেকে দুপুর ২:৩০ টা পর্যন্ত।
- অফিসের সময় (কর্মকর্তাদের জন্য): সকাল ৯:৩০ টা থেকে বিকাল ৪:০০ টা পর্যন্ত।
- যোহরের নামাজের বিরতি: দুপুর ১:১৫ টা থেকে ১:৩০ টা পর্যন্ত (তবে বিকল্প ব্যবস্থায় লেনদেন চালু থাকবে)।
- সাপ্তাহিক ছুটি: শুক্র ও শনিবার।
আসসালামু আলাইকুম। রমজান মাসে সাধারণ মানুষের রোজা পালন, যানজট এড়ানো ও ইফতারের সুবিধার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছরই দাপ্তরিক সময়ে পরিবর্তন আনে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) থেকে ২০২৬ সালের রমজানের জন্য নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
ব্যবসায়িক কাজ বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যাংকে যাওয়ার আগে সঠিক সময় জানা না থাকলে অনেককেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাই এই আর্টিকেলে আমরা আপডেটেড ব্যাংকিং কার্যক্রমের সময়সূচী ও জরুরি লেনদেনের বিকল্প উপায়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
রমজান মাসে ব্যাংকের কার্যক্রম
রমজানে আপনার ব্যাংকিং কাজগুলো সহজে সম্পন্ন করার জন্য নিচের নিয়মগুলো মাথায় রাখতে পারেন:
- (সকালের লেনদেন): সাধারণ সময়ে ব্যাংক ১০টায় শুরু হলেও রমজানে তা ৩০ মিনিট এগিয়ে আনা হয়েছে। তাই ভিড় এড়াতে সকাল ৯:৩০ টার দিকেই ব্যাংকে চলে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
- (দুপুরের লেনদেন): দুপুর ২:৩০ টার পর কোনো সাধারণ কাউন্টার বা ক্লিয়ারিং হাউজে চেক জমা নেওয়া হয় না। তাই বড় অংকের লেনদেন বা পে-অর্ডারের কাজ এর আগেই শেষ করে ফেলুন।
- (অফিসিয়াল সেবা): যদিও দুপুর ২:৩০ টায় ক্যাশ কাউন্টার বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তারা বিকাল ৪:০০ টা পর্যন্ত অফিসে থাকেন। এই সময়ে আপনি লোন সংক্রান্ত তথ্য, অ্যাকাউন্ট খোলা বা কার্ডের সমস্যার মতো দাপ্তরিক সেবা নিতে পারবেন।
নামাজের বিরতিতে লেনদেনের নিয়ম
রমজানে যোহরের নামাজের জন্য দুপুর ১:১৫ মিনিট থেকে ১:৩০ মিনিট পর্যন্ত ১৫ মিনিটের একটি বিরতি থাকে।
- বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়া নির্দেশ: নামাজের এই বিরতির সময় ঘাবড়ানোর কিছু নেই। অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থায় গ্রাহকদের লেনদেন নিরবচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, আপনি চাইলে নামাজের সময়টিতেও ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে সেবা নিতে পারবেন, কাউন্টার পুরোপুরি বন্ধ থাকবে না।
ব্যাংকের নির্ধারিত সময়ের পর জরুরি লেনদেনের উপায়
যদি কোনো কারণে দুপুর ২:৩০ টার মধ্যে ব্যাংকে পৌঁছাতে না পারেন, তবে নিচের মাধ্যমগুলো ব্যবহার করতে পারেন:
- সিআরএম (CRM) মেশিন: ক্যাশ ডিপোজিট বা সিআরএম মেশিনের মাধ্যমে আপনি ২৪ ঘণ্টা যেকোনো সময় নিজের বা অন্যের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিতে পারবেন।
- এটিএম ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং: এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলা এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) মাধ্যমে ফান্ড ট্রান্সফার সেবা রমজানেও সার্বক্ষণিক চালু থাকে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন ১: রোজায় ব্যাংক কতক্ষণ খোলা থাকে? উত্তর: রোজায় ব্যাংকগুলোর দাপ্তরিক বা অফিসিয়াল কার্যক্রম চলে সকাল ৯:৩০ টা থেকে বিকাল ৪:০০ টা পর্যন্ত। তবে সাধারণ গ্রাহকরা কাউন্টারে আর্থিক লেনদেন করতে পারেন সকাল ৯:৩০ টা থেকে দুপুর ২:৩০ টা পর্যন্ত।
প্রশ্ন ২: দুপুর ২:৩০ টার পর কি ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া যায়? উত্তর: না, রমজান মাসে দুপুর ২:৩০ টার পর ব্যাংকের সাধারণ ক্যাশ কাউন্টারে টাকা জমা বা উত্তোলন করা যায় না। তবে সিআরএম (CRM) বা ক্যাশ ডিপোজিট মেশিনের মাধ্যমে আপনি টাকা জমা দিতে পারবেন।
প্রশ্ন ৩: শুক্র ও শনিবার কি ব্যাংক খোলা থাকে? উত্তর: না, বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী রমজান মাসেও শুক্র ও শনিবার ব্যাংকগুলোর সাপ্তাহিক ছুটি বহাল থাকে। তবে বিশেষ কিছু বাণিজ্যিক এলাকায় (যেমন- বন্দর বা কাস্টমস সংশ্লিষ্ট শাখা) সরকারি নির্দেশে নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা থাকতে পারে।
প্রশ্ন ৪: নামাজের বিরতির সময় কি ব্যাংক বন্ধ থাকে? উত্তর: না। দুপুর ১:১৫ টা থেকে ১:৩০ টা পর্যন্ত নামাজের বিরতি থাকলেও, বিকল্প ব্যবস্থায় লেনদেন চালু থাকে। তাই গ্রাহকদের সেবা পেতে কোনো সমস্যা হয় না।
তথ্যসূত্র (Sources):
- বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন (এসডিএডি বিভাগ)।
- দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও সংবাদমাধ্যম।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”

